বুধবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৩রা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:২৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, October 12, 2016 12:20 pm
A- A A+ Print

চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর

4_158

আলফাজ আনাম  

উপমহাদেশে এক ধরনের অস্থিরতার মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকা সফরে আসছেন। এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশ তিনি সফর করছেন। এর মধ্যে কম্বোডিয়া সফর শেষ করে তিনি ঢাকা আসবেন। এরপর ভারতের গোয়ায় ‘ব্রিকস’ সম্মেলনে যোগ দেবেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নেপালে বড় ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে চীন। শুধু তাই নয়- এসব দেশের সাথে চীনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বেড়েছে। এমনকি ভারতের সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে টানাপড়েন সত্ত্বেও দেশটিতে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েই চলছে। চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ভারতের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চীনের বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ডালিয়ান ওয়ানডা গ্রুপ ঘোষণা দিয়েছে, উত্তর ভারতে আবাসিক ভবন ও শিল্প এলাকা গড়ে তুলতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। চীনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর বাংলাদেশের জন্য নানা দিক দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগের ব্যাপারে চীন অনেক আগ থেকেই আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ। শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটায় চীন গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করেছে। এ বন্দর নির্মাণের মধ্য দিয়ে ভারত মহাসাগরে চীনের প্রভাব বেড়েছে। একই সাথে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গোয়াদরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করে চীন আরব সাগরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। এখন গোয়াদর থেকে চীনের জিনজিয়াংয়ের কাশগড় পর্যন্ত সড়ক, গ্যাস পাইপলাইন এবং রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে। এ জন্য পাকিস্তানে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের প্রতিবেশী মিয়ানমারে সিত্তুইয়েও চীন একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করেছে। মিয়ানমারের সাথে চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক অনেক পুরনো। অপর প্রতিবেশী দেশ নেপালেও বড় ধরনের কিছু প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে চীন। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে চীনের সাথে নেপালের সম্পর্ক এখন ঘনিষ্ঠ। নেপালের সদ্যবিগত প্রধানমন্ত্রী কে.পি ওলির বেইজিং সফরের সময় দেশটিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে বড় ধরনের কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়। এর মধ্যে নেপালের পর্যটন শহর পোখারায় বিমানবন্দর নির্মাণ, দুই দেশের অভিন্ন নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ, কয়েকটি পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি চুক্তি হয়েছে; ভূবেষ্টিত নেপাল চীনের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারবে। সম্প্রতি নেপালে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহাল প্রচন্ড। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি চীন সম্পর্কিত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কৃষ্ণ বাহাদুর মাহরাকে বেইজিং পাঠান। নেপালের পক্ষ থেকে আশ^স্ত করা হয়, আগের সরকারের সময় চীনের সাথে যেসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তা বহাল থাকবে। এরপর প্রচন্ড ভারত সফরে যান। নেপালের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশটির উন্নয়নে চীনের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ভারতের পক্ষপুটে নয়, বরং এক ধরনের ভারসাম্যমূলক অবস্থান গ্রহণের চেষ্টা করেছে নেপাল। দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে চীন বিশেষভাবে আগ্রহী হয়ে উঠছে। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান নয়; নীরবে চীন অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য চীনের সাথে এসব দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রুট’ নামে ২০১৩ সালে যে সড়ক যোগাযোগ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এর আওতায় এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের ব্যাপারে চীন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এ সড়কগুলোর সাথে সমুদ্রবন্দর সংযুক্ত থাকবে; যাকে ভিন্নভাবে মেরিটাইম সিল্ক রুট হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন দেশে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে দেশটি বিশেষভাবে আগ্রহী। শুধু এশিয়া নয়, আফ্রিকার তাঞ্জানিয়ায় সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে চীন। এ ছাড়া ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা থেকে জিবুতি বন্দর পর্যন্ত ৭৫০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করছে। এ রেলপথের ৭০ শতাংশ অর্থায়ন করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সিম ব্যাংক। অর্থাৎ সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে সড়ক বা রেল যোগাযোগ স্থাপনের ব্যাপারে চীন অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বাণিজ্যিক কারণেই সমুদ্রের সাথে সড়ক যোগাযোগ থাকতে হবে। বিশ^বাণিজ্যের প্রধান অংশীদার এখন চীন। স্বাভাবিকভাবেই বাণিজ্যিক প্রভাব বৃদ্ধিতে সমুদ্রনির্ভর অবকাঠামোর দিকে চীন বেশি মনোযোগী হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ চীনকে পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে মনে করে। এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে, বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব দেয়া হবে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। অপর দিকে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনের কিছু অগ্রাধিকার রয়েছে। চট্টগ্রামের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীন আগ্রহী। তবে সোনাদিয়ায় নয়, বাংলাদেশ পটুয়াখালীর পায়রায় বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের অবস্থান থেকে চীন সরে গেছে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। শি জিনপিং যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন চীন সফরে যান, তখন সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা বহুদূর এগিয়েছিল। ভারতের বিরোধিতার কারণে এ সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চীন পাচ্ছে না, এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সরকারের একজন মন্ত্রী তা জানিয়েছিলেন। পরে ভারত ও জাপানের সহায়তায় পায়রা বন্দরের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। চীনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের সময় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের ব্যাপারে একটি প্রস্তাব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে চীন আগ্রহ দেখাবে বলেই আশা করা যায়। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণসহ রেল খাতে আরো কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। ওয়ান বেল্ট ওয়ান রুট পরিকল্পনার আওতায় চীনের কুনমিং থেকে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম হয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের পশ্চিম বাংলা পর্যন্ত একটি সড়কের ব্যাপারে আগে আলোচনা হয়েছিল। এ ধরনের পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই সম্ভবত পদ্মা সেতুর রেলপথ স্থাপনে চীন বিনিয়োগ করেছে। এ ক্ষেত্রে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন করা গেলে তা আরো বেশি কার্যকর হতে পারে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন ঢাকা সফরে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোরের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোরের জন্য চিহ্নিত দুই হাজার ৮০০ কিলোমিটার সড়ক পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল-ঢাকা-সিলেট হয়ে আবার শিলচর দিয়ে ভারতের আসামে প্রবেশ করেছে। এরপর মনিপুরের ইমফল হয়ে ভারত-নির্মিত তামু-কালিওয়া মৈত্রী সড়ক দিয়ে মিয়ানমার গেছে। মিয়ানমারের মান্দালয় হয়ে সড়কটি চীনের কুনমিংয়ে গিয়ে শেষ হবে। পুরো সড়কটির বেশির ভাগ এখন ব্যবহারযোগ্য। তবে মিয়ানমারে কালিওয়া থেকে মনওয়া পর্যন্ত ২০০ কিলোমিটার সড়ক সব মওসুমে ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া ভারতে শিলচর থেকে ইমফল পর্যন্ত সড়ক উন্নত করতে হবে। চীন ও মিয়ানমার হয়ে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিসিআইএম করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অবশ্য এ সড়ক বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনায় বেশ ঘুরপথে হচ্ছে। এ রুটে, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর উপেক্ষিত থাকছে। চট্টগ্রাম হয়ে যদি এ সড়ক হতো, তা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক হতো। কক্সবাজার চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে যাওয়া এ রুট নিয়ে চীন বেশি আগ্রহী ছিল। ভারতের মনোভাবের কারণে পরে ভিন্ন রুট নির্ধারণ করা হয়। এ সড়ক কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করবে ভারতের অবস্থানের ওপর। বাংলাদেশের অনেক বিশ্লেষক মনে করেন- শেষ পর্যন্ত বহুপক্ষীয় ব্যবহারের পরিবর্তে এ রুট বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি করিডোর হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের উচিত চীন ও মিয়ানমারের সাথে সড়ক যোগাযোগ বাড়ানোর বিকল্প হিসেবে টেকনাফের গুনদুম হয়ে সড়ক চালু করার ওপর গুরুত্ব দেয়া। এর ফলে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সাথে চীন ও মিয়ানমারের যোগাযোগ সহজ হবে। এখানে আরেকটি বিষয় আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, চীনের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত মে মাসে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চেং ওয়ানকুয়ান ঢাকা সফর করেন। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, চীনের উৎপাদিত সমরাস্ত্রের ২০ শতাংশ কিনে থাকে বাংলাদেশ। চীনা সমরাস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হচ্ছে পাকিস্তান। দেশটি চীনের ৩৫ শতাংশ অস্ত্র কিনে থাকে। এরপরই বাংলাদেশের অবস্থান বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশের নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তরের যে পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে, তাতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। চীন থেকে দুইটি ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং কয়েকটি মেরিটাইম প্যাট্রল ভেসেল কিনছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সমুদ্র সীমার নিরাপত্তা এবং নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে এসব নৌযান খুবই জরুরি। চীনের সাথে সর্ম্পকের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দিকটি সব সময় গুরুত্ব পেয়ে আসছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জন্য চীনের সাথে সম্পর্ককে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। নিকট প্রতিবেশী দেশ হিসেবে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের এক নম্বর বন্ধু চীন।’ এ বন্ধুত্বের প্রমাণ এখন দুই দেশকে দিতে হবে। শুধু চীনের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন যথেষ্ট নয়। চীন যেখানে সুদূর আফ্রিকার দেশগুলোতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে, সেখানে বাংলাদেশে না করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু এ জন্য দরকার হবে ভারসাম্যমূলক অবস্থান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে ভারসাম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করতে পারছে না। নানাভাবে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে ভারতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ ঘটতে দেখা যাচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে- অনেক বড় ধরনের প্রকল্পে ভারত নিজেই চীনের মুখাপেক্ষী। সেখানে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ নিয়ে ভারতের নেতিবাচক অবস্থান গ্রহণ এ অঞ্চলে ভারতের অদূরদর্শী রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নোংরা খেলা ছাড়া কিছু নয়। চীনের সাথে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে ভারতনির্ভরতা কাটিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীনভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। alfazanambd@yahoo.com

Comments

Comments!

 চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর

Wednesday, October 12, 2016 12:20 pm
4_158

উপমহাদেশে এক ধরনের অস্থিরতার মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকা সফরে আসছেন। এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশ তিনি সফর করছেন। এর মধ্যে কম্বোডিয়া সফর শেষ করে তিনি ঢাকা আসবেন। এরপর ভারতের গোয়ায় ‘ব্রিকস’ সম্মেলনে যোগ দেবেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নেপালে বড় ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে চীন। শুধু তাই নয়- এসব দেশের সাথে চীনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বেড়েছে। এমনকি ভারতের সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে টানাপড়েন সত্ত্বেও দেশটিতে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েই চলছে। চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ভারতের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চীনের বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ডালিয়ান ওয়ানডা গ্রুপ ঘোষণা দিয়েছে, উত্তর ভারতে আবাসিক ভবন ও শিল্প এলাকা গড়ে তুলতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

চীনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর বাংলাদেশের জন্য নানা দিক দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগের ব্যাপারে চীন অনেক আগ থেকেই আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ। শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটায় চীন গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করেছে। এ বন্দর নির্মাণের মধ্য দিয়ে ভারত মহাসাগরে চীনের প্রভাব বেড়েছে। একই সাথে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গোয়াদরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করে চীন আরব সাগরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। এখন গোয়াদর থেকে চীনের জিনজিয়াংয়ের কাশগড় পর্যন্ত সড়ক, গ্যাস পাইপলাইন এবং রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে। এ জন্য পাকিস্তানে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের প্রতিবেশী মিয়ানমারে সিত্তুইয়েও চীন একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করেছে। মিয়ানমারের সাথে চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক অনেক পুরনো।
অপর প্রতিবেশী দেশ নেপালেও বড় ধরনের কিছু প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে চীন। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে চীনের সাথে নেপালের সম্পর্ক এখন ঘনিষ্ঠ। নেপালের সদ্যবিগত প্রধানমন্ত্রী কে.পি ওলির বেইজিং সফরের সময় দেশটিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে বড় ধরনের কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়। এর মধ্যে নেপালের পর্যটন শহর পোখারায় বিমানবন্দর নির্মাণ, দুই দেশের অভিন্ন নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ, কয়েকটি পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি চুক্তি হয়েছে; ভূবেষ্টিত নেপাল চীনের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারবে। সম্প্রতি নেপালে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহাল প্রচন্ড। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি চীন সম্পর্কিত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কৃষ্ণ বাহাদুর মাহরাকে বেইজিং পাঠান। নেপালের পক্ষ থেকে আশ^স্ত করা হয়, আগের সরকারের সময় চীনের সাথে যেসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তা বহাল থাকবে। এরপর প্রচন্ড ভারত সফরে যান। নেপালের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশটির উন্নয়নে চীনের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ভারতের পক্ষপুটে নয়, বরং এক ধরনের ভারসাম্যমূলক অবস্থান গ্রহণের চেষ্টা করেছে নেপাল। দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে চীন বিশেষভাবে আগ্রহী হয়ে উঠছে। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান নয়; নীরবে চীন অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য চীনের সাথে এসব দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রুট’ নামে ২০১৩ সালে যে সড়ক যোগাযোগ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এর আওতায় এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের ব্যাপারে চীন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এ সড়কগুলোর সাথে সমুদ্রবন্দর সংযুক্ত থাকবে; যাকে ভিন্নভাবে মেরিটাইম সিল্ক রুট হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন দেশে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে দেশটি বিশেষভাবে আগ্রহী। শুধু এশিয়া নয়, আফ্রিকার তাঞ্জানিয়ায় সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে চীন। এ ছাড়া ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা থেকে জিবুতি বন্দর পর্যন্ত ৭৫০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করছে। এ রেলপথের ৭০ শতাংশ অর্থায়ন করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সিম ব্যাংক। অর্থাৎ সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে সড়ক বা রেল যোগাযোগ স্থাপনের ব্যাপারে চীন অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বাণিজ্যিক কারণেই সমুদ্রের সাথে সড়ক যোগাযোগ থাকতে হবে। বিশ^বাণিজ্যের প্রধান অংশীদার এখন চীন। স্বাভাবিকভাবেই বাণিজ্যিক প্রভাব বৃদ্ধিতে সমুদ্রনির্ভর অবকাঠামোর দিকে চীন বেশি মনোযোগী হয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষ চীনকে পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে মনে করে। এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে, বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব দেয়া হবে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। অপর দিকে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনের কিছু অগ্রাধিকার রয়েছে। চট্টগ্রামের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীন আগ্রহী। তবে সোনাদিয়ায় নয়, বাংলাদেশ পটুয়াখালীর পায়রায় বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের অবস্থান থেকে চীন সরে গেছে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। শি জিনপিং যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন চীন সফরে যান, তখন সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা বহুদূর এগিয়েছিল। ভারতের বিরোধিতার কারণে এ সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চীন পাচ্ছে না, এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সরকারের একজন মন্ত্রী তা জানিয়েছিলেন। পরে ভারত ও জাপানের সহায়তায় পায়রা বন্দরের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।
চীনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের সময় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের ব্যাপারে একটি প্রস্তাব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে চীন আগ্রহ দেখাবে বলেই আশা করা যায়। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণসহ রেল খাতে আরো কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। ওয়ান বেল্ট ওয়ান রুট পরিকল্পনার আওতায় চীনের কুনমিং থেকে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম হয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের পশ্চিম বাংলা পর্যন্ত একটি সড়কের ব্যাপারে আগে আলোচনা হয়েছিল। এ ধরনের পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই সম্ভবত পদ্মা সেতুর রেলপথ স্থাপনে চীন বিনিয়োগ করেছে। এ ক্ষেত্রে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন করা গেলে তা আরো বেশি কার্যকর হতে পারে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন ঢাকা সফরে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোরের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোরের জন্য চিহ্নিত দুই হাজার ৮০০ কিলোমিটার সড়ক পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল-ঢাকা-সিলেট হয়ে আবার শিলচর দিয়ে ভারতের আসামে প্রবেশ করেছে। এরপর মনিপুরের ইমফল হয়ে ভারত-নির্মিত তামু-কালিওয়া মৈত্রী সড়ক দিয়ে মিয়ানমার গেছে। মিয়ানমারের মান্দালয় হয়ে সড়কটি চীনের কুনমিংয়ে গিয়ে শেষ হবে। পুরো সড়কটির বেশির ভাগ এখন ব্যবহারযোগ্য। তবে মিয়ানমারে কালিওয়া থেকে মনওয়া পর্যন্ত ২০০ কিলোমিটার সড়ক সব মওসুমে ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া ভারতে শিলচর থেকে ইমফল পর্যন্ত সড়ক উন্নত করতে হবে। চীন ও মিয়ানমার হয়ে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিসিআইএম করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অবশ্য এ সড়ক বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনায় বেশ ঘুরপথে হচ্ছে। এ রুটে, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর উপেক্ষিত থাকছে। চট্টগ্রাম হয়ে যদি এ সড়ক হতো, তা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক হতো। কক্সবাজার চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে যাওয়া এ রুট নিয়ে চীন বেশি আগ্রহী ছিল। ভারতের মনোভাবের কারণে পরে ভিন্ন রুট নির্ধারণ করা হয়। এ সড়ক কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করবে ভারতের অবস্থানের ওপর। বাংলাদেশের অনেক বিশ্লেষক মনে করেন- শেষ পর্যন্ত বহুপক্ষীয় ব্যবহারের পরিবর্তে এ রুট বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি করিডোর হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের উচিত চীন ও মিয়ানমারের সাথে সড়ক যোগাযোগ বাড়ানোর বিকল্প হিসেবে টেকনাফের গুনদুম হয়ে সড়ক চালু করার ওপর গুরুত্ব দেয়া। এর ফলে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সাথে চীন ও মিয়ানমারের যোগাযোগ সহজ হবে।
এখানে আরেকটি বিষয় আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, চীনের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত মে মাসে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চেং ওয়ানকুয়ান ঢাকা সফর করেন। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, চীনের উৎপাদিত সমরাস্ত্রের ২০ শতাংশ কিনে থাকে বাংলাদেশ। চীনা সমরাস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হচ্ছে পাকিস্তান। দেশটি চীনের ৩৫ শতাংশ অস্ত্র কিনে থাকে। এরপরই বাংলাদেশের অবস্থান বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশের নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তরের যে পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে, তাতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। চীন থেকে দুইটি ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং কয়েকটি মেরিটাইম প্যাট্রল ভেসেল কিনছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সমুদ্র সীমার নিরাপত্তা এবং নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে এসব নৌযান খুবই জরুরি। চীনের সাথে সর্ম্পকের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দিকটি সব সময় গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জন্য চীনের সাথে সম্পর্ককে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। নিকট প্রতিবেশী দেশ হিসেবে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের এক নম্বর বন্ধু চীন।’ এ বন্ধুত্বের প্রমাণ এখন দুই দেশকে দিতে হবে। শুধু চীনের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন যথেষ্ট নয়। চীন যেখানে সুদূর আফ্রিকার দেশগুলোতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে, সেখানে বাংলাদেশে না করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু এ জন্য দরকার হবে ভারসাম্যমূলক অবস্থান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে ভারসাম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করতে পারছে না। নানাভাবে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে ভারতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ ঘটতে দেখা যাচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে- অনেক বড় ধরনের প্রকল্পে ভারত নিজেই চীনের মুখাপেক্ষী। সেখানে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ নিয়ে ভারতের নেতিবাচক অবস্থান গ্রহণ এ অঞ্চলে ভারতের অদূরদর্শী রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নোংরা খেলা ছাড়া কিছু নয়। চীনের সাথে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে ভারতনির্ভরতা কাটিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীনভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

alfazanambd@yahoo.com

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X