বুধবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, July 17, 2017 10:35 am
A- A A+ Print

গণবদলি নিয়ে সিইসি, ‘মাহাবুব তালুকদারের প্রডাক্ট এসব’

4

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একযোগে ৩৩ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে বদলি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। গতকাল রবিবার নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা বদলির সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন তুললে সিইসি উত্তেজিতভাবে বলেন, ‘এসব মাহাবুব তালুকদারের প্রডাক্ট। তিনি আমাদের উত্যক্ত করছেন। ’ ‘নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটি’ নামে গত ১২ জুন নির্বাচন কমিশনে কমিটি গঠন হয়। কমিটির সভাপতি নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদার। কিন্তু তাঁকে কিছু না জানিয়েই আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের মাঠ প্রশাসন সাজাতে সম্প্রতি নির্বাচন কর্মকর্তাদের গণহারে বদলির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সচিব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অনুমতি নিয়ে এ বদলির ব্যবস্থা নেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় কমিশনের কর্মকাণ্ড ও ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদার। তিনি গত ১১ জুলাই এক  ‘আন অফিশিয়াল’ (ইউও) নোটের মাধ্যমে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবের বক্তব্য জানতে চান। ইউও নোটে তিনি বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় দেখেতে পেলাম নির্বাচন কমিশন দেশব্যাপী বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের অধীন অফিসারদের বদলি, পদোন্নতি (চলতি দায়িত্ব) প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে অফিসারদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার কথা পত্রপত্রিকায় উঠে এসেছে। এতে কমিশনের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমি করি। বিষয়টি আমাকে কিছুটা বিস্মিত করেছে। কারণ এতদ্বসম্পর্কে কোনো পর্যায়েই আমাকে অবহিত করা হয়নি। ’ নোটে আরো বলা হয়, ‘(১) বিগত ১২ জুন তারিখে আমাকে সভাপতি করে ‘নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটি’ নামে যে কমিটি গঠিত হয়েছে, উল্লেখিত বদলি বা পদোন্নতি তার আওতায় পড়ে কি না। (২) গণহারে বদলি বা পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে উল্লেখিত সভায় তা আলোচনা হওয়া উচিত ছিল কি না। উক্ত বিষয়ে কমিটি অবহিত না হলে কমিটির আবশ্যকতা থাকে বলে প্রতীয়মান হয় না। (৩) গত রবিবার বিকালে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গণবদলি করা হয়েছে। কোন নিয়মনীতি অনুসরণ করে এসব বদলি করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমাকে জানানো যেতে পারে। (৪) গণবদলি ও পদোন্নতি সম্পর্কে যাবতীয় নির্দেশ, আদেশ ও অন্যান্য নথিপত্র আমার কাছে অনতিবিলম্বে পেশ করা যেতে পারে। ’ এ ইউও নোটের অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের কাছেও পাঠানো হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, রুলস অব বিজনেস অনুসারে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসনিক কাজের শতভাগ দায়িত্ব সচিবের। সচিবের মাধ্যমেই এসব বদলি-পদোন্নতি হয়ে থাকে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইনে কার কী দায়িত্ব, তা উল্লেখ করা আছে। সচিব আরো বলেন, একটি ইউও নোট পাবলিক ডকুমেন্ট নয়। এটা বাইরে প্রকাশ হয়ে যাওয়া উচিত হয়নি। ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এটা হয়েছে। যে কমিটি গঠন হয়েছে, তা নির্বাচন কমিশনের জনবল কাঠামো সম্পর্কে সুপারিশ করার জন্য। এদিকে ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন’ এক বিবৃতিতে বিষয়টি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে,  বদলটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি এ ক্ষেত্রে একজন কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত নিয়োগ ও বদলিসংক্রান্ত কমিটিকেও সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি আইন ও উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সুজনের এই বিবৃতি সম্পর্কে অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, সিইসি আর সচিবই এ ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের এখতিয়ার রাখেন।

Comments

Comments!

 গণবদলি নিয়ে সিইসি, ‘মাহাবুব তালুকদারের প্রডাক্ট এসব’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

গণবদলি নিয়ে সিইসি, ‘মাহাবুব তালুকদারের প্রডাক্ট এসব’

Monday, July 17, 2017 10:35 am
4

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একযোগে ৩৩ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে বদলি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। গতকাল রবিবার নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা বদলির সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন তুললে সিইসি উত্তেজিতভাবে বলেন, ‘এসব মাহাবুব তালুকদারের প্রডাক্ট। তিনি আমাদের উত্যক্ত করছেন। ’

‘নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটি’ নামে গত ১২ জুন নির্বাচন কমিশনে কমিটি গঠন হয়। কমিটির সভাপতি নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদার। কিন্তু তাঁকে কিছু না জানিয়েই আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের মাঠ প্রশাসন সাজাতে সম্প্রতি নির্বাচন কর্মকর্তাদের গণহারে বদলির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সচিব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অনুমতি নিয়ে এ বদলির ব্যবস্থা নেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় কমিশনের কর্মকাণ্ড ও ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদার। তিনি গত ১১ জুলাই এক  ‘আন অফিশিয়াল’ (ইউও) নোটের মাধ্যমে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবের বক্তব্য জানতে চান।

ইউও নোটে তিনি বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় দেখেতে পেলাম নির্বাচন কমিশন দেশব্যাপী বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের অধীন অফিসারদের বদলি, পদোন্নতি (চলতি দায়িত্ব) প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে অফিসারদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার কথা পত্রপত্রিকায় উঠে এসেছে। এতে কমিশনের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমি করি। বিষয়টি আমাকে কিছুটা বিস্মিত করেছে। কারণ এতদ্বসম্পর্কে কোনো পর্যায়েই আমাকে অবহিত করা হয়নি। ’

নোটে আরো বলা হয়, ‘(১) বিগত ১২ জুন তারিখে আমাকে সভাপতি করে ‘নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটি’ নামে যে কমিটি গঠিত হয়েছে, উল্লেখিত বদলি বা পদোন্নতি তার আওতায় পড়ে কি না। (২) গণহারে বদলি বা পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে উল্লেখিত সভায় তা আলোচনা হওয়া উচিত ছিল কি না। উক্ত বিষয়ে কমিটি অবহিত না হলে কমিটির আবশ্যকতা থাকে বলে প্রতীয়মান হয় না। (৩) গত রবিবার বিকালে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গণবদলি করা হয়েছে। কোন নিয়মনীতি অনুসরণ করে এসব বদলি করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমাকে জানানো যেতে পারে। (৪) গণবদলি ও পদোন্নতি সম্পর্কে যাবতীয় নির্দেশ, আদেশ ও অন্যান্য নথিপত্র আমার কাছে অনতিবিলম্বে পেশ করা যেতে পারে। ’

এ ইউও নোটের অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের কাছেও পাঠানো হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, রুলস অব বিজনেস অনুসারে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসনিক কাজের শতভাগ দায়িত্ব সচিবের। সচিবের মাধ্যমেই এসব বদলি-পদোন্নতি হয়ে থাকে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইনে কার কী দায়িত্ব, তা উল্লেখ করা আছে। সচিব আরো বলেন, একটি ইউও নোট পাবলিক ডকুমেন্ট নয়। এটা বাইরে প্রকাশ হয়ে যাওয়া উচিত হয়নি। ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এটা হয়েছে। যে কমিটি গঠন হয়েছে, তা নির্বাচন কমিশনের জনবল কাঠামো সম্পর্কে সুপারিশ করার জন্য।

এদিকে ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন’ এক বিবৃতিতে বিষয়টি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে,  বদলটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি এ ক্ষেত্রে একজন কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত নিয়োগ ও বদলিসংক্রান্ত কমিটিকেও সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি আইন ও উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সুজনের এই বিবৃতি সম্পর্কে অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, সিইসি আর সচিবই এ ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের এখতিয়ার রাখেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X