বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৩০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, December 6, 2016 10:51 am
A- A A+ Print

খাদিজার ওপর হামলার বর্ণনা দিলেন ১৭ সাক্ষী

11

সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলার ঘটনার বর্ণনা দিলেন সাক্ষীরা। এরপর ঘটনার পরবর্তী সময়ে বদরুল আটক ও খাদিজাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও তারা আদালতকে জানালেন। এ সময় প্রত্যেককেই আদালতের কাছে বর্বরোচিত এ ঘটনার ন্যায় বিচার দাবি করেন। বলেন, ‘এমন ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে সরকম বিচার যেন হয়।’ সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা হত্যা চেষ্টা মামলায় মোট সাক্ষী ৩৬ জন। গতকাল সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইদুজ্জামান হিরোর আদালতে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণের কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। গত ৩রা অক্টোবর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিস ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসের পরীক্ষা কেন্দ্রে যান। সেখানে বিকাল ৫ টার দিকে তিনি পরীক্ষা দিয়ে বের হলে এক সময়ের গৃহশিক্ষক বদরুল আলম তার কাছে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শাবি থেকে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম তাকে চাপাতি দিয়ে নির্মমভাবে কোপায়। হামলাকারী বদরুল শাবি’র অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ছাতক উপজেলায়। সে এক সময় খাদিজাদের বাড়িতে লজিং মাস্টার ছিল। এদিকে, খাদিজাকে  কোপানোর পর গুরুতর অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আর বদরুলকে ঘটনার পরপরই গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনার পরদিনই খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে আসামি করে সিলেটের শাহ্‌পরাণ থানায় মামলা করেন। ৫ই অক্টোবর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বদরুল ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। এদিকে, এ ঘটনার প্রায় ৩৫ দিনের মাথায় ৮ই নভেম্বর সিলেটের শাহ্‌পরাণ থানা পুলিশের এসআই হারুনুর রশীদ বদরুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১৫ই নভেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে। এবং ২৯শে নভেম্বর চার্জগঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু করে। তবে, এরই মধ্যে বদরুলের একজন আইনজীবী আদালতে তার জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত তার ওই জামিন না মঞ্জুর করে দেন। গতকাল সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিনেই আদালতে তলব করা হয়েছিল ১৮ জন সাক্ষীকে। এর মধ্যে ১৭ জন সাক্ষী এসে তাদের বক্তব্য প্রদান করে গেছেন। এর আগে সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আসামি বদরুলকে নিয়ে আসা হয় সিলেটের আদালতে। আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ দিয়ে বেরিয়ে এসে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ চন্দ্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি লোমহর্ষম, মর্মান্তিক। ঘটনার পরপরই আমরা ক্যাম্পাসে ছুটে গিয়েছিলাম। তিনি আদালতে যা দেখেছেন তা বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে তিনি আদালতের কাছে ন্যায় বিচারও দাবি করেছেন। আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন কলেজ ছাত্রী খাদিজার চাচা ও মামলার বাদী আবদুল কুদ্দুস। তিনিও আলোচিত এ ঘটনার বর্ণনা দেন আদালতে। বেরিয়ে এসে জানান, আমরা আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করি। আশাকরি আদালত আমাদের ন্যায় বিচার দেবেন। তিনি বলেন, খাদিজা এখন সুস্থ। কিন্তু সে আগের মতো আর স্বাভাবিক হতে পারবে কী না- এ নিয়ে সন্দেহ রয়েই গেছে। আর প্রকাশ্য দিবালোকে এ রকম হামলা কোনো সভ্য সমাজ আশা করে না। এদিকে, আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলেজছাত্র ইমরান হোসেন। তিনি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বেরিয়ে এসে জানিয়েছেন, ঘটনা দেখেই আমি এগিয়ে যাই। গিয়ে  দেখি আপু পড়ে আছে। এ সময় ‘আপুকে বাঁচাও আপুকে বাঁচাও’ বলে চিৎকার করি। পরে তাকে সিএনজি অটোরিক্সাযোগে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এদিকে, আদালতে বেলা ১১টা থেকে ২টার মধ্যেই ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বেরিয়ে এসে সিলেট জেলা আদালতের পিপি এডভোকেট মিসবাহ্‌ উদ্দিন সিরাজ বলেন, আলোচিত এ ঘটনার বিচার শুরু হয়ে গেছে। আদালতে সাক্ষ্যগ্রহ্নের প্রথমদিনেই ১৮ জন সাক্ষীকে তলব করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৭ জন সাক্ষী আদালতে তাদের বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ন্যায় বিচার চাই। আদালতের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করি। গতকাল আদালতে এমসি কলেজের উপাধ্যক্ষ হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি, প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান কবির ও ফাহমিদা ইসলাম বৃষ্টি ছিলেন।

Comments

Comments!

 খাদিজার ওপর হামলার বর্ণনা দিলেন ১৭ সাক্ষীAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

খাদিজার ওপর হামলার বর্ণনা দিলেন ১৭ সাক্ষী

Tuesday, December 6, 2016 10:51 am
11

সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলার ঘটনার বর্ণনা দিলেন সাক্ষীরা। এরপর ঘটনার পরবর্তী সময়ে বদরুল আটক ও খাদিজাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও তারা আদালতকে জানালেন। এ সময় প্রত্যেককেই আদালতের কাছে বর্বরোচিত এ ঘটনার ন্যায় বিচার দাবি করেন। বলেন, ‘এমন ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে সরকম বিচার যেন হয়।’ সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা হত্যা চেষ্টা মামলায় মোট সাক্ষী ৩৬ জন। গতকাল সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইদুজ্জামান হিরোর আদালতে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণের কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। গত ৩রা অক্টোবর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিস ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসের পরীক্ষা কেন্দ্রে যান। সেখানে বিকাল ৫ টার দিকে তিনি পরীক্ষা দিয়ে বের হলে এক সময়ের গৃহশিক্ষক বদরুল আলম তার কাছে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শাবি থেকে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম তাকে চাপাতি দিয়ে নির্মমভাবে কোপায়। হামলাকারী বদরুল শাবি’র অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ছাতক উপজেলায়। সে এক সময় খাদিজাদের বাড়িতে লজিং মাস্টার ছিল। এদিকে, খাদিজাকে  কোপানোর পর গুরুতর অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আর বদরুলকে ঘটনার পরপরই গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনার পরদিনই খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে আসামি করে সিলেটের শাহ্‌পরাণ থানায় মামলা করেন। ৫ই অক্টোবর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বদরুল ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। এদিকে, এ ঘটনার প্রায় ৩৫ দিনের মাথায় ৮ই নভেম্বর সিলেটের শাহ্‌পরাণ থানা পুলিশের এসআই হারুনুর রশীদ বদরুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১৫ই নভেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে। এবং ২৯শে নভেম্বর চার্জগঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু করে। তবে, এরই মধ্যে বদরুলের একজন আইনজীবী আদালতে তার জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত তার ওই জামিন না মঞ্জুর করে দেন। গতকাল সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিনেই আদালতে তলব করা হয়েছিল ১৮ জন সাক্ষীকে। এর মধ্যে ১৭ জন সাক্ষী এসে তাদের বক্তব্য প্রদান করে গেছেন। এর আগে সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আসামি বদরুলকে নিয়ে আসা হয় সিলেটের আদালতে। আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ দিয়ে বেরিয়ে এসে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ চন্দ্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি লোমহর্ষম, মর্মান্তিক। ঘটনার পরপরই আমরা ক্যাম্পাসে ছুটে গিয়েছিলাম। তিনি আদালতে যা দেখেছেন তা বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে তিনি আদালতের কাছে ন্যায় বিচারও দাবি করেছেন। আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন কলেজ ছাত্রী খাদিজার চাচা ও মামলার বাদী আবদুল কুদ্দুস। তিনিও আলোচিত এ ঘটনার বর্ণনা দেন আদালতে। বেরিয়ে এসে জানান, আমরা আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করি। আশাকরি আদালত আমাদের ন্যায় বিচার দেবেন। তিনি বলেন, খাদিজা এখন সুস্থ। কিন্তু সে আগের মতো আর স্বাভাবিক হতে পারবে কী না- এ নিয়ে সন্দেহ রয়েই গেছে। আর প্রকাশ্য দিবালোকে এ রকম হামলা কোনো সভ্য সমাজ আশা করে না। এদিকে, আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলেজছাত্র ইমরান হোসেন। তিনি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বেরিয়ে এসে জানিয়েছেন, ঘটনা দেখেই আমি এগিয়ে যাই। গিয়ে  দেখি আপু পড়ে আছে। এ সময় ‘আপুকে বাঁচাও আপুকে বাঁচাও’ বলে চিৎকার করি। পরে তাকে সিএনজি অটোরিক্সাযোগে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এদিকে, আদালতে বেলা ১১টা থেকে ২টার মধ্যেই ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বেরিয়ে এসে সিলেট জেলা আদালতের পিপি এডভোকেট মিসবাহ্‌ উদ্দিন সিরাজ বলেন, আলোচিত এ ঘটনার বিচার শুরু হয়ে গেছে। আদালতে সাক্ষ্যগ্রহ্নের প্রথমদিনেই ১৮ জন সাক্ষীকে তলব করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৭ জন সাক্ষী আদালতে তাদের বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ন্যায় বিচার চাই। আদালতের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করি। গতকাল আদালতে এমসি কলেজের উপাধ্যক্ষ হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি, প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান কবির ও ফাহমিদা ইসলাম বৃষ্টি ছিলেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X