শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:৪৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, July 13, 2017 10:21 pm
A- A A+ Print

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় , র‍্যাগ দেওয়ায় ৩ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার

999

শিক্ষার্থীদের র‍্যাগ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির করা প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং (এলই) বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আ স ম রাগিব আহসান ওরফে মুন্না ও হুমায়ুন কবির এবং আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (ইউআরপি) বিভাগের একই ব্যাচের তরিকুল ইসলাম ওরফে রাতিন। এর মধ্যে মুন্নাকে চলতি টার্মের (সেমিস্টারের) রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। হুমায়ুন কবিরকে চলতি টার্মের জন্য বহিষ্কার এবং রাতিনসহ তিনজনকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউআরপি বিভাগের একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী মো. নাহিদ হাসানসহ অভিযুক্ত চারজনকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। গত ৫ মে রাত ১০টায় পরিচিত হওয়ার কথা বলে কুয়েটের অভিযুক্ত এই শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের ৪০ জনকে হলের ছাদে নিয়ে যান। সেখানে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত তাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান তাঁরা। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে একজন অচেতন হয়ে পড়লে নির্যাতনকারীরা তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরে তাঁকে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দোষী যে–ই হোক, দোষ প্রমাণিত হলে শাস্তি ভোগ করতে হবে। অপরাধীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথম বর্ষের প্রায় সব ছাত্রই কমবেশি তাঁর বিভাগ বা হল বা মেসের বড় ভাইদের মাধ্যমে র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। প্রথম বর্ষের যাঁরা মেসে থাকেন তাঁদের বেশির ভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ‘অস্থায়ী নিবাস’ নামে ছাত্রাবাসের বড় ভাইদের মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হন। প্রথম বর্ষের যাঁদের সঙ্গে এই প্রতিনিধির কথা হয়েছে, তাঁরা কেউই আবার র‌্যাগিংয়ের শিকার হওয়ার ভয়ে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর এক বড় ভাইকে সালাম না দেওয়ায় তাঁকে অস্থায়ী নিবাস ছাত্রাবাসে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করা হয়। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুজন শিক্ষার্থী বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ফুল দিয়ে ফেরার সময় কয়েকজন বড় ভাই তাঁদের একই ছাত্রাবাসে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করেন। নির্যাতনের শিকার আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রথমে বড় ভাইয়েরা আলাদা করে ডেকে নেন। তারপর একটি ঘরে আটকে রেখে ক্রিকেট স্ট্যাম্প বা রড দিয়ে পেটান। কোনো কোনো সময় চড়-থাপ্পড়ও মারেন। চেয়ারহীন চেয়ারে বসার মতো করে বসিয়ে দুই হাত সামনের দিকে বাড়িয়ে ওই হাতে স্ট্যাম্প বা বই ধরিয়ে দেওয়া হয়। আবার দেয়ালের সঙ্গে উঁচু করে পা আটকে এক হাতের ওপর শরীরের ভর রেখে অন্য হাতে বই বা স্ট্যাম্প ধরিয়ে দেওয়া হয়। এভাবে রাখা হয় অনেকক্ষণ। বই বা স্ট্যাম্প হাত থেকে পড়ে গেলে মারা হয় চড়-থাপ্পড়। তা ছাড়া অতিরিক্ত বুকডন দেওয়া, জামাকাপড় খুলে ফেলা, নাচ-গান করানো ও বিভিন্ন গালিগালাজ তো রয়েছেই। উপাচার্য মুহাম্মদ আলমগীরের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের ঘটনা এখন নেই বললেই চলে। কিছু ঘটলে সেটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

Comments!

 খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় , র‍্যাগ দেওয়ায় ৩ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কারAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় , র‍্যাগ দেওয়ায় ৩ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার

Thursday, July 13, 2017 10:21 pm
999

শিক্ষার্থীদের র‍্যাগ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির করা প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়।

শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং (এলই) বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আ স ম রাগিব আহসান ওরফে মুন্না ও হুমায়ুন কবির এবং আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (ইউআরপি) বিভাগের একই ব্যাচের তরিকুল ইসলাম ওরফে রাতিন। এর মধ্যে মুন্নাকে চলতি টার্মের (সেমিস্টারের) রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। হুমায়ুন কবিরকে চলতি টার্মের জন্য বহিষ্কার এবং রাতিনসহ তিনজনকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউআরপি বিভাগের একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী মো. নাহিদ হাসানসহ অভিযুক্ত চারজনকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

গত ৫ মে রাত ১০টায় পরিচিত হওয়ার কথা বলে কুয়েটের অভিযুক্ত এই শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের ৪০ জনকে হলের ছাদে নিয়ে যান। সেখানে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত তাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান তাঁরা। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে একজন অচেতন হয়ে পড়লে নির্যাতনকারীরা তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরে তাঁকে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দোষী যে–ই হোক, দোষ প্রমাণিত হলে শাস্তি ভোগ করতে হবে। অপরাধীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথম বর্ষের প্রায় সব ছাত্রই কমবেশি তাঁর বিভাগ বা হল বা মেসের বড় ভাইদের মাধ্যমে র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। প্রথম বর্ষের যাঁরা মেসে থাকেন তাঁদের বেশির ভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ‘অস্থায়ী নিবাস’ নামে ছাত্রাবাসের বড় ভাইদের মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হন।
প্রথম বর্ষের যাঁদের সঙ্গে এই প্রতিনিধির কথা হয়েছে, তাঁরা কেউই আবার র‌্যাগিংয়ের শিকার হওয়ার ভয়ে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর এক বড় ভাইকে সালাম না দেওয়ায় তাঁকে অস্থায়ী নিবাস ছাত্রাবাসে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করা হয়। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুজন শিক্ষার্থী বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ফুল দিয়ে ফেরার সময় কয়েকজন বড় ভাই তাঁদের একই ছাত্রাবাসে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করেন।
নির্যাতনের শিকার আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রথমে বড় ভাইয়েরা আলাদা করে ডেকে নেন। তারপর একটি ঘরে আটকে রেখে ক্রিকেট স্ট্যাম্প বা রড দিয়ে পেটান। কোনো কোনো সময় চড়-থাপ্পড়ও মারেন। চেয়ারহীন চেয়ারে বসার মতো করে বসিয়ে দুই হাত সামনের দিকে বাড়িয়ে ওই হাতে স্ট্যাম্প বা বই ধরিয়ে দেওয়া হয়। আবার দেয়ালের সঙ্গে উঁচু করে পা আটকে এক হাতের ওপর শরীরের ভর রেখে অন্য হাতে বই বা স্ট্যাম্প ধরিয়ে দেওয়া হয়। এভাবে রাখা হয় অনেকক্ষণ। বই বা স্ট্যাম্প হাত থেকে পড়ে গেলে মারা হয় চড়-থাপ্পড়। তা ছাড়া অতিরিক্ত বুকডন দেওয়া, জামাকাপড় খুলে ফেলা, নাচ-গান করানো ও বিভিন্ন গালিগালাজ তো রয়েছেই।
উপাচার্য মুহাম্মদ আলমগীরের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের ঘটনা এখন নেই বললেই চলে। কিছু ঘটলে সেটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X