রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:২৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, July 27, 2016 5:10 pm
A- A A+ Print

‘ক্ষোভে দুঃখে’ জিডিও করেননি জঙ্গি সাব্বিরের বাবা আওয়ামীলীগ নেতা আজিজুল হক

৩

ঢাকার কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গিদের একজন চট্টগ্রাম থেকে পাঁচ মাস আগে নিরুদ্দেশ হওয়া সাব্বিরুল হক কণিক, যে আনোয়ারা উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে। চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকনোমিক্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ছাত্র সাব্বির দীর্ঘ দিন ‘নিখোঁজ’ থাকলেও ‘ক্ষোভে, দুঃখে’ থানায় জিডি করেননি বলে জানিয়েছেন তার বাবা আজিজুল হক চৌধুরী রাশেদ। আনোয়ারা উপজেলার বরুমছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার বড় পুত্র সাব্বির গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঘর থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। রাগে দুঃখে তাকে ফেরানোর কোনো চেষ্টা করিনি, জিডিও করিনি।” মঙ্গলবার ভোরে কল্যাণপুরের এক বাড়িতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত সন্দেহভাজন নয় জঙ্গির ছবি সংবাদমাধ্যমে এলে আজিজুল জানতে পারেন, নিহতদের মধ্যে তার ছেলেও রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগে পরিদর্শক আজিজুলের বাড়ি বরুমছড়ায় হলেও বন্দনগরীর বাকলিয়া কালামিয়া বাজার সংলগ্ন ইসহাকের পুল এলাকার তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। মঙ্গলবার রাতে ওই বাসায় গিয়ে পুলিশ কাউকে পায়নি বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন বাকলিয়া থানার ওসি আবুল মনসুর। তবে বুধবার মোবাইলে কল করলে তা ধরেন সাব্বিরের বাবা আজিজুল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ছবি দেখে তিনি ছেলের বিষয়ে ‘অনেকটাই নিশ্চিত’। কল্যাণপুরে অভিযান শেষে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ফেইসবুক পাতায় নিহত নয়জনের যে ছবি (রক্তাক্ত লাশের ছবি। অপ্রাপ্তবয়স্কদের দেখার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের নির্দেশনা নেওয়ার অনুরোধ করা হল) প্রকাশ করা হয়েছে, তা দেখেই সাব্বিরকে চিনতে পারার কথা বলছেন তার বাবা। ঘটনার পর থেকে পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যোগাযোগ করছেন বলেও জানান আজিজুল। তিনি বলেন, “আমাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। আমার বড়ভাইও ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন। আমিও সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের ঘরের সন্তানের এ ধরণের কর্মকাণ্ড লজ্জার।” আজিজুল হক চৌধুরীর তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে সাব্বির সবার বড়। চট্টগ্রামের সরকারি ‍মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এবং ২০১২ সালে কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি ভর্তি হন সিতাকুণ্ডের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বলা হয়, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জামায়াতে ইসলামীর অর্থায়নে পরিচালিত। বাড়ি ছাড়ার আগে সাব্বির সেখানে চতুর্থ সেমিস্টারে পড়তেন। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর জিডি করেননি কেন- এমন প্রশ্নে আজিজুল বলেন, ‘‘আমাদের পুরো ফ্যামিলি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।লোকলজ্জা আর সামাজিকতার ভয় ছিল, রাগ-ক্ষোভও ছিল। “নিজের জন্মদাতা পিতার কথা না শুনে খারাপ লোকের কথা শোনে... তার চেহারাও দেখতে চাই না। তার লাশও নিতে যাব না,” বলেন এই বাবা। সাব্বিরের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তার বাবাকে বুধবার ডেকে নিয়ে কথা বলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তাকে ছবি দেখিয়েছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, তার ছেলে নিখোঁজ। রাউজানে এক বিয়েতে যাওয়ার কথা বলে সে বের হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই। আগেও সে মাঝেমধ্য্যে তাবলিগে যাওয়ার কথা বলে উধাও হয়ে যেত। বাবা মাজারভক্ত বলে এসব বিষয় নিয়ে তর্ক করত।” ছেলের লাশ শনাক্ত করতে ঢাকায় যাবেন বলে জানালেও লাশ নেবেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন আজিজুল।

Comments

Comments!

 ‘ক্ষোভে দুঃখে’ জিডিও করেননি জঙ্গি সাব্বিরের বাবা আওয়ামীলীগ নেতা আজিজুল হকAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘ক্ষোভে দুঃখে’ জিডিও করেননি জঙ্গি সাব্বিরের বাবা আওয়ামীলীগ নেতা আজিজুল হক

Wednesday, July 27, 2016 5:10 pm
৩

ঢাকার কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গিদের একজন চট্টগ্রাম থেকে পাঁচ মাস আগে নিরুদ্দেশ হওয়া সাব্বিরুল হক কণিক, যে আনোয়ারা উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে।

চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকনোমিক্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ছাত্র সাব্বির দীর্ঘ দিন ‘নিখোঁজ’ থাকলেও ‘ক্ষোভে, দুঃখে’ থানায় জিডি করেননি বলে জানিয়েছেন তার বাবা আজিজুল হক চৌধুরী রাশেদ।

আনোয়ারা উপজেলার বরুমছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার বড় পুত্র সাব্বির গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঘর থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। রাগে দুঃখে তাকে ফেরানোর কোনো চেষ্টা করিনি, জিডিও করিনি।”

মঙ্গলবার ভোরে কল্যাণপুরের এক বাড়িতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত সন্দেহভাজন নয় জঙ্গির ছবি সংবাদমাধ্যমে এলে আজিজুল জানতে পারেন, নিহতদের মধ্যে তার ছেলেও রয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগে পরিদর্শক আজিজুলের বাড়ি বরুমছড়ায় হলেও বন্দনগরীর বাকলিয়া কালামিয়া বাজার সংলগ্ন ইসহাকের পুল এলাকার তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন।

মঙ্গলবার রাতে ওই বাসায় গিয়ে পুলিশ কাউকে পায়নি বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন বাকলিয়া থানার ওসি আবুল মনসুর।

তবে বুধবার মোবাইলে কল করলে তা ধরেন সাব্বিরের বাবা আজিজুল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ছবি দেখে তিনি ছেলের বিষয়ে ‘অনেকটাই নিশ্চিত’।

কল্যাণপুরে অভিযান শেষে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ফেইসবুক পাতায় নিহত নয়জনের যে ছবি (রক্তাক্ত লাশের ছবি। অপ্রাপ্তবয়স্কদের দেখার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের নির্দেশনা নেওয়ার অনুরোধ করা হল) প্রকাশ করা হয়েছে, তা দেখেই সাব্বিরকে চিনতে পারার কথা বলছেন তার বাবা।

ঘটনার পর থেকে পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যোগাযোগ করছেন বলেও জানান আজিজুল।

তিনি বলেন, “আমাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। আমার বড়ভাইও ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন। আমিও সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের ঘরের সন্তানের এ ধরণের কর্মকাণ্ড লজ্জার।”

আজিজুল হক চৌধুরীর তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে সাব্বির সবার বড়। চট্টগ্রামের সরকারি ‍মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এবং ২০১২ সালে কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি ভর্তি হন সিতাকুণ্ডের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বলা হয়, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জামায়াতে ইসলামীর অর্থায়নে পরিচালিত। বাড়ি ছাড়ার আগে সাব্বির সেখানে চতুর্থ সেমিস্টারে পড়তেন।

ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর জিডি করেননি কেন- এমন প্রশ্নে আজিজুল বলেন, ‘‘আমাদের পুরো ফ্যামিলি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।লোকলজ্জা আর সামাজিকতার ভয় ছিল, রাগ-ক্ষোভও ছিল।

“নিজের জন্মদাতা পিতার কথা না শুনে খারাপ লোকের কথা শোনে… তার চেহারাও দেখতে চাই না। তার লাশও নিতে যাব না,” বলেন এই বাবা।

সাব্বিরের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তার বাবাকে বুধবার ডেকে নিয়ে কথা বলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তাকে ছবি দেখিয়েছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, তার ছেলে নিখোঁজ। রাউজানে এক বিয়েতে যাওয়ার কথা বলে সে বের হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই। আগেও সে মাঝেমধ্য্যে তাবলিগে যাওয়ার কথা বলে উধাও হয়ে যেত। বাবা মাজারভক্ত বলে এসব বিষয় নিয়ে তর্ক করত।”

ছেলের লাশ শনাক্ত করতে ঢাকায় যাবেন বলে জানালেও লাশ নেবেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন আজিজুল।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X