বুধবার, ২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং, ১৫ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:২৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, March 10, 2017 8:12 pm
A- A A+ Print

খাদিজা হত্যাচেষ্টার রায় ও বদরুলের ঔদ্ধত্য

7

সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বদরুল আলমকে (২৯) মাননীয় বিচারিক আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন, এটি পুরোনো খবর। রায়ে আক্রান্ত খাদিজা ও তাঁর পরিবারের সন্তোষ প্রকাশের খবরও ইতিমধ্যে দেশবাসী জেনে গেছেন। কেবল খাদিজার পরিবার নয়, সারা দেশের ন্যায়বিচারপ্রার্থী মানুষই এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। হামলার পাঁচ মাস পাঁচ দিন পর গত বুধবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এ রায় দেন সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা। গত বছরের ৩ অক্টোবর খাদিজা ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সিলেটের এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে বদরুলের অতর্কিত চাপাতি হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। যে দেশে অনেক হত্যা মামলা বছরের পর বছর বিচারের অপেক্ষায় থাকে, সেখানে মাত্র পাঁচ মাসে একটি মামলার রায় পাওয়া খুবই স্বস্তির কথা। কিন্তু সেই স্বস্তির সঙ্গে উদ্বেগের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রায়ের পর এই মামলার আসামি বদরুলকে যখন প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি বলেছেন, ‘আমার কিছুই হবে না।’ এটি তাঁর তাৎক্ষণিক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ভাবার কারণ নেই। এটি ছিল তাঁর ঔদ্ধত্য। আইন-আদালতের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাশীল কোনো মানুষ এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলতে পারেন না। আদালতের রায়ে আসামি ক্ষুব্ধ হলে সাধারণত বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার পাইনি। উচ্চ আদালতে আপিল করব।’ কিন্তু বদরুল নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবেন বলেই ‘আমার কিছুই হবে না’ বলে আস্ফালন করেছেন।’ তাঁর এই আস্ফালন দেখে অনেক আগের একটি ঘটনা মনে পড়ল। যুদ্ধাপরাধের বিচারের সূচনা পর্বে যখন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন মহাসচিব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনার বিরুদ্ধে তো যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে। তখন তিনি প্রশ্নকর্তাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, কিসের যুদ্ধাপরাধ? কিসের বিচার? পরবর্তীকালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাঁর এবং অন্য অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েই কিন্তু আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এখানে এখন বাংলাদেশ সরকার ও মাননীয় আদালত কীভাবে বদরুলের ঔদ্ধত্যের জবাব দেন, সেটাই দেখার বিষয়। বিচারিক আদালতে রায় হওয়ার অর্থ এই নয় যে অপরাধী শাস্তি ভোগ করেছেন। বিচারের আরও কয়েক ধাপ আছে। উচ্চ আদালতে আপিল হবে। আপিলের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনও হতে পারে। বিচারের সব পর্ব শেষ হলেও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের জন্য আরেকটি রক্ষাকবচ হলো রাষ্ট্রপতির ক্ষমা। আগের বিএনপি ও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় ক্ষমাপ্রদর্শনের মহড়া চলেছে, তাতে অনেক চিহ্নিত অপরাধীই আদালতে দণ্ডিত হয়েও শাস্তি থেকে রেহাই পেয়েছেন। কাউকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। কারও দণ্ড কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মামলায়ও কি তাহলে বদরুল কোনো তরফে সে ধরনের আশ্বাস পেয়েছেন? খাদিজার ওপর বদরুলের নৃশংস হামলার ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল সন্দেহ নেই। কিন্তু মামলার বিচার সেই আলোড়ন বা আবেগের ওপর হয়নি। বিচার হয়েছে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে। ঘটনাটি ঘটেছে প্রকাশ্যে বহু লোকের সামনে। অনেকেই মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্যের ছবি তুলে সামাজিক ও গণমাধ্যমে দিয়েছেন। আসামি বদরুল নিজেও আদালতে অপরাধ স্বীকার করেছেন। কিন্তু তারপরও কীভাবে তিনি বলেন, ‘আমার কিছুই হবে না।’ তাঁর এই দম্ভোক্তি আমাদের শঙ্কিত না করে পারে না। যে ব্যক্তি আদালতের রায় পাওয়ার পর এ রকম উক্তি করতে পারেন, সেই ব্যক্তি যে জেলখানা থেকে কিংবা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবেন না, তা কে বলতে পারে? এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সমাজকে দুটি দায়িত্ব নিতে হবে। এক. বদরুলের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই. খাদিজাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া, যাতে কেউ তাঁর ওপর ফের হামলা করতে না পারে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, ‘খাদিজা অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া কিংবদন্তি নারী। মৃত্যুর কাছে হার না-মানা খাদিজা বিজয়িনী, প্রতিবাদকারী। আমার বিশ্বাস, আসামির ওপর সর্বোচ্চ শাস্তি আরোপের মাধ্যমে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হাজার হাজার বদরুল ভবিষ্যতে এমন কাণ্ড থেকে বিরত থাকবে এবং আমাদের নারী সমাজ সুরক্ষিত হবে।’ বর্তমান ও ভবিষ্যতের বদরুলদের কঠিন শাস্তি দিয়েই নারী সমাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

Comments

Comments!

 খাদিজা হত্যাচেষ্টার রায় ও বদরুলের ঔদ্ধত্যAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

খাদিজা হত্যাচেষ্টার রায় ও বদরুলের ঔদ্ধত্য

Friday, March 10, 2017 8:12 pm
7

সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বদরুল আলমকে (২৯) মাননীয় বিচারিক আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন, এটি পুরোনো খবর। রায়ে আক্রান্ত খাদিজা ও তাঁর পরিবারের সন্তোষ প্রকাশের খবরও ইতিমধ্যে দেশবাসী জেনে গেছেন।
কেবল খাদিজার পরিবার নয়, সারা দেশের ন্যায়বিচারপ্রার্থী মানুষই এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। হামলার পাঁচ মাস পাঁচ দিন পর গত বুধবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এ রায় দেন সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা। গত বছরের ৩ অক্টোবর খাদিজা ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সিলেটের এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে বদরুলের অতর্কিত চাপাতি হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। যে দেশে অনেক হত্যা মামলা বছরের পর বছর বিচারের অপেক্ষায় থাকে, সেখানে মাত্র পাঁচ মাসে একটি মামলার রায় পাওয়া খুবই স্বস্তির কথা।
কিন্তু সেই স্বস্তির সঙ্গে উদ্বেগের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রায়ের পর এই মামলার আসামি বদরুলকে যখন প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি বলেছেন, ‘আমার কিছুই হবে না।’ এটি তাঁর তাৎক্ষণিক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ভাবার কারণ নেই। এটি ছিল তাঁর ঔদ্ধত্য। আইন-আদালতের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাশীল কোনো মানুষ এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলতে পারেন না। আদালতের রায়ে আসামি ক্ষুব্ধ হলে সাধারণত বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার পাইনি। উচ্চ আদালতে আপিল করব।’ কিন্তু বদরুল নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবেন বলেই ‘আমার কিছুই হবে না’ বলে আস্ফালন করেছেন।’
তাঁর এই আস্ফালন দেখে অনেক আগের একটি ঘটনা মনে পড়ল। যুদ্ধাপরাধের বিচারের সূচনা পর্বে যখন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন মহাসচিব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনার বিরুদ্ধে তো যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে। তখন তিনি প্রশ্নকর্তাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, কিসের যুদ্ধাপরাধ? কিসের বিচার? পরবর্তীকালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাঁর এবং অন্য অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েই কিন্তু আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন।
এখানে এখন বাংলাদেশ সরকার ও মাননীয় আদালত কীভাবে বদরুলের ঔদ্ধত্যের জবাব দেন, সেটাই দেখার বিষয়। বিচারিক আদালতে রায় হওয়ার অর্থ এই নয় যে অপরাধী শাস্তি ভোগ করেছেন। বিচারের আরও কয়েক ধাপ আছে। উচ্চ আদালতে আপিল হবে। আপিলের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনও হতে পারে। বিচারের সব পর্ব শেষ হলেও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের জন্য আরেকটি রক্ষাকবচ হলো রাষ্ট্রপতির ক্ষমা। আগের বিএনপি ও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় ক্ষমাপ্রদর্শনের মহড়া চলেছে, তাতে অনেক চিহ্নিত অপরাধীই আদালতে দণ্ডিত হয়েও শাস্তি থেকে রেহাই পেয়েছেন। কাউকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। কারও দণ্ড কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মামলায়ও কি তাহলে বদরুল কোনো তরফে সে ধরনের আশ্বাস পেয়েছেন?
খাদিজার ওপর বদরুলের নৃশংস হামলার ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল সন্দেহ নেই। কিন্তু মামলার বিচার সেই আলোড়ন বা আবেগের ওপর হয়নি। বিচার হয়েছে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে। ঘটনাটি ঘটেছে প্রকাশ্যে বহু লোকের সামনে। অনেকেই মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্যের ছবি তুলে সামাজিক ও গণমাধ্যমে দিয়েছেন। আসামি বদরুল নিজেও আদালতে অপরাধ স্বীকার করেছেন। কিন্তু তারপরও কীভাবে তিনি বলেন, ‘আমার কিছুই হবে না।’
তাঁর এই দম্ভোক্তি আমাদের শঙ্কিত না করে পারে না। যে ব্যক্তি আদালতের রায় পাওয়ার পর এ রকম উক্তি করতে পারেন, সেই ব্যক্তি যে জেলখানা থেকে কিংবা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবেন না, তা কে বলতে পারে?
এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সমাজকে দুটি দায়িত্ব নিতে হবে। এক. বদরুলের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই. খাদিজাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া, যাতে কেউ তাঁর ওপর ফের হামলা করতে না পারে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, ‘খাদিজা অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া কিংবদন্তি নারী। মৃত্যুর কাছে হার না-মানা খাদিজা বিজয়িনী, প্রতিবাদকারী। আমার বিশ্বাস, আসামির ওপর সর্বোচ্চ শাস্তি আরোপের মাধ্যমে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হাজার হাজার বদরুল ভবিষ্যতে এমন কাণ্ড থেকে বিরত থাকবে এবং আমাদের নারী সমাজ সুরক্ষিত হবে।’
বর্তমান ও ভবিষ্যতের বদরুলদের কঠিন শাস্তি দিয়েই নারী সমাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X