বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৩৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, October 24, 2016 9:50 am
A- A A+ Print

গাদ্দাফির আমলই ভালো ছিল!

cf58112ea22216d234fc437f39023fda-kadhafi

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। সংঘাত-নৈরাজ্যে দেশটির মানুষ ক্লান্ত-শ্রান্ত। তাদের জীবনে হতাশা বাড়ছে। তারা অনেকটা উপহাস করে বলছে, এখনকার চেয়ে বরং স্বৈরশাসক গাদ্দাফির আমলই ভালো ছিল। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির মানুষ তাদের এই কষ্টের অনুভূতির কথা জানিয়েছে। লিবিয়ার লোকজন বলছে, তেলসমৃদ্ধ দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষগুলো পরস্পর সংঘাতে লিপ্ত। বিদ্যুৎ নেই, টাকা নেই, নিত্যপণ্যের অভাব। গাদ্দাফির চার দশকের বেশি সময়কার শাসনকালের কথা উল্লেখ করে ফার্মাসিস্ট ফায়জা আল-নাস বলেন, ‘বলতে ঘেন্না হচ্ছে, তবু বলি, আগের আমলেই আমাদের জীবন অনেক ভালো ছিল।’ ৪২ বছর বয়সী এই ফার্মাসিস্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিজের অর্থও এখন ঠিকমতো ব্যাংক থেকে তোলা যায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সবকিছুর দাম প্রায় তিন গুণ বেড়ে গেছে। লিবিয়ায় জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি ঐক্যের সরকার আছে। কিন্তু পুরো দেশের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় তারা চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তা হালে পানি পাচ্ছে বলে মনে হয় না। ঐক্যের সরকারকে মানতে নারাজ দেশটির পূর্বাঞ্চলে গঠিত স্বশাসিত সরকার। এই সরকারকে জাতিসংঘ-সমর্থিত ঐক্যের সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১১ সালে গাদ্দাফির পতনের পর এক চরম অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে লিবিয়া। জাতি-গোষ্ঠীগত বিরোধ ও সংঘর্ষ মারাত্মক আকার ধারণ করে। এই সুযোগে সেখানে আস্তানা গাড়ে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। জাতি-গোষ্ঠীগত বিরোধ মেটাতে কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। আইএসকে হটাতেও ঐক্যের সরকারকে লড়তে হচ্ছে। দেশটির সর্বত্র বিশৃঙ্খলা-অরাজকতা। বিভক্ত লিবিয়ায় নেই মানুষের জীবনের নিরাপত্তা। ২০১১ সাল থেকে নানামুখী সংঘাত-সংঘর্ষ, যুদ্ধ-বিগ্রহে লিবিয়ায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। অনেকে হয়েছে বাস্তুচ্যুত। বাঁচার আশায় লিবীয়রা শরণার্থীর জীবন বেছে নিচ্ছে। লিবিয়ার তেল উৎপাদন নেমে এসেছে। একসময়কার সমৃদ্ধ অর্থনীতি এখন নড়বড়ে। লিবীয়দের জীবনে এখন টানাটানি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লিবিয়া মানব পাচারের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। লিবিয়া থেকে ইউরোপে ব্যাপকভাবে মানব পাচার করা হচ্ছে। মানব পাচারের শিকার অনেক মানুষ সাগরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে। রফিক হারিরি সেন্টার ফর দ্য মিডল ইস্টের লিবীয় বিশ্লেষক মোহাম্মেদ আলজারের ভাষ্য, লিবিয়ার অধিবাসীরা মহাসংকটে আছে। তাদের সামনে কোনো ভালো সুযোগ নেই। লিবীয় বিশেষজ্ঞ মতিয়া তোয়ালদোর মতে, দেশটিতে যে শিগগির স্থিতিশীলতা আসবে—এমন প্রত্যাশা না করাই ভালো। লিবিয়ার বর্তমান অরাজক পরিস্থিতিতে অতিষ্ঠ হয়ে দেশটির অনেকে বলছেন, গাদ্দাফি যুগের জীবনই তো ভালো ছিল। তবে লিবিয়ার চলমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে ভিন্নমতও আছে। এই ঘরানার লোকেরা বলছেন, স্বৈরশাসক গাদ্দাফির অধীনে চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা অপশাসনের পরিণামই আজকের লিবিয়ার মানুষের সংগ্রাম।

Comments

Comments!

 গাদ্দাফির আমলই ভালো ছিল!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

গাদ্দাফির আমলই ভালো ছিল!

Monday, October 24, 2016 9:50 am
cf58112ea22216d234fc437f39023fda-kadhafi

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। সংঘাত-নৈরাজ্যে দেশটির মানুষ ক্লান্ত-শ্রান্ত। তাদের জীবনে হতাশা বাড়ছে। তারা অনেকটা উপহাস করে বলছে, এখনকার চেয়ে বরং স্বৈরশাসক গাদ্দাফির আমলই ভালো ছিল।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির মানুষ তাদের এই কষ্টের অনুভূতির কথা জানিয়েছে।
লিবিয়ার লোকজন বলছে, তেলসমৃদ্ধ দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষগুলো পরস্পর সংঘাতে লিপ্ত। বিদ্যুৎ নেই, টাকা নেই, নিত্যপণ্যের অভাব।
গাদ্দাফির চার দশকের বেশি সময়কার শাসনকালের কথা উল্লেখ করে ফার্মাসিস্ট ফায়জা আল-নাস বলেন, ‘বলতে ঘেন্না হচ্ছে, তবু বলি, আগের আমলেই আমাদের জীবন অনেক ভালো ছিল।’
৪২ বছর বয়সী এই ফার্মাসিস্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিজের অর্থও এখন ঠিকমতো ব্যাংক থেকে তোলা যায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সবকিছুর দাম প্রায় তিন গুণ বেড়ে গেছে।

লিবিয়ায় জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি ঐক্যের সরকার আছে। কিন্তু পুরো দেশের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় তারা চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তা হালে পানি পাচ্ছে বলে মনে হয় না। ঐক্যের সরকারকে মানতে নারাজ দেশটির পূর্বাঞ্চলে গঠিত স্বশাসিত সরকার। এই সরকারকে জাতিসংঘ-সমর্থিত ঐক্যের সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০১১ সালে গাদ্দাফির পতনের পর এক চরম অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে লিবিয়া। জাতি-গোষ্ঠীগত বিরোধ ও সংঘর্ষ মারাত্মক আকার ধারণ করে। এই সুযোগে সেখানে আস্তানা গাড়ে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

জাতি-গোষ্ঠীগত বিরোধ মেটাতে কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। আইএসকে হটাতেও ঐক্যের সরকারকে লড়তে হচ্ছে।

দেশটির সর্বত্র বিশৃঙ্খলা-অরাজকতা। বিভক্ত লিবিয়ায় নেই মানুষের জীবনের নিরাপত্তা।

২০১১ সাল থেকে নানামুখী সংঘাত-সংঘর্ষ, যুদ্ধ-বিগ্রহে লিবিয়ায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। অনেকে হয়েছে বাস্তুচ্যুত। বাঁচার আশায় লিবীয়রা শরণার্থীর জীবন বেছে নিচ্ছে।

লিবিয়ার তেল উৎপাদন নেমে এসেছে। একসময়কার সমৃদ্ধ অর্থনীতি এখন নড়বড়ে। লিবীয়দের জীবনে এখন টানাটানি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লিবিয়া মানব পাচারের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। লিবিয়া থেকে ইউরোপে ব্যাপকভাবে মানব পাচার করা হচ্ছে। মানব পাচারের শিকার অনেক মানুষ সাগরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে।

রফিক হারিরি সেন্টার ফর দ্য মিডল ইস্টের লিবীয় বিশ্লেষক মোহাম্মেদ আলজারের ভাষ্য, লিবিয়ার অধিবাসীরা মহাসংকটে আছে। তাদের সামনে কোনো ভালো সুযোগ নেই।

লিবীয় বিশেষজ্ঞ মতিয়া তোয়ালদোর মতে, দেশটিতে যে শিগগির স্থিতিশীলতা আসবে—এমন প্রত্যাশা না করাই ভালো।

লিবিয়ার বর্তমান অরাজক পরিস্থিতিতে অতিষ্ঠ হয়ে দেশটির অনেকে বলছেন, গাদ্দাফি যুগের জীবনই তো ভালো ছিল।

তবে লিবিয়ার চলমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে ভিন্নমতও আছে। এই ঘরানার লোকেরা বলছেন, স্বৈরশাসক গাদ্দাফির অধীনে চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা অপশাসনের পরিণামই আজকের লিবিয়ার মানুষের সংগ্রাম।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X