শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১১:৫৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, December 25, 2016 9:46 am
A- A A+ Print

গ্যাস সংকটে নাকাল রাজধানীবাসী

ইন্দিরা রোডের আবদুস সোবহান। একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এসেছেন ফার্মগেটের নিউ সুপার স্টার রেস্তরাঁয়। এসেই বলছেন, কি বিপদে পড়লাম গ্যাসের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। মিরপুরের বাসিন্দা রেশমা বেগম। একটি বেসরকারি অফিসে কাজ করেন। সকালের নাশতা কিনতে বের হয়েছেন। কারণ, বাসায় গ্যাস নেই। তাই বাচ্চাদের জন্য বাইরে থেকে খাবার কিনে নিয়ে যাবেন। সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্না করতে পারেননি মালিবাগের শান্তা ইসলাম। সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার বাহিরেই খাবেন। বিকাল ৪টার পর  গ্যাস স্বাভাবিক হলে রাতের রান্না করবেন। বনশ্রীর ফাতেমা জানান, ভোরবেলায়ই গ্যাস চলে যায়। আসে সন্ধ্যার দিকে। সারা দিনই গ্যাসের দেখা পাওয়া যায় না। রাতেই সব রান্না একবারে করে রাখেন। তিনি জানান, দিনের বেলায় এখন আর রান্না করা যায় না। গ্যাসের চাপ এত কম থাকে যে পানি গরম হয় না। সকালে উঠেই দেখি এই অবস্থা। বিকালের দিকে গ্যাসের প্রেসার বাড়তে শুরু করে। রাতে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। একই অভিযোগ বাসাবোর বাসিন্দা শিউলি বেগমেরও। তিনি বলেন, প্রতি বছর শীত আসলেই গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। গ্যাস ঘাটতির কারণে যদি প্রেসারের এ অবস্থা হয় তাহলে রাতের বেলা গ্যাস আসে কোথা থেকে। গ্যাস না থাকলে তো কোনো সময়ই গ্যাস পাওয়ার কথা নয়। ঠিক একইভাবে রাজধানীর, পল্লবী, কাফরুল, কাজীপাড়া, গ্রীনরোড, কলাবাগান, শুক্রাবাদ, কাঁঠালবাগান, মোহাম্মদপুর, রাজাবাজার, মগবাজার, মালিবাগ, তেজকুনিপাড়া, পশ্চিম রামপুরা, আরামবাগ, আর কে মিশন রোড, টিকাটুলী, মিরহাজারীবাগ, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, উত্তরা, জাফরাবাদ, লালবাগ, কেরানীগঞ্জের গ্রাহকরা গ্যাসের এ দুরবস্থার স্বীকার। সিএনজি স্টেশনেও গ্যাসের চাপ নেই। ফলে লম্বা লাইন। গ্যাসের চাপ ঠিক না থাকায় শিল্পাঞ্চল এলাকায়  উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানীর পরিবাগে সিএনজি স্টেশনে গাড়িতে গ্যাস নিতে আসা শাহ আলম জানান, এমনিতেই গ্যাসের জন্য লম্বা লাইন। তারপরও যখন গ্যাস ভরা শুরু হয় তখন বলা হয় চাপ কম তাই পুরো গ্যাস দেয়া যাবে না। এই অবস্থা চলছে গত সপ্তাহ থেকেই। এ অবস্থা শুধু পরিবাগে নয়, মগবাজারের আনুদিপ ,মিরপুর দারুস সালামের পূর্বাচল ও যমুনা ফিলিং স্টেশন, এসএস ফিলিং স্টেশন, কল্যাণপুরের এসএ খালেক ফিলিং স্টেশন, কাজীপাড়ায় সিডিসিসহ অনেক স্টেশনে চাপ কম থাকায় গাড়ির লম্বা লাইন দেখা যায়। এমনকি এ অবস্থা ঢাকার বাইরে  চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জেও। তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি সূত্র জানায়, একদিকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, অন্যদিকে সঞ্চালন ও বিতরণ পাইপ লাইনে ময়লা-উপজাত (কনডেনসেট) জমে সরবরাহ কম হচ্ছে। এর মধ্যে আবার বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যার কারণে এই সংকট শীতকালজুড়েই থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন। কমেপ্রসার বসিয়েও পরিস্থিতির উন্নতি করা যাচ্ছে না। কয়েক দফা গ্যাসের চাপ বাড়িয়ে অনুমোদন নিলেও কাক্ষিত চাপে গ্যাস পাচ্ছে না কারখানাগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন ৩৪০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু গড় উৎপাদন হচ্ছে ২৭০ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি থাকছে ৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছে না বিতরণ কোম্পানিগুলো। এর সঙ্গে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের কারণে সমস্যা হচ্ছে। সমস্যা মেরামত করার জন্য আরও কমপক্ষে দুই মাস সময় লাগবে। সঞ্চালন ও বিতরণ পাইপগুলোর  বশিরভাগই পুরনো। সরকার পাইপ লাইনগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়ে ওঠেনি। ফলে এসব পুরনো পাইপলাইনের মধ্যে শীতকালে ময়লা ও গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট জমে পাইপগুলো সরু হয়ে পড়ে। ফলে সরবরাহ যতটুকু হওয়ার কথা তাও হয় না। এদিকে পাইপলাইনের গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় অনেকেই এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা শুরু করেছেন। বর্তমানে এলপিজিও চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও দাম আকাশ ছোঁয়া। সরকার এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সে উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি। ফলে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন করে উদ্যোগ না নেয়া হলে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি নেই। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সরকার এলপিজির কথা বলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম এবং দামের নিয়ন্ত্রণ না থাকা গ্রাহকদের এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহিত করা যাচ্ছে না।

Comments

Comments!

 গ্যাস সংকটে নাকাল রাজধানীবাসীAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

গ্যাস সংকটে নাকাল রাজধানীবাসী

Sunday, December 25, 2016 9:46 am

ইন্দিরা রোডের আবদুস সোবহান। একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এসেছেন ফার্মগেটের নিউ সুপার স্টার রেস্তরাঁয়। এসেই বলছেন, কি বিপদে পড়লাম গ্যাসের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। মিরপুরের বাসিন্দা রেশমা বেগম। একটি বেসরকারি অফিসে কাজ করেন। সকালের নাশতা কিনতে বের হয়েছেন। কারণ, বাসায় গ্যাস নেই। তাই বাচ্চাদের জন্য বাইরে থেকে খাবার কিনে নিয়ে যাবেন। সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্না করতে পারেননি মালিবাগের শান্তা ইসলাম। সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার বাহিরেই খাবেন। বিকাল ৪টার পর  গ্যাস স্বাভাবিক হলে রাতের রান্না করবেন। বনশ্রীর ফাতেমা জানান, ভোরবেলায়ই গ্যাস চলে যায়। আসে সন্ধ্যার দিকে। সারা দিনই গ্যাসের দেখা পাওয়া যায় না। রাতেই সব রান্না একবারে করে রাখেন। তিনি জানান, দিনের বেলায় এখন আর রান্না করা যায় না। গ্যাসের চাপ এত কম থাকে যে পানি গরম হয় না। সকালে উঠেই দেখি এই অবস্থা। বিকালের দিকে গ্যাসের প্রেসার বাড়তে শুরু করে। রাতে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। একই অভিযোগ বাসাবোর বাসিন্দা শিউলি বেগমেরও। তিনি বলেন, প্রতি বছর শীত আসলেই গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। গ্যাস ঘাটতির কারণে যদি প্রেসারের এ অবস্থা হয় তাহলে রাতের বেলা গ্যাস আসে কোথা থেকে। গ্যাস না থাকলে তো কোনো সময়ই গ্যাস পাওয়ার কথা নয়। ঠিক একইভাবে রাজধানীর, পল্লবী, কাফরুল, কাজীপাড়া, গ্রীনরোড, কলাবাগান, শুক্রাবাদ, কাঁঠালবাগান, মোহাম্মদপুর, রাজাবাজার, মগবাজার, মালিবাগ, তেজকুনিপাড়া, পশ্চিম রামপুরা, আরামবাগ, আর কে মিশন রোড, টিকাটুলী, মিরহাজারীবাগ, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, উত্তরা, জাফরাবাদ, লালবাগ, কেরানীগঞ্জের গ্রাহকরা গ্যাসের এ দুরবস্থার স্বীকার। সিএনজি স্টেশনেও গ্যাসের চাপ নেই। ফলে লম্বা লাইন। গ্যাসের চাপ ঠিক না থাকায় শিল্পাঞ্চল এলাকায়  উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
রাজধানীর পরিবাগে সিএনজি স্টেশনে গাড়িতে গ্যাস নিতে আসা শাহ আলম জানান, এমনিতেই গ্যাসের জন্য লম্বা লাইন। তারপরও যখন গ্যাস ভরা শুরু হয় তখন বলা হয় চাপ কম তাই পুরো গ্যাস দেয়া যাবে না। এই অবস্থা চলছে গত সপ্তাহ থেকেই। এ অবস্থা শুধু পরিবাগে নয়, মগবাজারের আনুদিপ ,মিরপুর দারুস সালামের পূর্বাচল ও যমুনা ফিলিং স্টেশন, এসএস ফিলিং স্টেশন, কল্যাণপুরের এসএ খালেক ফিলিং স্টেশন, কাজীপাড়ায় সিডিসিসহ অনেক স্টেশনে চাপ কম থাকায় গাড়ির লম্বা লাইন দেখা যায়। এমনকি এ অবস্থা ঢাকার বাইরে  চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জেও। তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি সূত্র জানায়, একদিকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, অন্যদিকে সঞ্চালন ও বিতরণ পাইপ লাইনে ময়লা-উপজাত (কনডেনসেট) জমে সরবরাহ কম হচ্ছে। এর মধ্যে আবার বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যার কারণে এই সংকট শীতকালজুড়েই থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন। কমেপ্রসার বসিয়েও পরিস্থিতির উন্নতি করা যাচ্ছে না। কয়েক দফা গ্যাসের চাপ বাড়িয়ে অনুমোদন নিলেও কাক্ষিত চাপে গ্যাস পাচ্ছে না কারখানাগুলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন ৩৪০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু গড় উৎপাদন হচ্ছে ২৭০ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি থাকছে ৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছে না বিতরণ কোম্পানিগুলো। এর সঙ্গে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের কারণে সমস্যা হচ্ছে। সমস্যা মেরামত করার জন্য আরও কমপক্ষে দুই মাস সময় লাগবে। সঞ্চালন ও বিতরণ পাইপগুলোর  বশিরভাগই পুরনো। সরকার পাইপ লাইনগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়ে ওঠেনি। ফলে এসব পুরনো পাইপলাইনের মধ্যে শীতকালে ময়লা ও গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট জমে পাইপগুলো সরু হয়ে পড়ে। ফলে সরবরাহ যতটুকু হওয়ার কথা তাও হয় না। এদিকে পাইপলাইনের গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় অনেকেই এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা শুরু করেছেন। বর্তমানে এলপিজিও চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও দাম আকাশ ছোঁয়া। সরকার এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সে উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি। ফলে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন করে উদ্যোগ না নেয়া হলে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি নেই। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সরকার এলপিজির কথা বলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম এবং দামের নিয়ন্ত্রণ না থাকা গ্রাহকদের এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহিত করা যাচ্ছে না।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X