রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:০২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, July 25, 2017 7:04 am
A- A A+ Print

‘চীন-ভারত যুদ্ধ অসম্ভব নয়’

2

বেইজিং: দোকলাম নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না, তবে উভয় পক্ষের কূটনীতিকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিতে হবে যাতে সশস্ত্র সংঘাত প্রতিরোধ করা যায়। চীন ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক এবং চরহার ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো লং ঝিংচুন এ কথা বলেছেন। এই চীনা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ অতীতের নিদর্শন যা এখন ফিরে আসা উচিৎ নয়। আর চীন ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ উভয় দেশেরই অপূরণীয় ক্ষতি করবে।’ ঝিংচুন চীনা সরকারী মুখপাত্র পত্রিকা ‘গ্লোবাল টাইমস’ এ লিখেছেন- ‘একটি যুদ্ধ একেবারে অসম্ভব কিছু নয়। ভুল সময়ে এবং ভুল স্থানে অযৌক্তিক যুদ্ধের অনেক বড় বড় নজির রয়েছে। তবে এখন উভয় পক্ষের কূটনীতিকদের প্রধান লক্ষ্য হবে একটি সশস্ত্র যুদ্ধ প্রতিরোধ করা যা কোনপক্ষের জন্যই কল্যাণকর হতে পারে না।’ তিনি আরো বলেন, দোকলামের মুখোমুখি অবস্থান চীনের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিশেষ করে এ বছরের শেষে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন ধারনাটি সম্পূর্ণ ভুল। এক মাস ধরে দোকলামে ভারতীয় এবং চীনা সেনারা মুখোমুখী অবস্থানে আছে, যা ভারত, ভুটান ও চীনের ত্রি-জংশনের কাছাকাছি অবস্থিত। গ্লোবাল টাইমসের এই কলামে বলা হয়, চীনের জাতীয় স্বার্থেই দেশটি শান্তিপূর্ন সময় পার করতে চায়। যদিও ভারতীয় সীমান্ত থেকে সেদেশের সেনারা দোকলামে চীনা সীমানা পার হয়ে অনুপ্রবেশ করেছে। তবে চীনা সরকার ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে। ভারতও চায় না এ নিয়ে যুদ্ধ হোক এবং এর বদলে এই সমস্যাটি কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা হোক। তবে চীন থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার আলোচনার জন্য একটি পূর্বশর্ত। এতে বলা হয়, ‘এ সঙ্কটের সমাধানে পৌঁছাতে হলে তাদের কোনো ভাঁত্ততা দেয়া উচিৎ না। ভারতের অগ্রবর্তী নীতির কারণে ১৯৬২ সালে সংগঠিত যুদ্ধে অনেক ভারতীয়ের মধ্যে চীনের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি হয়েছে। এটি কয়েক দশক পরেও রয়ে গেছে। এখন একটি বড় ধরনের যুদ্ধ হলে আজ থেকে শত বছর পরেও উভয় পক্ষের মধ্যে শত্রুতা তীব্রভাবে গেড়ে বসবে।’ চীনের গণমাধ্যমকে এই উত্তেজনার জন্য দায়ী করা ভারতীয় সাংবাদিক ও ভারতের চীন-বিশেষজ্ঞদেরকে তিরস্কার করে ঝিংচুন বলেন, ‘চীন যুদ্ধ চায় না। অনেক ভারতীয় গণমাধ্যম এবং বিশ্লেষক চীনকে দোষারোপ করে এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, চীন অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা চালানোর জন্য এই বিরোধকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করছে – যা মোটেও সত্যি নয়। এমনকি এই প্রতিবেদনগুলোতে বছরের শেষের দিকে হতে যাওয়া চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম ন্যাশনাল কংগ্রেস অনুষ্ঠানকে দোকলামের মুখোমুখি অবস্থানের সাথে একই সূত্রে গেথে দিয়েছে। এই গৎবাঁধা বিশ্লেষণ প্রতিফলিত করে চীন সম্পর্কে ভারতীয় মিডিয়া এবং পণ্ডিতদের জ্ঞান একেবারেই সামান্য।’ তিনি বলেন, ভারতের মোটে ২০০ জনের মত চীন-বিশেষজ্ঞ আছেন যার মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ ম্যান্ডারিন পড়তে বা বলতে পারে। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই চীনের উপর ইউরোপীয় ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা এবং চীন কর্তৃক প্রকাশিত কয়েকটি ইংরেজি প্রকাশনার উপর ভিত্তি করে গবেষণা করে। তারা এখনো চীনকে ৪০ বছরের আগের ভাষায় ‘কমিউনিস্ট চায়না’ বলে অভিহিত করে। তিনি আরো বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, এইসকল লোকই চীনের ব্যাপারে ভারতের চিন্তাধারা ও আবেগকে নির্মাণ করে। চীনের আভ্যন্তরীণ অনেক সমস্যাই আছে তবে তা ভারতের সম্মুখিন হওয়া অভ্যন্তরীণ সমস্যার তুলনায় কম গুরুতর। আসলে, ১৯তম পার্টি কংগ্রেসের জন্য প্রস্তুত করার জন্য চীন দ্বন্দ্বের পরিবর্তে আভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং একটি আন্তর্জাতিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে চাচ্ছে, যদিও বিষয়টি ভারতীয়দের বোঝার জন্য একটু কঠিন হতে পারে।’ গ্লোবাল টাইমসে বলা হয়, ১৯৮০’র দশকের প্রথম দিকে ভারতের অর্থনীতি চীনের সমতুল্য ছিল, কিন্তু এখন তার জিডিপি এবং মাথাপিছু আয় চীনের মাত্র এক পঞ্চমাংশ। গত ২০ বছরে সংস্কার ও উন্নয়ন ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটি সুসংহত ভিত্তি স্থাপন করেছে। এখন এটি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আধুনিক সংস্কার এবং একটি অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশের কারণে দ্রুত বৃদ্ধির একটি সময়ে প্রবেশ করেছে। এমন এক সময়ে যুদ্ধ ভারতীয়দের কিভাবে প্রভাবিত করবে তা ব্যাখ্যা করে এই কলামে বলা হয়, ‘ভারত যদি চীনের সাথে বৃহৎ পরিসরে যুদ্ধ করে তাহলে এটা কেবল বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ভয় পাইয়ে দিবে না বরং ভারতের অর্থনীতিকেও ব্যাহত করবে। এমনকি যদি একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধও হয় তবে চীন ও ভারতে অচলাবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত থাকতে পারে। এই ক্ষেত্রে, ভারতে অর্থনৈতিক গতিবেগ বিঘ্নিত হবে এবং তাদের দ্রুত উত্থানের সুযোগ হারাতে হবে।’ কলামে বলা হয়, ভারত ও ভুটান ব্যতীত বেশিরভাগ দেশের সাথেই চীন তার স্থল সীমান্ত সমস্যার সমাধান করেছে। কিন্তু ভারত-ভুটান-চীন ত্রি-জংশন এর স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করার জন্য চীনকে দায়ী করেছে ভারত। আর ভারতীয় বাহিনী একতরফা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গত সপ্তাহে বলেন, ভুটানের মধ্য দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চীনা প্রচেষ্টা ভারতকে একটি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। তবে চীনা বিশেষজ্ঞ দাবী করেছেন যে, এই অচলাবস্থার একটি ইতিবাচক দিক হল যে দুই সরকার একে অপরকে জানতে শুরু করছে। যদি এখন কেউ কৌশলগত বিপদ ডেকে আনতে অপরপক্ষকে বাধ্য করে তাহলেই শুধু যুদ্ধ হবে। কিন্তু উভয় পক্ষই তাদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে পারে এমন সম্ভাবনাও আছে। এতে করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করার জন্য সরকার ও জনগণের মধ্যে আন্তরিকতা সৃষ্টির ব্যবস্থা হতে পারে।

Comments

Comments!

 ‘চীন-ভারত যুদ্ধ অসম্ভব নয়’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘চীন-ভারত যুদ্ধ অসম্ভব নয়’

Tuesday, July 25, 2017 7:04 am
2

বেইজিং: দোকলাম নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না, তবে উভয় পক্ষের কূটনীতিকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিতে হবে যাতে সশস্ত্র সংঘাত প্রতিরোধ করা যায়। চীন ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক এবং চরহার ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো লং ঝিংচুন এ কথা বলেছেন।

এই চীনা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ অতীতের নিদর্শন যা এখন ফিরে আসা উচিৎ নয়। আর চীন ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ উভয় দেশেরই অপূরণীয় ক্ষতি করবে।’

ঝিংচুন চীনা সরকারী মুখপাত্র পত্রিকা ‘গ্লোবাল টাইমস’ এ লিখেছেন- ‘একটি যুদ্ধ একেবারে অসম্ভব কিছু নয়। ভুল সময়ে এবং ভুল স্থানে অযৌক্তিক যুদ্ধের অনেক বড় বড় নজির রয়েছে। তবে এখন উভয় পক্ষের কূটনীতিকদের প্রধান লক্ষ্য হবে একটি সশস্ত্র যুদ্ধ প্রতিরোধ করা যা কোনপক্ষের জন্যই কল্যাণকর হতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, দোকলামের মুখোমুখি অবস্থান চীনের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিশেষ করে এ বছরের শেষে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন ধারনাটি সম্পূর্ণ ভুল।

এক মাস ধরে দোকলামে ভারতীয় এবং চীনা সেনারা মুখোমুখী অবস্থানে আছে, যা ভারত, ভুটান ও চীনের ত্রি-জংশনের কাছাকাছি অবস্থিত।

গ্লোবাল টাইমসের এই কলামে বলা হয়, চীনের জাতীয় স্বার্থেই দেশটি শান্তিপূর্ন সময় পার করতে চায়। যদিও ভারতীয় সীমান্ত থেকে সেদেশের সেনারা দোকলামে চীনা সীমানা পার হয়ে অনুপ্রবেশ করেছে। তবে চীনা সরকার ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে। ভারতও চায় না এ নিয়ে যুদ্ধ হোক এবং এর বদলে এই সমস্যাটি কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা হোক। তবে চীন থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার আলোচনার জন্য একটি পূর্বশর্ত।

এতে বলা হয়, ‘এ সঙ্কটের সমাধানে পৌঁছাতে হলে তাদের কোনো ভাঁত্ততা দেয়া উচিৎ না। ভারতের অগ্রবর্তী নীতির কারণে ১৯৬২ সালে সংগঠিত যুদ্ধে অনেক ভারতীয়ের মধ্যে চীনের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি হয়েছে। এটি কয়েক দশক পরেও রয়ে গেছে। এখন একটি বড় ধরনের যুদ্ধ হলে আজ থেকে শত বছর পরেও উভয় পক্ষের মধ্যে শত্রুতা তীব্রভাবে গেড়ে বসবে।’

চীনের গণমাধ্যমকে এই উত্তেজনার জন্য দায়ী করা ভারতীয় সাংবাদিক ও ভারতের চীন-বিশেষজ্ঞদেরকে তিরস্কার করে ঝিংচুন বলেন, ‘চীন যুদ্ধ চায় না। অনেক ভারতীয় গণমাধ্যম এবং বিশ্লেষক চীনকে দোষারোপ করে এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, চীন অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা চালানোর জন্য এই বিরোধকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করছে – যা মোটেও সত্যি নয়। এমনকি এই প্রতিবেদনগুলোতে বছরের শেষের দিকে হতে যাওয়া চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম ন্যাশনাল কংগ্রেস অনুষ্ঠানকে দোকলামের মুখোমুখি অবস্থানের সাথে একই সূত্রে গেথে দিয়েছে। এই গৎবাঁধা বিশ্লেষণ প্রতিফলিত করে চীন সম্পর্কে ভারতীয় মিডিয়া এবং পণ্ডিতদের জ্ঞান একেবারেই সামান্য।’

তিনি বলেন, ভারতের মোটে ২০০ জনের মত চীন-বিশেষজ্ঞ আছেন যার মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ ম্যান্ডারিন পড়তে বা বলতে পারে। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই চীনের উপর ইউরোপীয় ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা এবং চীন কর্তৃক প্রকাশিত কয়েকটি ইংরেজি প্রকাশনার উপর ভিত্তি করে গবেষণা করে। তারা এখনো চীনকে ৪০ বছরের আগের ভাষায় ‘কমিউনিস্ট চায়না’ বলে অভিহিত করে।

তিনি আরো বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, এইসকল লোকই চীনের ব্যাপারে ভারতের চিন্তাধারা ও আবেগকে নির্মাণ করে। চীনের আভ্যন্তরীণ অনেক সমস্যাই আছে তবে তা ভারতের সম্মুখিন হওয়া অভ্যন্তরীণ সমস্যার তুলনায় কম গুরুতর। আসলে, ১৯তম পার্টি কংগ্রেসের জন্য প্রস্তুত করার জন্য চীন দ্বন্দ্বের পরিবর্তে আভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং একটি আন্তর্জাতিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে চাচ্ছে, যদিও বিষয়টি ভারতীয়দের বোঝার জন্য একটু কঠিন হতে পারে।’

গ্লোবাল টাইমসে বলা হয়, ১৯৮০’র দশকের প্রথম দিকে ভারতের অর্থনীতি চীনের সমতুল্য ছিল, কিন্তু এখন তার জিডিপি এবং মাথাপিছু আয় চীনের মাত্র এক পঞ্চমাংশ। গত ২০ বছরে সংস্কার ও উন্নয়ন ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটি সুসংহত ভিত্তি স্থাপন করেছে। এখন এটি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আধুনিক সংস্কার এবং একটি অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশের কারণে দ্রুত বৃদ্ধির একটি সময়ে প্রবেশ করেছে।

এমন এক সময়ে যুদ্ধ ভারতীয়দের কিভাবে প্রভাবিত করবে তা ব্যাখ্যা করে এই কলামে বলা হয়, ‘ভারত যদি চীনের সাথে বৃহৎ পরিসরে যুদ্ধ করে তাহলে এটা কেবল বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ভয় পাইয়ে দিবে না বরং ভারতের অর্থনীতিকেও ব্যাহত করবে। এমনকি যদি একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধও হয় তবে চীন ও ভারতে অচলাবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত থাকতে পারে। এই ক্ষেত্রে, ভারতে অর্থনৈতিক গতিবেগ বিঘ্নিত হবে এবং তাদের দ্রুত উত্থানের সুযোগ হারাতে হবে।’

কলামে বলা হয়, ভারত ও ভুটান ব্যতীত বেশিরভাগ দেশের সাথেই চীন তার স্থল সীমান্ত সমস্যার সমাধান করেছে। কিন্তু ভারত-ভুটান-চীন ত্রি-জংশন এর স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করার জন্য চীনকে দায়ী করেছে ভারত। আর ভারতীয় বাহিনী একতরফা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গত সপ্তাহে বলেন, ভুটানের মধ্য দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চীনা প্রচেষ্টা ভারতকে একটি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

তবে চীনা বিশেষজ্ঞ দাবী করেছেন যে, এই অচলাবস্থার একটি ইতিবাচক দিক হল যে দুই সরকার একে অপরকে জানতে শুরু করছে। যদি এখন কেউ কৌশলগত বিপদ ডেকে আনতে অপরপক্ষকে বাধ্য করে তাহলেই শুধু যুদ্ধ হবে। কিন্তু উভয় পক্ষই তাদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে পারে এমন সম্ভাবনাও আছে। এতে করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করার জন্য সরকার ও জনগণের মধ্যে আন্তরিকতা সৃষ্টির ব্যবস্থা হতে পারে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X