সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৪৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, September 25, 2017 7:19 pm
A- A A+ Print

চোখের সামনে শিশু আনোয়ারকে গলা কেটে হত্যা করে মগরা

12

মিয়ানমারের মংডুর একটি গ্রামে বসবাস করত মঞ্জুর আলমের পরিবার। চার সন্তান আর স্বামী-স্ত্রী নিয়ে তাদের সংসার। নিজের বাড়ি ঘর ফেলে পরিবারের প্রধান মঞ্জুর আলমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে আসতে হয়েছে মঞ্জুর আলমের স্ত্রী আজিজা বেগমকে (২৫)। নিজ বাড়ির উঠানেই ফেলে আসতে হয়েছে নিজের ৮ বছর বয়সী সন্তানের গলাকাটা লাশ। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেডে বসে  লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ড আর নৃশংসতার বর্ণনা দিয়েছেন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিক মঞ্জুর আলমের স্ত্রী আজিজা বেগম। আজিজা বেগম বলেন, কোরবানি ঈদের দুদিন আগের ঘটনা। সমগ্র মংডুতেই মগদের অত্যাচার চলছিল। আমরা গ্রামেই ছিলাম, ভেবেছিলাম এখানে হামলা হবে না। কিন্তু হঠাৎ করেই বার্মার আর্মি ও মগরা মিলে আমাদের গ্রামে হামলা চালায়। গ্রামের বাড়িঘরগুলোতে আগুন লাগাতে শুরু করে। আমরা প্রাণভয়ে ঘরের বাইরে এসে চার সন্তান নিয়ে পালিয়ে যেতে ছোটাছুটি করতে থাকি। আজিজা বেগম বলেন, ‘কোলের দুই সন্তানসহ তিন সন্তান এবং স্বামী মঞ্জুর আলমকে নিয়ে ঘরের বাইরে এসে পালানোর সময় আর্মিদের গুলি লাগে স্বামী মঞ্জুর আলমের পায়ে। পালাতে না পেরে মগদের হাতে ধরা পড়ে যায় আমার ৮ বছর বয়সী সন্তান আনোয়ার। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে জঙ্গলের ভেতর ঢুকে যেতে সক্ষম হলেও আড়াল থেকে দেখতে পাই আনোয়ারকে বাড়ির উঠোনেই গলা কেটে হত্যা করে মগরা।’ আজিজা বেগম বলেন, গলা কেটে হত্যা করে উঠোনে ফেলে রেখে গেলেও সন্তানের লাশের পাশেও যাওয়ার সুযোগ পাইনি। গুলিবিদ্ধ স্বামী আর তিনটি শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনদিন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হেঁটে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে সক্ষম হই। বাংলাদেশে প্রবেশের পর প্রথমে স্বামীকে নিয়ে যাওয়া হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গত ১৫ দিন ধরে স্বামী ও তিন সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ফ্লোরে একটি বেডে আশ্রয় নিয়েছেন আজিজা। স্বামী সুস্থ হওয়ার পর আবার মিয়ানমারের মংডুতে ফিরে যাবেন কি না ? রাইজিংবিডির এমন প্রশ্নের উত্তরে আজিজা বলেন. আর মংডুতে ফিরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। সেখানে বাড়িঘর সব পুড়িয়ে দিয়েছে। ফিরে গেলে মগরা তার সন্তানের মতো পুরো পরিবারকে গলা কেটে  হত্যা করবে। বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে তাদের থাকার সুযোগ নেই-এই কথা আজিজাকে মনে করিয়ে দিলে আজিজা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলেন, মরে গেলে এই দেশেই মরে যাবো। এখানে আসার পর বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। সবাই আমাদের টাকা, পয়সা খাবার দাবার দিয়ে সহায়তা করছেন। হাসপাতালে ডাক্তাররা বিনা খরচে চিকিৎসা দিচ্ছেন। ওষুধ দিচ্ছেন। মগদের হাতে মারা যাওয়ার চেয়ে বাংলাদেশেই মারা যাওয়া ভালো। উল্লেখ্য, আজিজা বা মঞ্জুর আলমের পরিবার ছাড়াও চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ৮৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক চিকিৎসাধীন। এদের কেউ পায়ে গুলিবিদ্ধ, কেউ পেটে। কারো এক পা নেই। কারো হাত নেই। কারো মুখ, মাথা শরীর বোমার আঘাতে ঝলসানো। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন রাইজিংবিডিকে জানান, চট্টগ্রাম মেডিক্যালে বর্তমানে ৮৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

Comments

Comments!

 চোখের সামনে শিশু আনোয়ারকে গলা কেটে হত্যা করে মগরাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

চোখের সামনে শিশু আনোয়ারকে গলা কেটে হত্যা করে মগরা

Monday, September 25, 2017 7:19 pm
12

মিয়ানমারের মংডুর একটি গ্রামে বসবাস করত মঞ্জুর আলমের পরিবার। চার সন্তান আর স্বামী-স্ত্রী নিয়ে তাদের সংসার।

নিজের বাড়ি ঘর ফেলে পরিবারের প্রধান মঞ্জুর আলমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে আসতে হয়েছে মঞ্জুর আলমের স্ত্রী আজিজা বেগমকে (২৫)। নিজ বাড়ির উঠানেই ফেলে আসতে হয়েছে নিজের ৮ বছর বয়সী সন্তানের গলাকাটা লাশ।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেডে বসে  লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ড আর নৃশংসতার বর্ণনা দিয়েছেন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিক মঞ্জুর আলমের স্ত্রী আজিজা বেগম।

আজিজা বেগম বলেন, কোরবানি ঈদের দুদিন আগের ঘটনা। সমগ্র মংডুতেই মগদের অত্যাচার চলছিল। আমরা গ্রামেই ছিলাম, ভেবেছিলাম এখানে হামলা হবে না। কিন্তু হঠাৎ করেই বার্মার আর্মি ও মগরা মিলে আমাদের গ্রামে হামলা চালায়। গ্রামের বাড়িঘরগুলোতে আগুন লাগাতে শুরু করে। আমরা প্রাণভয়ে ঘরের বাইরে এসে চার সন্তান নিয়ে পালিয়ে যেতে ছোটাছুটি করতে থাকি।

আজিজা বেগম বলেন, ‘কোলের দুই সন্তানসহ তিন সন্তান এবং স্বামী মঞ্জুর আলমকে নিয়ে ঘরের বাইরে এসে পালানোর সময় আর্মিদের গুলি লাগে স্বামী মঞ্জুর আলমের পায়ে। পালাতে না পেরে মগদের হাতে ধরা পড়ে যায় আমার ৮ বছর বয়সী সন্তান আনোয়ার। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে জঙ্গলের ভেতর ঢুকে যেতে সক্ষম হলেও আড়াল থেকে দেখতে পাই আনোয়ারকে বাড়ির উঠোনেই গলা কেটে হত্যা করে মগরা।’

আজিজা বেগম বলেন, গলা কেটে হত্যা করে উঠোনে ফেলে রেখে গেলেও সন্তানের লাশের পাশেও যাওয়ার সুযোগ পাইনি। গুলিবিদ্ধ স্বামী আর তিনটি শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনদিন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হেঁটে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে সক্ষম হই। বাংলাদেশে প্রবেশের পর প্রথমে স্বামীকে নিয়ে যাওয়া হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গত ১৫ দিন ধরে স্বামী ও তিন সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ফ্লোরে একটি বেডে আশ্রয় নিয়েছেন আজিজা।

স্বামী সুস্থ হওয়ার পর আবার মিয়ানমারের মংডুতে ফিরে যাবেন কি না ? রাইজিংবিডির এমন প্রশ্নের উত্তরে আজিজা বলেন. আর মংডুতে ফিরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। সেখানে বাড়িঘর সব পুড়িয়ে দিয়েছে। ফিরে গেলে মগরা তার সন্তানের মতো পুরো পরিবারকে গলা কেটে  হত্যা করবে।

বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে তাদের থাকার সুযোগ নেই-এই কথা আজিজাকে মনে করিয়ে দিলে আজিজা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলেন, মরে গেলে এই দেশেই মরে যাবো। এখানে আসার পর বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। সবাই আমাদের টাকা, পয়সা খাবার দাবার দিয়ে সহায়তা করছেন। হাসপাতালে ডাক্তাররা বিনা খরচে চিকিৎসা দিচ্ছেন। ওষুধ দিচ্ছেন। মগদের হাতে মারা যাওয়ার চেয়ে বাংলাদেশেই মারা যাওয়া ভালো।

উল্লেখ্য, আজিজা বা মঞ্জুর আলমের পরিবার ছাড়াও চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ৮৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক চিকিৎসাধীন। এদের কেউ পায়ে গুলিবিদ্ধ, কেউ পেটে। কারো এক পা নেই। কারো হাত নেই। কারো মুখ, মাথা শরীর বোমার আঘাতে ঝলসানো।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন রাইজিংবিডিকে জানান, চট্টগ্রাম মেডিক্যালে বর্তমানে ৮৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X