মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৫৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, September 27, 2016 4:11 pm
A- A A+ Print

‘গুলশান হামলাকারীদের আমি চিনতাম’

gulsan_25987_1474838374

‘গুলশান হামলায় অংশ নেয়া দু’তিনজনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এছাড়া বাইরে থেকে যারা এ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল। হামলায় অংশ নেয়া কয়েকজনকে আমি চিনতাম।’ রোববার যুগান্তরের কাছে কথাগুলো বলছিল গ্রেফতার হওয়া ভয়ংকর জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান (২০)। এদিন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তার (রিগ্যান) ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানির আগে আদালত চত্বরে যুগান্তরের সঙ্গে কথা হয় রিগ্যানের। জঙ্গি হওয়ার কাহিনীসহ নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় সে। ২৬ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার হয় রিগ্যান। রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ‘পূর্ব পরিকল্পনা’ জানা ছিল তার। ওই হামলার ঘটনার মাস্টারমাইন্ড নিহত জঙ্গি তামিমসহ অনেকের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও যুগান্তরকে জানায় রিগ্যান। ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশি অভিযানে তামিম নিহত হয়। রিগ্যান যুগান্তরকে জানায়, ‘যারা বিশ্বের মুসলমানদের ওপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার করছে, তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতেই আমার এ পথে (জঙ্গিবাদে) আসা। যাই হোক, আমাদের উদ্দেশ্যও ভালো ছিল। কিন্তু পথ ভুল হয়েছে।’ সে গুলশান হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে বলে, ‘উদ্দেশ্য ওই রকম (নির্বিচারে নারী-শিশু হত্যা) ছিল না। নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য।’ রিগ্যান আরও জানায়, ‘সাব্বির নামের একজনের (জঙ্গি) হাত ধরেই এ পথে (জঙ্গিবাদ) আমার যাত্রা। সাব্বির আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড ছিল। তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে আমি দুই বন্ধুকে নিয়ে এ পথে আসি। বর্তমানে তারা কে কোথায় আছে, তা আমি জানি না। সাব্বিরের আহ্বানে আমি ঢাকায় আসি। ঢাকায় আমার ওস্তাদ ছিল আবদুল্লাহ নামের একজন (জঙ্গি)। তিনিই ছিলেন আমার লিডার। তার অর্ডারেই আমি চলতাম।’ আবদুল্লাহর উপরের লিডার কে ছিল জানতে চাইলে সে বলে, ‘এগুলো কোনো নতুন প্রশ্ন নয়। বহুবার আমি এসব বলেছি। ন্যূনতম শ’খানেক বার আমাকে এসব জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।’ আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ছিল, এ প্রশ্নের উত্তরে রিগ্যান জানায়, ‘আমি আসলে অত উচ্চপর্যায়ে ছিলাম না। তাই সব পরিকল্পনাই যে আমি জানতাম, তাও না। আমার উপরেও আরও অনেক লোক (জঙ্গি ওস্তাদ) আছে।’ তবে আদালত সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তি অনুসারে রিগ্যান ছিল জঙ্গিদের দ্বিতীয় সারির প্রশিক্ষক। রিগ্যান জানায়, জঙ্গিবাদে যোগদানের পর রিগ্যানকে নাম পরিবর্তন করে ছদ্মনামে চলাফেরা করতে বলা হয়। সে নির্দেশনা অনুসারে তার নাম সে নিজেই রাখে। তার নতুন নাম হয় হাসান। পিতা-মাতার দেয়া নাম রিগ্যান। আদালত সূত্র জানায়, রাজধানীর কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার হয় রিগ্যান। আদালতের নির্দেশে দু’দফায় ১৩ দিন রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা। ১৮ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় রিগ্যান। তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে গুলশান হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। ১৯ সেপ্টেম্বর রিগ্যানকে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই দিনই গুলশান হামলা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসি ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির জঙ্গি রিগ্যানের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রোববার রিমান্ড শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিগ্যানের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুসারে, নিহত জঙ্গি নিবরাস ইসলাম ও গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড সেনাবাহিনীর বরখাস্ত হওয়া মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের সঙ্গে বহুবার দেখা ও কথা হয়েছে তার। তবে তাদের পরিচয় তখন জানত না রিগ্যান। নিহত হওয়ার পর পত্রিকায় ছবি দেখে চেনে রিগ্যান। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত তামিমের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল তার। তামিম প্রতি মাসে রিগ্যানকে ঢাকায় থাকা-খাওয়ার খরচ জোগান দিত। বগুড়ার জামিলনগরের মৃত রেজাউল করিমের ছেলে রিগ্যান। তার মা রোকেয়া আক্তার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স। তার এক বোন আছে। রিগ্যান ২০১৩ সালে বগুড়া শহরের করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করে। এরপর ২০১৫ সালে সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। এরপর মেডিকেল কলেজ ভর্তির জন্য বগুড়ায় রেটিনা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়। গত বছরের ১৪ জুলাই কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হয় রিগ্যান। পরদিন তার খোঁজে পরিবারের পক্ষ থেকে বগুড়া সদর থানায় জিডি করা হয়। রিগ্যান গত এক বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। ২৬ জুলাই মধ্যরাতে রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের হামলায় ৯ জঙ্গি নিহত হয়। রিগ্যানই একমাত্র জঙ্গি যে অভিযানের সময় জীবিত অবস্থায় ধরা পড়েছে। সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় প্রথমবারের মতো স্বীকারোক্তি দিয়েছে এ জঙ্গি। ওই অভিযানে ইকবাল নামের আরেক জঙ্গি অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে বিদেশীসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় আইনশৃংখলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় ৪ জুলাই গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে এখন পর্যন্ত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে আছে।

Comments

Comments!

 ‘গুলশান হামলাকারীদের আমি চিনতাম’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘গুলশান হামলাকারীদের আমি চিনতাম’

Tuesday, September 27, 2016 4:11 pm
gulsan_25987_1474838374

‘গুলশান হামলায় অংশ নেয়া দু’তিনজনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এছাড়া বাইরে থেকে যারা এ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল। হামলায় অংশ নেয়া কয়েকজনকে আমি চিনতাম।’

রোববার যুগান্তরের কাছে কথাগুলো বলছিল গ্রেফতার হওয়া ভয়ংকর জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান (২০)। এদিন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তার (রিগ্যান) ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানির আগে আদালত চত্বরে যুগান্তরের সঙ্গে কথা হয় রিগ্যানের। জঙ্গি হওয়ার কাহিনীসহ নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় সে।

২৬ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার হয় রিগ্যান। রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ‘পূর্ব পরিকল্পনা’ জানা ছিল তার। ওই হামলার ঘটনার মাস্টারমাইন্ড নিহত জঙ্গি তামিমসহ অনেকের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও যুগান্তরকে জানায় রিগ্যান। ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশি অভিযানে তামিম নিহত হয়।

রিগ্যান যুগান্তরকে জানায়, ‘যারা বিশ্বের মুসলমানদের ওপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার করছে, তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতেই আমার এ পথে (জঙ্গিবাদে) আসা। যাই হোক, আমাদের উদ্দেশ্যও ভালো ছিল। কিন্তু পথ ভুল হয়েছে।’ সে গুলশান হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে বলে, ‘উদ্দেশ্য ওই রকম (নির্বিচারে নারী-শিশু হত্যা) ছিল না। নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য।’

রিগ্যান আরও জানায়, ‘সাব্বির নামের একজনের (জঙ্গি) হাত ধরেই এ পথে (জঙ্গিবাদ) আমার যাত্রা। সাব্বির আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড ছিল। তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে আমি দুই বন্ধুকে নিয়ে এ পথে আসি। বর্তমানে তারা কে কোথায় আছে, তা আমি জানি না। সাব্বিরের আহ্বানে আমি ঢাকায় আসি।

ঢাকায় আমার ওস্তাদ ছিল আবদুল্লাহ নামের একজন (জঙ্গি)। তিনিই ছিলেন আমার লিডার। তার অর্ডারেই আমি চলতাম।’ আবদুল্লাহর উপরের লিডার কে ছিল জানতে চাইলে সে বলে, ‘এগুলো কোনো নতুন প্রশ্ন নয়। বহুবার আমি এসব বলেছি। ন্যূনতম শ’খানেক বার আমাকে এসব জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।’

আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ছিল, এ প্রশ্নের উত্তরে রিগ্যান জানায়, ‘আমি আসলে অত উচ্চপর্যায়ে ছিলাম না। তাই সব পরিকল্পনাই যে আমি জানতাম, তাও না। আমার উপরেও আরও অনেক লোক (জঙ্গি ওস্তাদ) আছে।’ তবে আদালত সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তি অনুসারে রিগ্যান ছিল জঙ্গিদের দ্বিতীয় সারির প্রশিক্ষক।

রিগ্যান জানায়, জঙ্গিবাদে যোগদানের পর রিগ্যানকে নাম পরিবর্তন করে ছদ্মনামে চলাফেরা করতে বলা হয়। সে নির্দেশনা অনুসারে তার নাম সে নিজেই রাখে। তার নতুন নাম হয় হাসান। পিতা-মাতার দেয়া নাম রিগ্যান।

আদালত সূত্র জানায়, রাজধানীর কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার হয় রিগ্যান। আদালতের নির্দেশে দু’দফায় ১৩ দিন রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা।

১৮ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় রিগ্যান। তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে গুলশান হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। ১৯ সেপ্টেম্বর রিগ্যানকে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

ওই দিনই গুলশান হামলা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসি ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির জঙ্গি রিগ্যানের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রোববার রিমান্ড শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিগ্যানের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুসারে, নিহত জঙ্গি নিবরাস ইসলাম ও গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড সেনাবাহিনীর বরখাস্ত হওয়া মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের সঙ্গে বহুবার দেখা ও কথা হয়েছে তার। তবে তাদের পরিচয় তখন জানত না রিগ্যান। নিহত হওয়ার পর পত্রিকায় ছবি দেখে চেনে রিগ্যান। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত তামিমের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল তার। তামিম প্রতি মাসে রিগ্যানকে ঢাকায় থাকা-খাওয়ার খরচ জোগান দিত।

বগুড়ার জামিলনগরের মৃত রেজাউল করিমের ছেলে রিগ্যান। তার মা রোকেয়া আক্তার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স। তার এক বোন আছে। রিগ্যান ২০১৩ সালে বগুড়া শহরের করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করে। এরপর ২০১৫ সালে সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে।

এরপর মেডিকেল কলেজ ভর্তির জন্য বগুড়ায় রেটিনা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়। গত বছরের ১৪ জুলাই কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হয় রিগ্যান। পরদিন তার খোঁজে পরিবারের পক্ষ থেকে বগুড়া সদর থানায় জিডি করা হয়। রিগ্যান গত এক বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।

২৬ জুলাই মধ্যরাতে রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের হামলায় ৯ জঙ্গি নিহত হয়। রিগ্যানই একমাত্র জঙ্গি যে অভিযানের সময় জীবিত অবস্থায় ধরা পড়েছে। সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় প্রথমবারের মতো স্বীকারোক্তি দিয়েছে এ জঙ্গি। ওই অভিযানে ইকবাল নামের আরেক জঙ্গি অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে বিদেশীসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় আইনশৃংখলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় ৪ জুলাই গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে এখন পর্যন্ত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে আছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X