বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১:০৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, January 26, 2017 7:36 pm
A- A A+ Print

চরম সঙ্কটে ট্রাম্প-থেরেসার বৈঠক পশ্চিমাদের কী বার্তা দেবে? : ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ

33

লন্ডন: প্রথম বিশ্ব নেতা হিসেবে শুক্রবার ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। অনেক সাধারণ বিষয়ে এই দুই নেতার মধ্যে আলোচনা প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের দু’জনের ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটও প্রায় একই রকম আর তা হচ্ছে অনেকটা আচমকাই জনমতের বিপরীতে তারা ক্ষমতায় আসীন হন। একই সঙ্গে তারা তাদের নিজ নিজ দেশে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন এবং তাদের উভয়ের নেতৃত্বের কারণে বর্তমান পশ্চিমা জোটের মিত্ররা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর পরিচয় সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছেন। এই দুই নেতার মাঝে এত মিল থাকা সত্ত্বেও তাদের মাঝে ব্যাপক পার্থক্যও রয়েছে। আসন্ন দ্বিতীয় থ্যাচার-রিগ্যান ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক এবং ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে তাদের মত পার্থক্য সুস্পষ্ট। থেরেসা মে’র মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা থা্কলেও ট্রাম্পের তা নেই বললেই চলে। কয়েক দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দলের একজন সক্রিয় নেতা হচ্ছেন থেরেসা। বিভিন্ন গুরুতর ইস্যুতে তার মূলধারার অবস্থান, বিশেষকরে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে থেরেসার ভূমিকা ট্রাম্পের ‘সংরক্ষণবাদ’ এবং ‘বিচ্ছিন্নতাবাদের’ সঙ্গে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। তিনি বড়দিন এবং বিশ্ব এইডস দিবস বিষয়ে টুইট করেন। তবে, ভোট জালিয়াতি কিংবা সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে শত্রুতা, সেলিব্রিটি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তিনি কোনো টুইট করেন না। তিনি ন্যাটো সামরিক জোটের পুরস্কার জিতেছেন এবং রাশিয়ার সন্দেহপ্রবণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সব সময় সরব থেকেছেন; যা ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যাপক পার্থক্যকে স্পষ্ট করেছে। এসব পার্থক্য তাদের সাক্ষাৎকে ডমিনেট করতে পারে এবং তা উভয় নেতার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে। হোয়াইট হাউস পরিদর্শনের ঠিক একদিন আগে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসে একজন রিপাবলিকান সদস্য মন্তব্য করেন, ‘মে তার সফর থেকে অনেক বেশি অর্জন কিংবা হারাতে পারেন।’ তার দেশ এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যে কারণে ইউরোপীয় মহাদেশের বাইরে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে থেরেসা তার ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করছেন। অ্যাংলো-আমেরিকান সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করা তার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে পারে। প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক কর্মকাণ্ডে ট্রাম্পের ‘আমেরিকাই প্রথম’ ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিতে ন্যাটোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে সেবিষয়েও ট্রাম্পকে বোঝাতে হবে থেরেসা মেকে। প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রনেতা হিসেবে থেরেসাকে আমন্ত্রণ জানানোয় ট্রাম্পের একটি কূটনৈতিক সূক্ষ্মতা রয়েছে। নির্বাচনে জয় লাভের একদিন পরেই ট্রাম্প ইইউ বিরোধী নাইজেল ফারাজকে দেখা করার জন্য তার ট্রাম্প টাওয়ারে আমন্ত্রণ জানান। তারপর তিনি টুইট করেন, ‘ফারাজকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশের রাষ্ট্রদূত করা হলে তা চমৎকার হবে।’ অন্যদিকে, ট্রাম্পের বিজয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব বরিস জনসন ইইউ’র একটি জরুরি বৈঠক বয়কট করেন। এছাড়াও ইসরাইল নিয়ে ওবামা প্রশাসনের সমালোচনাকে থেরেসা মে প্রত্যাখ্যান করেন; যা ট্রাম্পের আলোচনার বিষয়গুলোর অন্যতম প্রতিধ্বনি। ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যে ১৯৮০’র দশকের রিগ্যান-থ্যাচার সম্পর্ক পুনর্জাগরণে থেরেসার ভূমিকা কি হতে পারে সে সম্পর্কে এ পর্যন্ত ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের ভাসা ভাসা ধারণা থাকতে পারে। ব্রিটিশ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অবশ্য বলছে, কোল্ড ওয়ারের সময়ে বিকশিত ট্রান্সআটলান্টিক উষ্ণতার বিষয়ে বিশ্বব্যাপী মৌলিক পার্থক্যের কারণে এই দুই নেতার আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়ার দিকে তাদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। থেরেসা যেখানে পুতিনের বিরোধিতা করছে, ট্রাম্প সেখানে বলেছেন তিনি পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক করতে চান। এটি তাদের মত পার্থক্যের এক জ্বলজ্বলে উদাহরণ। এ প্রসঙ্গে লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির অধ্যাপক ডা. টিম বেল বলেন, ‘রানী ও ম্যাগি’র একটি সাধারণ শত্রু ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বিশ্ব কমিউনিজম।’ অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে, গ্লোবাল ব্যবসা, ন্যাটো, জলবায়ু পরিবর্তন ও পারমাণবিক বিষয় নিয়ে এই দুই নেতার মধ্যে ব্যাপক ফাঁক রয়েছে। দ্যা ওয়াশিংটন পোস্ট অবলম্বনে
 

Comments

Comments!

 চরম সঙ্কটে ট্রাম্প-থেরেসার বৈঠক পশ্চিমাদের কী বার্তা দেবে? : ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

চরম সঙ্কটে ট্রাম্প-থেরেসার বৈঠক পশ্চিমাদের কী বার্তা দেবে? : ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ

Thursday, January 26, 2017 7:36 pm
33

লন্ডন: প্রথম বিশ্ব নেতা হিসেবে শুক্রবার ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। অনেক সাধারণ বিষয়ে এই দুই নেতার মধ্যে আলোচনা প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাদের দু’জনের ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটও প্রায় একই রকম আর তা হচ্ছে অনেকটা আচমকাই জনমতের বিপরীতে তারা ক্ষমতায় আসীন হন। একই সঙ্গে তারা তাদের নিজ নিজ দেশে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন এবং তাদের উভয়ের নেতৃত্বের কারণে বর্তমান পশ্চিমা জোটের মিত্ররা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর পরিচয় সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছেন।

এই দুই নেতার মাঝে এত মিল থাকা সত্ত্বেও তাদের মাঝে ব্যাপক পার্থক্যও রয়েছে। আসন্ন দ্বিতীয় থ্যাচার-রিগ্যান ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক এবং ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে তাদের মত পার্থক্য সুস্পষ্ট।

থেরেসা মে’র মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা থা্কলেও ট্রাম্পের তা নেই বললেই চলে। কয়েক দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দলের একজন সক্রিয় নেতা হচ্ছেন থেরেসা। বিভিন্ন গুরুতর ইস্যুতে তার মূলধারার অবস্থান, বিশেষকরে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে থেরেসার ভূমিকা ট্রাম্পের ‘সংরক্ষণবাদ’ এবং ‘বিচ্ছিন্নতাবাদের’ সঙ্গে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে।

তিনি বড়দিন এবং বিশ্ব এইডস দিবস বিষয়ে টুইট করেন। তবে, ভোট জালিয়াতি কিংবা সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে শত্রুতা, সেলিব্রিটি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তিনি কোনো টুইট করেন না।

তিনি ন্যাটো সামরিক জোটের পুরস্কার জিতেছেন এবং রাশিয়ার সন্দেহপ্রবণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সব সময় সরব থেকেছেন; যা ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যাপক পার্থক্যকে স্পষ্ট করেছে।

এসব পার্থক্য তাদের সাক্ষাৎকে ডমিনেট করতে পারে এবং তা উভয় নেতার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে।

হোয়াইট হাউস পরিদর্শনের ঠিক একদিন আগে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসে একজন রিপাবলিকান সদস্য মন্তব্য করেন, ‘মে তার সফর থেকে অনেক বেশি অর্জন কিংবা হারাতে পারেন।’

তার দেশ এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যে কারণে ইউরোপীয় মহাদেশের বাইরে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে থেরেসা তার ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করছেন। অ্যাংলো-আমেরিকান সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করা তার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে পারে।

প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক কর্মকাণ্ডে ট্রাম্পের ‘আমেরিকাই প্রথম’ ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিতে ন্যাটোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে সেবিষয়েও ট্রাম্পকে বোঝাতে হবে থেরেসা মেকে।

প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রনেতা হিসেবে থেরেসাকে আমন্ত্রণ জানানোয় ট্রাম্পের একটি কূটনৈতিক সূক্ষ্মতা রয়েছে। নির্বাচনে জয় লাভের একদিন পরেই ট্রাম্প ইইউ বিরোধী নাইজেল ফারাজকে দেখা করার জন্য তার ট্রাম্প টাওয়ারে আমন্ত্রণ জানান। তারপর তিনি টুইট করেন, ‘ফারাজকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশের রাষ্ট্রদূত করা হলে তা চমৎকার হবে।’

অন্যদিকে, ট্রাম্পের বিজয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব বরিস জনসন ইইউ’র একটি জরুরি বৈঠক বয়কট করেন। এছাড়াও ইসরাইল নিয়ে ওবামা প্রশাসনের সমালোচনাকে থেরেসা মে প্রত্যাখ্যান করেন; যা ট্রাম্পের আলোচনার বিষয়গুলোর অন্যতম প্রতিধ্বনি।

ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যে ১৯৮০’র দশকের রিগ্যান-থ্যাচার সম্পর্ক পুনর্জাগরণে থেরেসার ভূমিকা কি হতে পারে সে সম্পর্কে এ পর্যন্ত ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের ভাসা ভাসা ধারণা থাকতে পারে।

ব্রিটিশ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অবশ্য বলছে, কোল্ড ওয়ারের সময়ে বিকশিত ট্রান্সআটলান্টিক উষ্ণতার বিষয়ে বিশ্বব্যাপী মৌলিক পার্থক্যের কারণে এই দুই নেতার আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়ার দিকে তাদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। থেরেসা যেখানে পুতিনের বিরোধিতা করছে, ট্রাম্প সেখানে বলেছেন তিনি পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক করতে চান। এটি তাদের মত পার্থক্যের এক জ্বলজ্বলে উদাহরণ।

এ প্রসঙ্গে লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির অধ্যাপক ডা. টিম বেল বলেন, ‘রানী ও ম্যাগি’র একটি সাধারণ শত্রু ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বিশ্ব কমিউনিজম।’

অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে, গ্লোবাল ব্যবসা, ন্যাটো, জলবায়ু পরিবর্তন ও পারমাণবিক বিষয় নিয়ে এই দুই নেতার মধ্যে ব্যাপক ফাঁক রয়েছে।

দ্যা ওয়াশিংটন পোস্ট অবলম্বনে

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X