বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৩০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, December 26, 2016 7:48 pm
A- A A+ Print

গণতন্ত্রের অভিযাত্রা না উল্টোযাত্রা?

photo-1482372602

সোহরাব হাসান : ডিসেম্বরের শেষেও দেশে শীতের হাওয়া বইছে না। আবহাওয়া না গরম না ঠান্ডা। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন-পরবর্তী উত্তাপ লক্ষ করা যাচ্ছে। সর্বমহলে নির্বাচনটি প্রশংসিত হয়েছে। এ জন্য সরকার বা সরকারি দল কৃতিত্ব দাবি করতেই পারে। একই যুক্তিতে নিকট অতীতের খারাপ নির্বাচনের বদনামও তাদের নিতে হবে। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের পর সরকারি দল ও সরকার বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে। নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন করে যেন কিছুটা হলেও অতীতের পাপ মোচন করতে চেয়েছে। এর আগের নির্বাচনগুলো এতই বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল যে মানুষ নির্বাচনী–ব্যবস্থার প্রতিই অনেকটা আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। সে কারণে চমৎকার পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। আগের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৪ শতাংশ, এবার ৬৪ শতাংশ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন যে রকম সুষ্ঠু হয়েছে, আগামী সংসদ নির্বাচনও সে রকম সুষ্ঠু হবে এবং সেটি শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই। আকাশে চাঁদ উঠলে যেমন কেউ অস্বীকার করতে পারেন না, তেমনি একটি ভালো নির্বাচনকেও কেউ খারাপ প্রমাণ করতে পারেন না। ফলে বিএনপি প্রথমে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলেও পরে ফলাফল কার্যত মেনে নিয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে বিএনপির আংশিক বিজয় হয়েছে। তাঁর মতে, সরকার বাহ্যত সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনী বিতর্কটি এখানে শেষ হতে পারত, কিন্তু হয়নি। ধারণা করি, সরকারি দল আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এই বিতর্ক এগিয়ে নেবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিএনপিকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, ‘সবাই বলছে, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এমনকি পরাজিত প্রার্থীও বলেছেন। তারপরও বিএনপি একের পর এক বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। আসলে যেকোনো ভালো অর্জনকে বিতর্কিত করা বিএনপির অভ্যাস। বাংলাদেশের সব ভালো অর্জনকে তারা বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। বিএনপি মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকেও বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে।’ গতকাল রোববার ১৪ দলের বৈঠকে তিনি নারায়ণগঞ্জের নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সেখানকার ভোটার ও দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জোটের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেছেন, ‘আজকে প্রমাণ হয়ে গেছে, শেখ হাসিনা ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নারায়ণগঞ্জে একটা সফল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রমাণ হয়ে গেছে, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত আছে এবং অব্যাহত থাকবে।’ একটি ভালো নির্বাচনকে যদি বিএনপি মন্দ বলে প্রমাণ করতে চায়, সেটি অবশ্যই নিন্দনীয়। গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে মোহাম্মদ নাসিম যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তার সঙ্গেও দ্বিমত করার কিছু নেই। কিন্তু এক নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন দিয়ে তো বলা যায় না যে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত আছে। নারায়ণগঞ্জে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা হলে আগের নির্বাচনগুলো উল্টোযাত্রা। তিনি আরও বলেছেন, ‘যেকোনো ভালো অর্জনকে বিতর্কিত করা বিএনপির অভ্যাস।’ তাঁর এ বক্তব্য পুরো সত্য হলে আমরা আশ্বস্ত হতে পারতাম। কেননা, একটি রাজনৈতিক দল কোনো অর্জনকে বিতর্কিত করলেও তেমন ক্ষতি করতে পারে না। অর্জন বরাবর ধূলিসাৎ হয় ক্ষমতাসীনদের দ্বারা। আর সব ভালো অর্জনকে বিতর্কিত করার কাজটি আড়াই দশক ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্লা দিয়েই করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান উপদেষ্টা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বিতর্কিত করেছিল। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই ব্যবস্থাই তুলে দিল। দুই দলই সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর কৃতিত্ব দাবি করে, কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা সেই সংসদকে কার্যকর করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। জাতীয় রাজনীতি থেকে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার দিকে তাকালে আমরা কী দেখি? ক্ষমতাসীনেরা বরাবর স্থানীয় সরকারকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে থাকে। ২০১৩ সালে সিলেট, গাজীপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা—এই পাঁচ সিটি করপোরেশনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের মতো সরকারদলীয় প্রার্থীরা জয়ী হননি, জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। নির্বাচনের পর সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়ে তাঁরা দায়িত্বও নিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরই দেখা গেল একে একে সবার বিরুদ্ধে মামলা হলো, জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা গ্রেপ্তার হলেন, তাঁদের কাউকে কাউকে রিমান্ডে নেওয়া হলো। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তাঁদের নামে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করে দলীয় কাউকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়া হলো। ব্যতিক্রম ছিলেন বরিশালের মেয়র। স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে সদ্ভাব থাকায় তিনি বিরতিহীনভাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ২০১২ সালে নির্বাচিত কুমিল্লার মেয়রও সেই পথ অনুসরণ করেছেন। কিন্তু সিলেট, রাজশাহী ও গাজীপুরের মেয়রদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি গাজীপুরের মেয়রের নামে ২১টি মামলা দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকারের আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করে যখনই তিনি জিতে যান, তখনই নতুন মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়। একে কি গণতন্ত্রের অভিযাত্রা বলা যাবে? সম্প্রতি খুলনার মেয়র উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যরা কেউ পদে নেই, আছেন জেলে বা জামিনে। সংবিধানে স্থানীয় সরকার বা স্থানীয় শাসনের প্রতিটি স্তর জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো গঠিত হয়েছে। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর যদি নির্বাচিতরা দায়িত্ব পালন না করতে পারেন কিংবা জেল-জুলুমের শিকার হন, সেটিও কি একটি ভালো অর্জনকে বিতর্কিত করা নয়? সরকার হয়তো মামলার দোহাই দেবে। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেই প্রমাণিত হয় না যে তিনি অপরাধী। নিম্ন আদালতে দণ্ডিত ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে আপিল করে মন্ত্রিত্ব করতে পারেন, তাহলে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সিটি মেয়রেরা মেয়র পদে থাকতে পারবেন না কেন? এক যাত্রায় দুই ফল হতে পারে না। আইন সবার জন্যই সমান হতে হবে।

Comments

Comments!

 গণতন্ত্রের অভিযাত্রা না উল্টোযাত্রা?AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

গণতন্ত্রের অভিযাত্রা না উল্টোযাত্রা?

Monday, December 26, 2016 7:48 pm
photo-1482372602

সোহরাব হাসান : ডিসেম্বরের শেষেও দেশে শীতের হাওয়া বইছে না। আবহাওয়া না গরম না ঠান্ডা। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন-পরবর্তী উত্তাপ লক্ষ করা যাচ্ছে। সর্বমহলে নির্বাচনটি প্রশংসিত হয়েছে। এ জন্য সরকার বা সরকারি দল কৃতিত্ব দাবি করতেই পারে। একই যুক্তিতে নিকট অতীতের খারাপ নির্বাচনের বদনামও তাদের নিতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের পর সরকারি দল ও সরকার বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে। নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন করে যেন কিছুটা হলেও অতীতের পাপ মোচন করতে চেয়েছে। এর আগের নির্বাচনগুলো এতই বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল যে মানুষ নির্বাচনী–ব্যবস্থার প্রতিই অনেকটা আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। সে কারণে চমৎকার পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। আগের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৪ শতাংশ, এবার ৬৪ শতাংশ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন যে রকম সুষ্ঠু হয়েছে, আগামী সংসদ নির্বাচনও সে রকম সুষ্ঠু হবে এবং সেটি শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই। আকাশে চাঁদ উঠলে যেমন কেউ অস্বীকার করতে পারেন না, তেমনি একটি ভালো নির্বাচনকেও কেউ খারাপ প্রমাণ করতে পারেন না। ফলে বিএনপি প্রথমে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলেও পরে ফলাফল কার্যত মেনে নিয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে বিএনপির আংশিক বিজয় হয়েছে। তাঁর মতে, সরকার বাহ্যত সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছে।

নির্বাচনী বিতর্কটি এখানে শেষ হতে পারত, কিন্তু হয়নি। ধারণা করি, সরকারি দল আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এই বিতর্ক এগিয়ে নেবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিএনপিকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, ‘সবাই বলছে, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এমনকি পরাজিত প্রার্থীও বলেছেন। তারপরও বিএনপি একের পর এক বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। আসলে যেকোনো ভালো অর্জনকে বিতর্কিত করা বিএনপির অভ্যাস। বাংলাদেশের সব ভালো অর্জনকে তারা বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। বিএনপি মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকেও বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে।’ গতকাল রোববার ১৪ দলের বৈঠকে তিনি নারায়ণগঞ্জের নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সেখানকার ভোটার ও দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জোটের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেছেন, ‘আজকে প্রমাণ হয়ে গেছে, শেখ হাসিনা ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নারায়ণগঞ্জে একটা সফল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রমাণ হয়ে গেছে, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত আছে এবং অব্যাহত থাকবে।’

একটি ভালো নির্বাচনকে যদি বিএনপি মন্দ বলে প্রমাণ করতে চায়, সেটি অবশ্যই নিন্দনীয়। গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে মোহাম্মদ নাসিম যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তার সঙ্গেও দ্বিমত করার কিছু নেই। কিন্তু এক নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন দিয়ে তো বলা যায় না যে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত আছে। নারায়ণগঞ্জে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা হলে আগের নির্বাচনগুলো উল্টোযাত্রা। তিনি আরও বলেছেন, ‘যেকোনো ভালো অর্জনকে বিতর্কিত করা বিএনপির অভ্যাস।’ তাঁর এ বক্তব্য পুরো সত্য হলে আমরা আশ্বস্ত হতে পারতাম। কেননা, একটি রাজনৈতিক দল কোনো অর্জনকে বিতর্কিত করলেও তেমন ক্ষতি করতে পারে না। অর্জন বরাবর ধূলিসাৎ হয় ক্ষমতাসীনদের দ্বারা। আর সব ভালো অর্জনকে বিতর্কিত করার কাজটি আড়াই দশক ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্লা দিয়েই করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান উপদেষ্টা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বিতর্কিত করেছিল। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই ব্যবস্থাই তুলে দিল। দুই দলই সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর কৃতিত্ব দাবি করে, কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা সেই সংসদকে কার্যকর করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

জাতীয় রাজনীতি থেকে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার দিকে তাকালে আমরা কী দেখি? ক্ষমতাসীনেরা বরাবর স্থানীয় সরকারকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে থাকে। ২০১৩ সালে সিলেট, গাজীপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা—এই পাঁচ সিটি করপোরেশনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের মতো সরকারদলীয় প্রার্থীরা জয়ী হননি, জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। নির্বাচনের পর সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়ে তাঁরা দায়িত্বও নিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরই দেখা গেল একে একে সবার বিরুদ্ধে মামলা হলো, জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা গ্রেপ্তার হলেন, তাঁদের কাউকে কাউকে রিমান্ডে নেওয়া হলো। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তাঁদের নামে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করে দলীয় কাউকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়া হলো। ব্যতিক্রম ছিলেন বরিশালের মেয়র। স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে সদ্ভাব থাকায় তিনি বিরতিহীনভাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ২০১২ সালে নির্বাচিত কুমিল্লার মেয়রও সেই পথ অনুসরণ করেছেন। কিন্তু সিলেট, রাজশাহী ও গাজীপুরের মেয়রদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি গাজীপুরের মেয়রের নামে ২১টি মামলা দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকারের আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করে যখনই তিনি জিতে যান, তখনই নতুন মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়। একে কি গণতন্ত্রের অভিযাত্রা বলা যাবে? সম্প্রতি খুলনার মেয়র উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যরা কেউ পদে নেই, আছেন জেলে বা জামিনে।

সংবিধানে স্থানীয় সরকার বা স্থানীয় শাসনের প্রতিটি স্তর জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো গঠিত হয়েছে। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর যদি নির্বাচিতরা দায়িত্ব পালন না করতে পারেন কিংবা জেল-জুলুমের শিকার হন, সেটিও কি একটি ভালো অর্জনকে বিতর্কিত করা নয়?

সরকার হয়তো মামলার দোহাই দেবে। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেই প্রমাণিত হয় না যে তিনি অপরাধী। নিম্ন আদালতে দণ্ডিত ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে আপিল করে মন্ত্রিত্ব করতে পারেন, তাহলে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সিটি মেয়রেরা মেয়র পদে থাকতে পারবেন না কেন?

এক যাত্রায় দুই ফল হতে পারে না। আইন সবার জন্যই সমান হতে হবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X