মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:২৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, December 10, 2016 7:54 pm
A- A A+ Print

গণশুনানিতে ক্ষোভ ঝাড়লেন সেবাবঞ্চিতরা

25

সাব-রেজিস্ট্রার কোনো দিনই ১২টার আগে অফিসে আসেন না। বিকেল তিনটার পর অফিসের কাজ নিয়ে বসেন। বিলম্ব ফি নিয়ে রেজিস্ট্রেশনের কাজ করেন—নারায়ণগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলেন জহিরুল ইসলাম নামের একজন। আজ শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের সামনে সরকারি সেবা নিয়ে গণশুনানিতে এ অভিযোগ তোলেন জহিরুল। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এ গণশুনানির আয়োজন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শুনানির সময় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয় ওই সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। তবে জবাবে সাব-রেজিস্ট্রার সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে তিনি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন বলে জানান। তাঁর এমন বক্তব্যের সময় দর্শক সারিতে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষ সাব-রেজিস্ট্রারের বক্তব্য ‘মিথ্যা মিথ্যা’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। তখন দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন আহমেদ স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। সোনারগাঁ উপজেলার পাঁচটি সরকারি দপ্তর নিয়ে দুদকের এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়, উপজেলা বিদ্যুৎ সমিতি কার্যালয় ১ ও ২, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কার্যালয় এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সেবা গ্রহীতাদের নানা প্রশ্ন ও অভিযোগের জবাব দেন। দুদক ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও অভিযোগ নিয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। সোনারগাঁয়ের টিপরদি নতুন রাস্তা এলাকার মো. মোশারফ হোসেন এক বছর আগের একটি ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আহত দুজন মানুষকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে হাসপাতালের সামনেই রেখে দেন। এরপর কাফনের কাপড় নিয়ে তাদের শেষ গোসলের জন্য নেওয়া হলে একজন নড়ে ওঠেন। দেখা গেল তিনি মারা যাননি। চিকিৎসকের অবহেলার জন্য শাস্তি দাবি করেন। আনোয়ার হোসেন নামের আরেকজন অভিযোগ করে বলেন, ‘সোনারগাঁয়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল থেকে ভালো কোনো ওষুধ পেয়েছে কি না তা অনেক বড় প্রশ্ন। দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে মেশিন বিকল। হাসপাতাল থেকে বেসরকারি ক্লিনিকে রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় এক্স-রের জন্য। নার্সদের ব্যবহার খুবই খারাপ।’ জাহানারা আক্তার নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, গত মঙ্গলবারও তাঁর এক আত্মীয়কে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে গাইনি ডাক্তার পাননি। অন্য ডাক্তারদেরও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, তিনি মাত্র দুই মাস আগে সেখানে যোগ দিয়েছেন। ওষুধ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার আগের সময়ে ঘটা যেসব বিষয়ে অভিযোগ এসেছে সেগুলো তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে দুদককে জানাবেন বলে ঘোষণা দেন। নোয়াগাঁ এলাকার মো. তোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগ, নামজারির মিস কেস নিষ্পত্তি না করে আড়াই বছর ধরে তাঁকে ঘোরানো হচ্ছে। ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মচারী তাঁর কাগজপত্রও গায়েব করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ইসলামপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদ বলেন, সরকারি খাস জমি একটি কোম্পানি দখল করে নেওয়ার প্রতিবাদ করা এবং সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার কারণে তিনি, তাঁর ভাই ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়। তারপরও সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ বিষয়ে এখনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফাইল আটকে রাখা, নামজারি, খারিজ, মিস কেস নিষ্পত্তিসহ নানা ক্ষেত্রে পদে পদে ঘুষ দেওয়াসহ বিভিন্ন রকমের হয়রানির কথা তুলে বক্তব্য দেন প্রায় কুড়িজন ভুক্তভোগী। জবাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, তিনি সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব নিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভূমি অফিসে আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। তাঁর দরজা সকল নাগরিকের জন্য খোলা থাকে বলে দাবি করলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নাগরিকদের যেসব সমস্যা রয়ে গেছে সেগুলো সমস্যা ভেদে ১৫ দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন। গণশুনানিতে অন্তত ত্রিশজন ভুক্তভোগী তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। গণশুনানির শেষে দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবশ্যই নাগরিকদের প্রাপ্য সেবা দিতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি করলে জেলের ভাত খেতেই হবে। দুদক কাউকেই ছাড় দেবে না।

Comments

Comments!

 গণশুনানিতে ক্ষোভ ঝাড়লেন সেবাবঞ্চিতরাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

গণশুনানিতে ক্ষোভ ঝাড়লেন সেবাবঞ্চিতরা

Saturday, December 10, 2016 7:54 pm
25

সাব-রেজিস্ট্রার কোনো দিনই ১২টার আগে অফিসে আসেন না। বিকেল তিনটার পর অফিসের কাজ নিয়ে বসেন। বিলম্ব ফি নিয়ে রেজিস্ট্রেশনের কাজ করেন—নারায়ণগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলেন জহিরুল ইসলাম নামের একজন।

আজ শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের সামনে সরকারি সেবা নিয়ে গণশুনানিতে এ অভিযোগ তোলেন জহিরুল। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এ গণশুনানির আয়োজন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
শুনানির সময় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয় ওই সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে।

তবে জবাবে সাব-রেজিস্ট্রার সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে তিনি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন বলে জানান। তাঁর এমন বক্তব্যের সময় দর্শক সারিতে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষ সাব-রেজিস্ট্রারের বক্তব্য ‘মিথ্যা মিথ্যা’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। তখন দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন আহমেদ স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেন।

সোনারগাঁ উপজেলার পাঁচটি সরকারি দপ্তর নিয়ে দুদকের এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়, উপজেলা বিদ্যুৎ সমিতি কার্যালয় ১ ও ২, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কার্যালয় এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সেবা গ্রহীতাদের নানা প্রশ্ন ও অভিযোগের জবাব দেন। দুদক ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও অভিযোগ নিয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

সোনারগাঁয়ের টিপরদি নতুন রাস্তা এলাকার মো. মোশারফ হোসেন এক বছর আগের একটি ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আহত দুজন মানুষকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে হাসপাতালের সামনেই রেখে দেন। এরপর কাফনের কাপড় নিয়ে তাদের শেষ গোসলের জন্য নেওয়া হলে একজন নড়ে ওঠেন। দেখা গেল তিনি মারা যাননি। চিকিৎসকের অবহেলার জন্য শাস্তি দাবি করেন।

আনোয়ার হোসেন নামের আরেকজন অভিযোগ করে বলেন, ‘সোনারগাঁয়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল থেকে ভালো কোনো ওষুধ পেয়েছে কি না তা অনেক বড় প্রশ্ন। দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে মেশিন বিকল। হাসপাতাল থেকে বেসরকারি ক্লিনিকে রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় এক্স-রের জন্য। নার্সদের ব্যবহার খুবই খারাপ।’

জাহানারা আক্তার নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, গত মঙ্গলবারও তাঁর এক আত্মীয়কে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে গাইনি ডাক্তার পাননি। অন্য ডাক্তারদেরও ঠিকমতো পাওয়া যায় না।

জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, তিনি মাত্র দুই মাস আগে সেখানে যোগ দিয়েছেন। ওষুধ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার আগের সময়ে ঘটা যেসব বিষয়ে অভিযোগ এসেছে সেগুলো তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে দুদককে জানাবেন বলে ঘোষণা দেন।

নোয়াগাঁ এলাকার মো. তোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগ, নামজারির মিস কেস নিষ্পত্তি না করে আড়াই বছর ধরে তাঁকে ঘোরানো হচ্ছে। ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মচারী তাঁর কাগজপত্রও গায়েব করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইসলামপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদ বলেন, সরকারি খাস জমি একটি কোম্পানি দখল করে নেওয়ার প্রতিবাদ করা এবং সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার কারণে তিনি, তাঁর ভাই ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়। তারপরও সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ বিষয়ে এখনো ব্যবস্থা নেয়নি।

ফাইল আটকে রাখা, নামজারি, খারিজ, মিস কেস নিষ্পত্তিসহ নানা ক্ষেত্রে পদে পদে ঘুষ দেওয়াসহ বিভিন্ন রকমের হয়রানির কথা তুলে বক্তব্য দেন প্রায় কুড়িজন ভুক্তভোগী।

জবাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, তিনি সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব নিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভূমি অফিসে আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। তাঁর দরজা সকল নাগরিকের জন্য খোলা থাকে বলে দাবি করলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নাগরিকদের যেসব সমস্যা রয়ে গেছে সেগুলো সমস্যা ভেদে ১৫ দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

গণশুনানিতে অন্তত ত্রিশজন ভুক্তভোগী তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
গণশুনানির শেষে দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবশ্যই নাগরিকদের প্রাপ্য সেবা দিতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি করলে জেলের ভাত খেতেই হবে। দুদক কাউকেই ছাড় দেবে না।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X