রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:৩৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, November 20, 2016 8:28 am
A- A A+ Print

চট্টগ্রামে আ.লীগ নেতাকে লাঞ্ছিত করল ছাত্রলীগ!

download

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদকে লাঞ্ছিত করেছেন কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেছেন, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের কর্মী। গতকাল শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স শেষ হওয়ার পর চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি মাঠে এই ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাজধানীর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। চট্টগ্রাম জেলার মূল সভা ছিল লালদীঘি ময়দানে। প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স শেষ হয় বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে। এরপর মোছলেম উদ্দিন আহমেদকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকেরা লালদীঘি মাঠে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য নিচ্ছিলেন। মোছলেম উদ্দিন আহমেদ একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলার সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি করছিলেন। এতে মোছলেম উদ্দিনের কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছিল। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা খেয়ে একপর্যায়ে মোছলেম উদ্দিন একজনকে পাল্টা ধাক্কা দেন। এরপর ছাত্রলীগের কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মী তাঁকে গালাগাল করেন। দু-একজন তাঁর দিকে তেড়ে আসারও চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকে হাত দিয়ে ধাক্কা দেওয়া হয়। মোছলেম উদ্দিনকে রক্ষা করতে এসে আওয়ামী লীগের আরও কিছু নেতা-কর্মী লাঞ্ছিত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা আরও বলেন, একপর্যায়ে কয়েকজন নেতা-কর্মী মোছলেম উদ্দিনকে মাঠের বাইরে নিয়ে যান। ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা আবার তাঁর দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম তাঁকে রক্ষা করতে আবার মাঠের ভেতরে নিয়ে আসেন। এরপর সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ আফছারুল আমীন তাঁর গাড়িতে মোছলেম উদ্দিনকে উঠিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যান। সূত্র জানায়, দেড় কিলোমিটার দূরে স্টেডিয়াম-সংলগ্ন নেভাল এলাকায় তাঁদের গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন ওই উচ্ছৃঙ্খল যুবকেরা। তাঁরা তিন-চারটি মোটরসাইকেলযোগে সেখানে যান। ওই সময় পুলিশ এলে ওই যুবকেরা একটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। পুলিশ মোটরসাইকেলটি জব্দ করেছে। মোছলেম উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় কিছু ছেলে অহেতুক ঝামেলা পাকিয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। আমি আফছারুল আমীনের সঙ্গে রওনা হওয়ার পর নেভালের কাছে আবার আমাদের গাড়ির গতিরোধ করা হয়।’ এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ বলেন, তিনি ঢাকায় আছেন। গণমাধ্যমের খবর থেকে বিষয়টি জেনেছেন। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানেন না। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছি। মোটরসাইকেলটির মালিককে খোঁজা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, মোছলেম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কারা খারাপ আচরণ করেছেন, সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মোছলেম উদ্দিনকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ: চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এক যুক্ত বিবৃতিতে মোছলেম উদ্দিন আহমদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তাঁরা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানববিষয়ক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন মো. এমরানের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, মোছলেম উদ্দিনের ওপর হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সভার আগে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।

Comments

Comments!

 চট্টগ্রামে আ.লীগ নেতাকে লাঞ্ছিত করল ছাত্রলীগ!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

চট্টগ্রামে আ.লীগ নেতাকে লাঞ্ছিত করল ছাত্রলীগ!

Sunday, November 20, 2016 8:28 am
download

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদকে লাঞ্ছিত করেছেন কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেছেন, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের কর্মী। গতকাল শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স শেষ হওয়ার পর চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি মাঠে এই ঘটনা ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাজধানীর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। চট্টগ্রাম জেলার মূল সভা ছিল লালদীঘি ময়দানে। প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স শেষ হয় বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে। এরপর মোছলেম উদ্দিন আহমেদকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকেরা লালদীঘি মাঠে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য নিচ্ছিলেন। মোছলেম উদ্দিন আহমেদ একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলার সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি করছিলেন। এতে মোছলেম উদ্দিনের কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছিল। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা খেয়ে একপর্যায়ে মোছলেম উদ্দিন একজনকে পাল্টা ধাক্কা দেন। এরপর ছাত্রলীগের কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মী তাঁকে গালাগাল করেন। দু-একজন তাঁর দিকে তেড়ে আসারও চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকে হাত দিয়ে ধাক্কা দেওয়া হয়। মোছলেম উদ্দিনকে রক্ষা করতে এসে আওয়ামী লীগের আরও কিছু নেতা-কর্মী লাঞ্ছিত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা আরও বলেন, একপর্যায়ে কয়েকজন নেতা-কর্মী মোছলেম উদ্দিনকে মাঠের বাইরে নিয়ে যান। ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা আবার তাঁর দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম তাঁকে রক্ষা করতে আবার মাঠের ভেতরে নিয়ে আসেন। এরপর সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ আফছারুল আমীন তাঁর গাড়িতে মোছলেম উদ্দিনকে উঠিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যান।
সূত্র জানায়, দেড় কিলোমিটার দূরে স্টেডিয়াম-সংলগ্ন নেভাল এলাকায় তাঁদের গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন ওই উচ্ছৃঙ্খল যুবকেরা। তাঁরা তিন-চারটি মোটরসাইকেলযোগে সেখানে যান। ওই সময় পুলিশ এলে ওই যুবকেরা একটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। পুলিশ মোটরসাইকেলটি জব্দ করেছে।
মোছলেম উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় কিছু ছেলে অহেতুক ঝামেলা পাকিয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। আমি আফছারুল আমীনের সঙ্গে রওনা হওয়ার পর নেভালের কাছে আবার আমাদের গাড়ির গতিরোধ করা হয়।’
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ বলেন, তিনি ঢাকায় আছেন। গণমাধ্যমের খবর থেকে বিষয়টি জেনেছেন। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানেন না।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছি। মোটরসাইকেলটির মালিককে খোঁজা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, মোছলেম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কারা খারাপ আচরণ করেছেন, সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মোছলেম উদ্দিনকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ: চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এক যুক্ত বিবৃতিতে মোছলেম উদ্দিন আহমদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তাঁরা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানববিষয়ক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন মো. এমরানের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, মোছলেম উদ্দিনের ওপর হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
সভার আগে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X