রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ২:০৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, July 31, 2016 3:39 pm
A- A A+ Print

গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন: যেভাবে কাটছে শরণার্থীদের জীবন

148640_1

ডেস্ক রিপোর্ট: ইনাস আবু মোহাদি বুঝে উঠতে পারেনি যে, সে তার বাবাকে আর কোনো দিন দেখতে পাবে না। ছোট্ট ইনাস  কেবল স্মরণ করতে পারেন, তার বাবার একটি স্কুটার ছিল এবং স্কুটারের শব্দ শুনা মাত্রই সে বুঝতে পারত তার বাবা বাড়িতে পৌঁছেছে। ২০১৩ সালের জুলাইে মৃত্যু হয় ছোট্ট ওই মেয়ে শিশুটির বাবার। ২০১৪ সালে বর্বর ইসরাইলি বাহিনী গাজায় আগ্রাসন চালালে শিশুটির পরিবারে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।
শিশুটির মা রাজিয়া আবু খলিল বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্গতি। এখন আমি একইসঙ্গে আমার সন্তানদের মা এবং পিতা। ছয় সন্তান নিয়ে আমার বোঝাটা খুবই ভারী হয়ে গেছে এবং এখন আমি তাদের ভার আর সইতে পারছি না। আমি খুবই ক্লান্ত।’ স্বামীকে নিয়ে রাজিয়া সেন্ট্রাল গাজার ‘দেইর আল বালাহ’ শহরে বসবাস করতেন। ২০১৪ সালের গ্রীষ্মে ইসরাইলের ৫১ দিনের বোমাবর্ষণে তাদের বাড়িটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। তার জ্যেষ্ঠ সন্তান মুহাম্মদের বয়স এখন ১২ বছর। ক্রমাগত স্নায়ুবিক দুর্বলতায় ভুগছে সে এবং প্রায়ই সে তার মেজাজ হারিয়ে ফেলে। তার মতো এরকম মানসিক আঘাত নিয়ে হাজার হাজার গাজাবাসী বেঁচে আছেন। ২০০৮ সালের  ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ পর্যন্ত গাজাবাসীকে বড় ধরনের তিনটি ইসরাইলি আগ্রাসন সহ্য করতে হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০১০৪ সালের ওই আগ্রাসনে গাজার জনসংখ্যার ২০ শতাংশ (প্রায় ৩৬০,০০০ জন) মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। রাজিয়া ও তার সন্তানরা ইতোমধ্যে তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছে এবং ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত একটি স্কুলের আশ্রয় কেন্দ্রে স্থান হয়েছে তাদের। ফিলিস্তিনিদের বাড়ি-ঘরে বোমা হামলার পর থেকে শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের এই সাহায্য সংস্থা কাজ করছেন। ওই পরিবারের বাড়ি-ঘর এখনো পুনর্নির্মিত হয়নি। রাজিয়া তার সন্তানদের নিয়ে বর্তমানে একটি কাফেলায় বাস করছে। রাজিয়া বলেন, আমরা যখন শরণার্থী শিবিরে আসি, তখন আমরা ভেবেছিলাম এটা অস্থায়ী হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমাদের দুর্ভোগ অবিরাম চলতে থাকবে। মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা ‘কবরে’ বসবাস করছি। ওই কাফেলার ঘরের আয়তন মাত্র আট মিটার লম্বা এবং ছয় মিটার চওড়া। রাজিয়া বলেন, ‘কাফেলাটিকে মনে হয় যেন গ্রীষ্মকালের একটি চুলা এবং শীতকালের একটি ফ্রিজ।’ রাজিয়া জানান, গরম আবহাওয়া হওয়ায় কাফেলাটিতে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ও সাপের উপদ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সূর্যের তীব্র তাপের কারণে তার শিশুরা ফুসকুড়ির রোগে ভোগছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টিপাতের সময়ে কাফেলাটি প্লাবিত হয়ে যায়।

Comments

Comments!

 গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন: যেভাবে কাটছে শরণার্থীদের জীবনAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন: যেভাবে কাটছে শরণার্থীদের জীবন

Sunday, July 31, 2016 3:39 pm
148640_1

ডেস্ক রিপোর্ট: ইনাস আবু মোহাদি বুঝে উঠতে পারেনি যে, সে তার বাবাকে আর কোনো দিন দেখতে পাবে না। ছোট্ট ইনাস  কেবল স্মরণ করতে পারেন, তার বাবার একটি স্কুটার ছিল এবং স্কুটারের শব্দ শুনা মাত্রই সে বুঝতে পারত তার বাবা বাড়িতে পৌঁছেছে।

২০১৩ সালের জুলাইে মৃত্যু হয় ছোট্ট ওই মেয়ে শিশুটির বাবার। ২০১৪ সালে বর্বর ইসরাইলি বাহিনী গাজায় আগ্রাসন চালালে শিশুটির পরিবারে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

শিশুটির মা রাজিয়া আবু খলিল বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্গতি। এখন আমি একইসঙ্গে আমার সন্তানদের মা এবং পিতা। ছয় সন্তান নিয়ে আমার বোঝাটা খুবই ভারী হয়ে গেছে এবং এখন আমি তাদের ভার আর সইতে পারছি না। আমি খুবই ক্লান্ত।’

স্বামীকে নিয়ে রাজিয়া সেন্ট্রাল গাজার ‘দেইর আল বালাহ’ শহরে বসবাস করতেন। ২০১৪ সালের গ্রীষ্মে ইসরাইলের ৫১ দিনের বোমাবর্ষণে তাদের বাড়িটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।

তার জ্যেষ্ঠ সন্তান মুহাম্মদের বয়স এখন ১২ বছর। ক্রমাগত স্নায়ুবিক দুর্বলতায় ভুগছে সে এবং প্রায়ই সে তার মেজাজ হারিয়ে ফেলে। তার মতো এরকম মানসিক আঘাত নিয়ে হাজার হাজার গাজাবাসী বেঁচে আছেন। ২০০৮ সালের  ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ পর্যন্ত গাজাবাসীকে বড় ধরনের তিনটি ইসরাইলি আগ্রাসন সহ্য করতে হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০১০৪ সালের ওই আগ্রাসনে গাজার জনসংখ্যার ২০ শতাংশ (প্রায় ৩৬০,০০০ জন) মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।

রাজিয়া ও তার সন্তানরা ইতোমধ্যে তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছে এবং ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত একটি স্কুলের আশ্রয় কেন্দ্রে স্থান হয়েছে তাদের।

ফিলিস্তিনিদের বাড়ি-ঘরে বোমা হামলার পর থেকে শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের এই সাহায্য সংস্থা কাজ করছেন। ওই পরিবারের বাড়ি-ঘর এখনো পুনর্নির্মিত হয়নি। রাজিয়া তার সন্তানদের নিয়ে বর্তমানে একটি কাফেলায় বাস করছে।

রাজিয়া বলেন, আমরা যখন শরণার্থী শিবিরে আসি, তখন আমরা ভেবেছিলাম এটা অস্থায়ী হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমাদের দুর্ভোগ অবিরাম চলতে থাকবে। মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা ‘কবরে’ বসবাস করছি।

ওই কাফেলার ঘরের আয়তন মাত্র আট মিটার লম্বা এবং ছয় মিটার চওড়া। রাজিয়া বলেন, ‘কাফেলাটিকে মনে হয় যেন গ্রীষ্মকালের একটি চুলা এবং শীতকালের একটি ফ্রিজ।’

রাজিয়া জানান, গরম আবহাওয়া হওয়ায় কাফেলাটিতে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ও সাপের উপদ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সূর্যের তীব্র তাপের কারণে তার শিশুরা ফুসকুড়ির রোগে ভোগছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টিপাতের সময়ে কাফেলাটি প্লাবিত হয়ে যায়।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X