বৃহস্পতিবার, ২৭শে জুলাই, ২০১৭ ইং, ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৪৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, July 16, 2017 9:47 pm
A- A A+ Print

চীন সীমান্তে উত্তেজনা বেঁকে বসেছে ভুটান বেকায়দায় ভারত

doklam_52254_1500157260

ছোট্ট শান্তিপ্রিয় ভুটানের অনুরোধে আপাতত চোখে শর্ষে ফুল দেখছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। ভুটানের ডোকলাম উপত্যকাকে কেন্দ্র করে ভারত-চীন স্নায়ুযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। দু’দেশই বাড়তি সেনা মোতায়েন করেছে ওই এলাকায়। ভুটান ওই বাড়তি আড়াই হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুরোধ জানিয়েছে ভারতকে। চীনকেও একই অনুরোধ করেছে তারা। চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের এই আবহে ভুটান যে এ ভাবে বেঁকে বসতে পারে, তা ভাবতেও পারেননি ভারতের কূটনীতিকেরা। হিমালয়ের কোলের এই একমুঠো রাষ্ট্রকে তার তাঁবেদার দেশ বলেই মনে করে দিল্লি। ১৯৪৯ সালে ভুটানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছিলেন জওহরলাল নেহেরু। সেই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, বিদেশনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভুটান ভারতের পরামর্শ মতোই চলবে। ২০০৭ সালে ভুটান যখন পুরোদস্তুর রাজতন্ত্র থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে হাঁটে, তখন চুক্তিপত্র থেকে এই ধারাটি বাদ দেয়া হয়। যদিও কার্যক্ষেত্রে থিম্পুর উপরে দিল্লির প্রভাব খুব একটা খর্ব হয়নি। ডোকলাম নিয়ে ভারতের চাপের মুখে চীনকে ডিমার্শেও পাঠিয়েছে ভুটান। তার পরেও তার এই বেসুর সাউথ ব্লকের কানে বাজছে। শনিবার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে কূটনীতিকদের বরাতে বলা হয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সার্বিকভাবেই ভারতের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ভারতের দাদাগিরির কারণে নেপাল, শ্রীলংকা এমনকি বাংলাদেশের সঙ্গেও বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা বাড়ছে। সেই সুযোগটা নিচ্ছে চীন। তারা নেপাল, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটিয়েছে। এ সব দেশের সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের কাজও করছে বেইজিং। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের পরে এ দেশে চীনা লগ্নি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় উদ্বিগ্ন দিল্লি। ডোকলাম নিয়ে চীন ভারতকে জানিয়েছে, এটা তাদের সঙ্গে ভুটানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। দিল্লির সঙ্গে তারা কথা বলবে কেন? ভারত ওই এলাকা থেকে সেনা না সরালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে বেইজিং। এই অবস্থায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, ভুটান থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা ঠিক নয়। ফলে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা, তবে কি কিছু সেনা সরানোর কথা ভাবা হচ্ছে? আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদি সরকার এখন বুঝতে পারছে যে, চীনকে এতটা খুঁচিয়ে ঘা করাটা ঠিক হয়নি। সেই কারণেই সর্বদলীয় বৈঠক এবং বরফ গলানোর চেষ্টা। কিন্তু চীনের এতটা রেগে যাওয়ার কারণ কী? ভারত দীর্ঘদিন আগে থেকেই তিব্বতকে চীনের অঙ্গ হিসেবে মেনে নিলেও গত লোকসভা ভোটের আগে অরুনাচল প্রদেশে গিয়ে ফের সেই বিতর্ক উস্কে দেন মোদি। ভোটের পর চীনের আপত্তি সত্ত্বেও দালাইলামা অরুনাচল যান এবং সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র তিব্বত’ (অর্থাৎ চীন নয়)। এর পাশাপাশি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট দিয়ে বালুচিস্তানের গোয়াদর বন্দর পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডর গঠনে ভারতের বাধা দেয়া এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে ভারত যোগ না দেয়ায় চীন ক্ষুব্ধ। ভারতীয় কূটনীতিকদের আশঙ্কা, ভুটানের বিতর্কিত ভূখণ্ড নিয়ে চীন যদি জাতিসংঘে যায়, সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাশিয়া কতটা ভারতের পাশে থাকবে? দ্বিতীয়ত, শিলিগুড়ির কাছে ‘চিকেন নেক’ অবরুদ্ধ হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। কারণ, বাংলাদেশের স্থলপথ দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যাওয়ার সড়কপথ নির্মাণের কাজে ভারত এখনও সফল হতে পারেনি।

Comments

Comments!

 চীন সীমান্তে উত্তেজনা বেঁকে বসেছে ভুটান বেকায়দায় ভারতAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

চীন সীমান্তে উত্তেজনা বেঁকে বসেছে ভুটান বেকায়দায় ভারত

Sunday, July 16, 2017 9:47 pm
doklam_52254_1500157260

ছোট্ট শান্তিপ্রিয় ভুটানের অনুরোধে আপাতত চোখে শর্ষে ফুল দেখছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। ভুটানের ডোকলাম উপত্যকাকে কেন্দ্র করে ভারত-চীন স্নায়ুযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। দু’দেশই বাড়তি সেনা মোতায়েন করেছে ওই এলাকায়। ভুটান ওই বাড়তি আড়াই হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুরোধ জানিয়েছে ভারতকে। চীনকেও একই অনুরোধ করেছে তারা।

চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের এই আবহে ভুটান যে এ ভাবে বেঁকে বসতে পারে, তা ভাবতেও পারেননি ভারতের কূটনীতিকেরা। হিমালয়ের কোলের এই একমুঠো রাষ্ট্রকে তার তাঁবেদার দেশ বলেই মনে করে দিল্লি। ১৯৪৯ সালে ভুটানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছিলেন জওহরলাল নেহেরু। সেই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, বিদেশনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভুটান ভারতের পরামর্শ মতোই চলবে। ২০০৭ সালে ভুটান যখন পুরোদস্তুর রাজতন্ত্র থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে হাঁটে, তখন চুক্তিপত্র থেকে এই ধারাটি বাদ দেয়া হয়। যদিও কার্যক্ষেত্রে থিম্পুর উপরে দিল্লির প্রভাব খুব একটা খর্ব হয়নি। ডোকলাম নিয়ে ভারতের চাপের মুখে চীনকে ডিমার্শেও পাঠিয়েছে ভুটান। তার পরেও তার এই বেসুর সাউথ ব্লকের কানে বাজছে।

শনিবার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে কূটনীতিকদের বরাতে বলা হয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সার্বিকভাবেই ভারতের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ভারতের দাদাগিরির কারণে নেপাল, শ্রীলংকা এমনকি বাংলাদেশের সঙ্গেও বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা বাড়ছে। সেই সুযোগটা নিচ্ছে চীন। তারা নেপাল, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটিয়েছে। এ সব দেশের সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের কাজও করছে বেইজিং। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের পরে এ দেশে চীনা লগ্নি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় উদ্বিগ্ন দিল্লি। ডোকলাম নিয়ে চীন ভারতকে জানিয়েছে, এটা তাদের সঙ্গে ভুটানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। দিল্লির সঙ্গে তারা কথা বলবে কেন? ভারত ওই এলাকা থেকে সেনা না সরালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে বেইজিং।

এই অবস্থায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, ভুটান থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা ঠিক নয়। ফলে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা, তবে কি কিছু সেনা সরানোর কথা ভাবা হচ্ছে? আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদি সরকার এখন বুঝতে পারছে যে, চীনকে এতটা খুঁচিয়ে ঘা করাটা ঠিক হয়নি। সেই কারণেই সর্বদলীয় বৈঠক এবং বরফ গলানোর চেষ্টা। কিন্তু চীনের এতটা রেগে যাওয়ার কারণ কী? ভারত দীর্ঘদিন আগে থেকেই তিব্বতকে চীনের অঙ্গ হিসেবে মেনে নিলেও গত লোকসভা ভোটের আগে অরুনাচল প্রদেশে গিয়ে ফের সেই বিতর্ক উস্কে দেন মোদি। ভোটের পর চীনের আপত্তি সত্ত্বেও দালাইলামা অরুনাচল যান এবং সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র তিব্বত’ (অর্থাৎ চীন নয়)। এর পাশাপাশি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট দিয়ে বালুচিস্তানের গোয়াদর বন্দর পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডর গঠনে ভারতের বাধা দেয়া এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে ভারত যোগ না দেয়ায় চীন ক্ষুব্ধ।

ভারতীয় কূটনীতিকদের আশঙ্কা, ভুটানের বিতর্কিত ভূখণ্ড নিয়ে চীন যদি জাতিসংঘে যায়, সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাশিয়া কতটা ভারতের পাশে থাকবে? দ্বিতীয়ত, শিলিগুড়ির কাছে ‘চিকেন নেক’ অবরুদ্ধ হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। কারণ, বাংলাদেশের স্থলপথ দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যাওয়ার সড়কপথ নির্মাণের কাজে ভারত এখনও সফল হতে পারেনি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X