মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৪০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, October 26, 2017 10:06 am
A- A A+ Print

চীন চালাবেন যাঁরা

photo-1508911515

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে ১৮ অক্টোবর শুরু হয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম সম্মেলন। চলমান এই সম্মেলন থেকেই ক্ষমতাসীন দলটির নেতৃত্বে কে আসছেন, আজ বুধবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে গোপনীয়তার সঙ্গে প্রতিনিধিরা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত করেন। এই কমিটি ২৪ সদস্যবিশিষ্ট পলিটব্যুরো নির্বাচিত করে। আর পলিটব্যুরো থেকে সাত সদস্যবিশিষ্ট স্থায়ী কমিটি নির্বাচিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি। দেশটির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনার জন্য এই স্থায়ী কমিটি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও দলের সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং পলিটব্যুরোর এই শীর্ষ সাত নেতার নাম ঘোষণা করেছেন। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারণা করা হয়েছিল, চীনের প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির বর্তমান নেতা সি চিন পিং তাঁর পদে অপরিবর্তিত থাকবেন। দলের সম্মেলন থেকে সেই ধারণাই ঠিক হয়েছে। সি চিন পিং ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াং আবারও পদ ধরে রেখেছেন। আগামী পাঁচ বছর তাঁরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। পলিটব্যুরোর শীর্ষ সাত নেতার মধ্যে এই দুজন ছাড়া বাকি পাঁচজন একেবারে নতুন মুখ। এবারই প্রথম তাঁরা শীর্ষ নেতৃত্বের তালিকায় উঠে এলেন। তাঁরা দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের প্রেসিডেন্ট সি তাঁর কোনো উত্তরসূরি না রেখেই স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতাদের নাম ঘোষণা করেছেন, যা ইতিমধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এর আগে অবশ্য প্রেসিডেন্ট ও দলের প্রধান নেতৃত্বের উত্তরসূরি রাখার নিয়ম ছিল। এবার সেই নিয়ম ভেঙেই নাম ঘোষণা করলেন সি। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী পলিটব্যুরোর অধিকাংশ সদস্য, যাঁদের বয়স ৬৮ বছরের বেশি হবে, তাঁরা পদ ছেড়ে দেবেন। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াং আবারও পদ ধরে রাখায় ২০২২ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। আর স্থায়ী বাকি পাঁচ নেতার এখনই বয়স ৬০ বছরের বেশি। আগামী পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২২ সালে তাঁদের অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই আগামী সম্মেলনে এই কমিটি থেকে দলের একদম শীর্ষ নেতৃত্বে আসার মতো কোনো উত্তরসূরি থাকল না। চীনে ক্ষমতার কেন্দ্রে যাঁরা আগামী পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২২ সাল পর্যন্ত ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশের বৃহত্তম অর্থনীতি পরিচালনা করবেন স্থায়ী কমিটির সাত সদস্য। তাঁরা হলেন: চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। ছবি: রয়টার্স সি চিন পিং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আগামী পাঁচ বছরের আবারও প্রেসিডেন্ট দলের প্রধানের আসন পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন তিনি। ২০২২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র ও দল পরিচালনা করবেন তিনি। সির ‘নাম’ ও তাঁর ‘মতাদর্শ’ দলের ইশতেহারে, অর্থাৎ সংবিধানে রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিউনিস্ট পার্টি। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন থেকে সি চিন পিংকে চ্যালেঞ্জ করার যেকোনো পদক্ষেপকে কমিউনিস্ট পার্টির শাসন ক্ষমতার বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এতে ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও মর্যাদার দিক থেকে সি এখন সাবেক প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুং ও দেং জিয়াওপিংয়ের সমপর্যায়ে উঠে গেলেন। এই দুজনের পর চীনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন সি। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াং। ছবি: রয়টার্স লি কেছিয়াং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা লি কেছিয়াং ২০১৩ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে প্রায় তিন হাজার আইনপ্রণেতার ভোট পেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারের চলমান কংগ্রেসে আবারও পাঁচ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন ৬২ বছর বয়সী লি। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের আস্থাভাজন ছিলেন। লি ঝানশু। ছবি: রয়টার্স লি ঝানশু ৬৭ বছর বয়সী লি ঝানশুকে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ডান হাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৮০ সালের শুরু থেকেই তাঁরা দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুও। ২০১২ সালে তিনি প্রথমবারের মতো পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট সির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মস্কো সফর করেন। রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। গুইঝু প্রদেশে দলের প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ক্ষমতার দিক থেকে এখন তাঁকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফের সঙ্গে তুলনা করা চলে। কারণ, তিনি এখন থেকে দেশটির পার্লামেন্টের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ওয়াং ইয়াং। ছবি: রয়টার্স ওয়াং ইয়াং দলের স্থায়ী কমিটির নতুন মুখ ওয়াং ইয়াং দেশটির দুজন উপপ্রধানমন্ত্রীর অধীনে কাজ করেছিলেন। এবার নিজেই উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন ৬২ বছর বয়সী ওয়াং। দেশটির রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম শীর্ষ হিসেবে কাজ করবেন তিনি। দেশটির সাবেক নেতা হু জিনতাওয়ের কমিউনিস্ট পাটির’স ইয়ুথ লীগে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। সংস্কারপন্থী এই নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। এ ছাড়া তিনি প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সংলাপেরও নেতৃত্ব দেন। তিনি দুই দফায় পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওয়াং হুনিং। ছবি: রয়টার্সওয়াং হুনিং প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম পরামর্শক ওয়াং হুনিং। ৬২ বছর বয়সী এই নেতা ‘চীনের কিসিঞ্জার’ হিসেবেও পরিচিত। অধ্যাপনা পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে আসা ওয়াং দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন, হু জিনতাও ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের অধীনে কাজ করেছেন। দেশটির সচিবালয়ের প্রধান ও দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। ঝাও লেজি। ছবি: রয়টার্স ঝাও লেজি কমিউনিস্ট পার্টির সবচেয়ে কম বয়সী নেতা ঝাও লেজি (৬০)। এবার চীনের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানের প্রধান ওয়াং কিশানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি। কিংহাই প্রদেশ থেকে রাজনীতির ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। ১৯৯৪ সালে প্রদেশের ভাইস গভর্নর নির্বাচিত হন। পরে দলের প্রাদেশিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে তাঁকে শানজি প্রদেশে দলের প্রধান করে পাঠানো হয়। গত সম্মেলনে তিনি পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঘনিষ্ঠ হতে হতে এবার চীনে ক্ষমতার কেন্দ্রে এসে দাঁড়ালেন তিনি। হান ঝেং। ছবি: রয়টার্স হান ঝেং সাংহাই প্রদেশে কমিউনিস্ট পার্টির বর্তমান প্রধান হান ঝেং। ৬৩ বছর বয়সী হান টেকনোক্র্যাট নেতা থেকে ২০১২ সালে পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারই প্রথম স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হলেন। সাংহাইকে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনী কেন্দ্র ও প্রদেশে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তাঁর অপরিসীম অবদান রয়েছে। হংকংভিত্তিক সংবাদপত্র সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, হান ঝেং চীনের চায়নিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পদটি রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান পদ। স্থায়ী কমিটির এই সাত সদস্যের সবার বয়সই ৬০ বা তার বেশি। ৬৭ বছরের বেশি বয়স হলে পদ ছেড়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী পাঁচ বছর পর দলের পরবর্তী কংগ্রেসের সময় স্থায়ী কমিটিতে এই সাত সদস্যের মধ্যে শুধু ঝাও লেজি থাকবেন। যদিও প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাঁর কোনো উত্তরসূরি রাখেননি। তাই দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ ঝাও লেজির কাছে যাবে, নাকি সি আবারও ক্ষমতা নিজের কাছে রাখবেন—প্রশ্নটা এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বিবিসি, সিএনএন ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট অবলম্বনে

Comments

Comments!

 চীন চালাবেন যাঁরাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

চীন চালাবেন যাঁরা

Thursday, October 26, 2017 10:06 am
photo-1508911515

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে ১৮ অক্টোবর শুরু হয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম সম্মেলন। চলমান এই সম্মেলন থেকেই ক্ষমতাসীন দলটির নেতৃত্বে কে আসছেন, আজ বুধবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে গোপনীয়তার সঙ্গে প্রতিনিধিরা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত করেন। এই কমিটি ২৪ সদস্যবিশিষ্ট পলিটব্যুরো নির্বাচিত করে। আর পলিটব্যুরো থেকে সাত সদস্যবিশিষ্ট স্থায়ী কমিটি নির্বাচিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি। দেশটির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনার জন্য এই স্থায়ী কমিটি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও দলের সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং পলিটব্যুরোর এই শীর্ষ সাত নেতার নাম ঘোষণা করেছেন।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারণা করা হয়েছিল, চীনের প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির বর্তমান নেতা সি চিন পিং তাঁর পদে অপরিবর্তিত থাকবেন। দলের সম্মেলন থেকে সেই ধারণাই ঠিক হয়েছে। সি চিন পিং ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াং আবারও পদ ধরে রেখেছেন। আগামী পাঁচ বছর তাঁরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। পলিটব্যুরোর শীর্ষ সাত নেতার মধ্যে এই দুজন ছাড়া বাকি পাঁচজন একেবারে নতুন মুখ। এবারই প্রথম তাঁরা শীর্ষ নেতৃত্বের তালিকায় উঠে এলেন। তাঁরা দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের প্রেসিডেন্ট সি তাঁর কোনো উত্তরসূরি না রেখেই স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতাদের নাম ঘোষণা করেছেন, যা ইতিমধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এর আগে অবশ্য প্রেসিডেন্ট ও দলের প্রধান নেতৃত্বের উত্তরসূরি রাখার নিয়ম ছিল। এবার সেই নিয়ম ভেঙেই নাম ঘোষণা করলেন সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী পলিটব্যুরোর অধিকাংশ সদস্য, যাঁদের বয়স ৬৮ বছরের বেশি হবে, তাঁরা পদ ছেড়ে দেবেন। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াং আবারও পদ ধরে রাখায় ২০২২ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। আর স্থায়ী বাকি পাঁচ নেতার এখনই বয়স ৬০ বছরের বেশি। আগামী পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২২ সালে তাঁদের অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই আগামী সম্মেলনে এই কমিটি থেকে দলের একদম শীর্ষ নেতৃত্বে আসার মতো কোনো উত্তরসূরি থাকল না।

চীনে ক্ষমতার কেন্দ্রে যাঁরা
আগামী পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২২ সাল পর্যন্ত ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশের বৃহত্তম অর্থনীতি পরিচালনা করবেন স্থায়ী কমিটির সাত সদস্য। তাঁরা হলেন:

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। ছবি: রয়টার্স

সি চিন পিং
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আগামী পাঁচ বছরের আবারও প্রেসিডেন্ট দলের প্রধানের আসন পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন তিনি। ২০২২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র ও দল পরিচালনা করবেন তিনি। সির ‘নাম’ ও তাঁর ‘মতাদর্শ’ দলের ইশতেহারে, অর্থাৎ সংবিধানে রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিউনিস্ট পার্টি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন থেকে সি চিন পিংকে চ্যালেঞ্জ করার যেকোনো পদক্ষেপকে কমিউনিস্ট পার্টির শাসন ক্ষমতার বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এতে ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও মর্যাদার দিক থেকে সি এখন সাবেক প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুং ও দেং জিয়াওপিংয়ের সমপর্যায়ে উঠে গেলেন। এই দুজনের পর চীনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন সি।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াং। ছবি: রয়টার্স

লি কেছিয়াং
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা লি কেছিয়াং ২০১৩ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে প্রায় তিন হাজার আইনপ্রণেতার ভোট পেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারের চলমান কংগ্রেসে আবারও পাঁচ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন ৬২ বছর বয়সী লি। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের আস্থাভাজন ছিলেন।

লি ঝানশু। ছবি: রয়টার্স

লি ঝানশু
৬৭ বছর বয়সী লি ঝানশুকে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ডান হাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৮০ সালের শুরু থেকেই তাঁরা দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুও। ২০১২ সালে তিনি প্রথমবারের মতো পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট সির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মস্কো সফর করেন। রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। গুইঝু প্রদেশে দলের প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ক্ষমতার দিক থেকে এখন তাঁকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফের সঙ্গে তুলনা করা চলে। কারণ, তিনি এখন থেকে দেশটির পার্লামেন্টের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

ওয়াং ইয়াং। ছবি: রয়টার্স

ওয়াং ইয়াং
দলের স্থায়ী কমিটির নতুন মুখ ওয়াং ইয়াং দেশটির দুজন উপপ্রধানমন্ত্রীর অধীনে কাজ করেছিলেন। এবার নিজেই উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন ৬২ বছর বয়সী ওয়াং। দেশটির রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম শীর্ষ হিসেবে কাজ করবেন তিনি। দেশটির সাবেক নেতা হু জিনতাওয়ের কমিউনিস্ট পাটির’স ইয়ুথ লীগে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। সংস্কারপন্থী এই নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। এ ছাড়া তিনি প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সংলাপেরও নেতৃত্ব দেন। তিনি দুই দফায় পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ওয়াং হুনিং। ছবি: রয়টার্সওয়াং হুনিং
প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম পরামর্শক ওয়াং হুনিং। ৬২ বছর বয়সী এই নেতা ‘চীনের কিসিঞ্জার’ হিসেবেও পরিচিত। অধ্যাপনা পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে আসা ওয়াং দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন, হু জিনতাও ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের অধীনে কাজ করেছেন। দেশটির সচিবালয়ের প্রধান ও দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

ঝাও লেজি। ছবি: রয়টার্স

ঝাও লেজি
কমিউনিস্ট পার্টির সবচেয়ে কম বয়সী নেতা ঝাও লেজি (৬০)। এবার চীনের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানের প্রধান ওয়াং কিশানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি। কিংহাই প্রদেশ থেকে রাজনীতির ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। ১৯৯৪ সালে প্রদেশের ভাইস গভর্নর নির্বাচিত হন। পরে দলের প্রাদেশিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে তাঁকে শানজি প্রদেশে দলের প্রধান করে পাঠানো হয়। গত সম্মেলনে তিনি পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঘনিষ্ঠ হতে হতে এবার চীনে ক্ষমতার কেন্দ্রে এসে দাঁড়ালেন তিনি।

হান ঝেং। ছবি: রয়টার্স

হান ঝেং
সাংহাই প্রদেশে কমিউনিস্ট পার্টির বর্তমান প্রধান হান ঝেং। ৬৩ বছর বয়সী হান টেকনোক্র্যাট নেতা থেকে ২০১২ সালে পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারই প্রথম স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হলেন। সাংহাইকে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনী কেন্দ্র ও প্রদেশে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তাঁর অপরিসীম অবদান রয়েছে।

হংকংভিত্তিক সংবাদপত্র সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, হান ঝেং চীনের চায়নিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পদটি রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান পদ।

স্থায়ী কমিটির এই সাত সদস্যের সবার বয়সই ৬০ বা তার বেশি। ৬৭ বছরের বেশি বয়স হলে পদ ছেড়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী পাঁচ বছর পর দলের পরবর্তী কংগ্রেসের সময় স্থায়ী কমিটিতে এই সাত সদস্যের মধ্যে শুধু ঝাও লেজি থাকবেন। যদিও প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাঁর কোনো উত্তরসূরি রাখেননি। তাই দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ ঝাও লেজির কাছে যাবে, নাকি সি আবারও ক্ষমতা নিজের কাছে রাখবেন—প্রশ্নটা এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

বিবিসি, সিএনএন ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট অবলম্বনে

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X