বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৫৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, November 1, 2016 10:38 am
A- A A+ Print

‘চ্যাটার্জি কাকু’ থেকে রক্ষা পেতে

6d2ca5f6ab59db4f4bf7a68fceb44cbb-22

শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন থেমে নেই। বরং বেড়েছে। পত্রিকা খুললেই রোজ একাধিক খবর চোখে পড়ে। টিভি চ্যানেল চেহারা ঝাপসা করে দিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন দেখায়। চায়ের আড্ডায় আলোচনা ওঠে। এসব শুনে অন্য শিশুর মা-বাবা আতঙ্কে ভোগেন। এই তো, রাজধানীতে গত শনি ও রোববার দুই দিনে দুই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একটি ঘটনা ভাটারা ও আরেকটি শান্তিবাগ এলাকায় ঘটেছে। দুই শিশুই এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। একই জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছে দিনাজপুরের এক ছোট্ট শিশু, যে দুনিয়ার আলো-বাতাস বুঝে ওঠার আগেই পেয়ে গেছে নরকের স্বাদ! চিকিৎসকেরাই যেখানে আঁতকে উঠেছেন, সেখানে এই নৃশংসতা নিয়ে আর কী বলব? চিকিৎসকেরা বলছেন, পাঁচ বছরের ওই শিশু সেরে উঠছে। কিন্তু শিশুর প্রতি সহিংসতার শিকড় গোটা সমাজকে যে বিষম জ্বরায় জর্জর করছে, এ ব্যাধি সারাবে কে? অনেক ক্ষেত্রেই শিশুরা চেনাজানা মানুষ দ্বারা নানাভাবে নিপীড়িত হচ্ছে। এর মধ্যে যৌন নিপীড়নই বেশি। দু-চারটে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শিশুর পরম আশ্রয় ঘনিষ্ঠজনই নির্যাতক। দিনাজপুরের শিশুটির ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি অতি আপনজন। কামড়ে, আঁচড়ে, ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে এই নির্যাতক যা করেছেন, তা আদিম যুগের বর্বরতাকেও হার মানায়। ওই শিশুর উদ্দেশে আমরা এখন শুধু একটা কথাই হয়তে বলতে পারি, ‘মা গো, তুমি আমাদের ক্ষমা কোরো না! কক্ষনো না!’ ষাটের দশকে সমরেশ বসুর ‘প্রজাপতি’ উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর সে কী হইচই! অশ্লীলতার দায়ে দীর্ঘ ১৮ বছর নিষিদ্ধ ছিল এ বই। এই উপন্যাসে লেখক নারীলোভী যে ‘চ্যাটার্জি কাকুর’ বর্ণনা দিয়েছেন, সমাজের সর্বস্তরে এই ‘কাকুদের’ বিচরণ। এই ‘কাকুরা’ অল্প বয়সী মেয়েদের আদর করার অছিলায় বিকৃত লালসা মেটায়। কেউ থাকে আড়ালে, কারও-বা মুখোশ খোলে ঘটনাচক্রে। উপন্যাসের ‘চ্যাটার্জি কাকুর’ কাণ্ডকারখানা কৌশল আর ধূর্তমিতে ভরা, কিন্তু বাস্তবের ‘চ্যাটার্জি কাকুরা’ আগ্রাসী। লাজলজ্জা তো নেই-ই, তেতো বেহায়াও তাদের কাছে নস্যি। সমরেশ বসু আজ বেঁচে থাকলে এসব দেখে-শুনে কী বলতেন জানি না। শিশুরা যে প্রতিনিয়ত নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছে, এর কয়টা খবরই-বা আমরা জানি? কয়টিই-বা সংবাদমাধ্যমে আসে? তবে শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, শিশু ধর্ষণের ঘটনা গত বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর এই সময়ের মধ্যে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ছিল ১২১টি। চলতি বছর তা হয়েছে ১৩৮টি। (সূত্র: প্রথম আলো) এমন অনেক অবোধ শিশু আছে, যাদের ওপর চালানো যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ ঘটনা কোনো দিনও প্রকাশ পায় না। কেউ জানে না ওই শিশুর কচি মনে কী কষ্ট। নীরবে-নিভৃতে এই জ্বালা, এই দহন নিয়ে সে বড় হয়। তার জীবনটা কিন্তু অন্যদের মতো স্বাভাবিক হতে পারে না। অনেক ভিড়ে থেকেও সে হয়ে যায় একা। আমৃত্যু সে এই কষ্ট বয়ে বেড়ায়। কেউ কেউ ভোগে জটিল মানসিক রোগে। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক সিডনি শেলডনের একটি থ্রিলার হচ্ছে ‘টেল মি ইয়োর ড্রিমস’। আজ থেকে প্রায় দেড় যুগ আগে বইটি প্রকাশিত হয়। ৩৬৩ পৃষ্ঠার বইটি আগাগোড়াই রোমাঞ্চ আর সাসপেন্সে ঠাসা। মানসিক রোগীদের বেশ কিছু কেস স্টাডি ও সত্য ঘটনা থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। এতে দেখানো হয়েছে, একটি মেয়ে শৈশবে ঘরের অতি আপনজনের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে পরবর্তী সময়ে কীভাবে জটিল মানসিক রোগীতে পরিণত হয়। মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার থেকে অ্যাশলি প্যাটারসন নামের ওই মেয়েটির মধ্যে পৃথক তিনটি সত্তা জন্ম নেয়। এক অ্যাশলি হয়ে যায় তিনজন। অন্য দুই সত্তারও ভিন্ন নাম রয়েছে। এর মধ্যে একটি সত্তা থাকে ভয়ংকর খুনি, যে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটায়। অন্য দুই সত্তা মোটেও তা টের পায় না। কাজেই শিশুমনে এ ধরনের নির্যাতনের বিরূপ প্রভাব সুদূরপ্রসারী। মিষ্টি সুবাস ছড়ানো সুন্দর একটি ফুল কীটদষ্ট হলে যেমন কুৎসিত চেহারা পায়, তেমনি যৌন নিপীড়নের জখম নিষ্পাপ একটি শিশুর ভেতর এমন বীজ বুনে দিকে পারে, যা ছড়াতে পারে বিষবৃক্ষের ডালপালা। আমরা মনেপ্রাণে চাই, দিনাজপুরের ছোট্ট পুতুলটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাক। এরপরও ভবিষ্যতে সে যে মানসিকভাবে ব্যতিক্রমী চরিত্রের অধিকারী হবে না, সে নিশ্চয়তা কে দেবে? এর পুরো দায়ভার এই সমাজের, তথা আমাদেরই। তথাকথিত এই ‘চ্যাটার্জি কাকু’ বা এ ধরনের ক্ষতিকর প্রাণী থেকে রক্ষা পেতে আমাদের করার কি কিছুই নেই? একটি কাজ তো অবশ্যই করা যায়। তা হচ্ছে, এ-সংক্রান্ত মামলার বিচার খুব দ্রুত সম্পন্ন করা। আর সাজাও দৃষ্টান্তমূলক করা। যাতে অন্যরা নিবৃত্ত হয়। আর একেবারে ছোট শিশু, যাদের বয়স ১০ বছরের নিচে, তাদের যৌন নির্যাতনের ঝুঁকির বিষয়ে সচেতন করে তোলা যায়। এমন বয়সী শিশুরা নিজের একটা জগৎ নিয়ে থাকে। বাস্তবতার চেয়ে কল্পনা বা অলীক জিনিসের প্রাধান্য থাকে তাদের মনোজগতে। এসব শিশু যৌনতা কী, সেটাই তো বোঝে না, যৌন হয়রানি আর বুঝবে কী? তবু ওদের জ্ঞানবুদ্ধির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী উপদেশ পালনের সহনীয়তা অনুযায়ী তা বোঝাতে হবে। নইলে তো ওরা গোপন যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে থেকে যাবে। এ কাজে মা-বাবাকেই এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে মাকে। মা গল্পের ছলে তাঁর শিশুকন্যাকে বোঝাতে পারেন কোন কোন বিষয়ে তাকে সাবধান থাকতে হবে। বিশেষ করে স্পর্শের বিষয়ে। সচেতন করতে হবে, বড় কেউ তার সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করলে তা মাকে জানাতে হবে। পশ্চিমা অনেক দেশেই শিশুদের এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে এ ধরনের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান বা কার্টুন প্রচার করা হয়। আমাদের দেশের সামাজিক পরিস্থিতি তাদের মতো এত খোলামেলা নয়। এখানে ধর্মীয় অনুভূতি ও শালীনতাবোধের বিষয়টি সবাই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলে। কাজেই প্রচলিত রাখঢাক মেনেই যতটা সম্ভব শিশুদের সচেতন করা আবশ্যক। এ ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

Comments

Comments!

 ‘চ্যাটার্জি কাকু’ থেকে রক্ষা পেতেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘চ্যাটার্জি কাকু’ থেকে রক্ষা পেতে

Tuesday, November 1, 2016 10:38 am
6d2ca5f6ab59db4f4bf7a68fceb44cbb-22

শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন থেমে নেই। বরং বেড়েছে। পত্রিকা খুললেই রোজ একাধিক খবর চোখে পড়ে। টিভি চ্যানেল চেহারা ঝাপসা করে দিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন দেখায়। চায়ের আড্ডায় আলোচনা ওঠে। এসব শুনে অন্য শিশুর মা-বাবা আতঙ্কে ভোগেন।
এই তো, রাজধানীতে গত শনি ও রোববার দুই দিনে দুই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একটি ঘটনা ভাটারা ও আরেকটি শান্তিবাগ এলাকায় ঘটেছে।
দুই শিশুই এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। একই জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছে দিনাজপুরের এক ছোট্ট শিশু, যে দুনিয়ার আলো-বাতাস বুঝে ওঠার আগেই পেয়ে গেছে নরকের স্বাদ! চিকিৎসকেরাই যেখানে আঁতকে উঠেছেন, সেখানে এই নৃশংসতা নিয়ে আর কী বলব?
চিকিৎসকেরা বলছেন, পাঁচ বছরের ওই শিশু সেরে উঠছে। কিন্তু শিশুর প্রতি সহিংসতার শিকড় গোটা সমাজকে যে বিষম জ্বরায় জর্জর করছে, এ ব্যাধি সারাবে কে?

অনেক ক্ষেত্রেই শিশুরা চেনাজানা মানুষ দ্বারা নানাভাবে নিপীড়িত হচ্ছে। এর মধ্যে যৌন নিপীড়নই বেশি। দু-চারটে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শিশুর পরম আশ্রয় ঘনিষ্ঠজনই নির্যাতক। দিনাজপুরের শিশুটির ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি অতি আপনজন। কামড়ে, আঁচড়ে, ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে এই নির্যাতক যা করেছেন, তা আদিম যুগের বর্বরতাকেও হার মানায়। ওই শিশুর উদ্দেশে আমরা এখন শুধু একটা কথাই হয়তে বলতে পারি, ‘মা গো, তুমি আমাদের ক্ষমা কোরো না! কক্ষনো না!’
ষাটের দশকে সমরেশ বসুর ‘প্রজাপতি’ উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর সে কী হইচই! অশ্লীলতার দায়ে দীর্ঘ ১৮ বছর নিষিদ্ধ ছিল এ বই। এই উপন্যাসে লেখক নারীলোভী যে ‘চ্যাটার্জি কাকুর’ বর্ণনা দিয়েছেন, সমাজের সর্বস্তরে এই ‘কাকুদের’ বিচরণ। এই ‘কাকুরা’ অল্প বয়সী মেয়েদের আদর করার অছিলায় বিকৃত লালসা মেটায়। কেউ থাকে আড়ালে, কারও-বা মুখোশ খোলে ঘটনাচক্রে। উপন্যাসের ‘চ্যাটার্জি কাকুর’ কাণ্ডকারখানা কৌশল আর ধূর্তমিতে ভরা, কিন্তু বাস্তবের ‘চ্যাটার্জি কাকুরা’ আগ্রাসী। লাজলজ্জা তো নেই-ই, তেতো বেহায়াও তাদের কাছে নস্যি। সমরেশ বসু আজ বেঁচে থাকলে এসব দেখে-শুনে কী বলতেন জানি না।
শিশুরা যে প্রতিনিয়ত নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছে, এর কয়টা খবরই-বা আমরা জানি? কয়টিই-বা সংবাদমাধ্যমে আসে? তবে শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, শিশু ধর্ষণের ঘটনা গত বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর এই সময়ের মধ্যে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ছিল ১২১টি। চলতি বছর তা হয়েছে ১৩৮টি। (সূত্র: প্রথম আলো)
এমন অনেক অবোধ শিশু আছে, যাদের ওপর চালানো যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ ঘটনা কোনো দিনও প্রকাশ পায় না। কেউ জানে না ওই শিশুর কচি মনে কী কষ্ট। নীরবে-নিভৃতে এই জ্বালা, এই দহন নিয়ে সে বড় হয়। তার জীবনটা কিন্তু অন্যদের মতো স্বাভাবিক হতে পারে না। অনেক ভিড়ে থেকেও সে হয়ে যায় একা। আমৃত্যু সে এই কষ্ট বয়ে বেড়ায়। কেউ কেউ ভোগে জটিল মানসিক রোগে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক সিডনি শেলডনের একটি থ্রিলার হচ্ছে ‘টেল মি ইয়োর ড্রিমস’। আজ থেকে প্রায় দেড় যুগ আগে বইটি প্রকাশিত হয়। ৩৬৩ পৃষ্ঠার বইটি আগাগোড়াই রোমাঞ্চ আর সাসপেন্সে ঠাসা। মানসিক রোগীদের বেশ কিছু কেস স্টাডি ও সত্য ঘটনা থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।
এতে দেখানো হয়েছে, একটি মেয়ে শৈশবে ঘরের অতি আপনজনের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে পরবর্তী সময়ে কীভাবে জটিল মানসিক রোগীতে পরিণত হয়। মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার থেকে অ্যাশলি প্যাটারসন নামের ওই মেয়েটির মধ্যে পৃথক তিনটি সত্তা জন্ম নেয়। এক অ্যাশলি হয়ে যায় তিনজন। অন্য দুই সত্তারও ভিন্ন নাম রয়েছে। এর মধ্যে একটি সত্তা থাকে ভয়ংকর খুনি, যে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটায়। অন্য দুই সত্তা মোটেও তা টের পায় না।
কাজেই শিশুমনে এ ধরনের নির্যাতনের বিরূপ প্রভাব সুদূরপ্রসারী। মিষ্টি সুবাস ছড়ানো সুন্দর একটি ফুল কীটদষ্ট হলে যেমন কুৎসিত চেহারা পায়, তেমনি যৌন নিপীড়নের জখম নিষ্পাপ একটি শিশুর ভেতর এমন বীজ বুনে দিকে পারে, যা ছড়াতে পারে বিষবৃক্ষের ডালপালা।
আমরা মনেপ্রাণে চাই, দিনাজপুরের ছোট্ট পুতুলটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাক। এরপরও ভবিষ্যতে সে যে মানসিকভাবে ব্যতিক্রমী চরিত্রের অধিকারী হবে না, সে নিশ্চয়তা কে দেবে? এর পুরো দায়ভার এই সমাজের, তথা আমাদেরই।
তথাকথিত এই ‘চ্যাটার্জি কাকু’ বা এ ধরনের ক্ষতিকর প্রাণী থেকে রক্ষা পেতে আমাদের করার কি কিছুই নেই?
একটি কাজ তো অবশ্যই করা যায়। তা হচ্ছে, এ-সংক্রান্ত মামলার বিচার খুব দ্রুত সম্পন্ন করা। আর সাজাও দৃষ্টান্তমূলক করা। যাতে অন্যরা নিবৃত্ত হয়।
আর একেবারে ছোট শিশু, যাদের বয়স ১০ বছরের নিচে, তাদের যৌন নির্যাতনের ঝুঁকির বিষয়ে সচেতন করে তোলা যায়। এমন বয়সী শিশুরা নিজের একটা জগৎ নিয়ে থাকে। বাস্তবতার চেয়ে কল্পনা বা অলীক জিনিসের প্রাধান্য থাকে তাদের মনোজগতে। এসব শিশু যৌনতা কী, সেটাই তো বোঝে না, যৌন হয়রানি আর বুঝবে কী?
তবু ওদের জ্ঞানবুদ্ধির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী উপদেশ পালনের সহনীয়তা অনুযায়ী তা বোঝাতে হবে। নইলে তো ওরা গোপন যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে থেকে যাবে। এ কাজে মা-বাবাকেই এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে মাকে। মা গল্পের ছলে তাঁর শিশুকন্যাকে বোঝাতে পারেন কোন কোন বিষয়ে তাকে সাবধান থাকতে হবে। বিশেষ করে স্পর্শের বিষয়ে। সচেতন করতে হবে, বড় কেউ তার সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করলে তা মাকে জানাতে হবে।
পশ্চিমা অনেক দেশেই শিশুদের এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে এ ধরনের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান বা কার্টুন প্রচার করা হয়। আমাদের দেশের সামাজিক পরিস্থিতি তাদের মতো এত খোলামেলা নয়। এখানে ধর্মীয় অনুভূতি ও শালীনতাবোধের বিষয়টি সবাই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলে। কাজেই প্রচলিত রাখঢাক মেনেই যতটা সম্ভব শিশুদের সচেতন করা আবশ্যক। এ ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X