রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:২৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, September 24, 2017 7:10 pm
A- A A+ Print

চোখের সামনে বাবা-মাকে হত্যার করুণ কাহিনী অনাথ রোহিঙ্গা শিশুদের

181980_1

ঢাকা: রশিদের বয়স মাত্রই দশ ছুঁয়েছে। কিন্তু তার ছোট্ট এই কাঁধে এখন বিশাল দায়িত্ব। তার ছয় বছর বয়সী বোন রশিদাকে দেখভালের দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। মায়ানমারের জাতিগত সহিসংতা থেকে পালিয়ে আসা বাবা-মা হারানো ১,৪০০ শিশুদের মধ্য রশিদ-রশিদাও রয়েছেন। পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে বর্মি সামরিক নিষ্ঠুর অভিযানে এসব শিশুদের বাবা-মাকে হত্যা করা হয়েছে কিংবা নিখোঁজ রয়েছেন। রশিদ তার বাবা-মায়ের মৃত্যুতে এখনো শোকাহত। তার বাবা জাহিদ হোসেন ও মা রমিজা খাতুনকে মায়ানমার সামরিক বাহিনীর সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে বলে সে জানায়। রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠেছে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর হামলার অজুহাতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে ‘চাইল্ড ফ্রেন্ডলি স্পেস’ (সিএফএস) নামে একটি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। সেখানে ৬০ জনেরও বেশি শিশু ছবি অঙ্কন এবং বিভিন্ন খেলনা নিয়ে খেলাধুলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। সেখানে রশিদ নীরব হয়ে বসে ছিলেন এবং খেলাধুলায় মগ্ন শিশুদের কোলাহলে তার দুর্বল কণ্ঠস্বর প্রায়ই মিলিয়ে যাচ্ছিল। রশিদের বাড়ি মংডুর শিকদারপাড়া গ্রামে। ছয় ভাইবোন ও বাবামাকে নিয়ে মোটামুটিভাবেই কাটছিল তাদের জীবন। গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া বার্মিজ সেনাবাহিনীর অভিযানের অংশ হিসাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। চালানো হয় ইতিহাসের নিষ্ঠুর গণহত্যা; যেটিকে ‘পাঠ্যপুস্তকের জাতিগত নিধন’ হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ। রশিদ বলেন, ‘দিনটি ছিল শুক্রবার। আমি আমার বোনের হাতটি ধরে কাছাকাছি পাহাড়ের কাছে দৌড়ে চলে যাই। সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পর ফিরে এসে দেখি আমার বাবামা মৃত দেখতে পাই।’ বাবা-মার মৃত্যুতে কান্না করার জন্য সে খুব সামান্য সময় পেয়েছিল। সে পাহাড়ের কাছে তার প্রতিবেশিদের খুঁজে পায় এবং বাকি যাত্রার জন্য তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তিনি বলেন, ‘তিন রাত ধরে হাঁটার পর আমি বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাই। ঈদের একদিন আগে ১ সেপ্টেম্বর নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকেছি।’ তার অন্যান্য ভাইবোনদের অবস্থান সম্পর্কে রশিদের কোন ধারণা নেই। ‘আমি শুনেছি আমার সব ভাই-বোনকে হত্যা করা হয়েছে।’ অসহায় ও বিচলিত ছোট এই শিশুটি এখন তার প্রতিবেশিদের সঙ্গে বসবাস করছেন। তারা তার ও তার বোনের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল বলে সে জানায়। ইউনিসেফ ও স্থানীয় সহায়তা সংস্থার সহযোগিতায় সিএফএস’র পরিচালিত কেন্দ্রগুলো মানসিক আগাত প্রাপ্ত এসব শিশুদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে অনেকের বয়স এত কম যে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার বিশালতা সম্পর্কে বোঝার ক্ষমতা তাদের হয়নি। বাংলাদেশে ইউনিসেফের যোগাযোগ কর্মকর্তা ফারিয়া সেলিম বলেন, ‘প্রথম দিন সে (রশিদ) যখন আমার কাছে  এসেছিলেন, প্রতি মুহূর্তে কেবল বলত তার বাবা-মাকে মেরে ফেলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এখানে আসার কয়েক দিন পর সে কিছুটা শান্ত হয়ে হয়েছে।’ রশিদ বলেছিলেন যে সে মায়ানমারে তার স্কুল থেকে ঝরে গেছেন। কিন্তু সিএফএস কেন্দ্র তার অনেক পছন্দ হয়েছে। এটি সপ্তাহে ছয় দিন খোলা থাকে। সেলিম জানায়, উখিয়া ও টেকনাফের ৪২টি সিএফএস কেন্দ্র রয়েছে। ২৫ আগস্ট থেকে আসা ৪ লাখ ২৯ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রায় সবাই উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। রশিদ বলেন, ‘এখানে আক্রমণের কোন সম্ভাবনা নেই। কেউই আমাদের নজর রাখছে না। প্রত্যেককেই কোনো কিছু করার জন্য স্বাধীন।’ সে একজন শিক্ষক হতে চান যাতে ভবিষ্যতে তিনি অন্যান্য রোহিঙ্গা শিশুদেরকে শিক্ষা দিতে পারেন। 'আমি দেখেছি আর্মিরা আমার বাবা-মাকে গুলি করছে’ রশিদের মতো দিলারা বেগম (১১) ও আজিজা বেগমও (৯ ) তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে। বড় বোনটি এখনো শোক কাটিয়ে ওঠতে পারেনি এবং অধিকাংশ সময়ই নে নীরব থাকছে। তাদের বাড়ি মংডুর বর্গজিবীল গ্রামে। আজিজা বলেন, ‘এটা ছিল দুপুরের কিছু আগে। আমার মা হামিদা বেগম আমাকে আমাদের বাড়ির প্রাঙ্গণে খেলতে বলেছিল যাতে আমার বাবা (মাহমুদ হোসেন) কাজ করার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।’ আজিজা যখন তার বোন দিলারা ও মুশতাকিমের সঙ্গে খেলা করছিল, তখন সে গুলির শব্দ শুনতে পায়। ভয়ে সে তাদের বাড়ির কাছে একটি ঝোপের দিকে দৌড় দেয়। আজিজা বলেন, ‘জঙ্গলের পিছনে লুকিয়ে থেকে আমি দেখেছি সেনারা আমার বাবা-মাকে গুলি করছে। পরে তারা আমার বাবাকে গলা কেটে হত্যা করে এবং আমার মাকে একটি বড় ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করতে থাকে। তারা মুশতাকিমকেও গুলি করে।’ এ কথা বলার সময় আজিজা কাঁদতে থাকেন। অন্যদিকে, দিলারাকে মনে হয়ে যেন শোকে অনেকটা পাথর হয়ে গেছে। আজিজা বলেন, ‘পরে প্রতিবেশিদের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করি। আমার বাবা-মা মারা গেছেন শুনে তারা আমাকে পাহাড়ি এলাকায় ওঠতে সাহায্য করেছে।’ সে কুতুপালং ক্যাম্পে তার বোনদের সঙ্গে একত্রিত হয়েছেন। তার অন্য বোন মুশতাকিম মানসিক প্রতিবন্ধি। বর্তমানে তার অবস্থা অনেকটা সুস্থ। সেনাদের হামলায় তার আটজন ভাইবোনও নিহত হয়। মায়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাখাইনের স্কুলে নজরদারির কারণে আজিজা প্রায় স্কুলকে এড়িয়ে চলত। অন্যদিকে দিলারা কখনো স্কুলে যায় নি। সে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে থাকতে পেরে আনন্দিত কারণ এখানে মারা যাবার ভয় নেই। আমি এখানে অনেক বন্ধু তৈরি করেছি। আমি এখানে ভাল সময় কাটাচ্ছি।’ এই পুরো সময়ে দিলার তেমন কোনো কথাই বলেনি। সে কেবল জানায় তার বোন মুস্তাকিম প্রতিবেশিদের তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে এবং আহত অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
 

Comments

Comments!

 চোখের সামনে বাবা-মাকে হত্যার করুণ কাহিনী অনাথ রোহিঙ্গা শিশুদেরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

চোখের সামনে বাবা-মাকে হত্যার করুণ কাহিনী অনাথ রোহিঙ্গা শিশুদের

Sunday, September 24, 2017 7:10 pm
181980_1

ঢাকা: রশিদের বয়স মাত্রই দশ ছুঁয়েছে। কিন্তু তার ছোট্ট এই কাঁধে এখন বিশাল দায়িত্ব। তার ছয় বছর বয়সী বোন রশিদাকে দেখভালের দায়িত্ব এখন তার কাঁধে।

মায়ানমারের জাতিগত সহিসংতা থেকে পালিয়ে আসা বাবা-মা হারানো ১,৪০০ শিশুদের মধ্য রশিদ-রশিদাও রয়েছেন। পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে বর্মি সামরিক নিষ্ঠুর অভিযানে এসব শিশুদের বাবা-মাকে হত্যা করা হয়েছে কিংবা নিখোঁজ রয়েছেন।

রশিদ তার বাবা-মায়ের মৃত্যুতে এখনো শোকাহত। তার বাবা জাহিদ হোসেন ও মা রমিজা খাতুনকে মায়ানমার সামরিক বাহিনীর সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে বলে সে জানায়।

রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠেছে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর হামলার অজুহাতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী।

কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে ‘চাইল্ড ফ্রেন্ডলি স্পেস’ (সিএফএস) নামে একটি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। সেখানে ৬০ জনেরও বেশি শিশু ছবি অঙ্কন এবং বিভিন্ন খেলনা নিয়ে খেলাধুলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

সেখানে রশিদ নীরব হয়ে বসে ছিলেন এবং খেলাধুলায় মগ্ন শিশুদের কোলাহলে তার দুর্বল কণ্ঠস্বর প্রায়ই মিলিয়ে যাচ্ছিল।

রশিদের বাড়ি মংডুর শিকদারপাড়া গ্রামে। ছয় ভাইবোন ও বাবামাকে নিয়ে মোটামুটিভাবেই কাটছিল তাদের জীবন। গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া বার্মিজ সেনাবাহিনীর অভিযানের অংশ হিসাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। চালানো হয় ইতিহাসের নিষ্ঠুর গণহত্যা; যেটিকে ‘পাঠ্যপুস্তকের জাতিগত নিধন’ হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ।

রশিদ বলেন, ‘দিনটি ছিল শুক্রবার। আমি আমার বোনের হাতটি ধরে কাছাকাছি পাহাড়ের কাছে দৌড়ে চলে যাই। সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পর ফিরে এসে দেখি আমার বাবামা মৃত দেখতে পাই।’

বাবা-মার মৃত্যুতে কান্না করার জন্য সে খুব সামান্য সময় পেয়েছিল। সে পাহাড়ের কাছে তার প্রতিবেশিদের খুঁজে পায় এবং বাকি যাত্রার জন্য তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।

তিনি বলেন, ‘তিন রাত ধরে হাঁটার পর আমি বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাই। ঈদের একদিন আগে ১ সেপ্টেম্বর নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকেছি।’

তার অন্যান্য ভাইবোনদের অবস্থান সম্পর্কে রশিদের কোন ধারণা নেই। ‘আমি শুনেছি আমার সব ভাই-বোনকে হত্যা করা হয়েছে।’

অসহায় ও বিচলিত ছোট এই শিশুটি এখন তার প্রতিবেশিদের সঙ্গে বসবাস করছেন। তারা তার ও তার বোনের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল বলে সে জানায়।

ইউনিসেফ ও স্থানীয় সহায়তা সংস্থার সহযোগিতায় সিএফএস’র পরিচালিত কেন্দ্রগুলো মানসিক আগাত প্রাপ্ত এসব শিশুদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে অনেকের বয়স এত কম যে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার বিশালতা সম্পর্কে বোঝার ক্ষমতা তাদের হয়নি।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের যোগাযোগ কর্মকর্তা ফারিয়া সেলিম বলেন, ‘প্রথম দিন সে (রশিদ) যখন আমার কাছে  এসেছিলেন, প্রতি মুহূর্তে কেবল বলত তার বাবা-মাকে মেরে ফেলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আসার কয়েক দিন পর সে কিছুটা শান্ত হয়ে হয়েছে।’

রশিদ বলেছিলেন যে সে মায়ানমারে তার স্কুল থেকে ঝরে গেছেন। কিন্তু সিএফএস কেন্দ্র তার অনেক পছন্দ হয়েছে। এটি সপ্তাহে ছয় দিন খোলা থাকে।

সেলিম জানায়, উখিয়া ও টেকনাফের ৪২টি সিএফএস কেন্দ্র রয়েছে। ২৫ আগস্ট থেকে আসা ৪ লাখ ২৯ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রায় সবাই উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

রশিদ বলেন, ‘এখানে আক্রমণের কোন সম্ভাবনা নেই। কেউই আমাদের নজর রাখছে না। প্রত্যেককেই কোনো কিছু করার জন্য স্বাধীন।’

সে একজন শিক্ষক হতে চান যাতে ভবিষ্যতে তিনি অন্যান্য রোহিঙ্গা শিশুদেরকে শিক্ষা দিতে পারেন।

‘আমি দেখেছি আর্মিরা আমার বাবা-মাকে গুলি করছে’
রশিদের মতো দিলারা বেগম (১১) ও আজিজা বেগমও (৯ ) তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে। বড় বোনটি এখনো শোক কাটিয়ে ওঠতে পারেনি এবং অধিকাংশ সময়ই নে নীরব থাকছে। তাদের বাড়ি মংডুর বর্গজিবীল গ্রামে।

আজিজা বলেন, ‘এটা ছিল দুপুরের কিছু আগে। আমার মা হামিদা বেগম আমাকে আমাদের বাড়ির প্রাঙ্গণে খেলতে বলেছিল যাতে আমার বাবা (মাহমুদ হোসেন) কাজ করার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।’

আজিজা যখন তার বোন দিলারা ও মুশতাকিমের সঙ্গে খেলা করছিল, তখন সে গুলির শব্দ শুনতে পায়। ভয়ে সে তাদের বাড়ির কাছে একটি ঝোপের দিকে দৌড় দেয়।

আজিজা বলেন, ‘জঙ্গলের পিছনে লুকিয়ে থেকে আমি দেখেছি সেনারা আমার বাবা-মাকে গুলি করছে। পরে তারা আমার বাবাকে গলা কেটে হত্যা করে এবং আমার মাকে একটি বড় ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করতে থাকে। তারা মুশতাকিমকেও গুলি করে।’ এ কথা বলার সময় আজিজা কাঁদতে থাকেন। অন্যদিকে, দিলারাকে মনে হয়ে যেন শোকে অনেকটা পাথর হয়ে গেছে।

আজিজা বলেন, ‘পরে প্রতিবেশিদের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করি। আমার বাবা-মা মারা গেছেন শুনে তারা আমাকে পাহাড়ি এলাকায় ওঠতে সাহায্য করেছে।’

সে কুতুপালং ক্যাম্পে তার বোনদের সঙ্গে একত্রিত হয়েছেন। তার অন্য বোন মুশতাকিম মানসিক প্রতিবন্ধি। বর্তমানে তার অবস্থা অনেকটা সুস্থ। সেনাদের হামলায় তার আটজন ভাইবোনও নিহত হয়।

মায়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাখাইনের স্কুলে নজরদারির কারণে আজিজা প্রায় স্কুলকে এড়িয়ে চলত। অন্যদিকে দিলারা কখনো স্কুলে যায় নি।

সে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে থাকতে পেরে আনন্দিত কারণ এখানে মারা যাবার ভয় নেই। আমি এখানে অনেক বন্ধু তৈরি করেছি। আমি এখানে ভাল সময় কাটাচ্ছি।’

এই পুরো সময়ে দিলার তেমন কোনো কথাই বলেনি। সে কেবল জানায় তার বোন মুস্তাকিম প্রতিবেশিদের তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে এবং আহত অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X