বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৭:০৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, October 18, 2017 6:35 pm | আপডেটঃ October 18, 2017 8:54 PM
A- A A+ Print

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়া

b21c7c87adc11e68616e9da068c531eb-59e75315deabf

তিন মাসেরও বেশি সময় পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ বুধবার বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান খালেদা জিয়া। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়া গুলশানে বাসভবনের দিকে রওনা দিয়েছেন। এর আগে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি পান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, দেহরক্ষী মাসুদ রানা ও গুলশানের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের কর্মচারী জসিম। বিএনপির প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বিমানবন্দরে নামেন। ৫টা ৩৭ মিনিটে তিনি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে গুলশানের বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। বিমানবন্দরে বিএনপির চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা হাজির হন। বিমানবন্দরে মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করিয়েছে। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ভয় পান না। তিনি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শিগগিরই জামিনের জন্য তিনি আদালতে হাজির হবেন।’ মওদুদ অভিযোগ করেন, নেত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর এলাকায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী আসছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের বাধা দিয়েছে। নেতা-কর্মীদের বিমানবন্দরে যাওয়া ঠেকাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গণপরিবহনও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। প্রায় তিন মাস পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে ঢাকা ও কুমিল্লার আদালত থেকে পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। আজ বুধবার বিকেলে দেশে ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় তাঁকে স্বাগত জানান বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ছবি: ফোকাস বাংলাখালেদা জিয়া গত ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে যান। প্রায় তিন মাস তিনি সেখানে সপরিবারে থাকা বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ছিলেন। এ সময় তিনি চোখ ও পায়ের চিকিৎসা নেন বলে দলের নেতারা জানান। এদিকে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে আজ দুপুরের পর থেকে বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে বিভিন্ন যানবাহন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। অনেককেই বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়। গাড়ি থেকে নেমে যাঁরা ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন, তাঁদেরও স্বস্তি মেলেনি। ফুটপাথেও ছিল হাজারো মানুষের ভিড়। এক হাতে বড় ব্যাগ আর অন্য হাতে চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন প্রায় ৭০ বছর বয়সী আনসার আলী হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘বিকেল তিনটার সময় আবদুল্লাহপুর থেকে রওনা দিয়েছি। কোনো বাস না পেয়ে হাঁটা শুরু করেছি। কারণ রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম। যানবাহন আটকে আছে। আমি ক্যানসারের রোগী। ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম বরিশাল থেকে। উত্তরায় ডাক্তার দেখিয়ে আজ আমার বরিশাল ফেরার কথা। রাতে লঞ্চ। টিকিট কাটা আছে। তাই কষ্ট হলেও হেঁটেই যেতে হচ্ছে।’ অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গে আনসার আলী বলেন, ‘এই দেশ আমাদের জন্য না। রাজনীতিবিদ আর সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এই দেশ।’ আনসার আলী যখন ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন, তখন ছাত্রদলের অর্ধশত মোটরসাইকেলের মিছিল বিমানবন্দরমুখী রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে ছিল। ছাত্রদল ঢাকা মহানগর (পশ্চিম) শাখার নেতা-কর্মীদের ওই মিছিলে অংশ নেওয়া সবার সবার পরনে ছিল সাদা রঙের টিশার্ট। টিশার্টের পেছনে লেখা ‘দুর্নীতি-দুঃশাসন হবে শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’। এই মিছিলের পেছনে বিপুলসংখ্যক যানবাহন স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই যানজট বিমানবন্দর থেকে হোটেল রেডিসন ছাড়িয়ে বনানী পর্যন্ত চলে যায়। নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, কাওলা এলাকায়ও রাস্তার ওপরেই খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে আসা বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকদেরর অবস্থান নিতে দেখা নেয়। অনেকেই সড়কের মাঝখানে অবস্থান করছিলেন। ওই সড়কের দুই পাশেই যানজটের একই চিত্র দেখা যায়। অন্যদিকে বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী-আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি ছাড়িয়ে যায়। বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আবদুল আলীম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করেছি, তারা যেন রাস্তার মাঝখানে অবস্থান না নেন। কিন্তু তারা এ কথা আমলে নেয়নি।’ এর আগে লন্ডনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিট) খালেদা জিয়াকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বিমানটি (ইকে-৫৮৬) হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে ছাড়ে। বিমানে ওঠার আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। ভিআইপি টার্মিনাল থেকে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে এই বক্তব্য দেন তিনি। নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরের বাইরে দাঁড়িয়ে দলীয়প্রধানের বক্তব্য শোনেন। পরে দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন খালেদা জিয়া। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এমন একসময়ে দেশে ফিরছেন, যখন তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বাসে পেট্রলবোমা হামলার মামলায় গত ৯ অক্টোবর বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন বেগম। এ ছাড়া ১২ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঢাকায় দুটি আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মানহানির মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নবী এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান এ দুটি পরোয়ানা জারি করেন। বিএনপি মনে করে, রাজনৈতিক কারণেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপরদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ১৫ জুলাই চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন। বড় ছেলে ও দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগে থেকেই লন্ডনে অবস্থান করছেন।

Comments

Comments!

 চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়াAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়া

Wednesday, October 18, 2017 6:35 pm | আপডেটঃ October 18, 2017 8:54 PM
b21c7c87adc11e68616e9da068c531eb-59e75315deabf

তিন মাসেরও বেশি সময় পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ বুধবার বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান খালেদা জিয়া।

বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়া গুলশানে বাসভবনের দিকে রওনা দিয়েছেন।

এর আগে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি পান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, দেহরক্ষী মাসুদ রানা ও গুলশানের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের কর্মচারী জসিম।

বিএনপির প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বিমানবন্দরে নামেন। ৫টা ৩৭ মিনিটে তিনি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে গুলশানের বাসার উদ্দেশে রওনা দেন।

বিমানবন্দরে বিএনপির চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা হাজির হন।

বিমানবন্দরে মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করিয়েছে। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ভয় পান না। তিনি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শিগগিরই জামিনের জন্য তিনি আদালতে হাজির হবেন।’ মওদুদ অভিযোগ করেন, নেত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর এলাকায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী আসছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের বাধা দিয়েছে। নেতা-কর্মীদের বিমানবন্দরে যাওয়া ঠেকাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গণপরিবহনও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

প্রায় তিন মাস পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে ঢাকা ও কুমিল্লার আদালত থেকে পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

আজ বুধবার বিকেলে দেশে ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় তাঁকে স্বাগত জানান বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ছবি: ফোকাস বাংলাখালেদা জিয়া গত ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে যান। প্রায় তিন মাস তিনি সেখানে সপরিবারে থাকা বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ছিলেন। এ সময় তিনি চোখ ও পায়ের চিকিৎসা নেন বলে দলের নেতারা জানান।

এদিকে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে আজ দুপুরের পর থেকে বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে বিভিন্ন যানবাহন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। অনেককেই বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়।

গাড়ি থেকে নেমে যাঁরা ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন, তাঁদেরও স্বস্তি মেলেনি। ফুটপাথেও ছিল হাজারো মানুষের ভিড়। এক হাতে বড় ব্যাগ আর অন্য হাতে চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন প্রায় ৭০ বছর বয়সী আনসার আলী হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘বিকেল তিনটার সময় আবদুল্লাহপুর থেকে রওনা দিয়েছি। কোনো বাস না পেয়ে হাঁটা শুরু করেছি। কারণ রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম। যানবাহন আটকে আছে। আমি ক্যানসারের রোগী। ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম বরিশাল থেকে। উত্তরায় ডাক্তার দেখিয়ে আজ আমার বরিশাল ফেরার কথা। রাতে লঞ্চ। টিকিট কাটা আছে। তাই কষ্ট হলেও হেঁটেই যেতে হচ্ছে।’ অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গে আনসার আলী বলেন, ‘এই দেশ আমাদের জন্য না। রাজনীতিবিদ আর সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এই দেশ।’
আনসার আলী যখন ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন, তখন ছাত্রদলের অর্ধশত মোটরসাইকেলের মিছিল বিমানবন্দরমুখী রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে ছিল। ছাত্রদল ঢাকা মহানগর (পশ্চিম) শাখার নেতা-কর্মীদের ওই মিছিলে অংশ নেওয়া সবার সবার পরনে ছিল সাদা রঙের টিশার্ট। টিশার্টের পেছনে লেখা ‘দুর্নীতি-দুঃশাসন হবে শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’। এই মিছিলের পেছনে বিপুলসংখ্যক যানবাহন স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই যানজট বিমানবন্দর থেকে হোটেল রেডিসন ছাড়িয়ে বনানী পর্যন্ত চলে যায়।

নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, কাওলা এলাকায়ও রাস্তার ওপরেই খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে আসা বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকদেরর অবস্থান নিতে দেখা নেয়। অনেকেই সড়কের মাঝখানে অবস্থান করছিলেন। ওই সড়কের দুই পাশেই যানজটের একই চিত্র দেখা যায়। অন্যদিকে বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী-আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি ছাড়িয়ে যায়।

বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আবদুল আলীম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করেছি, তারা যেন রাস্তার মাঝখানে অবস্থান না নেন। কিন্তু তারা এ কথা আমলে নেয়নি।’

এর আগে লন্ডনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিট) খালেদা জিয়াকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বিমানটি (ইকে-৫৮৬) হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে ছাড়ে।

বিমানে ওঠার আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। ভিআইপি টার্মিনাল থেকে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে এই বক্তব্য দেন তিনি। নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরের বাইরে দাঁড়িয়ে দলীয়প্রধানের বক্তব্য শোনেন।

পরে দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন খালেদা জিয়া। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এমন একসময়ে দেশে ফিরছেন, যখন তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
বাসে পেট্রলবোমা হামলার মামলায় গত ৯ অক্টোবর বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন বেগম। এ ছাড়া ১২ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঢাকায় দুটি আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মানহানির মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নবী এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান এ দুটি পরোয়ানা জারি করেন।

বিএনপি মনে করে, রাজনৈতিক কারণেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপরদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১৫ জুলাই চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন। বড় ছেলে ও দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগে থেকেই লন্ডনে অবস্থান করছেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X