শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:৩১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, September 18, 2017 9:43 pm
A- A A+ Print

খাদ্যমন্ত্রণালয়ের ‘আতপ’ কেলেঙ্কারি

1505746378

চালের দাম অব্যাহত বৃদ্ধির কারণে দরিদ্র সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা তখন সরকারের পক্ষ থেকে বেশি মূল্যে কেনা হচ্ছে আতপ চাল। যে চালের ভাত খাওয়ায় দেশবাসী অভ্যস্ত নয়, সেই চাল বেশি দামে কেনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবে সরকার ওএমএস শুরু করলেও তাতে ক্রেতাদের কোনো আগ্রহ নেই। শুরুতে সাধারণ মানুষের নজর ছিল ওএমএস এর দিকে। কিন্তু ওএমএস চালুর পর ক্রেতারা যখন দেখলো এগুলো আতপ চাল, তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। গতকাল থেকে খোলা বাজারের সরকার চাল বিক্রি শুরু করলেও কোথাও ক্রেতাদের কোনো লাইন দেখা যায়নি। চাল বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলায় ওএমএস চালু করে আতপ চাল বিক্রিকে সাধারণ মানুষ ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ সামিল বলে মনে করছেন। দরিদ্র সাধারণ মানুষও সাধারণত আতপ চালের ভাত খাওয়ায় অভ্যস্ত নয়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর কিছু এলাকায় অল্প কিছু মানুষের আতপ চাল খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও সামগ্রিকভাবে জনগণ সেদ্ধ চালের ভাত খাওয়ায় অভ্যস্ত। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে যে চাল আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাও আতপ চাল। ফলে বাজারে যে অস্থিরতা রয়েছে তা কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। এর আগে পঁচা গম বেশি মূল্যে আমদানি করে টানা কয়েক মাস গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোমান হয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম। এবারও বেশি মূল্যে আতপ চাল (যে চালে ভোক্তা সাধারণ ভাত খাওয়ায় অভ্যস্ত নয়) আমদানি করে নতুন কেলেঙ্কারিতে জড়াচ্ছে খাদ্যমন্ত্রণালয়। প্রশ্নের মুখে আমদানি করা আতপ চাল ওএমএস কর্মসূচিতে আতপ চাল বিক্রি হওয়ায় তা কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ওএমএসের মাধ্যমে আতপ চাল বিক্রি শুরু হলেও দ্বিতীয় দিন সোমবারে এসে ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, আতপ চালের ভাত তারা খাবেন না। তাদের কেউ কেউ বলছেন, পিঠা খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা চাল ৩০ টাকা কেজিতে কেনার চেয়ে রুটি খাওয়াও ভালো। সব মিলিয়ে চালের চড়া বাজারের পরিস্থিতিতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওএমএসে আতপ চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত। যদিও খাদ্যমন্ত্রী বলছেন, এক সপ্তাহ পর আতপ চাল কেনার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়বে। জানা গেছে, ভিয়েতনাম থেকে জিটুজি’র মাধ্যমে যে ২ লাখ টন চাল আনা হয়েছে তাও আতপ চাল। মিল মালিকরা জানিয়েছেন, ‘আতপ চালে খরচ বেশি। এ চাল ভেঙে যায়। আরও অনেক জটিলতা আছে। তাই আমরা আতপ চাল করি না। আমাদের এখানে আতপ চাল চলেও না।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  ‘অনভ্যস্ততার কারণেই আতপ চালের প্রতি মানুষের আগ্রহ নেই। ওএমএসে কম টাকায় পাওয়া যাবে বলেই মানুষ তার এতদিনের অভ্যস্ততার বাইরে গিয়ে আতপ চাল কিনতে শুরু করবেন, এমন ভাবার কারণ নেই। ৫০ টাকা কেজিতে মোটা চাল কেনার সামর্থ্য নেই বলেই হয়তো কিছু মানুষ এই চাল কিনবেন। তবে খাদ্যাভ্যাসের বাইরে যাওয়ার কারণে কেউ কেউ শারীরিক জটিলাতেও পড়তে পারেন।’ তারা আরো বলেন, ‘আতপ চাল সেদ্ধ করা হয় না, ধানের ওপরের চিটা ফেলে দিয়ে এই চাল প্রক্রিয়াজাত করা হয়। ফলে চালের গায়ের লাল অংশটি মিলে নেওয়ার সময়ই চলে যায়। অন্যদিকে, ধান সেদ্ধ করে চাল বের করা হয় বলে সেদ্ধ চালে লাল অংশটা থাকে। তবে দুই ধরনের চালের পুষ্টিগুণে খুব একটা পার্থক্য নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আতপ চাল খেতে স্বাদ নেই। তবে সেদ্ধ চাল না পেলে আতপ চালই খেতে হবে মানুষকে। তবে অভ্যাস না থাকায় শুরুর দিকে পেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।’ খোলা বাজারে ক্রেতা নেই চালের অব্যাহত মূল বৃদ্ধির কারণে শুরুতে ওএমএস চালুর দিকে নজর ছিল দরিদ্র সাধারণ মানুষের। কিন্তু আতপ চাল বিক্রির খবরে গতকাল ও আজ আগ্রহ হারায় ক্রেতারা।  কারণ, আতপ চালের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কম। খবর নিয়ে জানা গেছে, ওএমএসের আতপ চাল কিনতে ক্রেতার কোনো লাইন নেই। এদিকে ক্রেতাদের পছন্দ না হলেও সরকারকে আতপ চাল দিয়েই ওএমএস চালাতে হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কারণ সরকারের গুদামে যেসব চাল আসছে এর বেশির ভাগই আতপ। খাদ্য অধিদপ্তর সম্প্রতি বিদেশ থেকে যেসব চাল এনেছে সেগুলোর মধ্যেও আতপই বেশি। এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে যে চাল আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তাও আতপ। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আতপ হলেও ওএমএসের চালের মান ভালো। যারা একবার এসব চাল নিচ্ছে তারা পরে সিদ্ধ চাল না কিনে আতপ চালই খুঁজবে। আমরা আতপ দিয়েই ওএমএস চালাব।’ মিয়ানমার থেকে আসা প্রতিনিধিদল দেড় লাখ টন চাল বিক্রি করতে রাজি হয়েছে। এসব চাল আপত চাল হওয়ায় বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। গতকাল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সরকারের গুদামে তিন লাখ ৩৯ হাজার টন চাল রয়েছে। এসবের মধ্যে সিদ্ধ চাল থাকলেও তা দিয়ে বিভিন্ন সেক্টরের রেশন দিতে হবে। আর ওএমএস দেওয়া হবে বিদেশ থেকে আমদানি করা চালে। ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল দেশে এসেছে। এর মধ্যে দুই লাখ টনই আতপ। এ ছাড়া কম্বোডিয়া থেকে যে আড়াই লাখ টন চাল আসছে সেটাও আতপ। এদিকে, চালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও সরকার চালের অভাবে এত দিন ওএমএস শুরু করতে পারেনি। বিদেশ থেকে চাল সংগ্রহ করে গতকাল সেই ওএমএস শুরু হয়েছে। শুরুর দিনে ওএমএস কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা ছিল। ঢাকা মহানগরীতে ওএমএসের ১০৯টি ট্রাক থাকলেও দিনের প্রথমার্ধে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট লোকজন। দুপুরের পর থেকে রাজধানীতে এসব ট্রাক দেখা গেলেও ট্রাকের চালের প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল না।

Comments

Comments!

 খাদ্যমন্ত্রণালয়ের ‘আতপ’ কেলেঙ্কারিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

খাদ্যমন্ত্রণালয়ের ‘আতপ’ কেলেঙ্কারি

Monday, September 18, 2017 9:43 pm
1505746378

চালের দাম অব্যাহত বৃদ্ধির কারণে দরিদ্র সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা তখন সরকারের পক্ষ থেকে বেশি মূল্যে কেনা হচ্ছে আতপ চাল। যে চালের ভাত খাওয়ায় দেশবাসী অভ্যস্ত নয়, সেই চাল বেশি দামে কেনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবে সরকার ওএমএস শুরু করলেও তাতে ক্রেতাদের কোনো আগ্রহ নেই। শুরুতে সাধারণ মানুষের নজর ছিল ওএমএস এর দিকে। কিন্তু ওএমএস চালুর পর ক্রেতারা যখন দেখলো এগুলো আতপ চাল, তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। গতকাল থেকে খোলা বাজারের সরকার চাল বিক্রি শুরু করলেও কোথাও ক্রেতাদের কোনো লাইন দেখা যায়নি। চাল বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলায় ওএমএস চালু করে আতপ চাল বিক্রিকে সাধারণ মানুষ ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ সামিল বলে মনে করছেন। দরিদ্র সাধারণ মানুষও সাধারণত আতপ চালের ভাত খাওয়ায় অভ্যস্ত নয়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর কিছু এলাকায় অল্প কিছু মানুষের আতপ চাল খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও সামগ্রিকভাবে জনগণ সেদ্ধ চালের ভাত খাওয়ায় অভ্যস্ত। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে যে চাল আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাও আতপ চাল। ফলে বাজারে যে অস্থিরতা রয়েছে তা কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। এর আগে পঁচা গম বেশি মূল্যে আমদানি করে টানা কয়েক মাস গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোমান হয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম। এবারও বেশি মূল্যে আতপ চাল (যে চালে ভোক্তা সাধারণ ভাত খাওয়ায় অভ্যস্ত নয়) আমদানি করে নতুন কেলেঙ্কারিতে জড়াচ্ছে খাদ্যমন্ত্রণালয়।
প্রশ্নের মুখে আমদানি করা আতপ চাল
ওএমএস কর্মসূচিতে আতপ চাল বিক্রি হওয়ায় তা কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ওএমএসের মাধ্যমে আতপ চাল বিক্রি শুরু হলেও দ্বিতীয় দিন সোমবারে এসে ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, আতপ চালের ভাত তারা খাবেন না। তাদের কেউ কেউ বলছেন, পিঠা খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা চাল ৩০ টাকা কেজিতে কেনার চেয়ে রুটি খাওয়াও ভালো। সব মিলিয়ে চালের চড়া বাজারের পরিস্থিতিতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওএমএসে আতপ চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত। যদিও খাদ্যমন্ত্রী বলছেন, এক সপ্তাহ পর আতপ চাল কেনার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়বে।
জানা গেছে, ভিয়েতনাম থেকে জিটুজি’র মাধ্যমে যে ২ লাখ টন চাল আনা হয়েছে তাও আতপ চাল। মিল মালিকরা জানিয়েছেন, ‘আতপ চালে খরচ বেশি। এ চাল ভেঙে যায়। আরও অনেক জটিলতা আছে। তাই আমরা আতপ চাল করি না। আমাদের এখানে আতপ চাল চলেও না।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  ‘অনভ্যস্ততার কারণেই আতপ চালের প্রতি মানুষের আগ্রহ নেই। ওএমএসে কম টাকায় পাওয়া যাবে বলেই মানুষ তার এতদিনের অভ্যস্ততার বাইরে গিয়ে আতপ চাল কিনতে শুরু করবেন, এমন ভাবার কারণ নেই। ৫০ টাকা কেজিতে মোটা চাল কেনার সামর্থ্য নেই বলেই হয়তো কিছু মানুষ এই চাল কিনবেন। তবে খাদ্যাভ্যাসের বাইরে যাওয়ার কারণে কেউ কেউ শারীরিক জটিলাতেও পড়তে পারেন।’
তারা আরো বলেন, ‘আতপ চাল সেদ্ধ করা হয় না, ধানের ওপরের চিটা ফেলে দিয়ে এই চাল প্রক্রিয়াজাত করা হয়। ফলে চালের গায়ের লাল অংশটি মিলে নেওয়ার সময়ই চলে যায়। অন্যদিকে, ধান সেদ্ধ করে চাল বের করা হয় বলে সেদ্ধ চালে লাল অংশটা থাকে। তবে দুই ধরনের চালের পুষ্টিগুণে খুব একটা পার্থক্য নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আতপ চাল খেতে স্বাদ নেই। তবে সেদ্ধ চাল না পেলে আতপ চালই খেতে হবে মানুষকে। তবে অভ্যাস না থাকায় শুরুর দিকে পেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।’
খোলা বাজারে ক্রেতা নেই
চালের অব্যাহত মূল বৃদ্ধির কারণে শুরুতে ওএমএস চালুর দিকে নজর ছিল দরিদ্র সাধারণ মানুষের। কিন্তু আতপ চাল বিক্রির খবরে গতকাল ও আজ আগ্রহ হারায় ক্রেতারা।  কারণ, আতপ চালের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কম। খবর নিয়ে জানা গেছে, ওএমএসের আতপ চাল কিনতে ক্রেতার কোনো লাইন নেই। এদিকে ক্রেতাদের পছন্দ না হলেও সরকারকে আতপ চাল দিয়েই ওএমএস চালাতে হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কারণ সরকারের গুদামে যেসব চাল আসছে এর বেশির ভাগই আতপ।
খাদ্য অধিদপ্তর সম্প্রতি বিদেশ থেকে যেসব চাল এনেছে সেগুলোর মধ্যেও আতপই বেশি। এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে যে চাল আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তাও আতপ। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আতপ হলেও ওএমএসের চালের মান ভালো। যারা একবার এসব চাল নিচ্ছে তারা পরে সিদ্ধ চাল না কিনে আতপ চালই খুঁজবে। আমরা আতপ দিয়েই ওএমএস চালাব।’ মিয়ানমার থেকে আসা প্রতিনিধিদল দেড় লাখ টন চাল বিক্রি করতে রাজি হয়েছে। এসব চাল আপত চাল হওয়ায় বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সরকারের গুদামে তিন লাখ ৩৯ হাজার টন চাল রয়েছে। এসবের মধ্যে সিদ্ধ চাল থাকলেও তা দিয়ে বিভিন্ন সেক্টরের রেশন দিতে হবে। আর ওএমএস দেওয়া হবে বিদেশ থেকে আমদানি করা চালে। ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল দেশে এসেছে। এর মধ্যে দুই লাখ টনই আতপ। এ ছাড়া কম্বোডিয়া থেকে যে আড়াই লাখ টন চাল আসছে সেটাও আতপ।
এদিকে, চালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও সরকার চালের অভাবে এত দিন ওএমএস শুরু করতে পারেনি। বিদেশ থেকে চাল সংগ্রহ করে গতকাল সেই ওএমএস শুরু হয়েছে। শুরুর দিনে ওএমএস কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা ছিল। ঢাকা মহানগরীতে ওএমএসের ১০৯টি ট্রাক থাকলেও দিনের প্রথমার্ধে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট লোকজন। দুপুরের পর থেকে রাজধানীতে এসব ট্রাক দেখা গেলেও ট্রাকের চালের প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল না।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X