রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৭:৩৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, September 5, 2016 10:52 pm
A- A A+ Print

চীনকে বারাক ওবামার কড়া হুঁশিয়ারি

Crg3LZ_WgAE-mbz

হ্যাংঝু: আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করলে বেইজিংকে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। চলমান জি-টুয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফরে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সফররত অন্য বিশ্বনেতাদের লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হলেও সে তালিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ওবামা বলেছেন, চীনের উত্থানকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করলে বেইজিংকে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে বারাক ওবামার একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে সিএনএন। রবিবার টেলিভিশনে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, ‘যখন নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যু সামনে আসে, আপনি যদি সমুদ্রসীমা বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তাহলে আপনি ফিলিপাইন বা ভিয়েতনামের চেয়ে বড় দেশ হতে পারেন; কিন্তু আপনি পেশীশক্তি প্রদর্শন করতে পারেন না। আপনাকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে।’ বারাক ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক পরিসরে চীনের কাছ থেকে বৃহত্তর দায়িত্বপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, শুধু নিজ জনগণের জন্যই নয়, বরং ব্যাপক পরিসরে আন্তর্জাতিক সমস্যা ও সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা ইবোলার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় চীনের কাছ থেকে আরো দায়িত্বপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশিত। কার্বন নিঃসরণ কমাতে শনিবার জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের কাছে পরিকল্পনা পেশ করে দুই দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের পেশ করা প্রস্তাব সম্পর্কে ওবামা বলেন, আমি মনে করি ইতিহাস এর মূল্যায়ন করবে। চীনের আচরণ সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দক্ষিণ চীন সাগরের মতো বিষয়গুলোতে যখন আমরা তাদেরকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করতে দেখি অথবা কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক নীতিতে এমনটা দেখি এসব ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান বেশ দৃঢ়। আমরা তাদেরকে ইঙ্গিত দিয়েছি যে, তাদেরকে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।’ চীনে জি-টুয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাই, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মাইকেল তেমারসহ বিশ্বনেতাদের লালগালিচা সংবর্ধনা দেয় বেইজিং। অথচ এর ব্যতিক্রম ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওবামা যখন হ্যাংঝু বিমানবন্দরে পৌঁছান তখন তাকে মোটেও অভ্যর্থনা জানায়নি চীনা কর্তৃপক্ষ। বরং পরোক্ষে চীনা কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়েন তিনি। স্বীকার হন উগ্র চীনা জাতিয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির। লাল গালিচা তো নয়ই, তাকে বিমান থেকে নামার জন্য রোলিং স্টেয়ারকেইজ (আলাদা সিঁড়ি) দেওয়ার মতো কূটনৈতিক শিষ্টাচার প্রদর্শনেও অস্বীকৃতি জানানো হয়। এ নিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিবাদও হয়। বারাক ওবামা অবশ্য এ ব্যাপারে কূটনৈতিক উত্তর দিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বহরের আকার থেকে চীন হয়তো হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল। এ নিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামাকে স্বাগত না জানানোর কারণে চীনের ওপর তিনি বিরক্ত হয়েছেন। সাংবাদিকদের রাইস বলেন, ‘যা হয়েছে তা ধারণাতীত।’ মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং মার্কিন কর্মকর্তারা চীন পৌঁছানোর পর যে ধরনের অভ্যর্থনা পেয়েছেন তা খুবই বিবর্ণ।’ সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েন আরো জোরালো হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Comments

Comments!

 চীনকে বারাক ওবামার কড়া হুঁশিয়ারিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

চীনকে বারাক ওবামার কড়া হুঁশিয়ারি

Monday, September 5, 2016 10:52 pm
Crg3LZ_WgAE-mbz

হ্যাংঝু: আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করলে বেইজিংকে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

চলমান জি-টুয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফরে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সফররত অন্য বিশ্বনেতাদের লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হলেও সে তালিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ওবামা বলেছেন, চীনের উত্থানকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করলে বেইজিংকে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে বারাক ওবামার একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে সিএনএন।

রবিবার টেলিভিশনে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, ‘যখন নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যু সামনে আসে, আপনি যদি সমুদ্রসীমা বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তাহলে আপনি ফিলিপাইন বা ভিয়েতনামের চেয়ে বড় দেশ হতে পারেন; কিন্তু আপনি পেশীশক্তি প্রদর্শন করতে পারেন না। আপনাকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে।’

বারাক ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক পরিসরে চীনের কাছ থেকে বৃহত্তর দায়িত্বপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করে।

তিনি বলেন, শুধু নিজ জনগণের জন্যই নয়, বরং ব্যাপক পরিসরে আন্তর্জাতিক সমস্যা ও সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা ইবোলার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় চীনের কাছ থেকে আরো দায়িত্বপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশিত।

কার্বন নিঃসরণ কমাতে শনিবার জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের কাছে পরিকল্পনা পেশ করে দুই দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের পেশ করা প্রস্তাব সম্পর্কে ওবামা বলেন, আমি মনে করি ইতিহাস এর মূল্যায়ন করবে।

চীনের আচরণ সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দক্ষিণ চীন সাগরের মতো বিষয়গুলোতে যখন আমরা তাদেরকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করতে দেখি অথবা কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক নীতিতে এমনটা দেখি এসব ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান বেশ দৃঢ়। আমরা তাদেরকে ইঙ্গিত দিয়েছি যে, তাদেরকে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।’

চীনে জি-টুয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাই, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মাইকেল তেমারসহ বিশ্বনেতাদের লালগালিচা সংবর্ধনা দেয় বেইজিং।

অথচ এর ব্যতিক্রম ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

ওবামা যখন হ্যাংঝু বিমানবন্দরে পৌঁছান তখন তাকে মোটেও অভ্যর্থনা জানায়নি চীনা কর্তৃপক্ষ। বরং পরোক্ষে চীনা কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়েন তিনি। স্বীকার হন উগ্র চীনা জাতিয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির।

লাল গালিচা তো নয়ই, তাকে বিমান থেকে নামার জন্য রোলিং স্টেয়ারকেইজ (আলাদা সিঁড়ি) দেওয়ার মতো কূটনৈতিক শিষ্টাচার প্রদর্শনেও অস্বীকৃতি জানানো হয়। এ নিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিবাদও হয়।

বারাক ওবামা অবশ্য এ ব্যাপারে কূটনৈতিক উত্তর দিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বহরের আকার থেকে চীন হয়তো হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল। এ নিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামাকে স্বাগত না জানানোর কারণে চীনের ওপর তিনি বিরক্ত হয়েছেন। সাংবাদিকদের রাইস বলেন, ‘যা হয়েছে তা ধারণাতীত।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং মার্কিন কর্মকর্তারা চীন পৌঁছানোর পর যে ধরনের অভ্যর্থনা পেয়েছেন তা খুবই বিবর্ণ।’

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েন আরো জোরালো হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X