মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৪১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, November 1, 2016 7:13 pm
A- A A+ Print

ছাত্রলীগ নেতার থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটল পুলিশ সদস্যের

28da2c3a63a4b95c926a6a1a07518698-shoriotpur

শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের এক নেতার থাপ্পড়ে সেলিম মাতুব্বর নামে এক পুলিশ সদস্যের কানের পর্দা ফেটে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আজ দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সদস্যকে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম আক্তার হোসেন। তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। শরীয়তপুর সদর থানা সূত্র জানায়, আক্তার হোসেন আজ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎ​সক দেবাশীষ সাহার কক্ষে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন হাওলাদার। তাঁরা দেবাশীষ সাহার কাছে হোসেন খন্দকার নামের এক রোগীর আঘাতের চিকিৎসাজনিত সনদ চান। রোগী ছাড়া সনদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন চিকিৎসক। তখন আক্তার চিকিৎসককে গালাগাল দিয়ে অপদস্থ করতে থাকেন। সেখানে তখন চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ছিলেন পুলিশের নায়েক সেলিম মাতুব্বর। তিনি চিকিৎসককে কেন এভাবে অপদস্থ করা হচ্ছে তা জানতে চান। তখন আক্তার উত্তেজিত হয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে মারধর করতে থাকেন। আক্তারের থাপ্পড়ে পুলিশ সেলিমের ডান কানের পর্দা ফেটে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পুলিশ সদস্য সেলিম মাতুব্বরকে চিকিৎসা দেন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ইমরান খান। তিনি বলেন, আঘাতের কারণে সেলিমের কানের পর্দা ফেটে গেছে। তাঁর কান দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তার আঘাতটি গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে দেখতে হাসপাতালে আসেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান, পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন, সহকারী পুলিশ সুপার তানভীর হাসান। ছাত্রলীগ নেতা আক্তার হোসেনকে আটক করার জন্য পুলিশ তাঁর মামা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন হাওলাদারের বাসভবন ও ক্লিনিকে অভিযান চালায়। এ সময় আক্তারের কক্ষ থেকে একটি চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ। দুপুরে উপজেলা সদরে আলমগীর হাওলাদারের মালিকানাধীন হাওলাদার ক্লিনিকে অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নীতিমালা ও আইন লঙ্ঘন করে ক্লিনিক চালানোর অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত মালামাল বাজেয়াপ্ত করে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন। এ সময় ক্লিনিকে ভর্তি থাকা রোগীদের সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, আক্তার হোসেন প্রায়ই হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে চিকিৎসা সনদ নিতে চান। কেউ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের ওপর চড়াও হন। এ কারণে তিনি আজ চিকিৎসক দেবাশীষ সাহাকে অপদস্থ করেন। এর প্রতিবাদ করলে একজন পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় দিয়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেন। এ বিষয়ে আলমগীর হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ডাক্তারের কক্ষে ছিলাম। হইচই শুনে বাইরে এসে দেখি আক্তার আর এক ব্যক্তি হাতাহাতি করছে। আমি তাদের নিবৃত্ত করি।’ তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর আমি আক্তারকে মারধর করে তাড়িয়ে দিই এবং পুলিশ সদস্যর কাছে ক্ষমা চাই।’ ঘটনার পর থেকে আক্তার পলাতক রয়েছেন। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শরীয়তপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, চিকিৎসককে অপদস্থ ও পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Comments

Comments!

 ছাত্রলীগ নেতার থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটল পুলিশ সদস্যেরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ছাত্রলীগ নেতার থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটল পুলিশ সদস্যের

Tuesday, November 1, 2016 7:13 pm
28da2c3a63a4b95c926a6a1a07518698-shoriotpur

শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের এক নেতার থাপ্পড়ে সেলিম মাতুব্বর নামে এক পুলিশ সদস্যের কানের পর্দা ফেটে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আজ দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সদস্যকে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম আক্তার হোসেন। তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি।
শরীয়তপুর সদর থানা সূত্র জানায়, আক্তার হোসেন আজ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎ​সক দেবাশীষ সাহার কক্ষে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন হাওলাদার। তাঁরা দেবাশীষ সাহার কাছে হোসেন খন্দকার নামের এক রোগীর আঘাতের চিকিৎসাজনিত সনদ চান। রোগী ছাড়া সনদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন চিকিৎসক। তখন আক্তার চিকিৎসককে গালাগাল দিয়ে অপদস্থ করতে থাকেন। সেখানে তখন চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ছিলেন পুলিশের নায়েক সেলিম মাতুব্বর। তিনি চিকিৎসককে কেন এভাবে অপদস্থ করা হচ্ছে তা জানতে চান। তখন আক্তার উত্তেজিত হয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে মারধর করতে থাকেন। আক্তারের থাপ্পড়ে পুলিশ সেলিমের ডান কানের পর্দা ফেটে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
পুলিশ সদস্য সেলিম মাতুব্বরকে চিকিৎসা দেন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ইমরান খান। তিনি বলেন, আঘাতের কারণে সেলিমের কানের পর্দা ফেটে গেছে। তাঁর কান দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তার আঘাতটি গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে দেখতে হাসপাতালে আসেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান, পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন, সহকারী পুলিশ সুপার তানভীর হাসান।
ছাত্রলীগ নেতা আক্তার হোসেনকে আটক করার জন্য পুলিশ তাঁর মামা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন হাওলাদারের বাসভবন ও ক্লিনিকে অভিযান চালায়। এ সময় আক্তারের কক্ষ থেকে একটি চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ। দুপুরে উপজেলা সদরে আলমগীর হাওলাদারের মালিকানাধীন হাওলাদার ক্লিনিকে অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নীতিমালা ও আইন লঙ্ঘন করে ক্লিনিক চালানোর অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত মালামাল বাজেয়াপ্ত করে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন। এ সময় ক্লিনিকে ভর্তি থাকা রোগীদের সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, আক্তার হোসেন প্রায়ই হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে চিকিৎসা সনদ নিতে চান। কেউ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের ওপর চড়াও হন। এ কারণে তিনি আজ চিকিৎসক দেবাশীষ সাহাকে অপদস্থ করেন। এর প্রতিবাদ করলে একজন পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় দিয়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেন।
এ বিষয়ে আলমগীর হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ডাক্তারের কক্ষে ছিলাম। হইচই শুনে বাইরে এসে দেখি আক্তার আর এক ব্যক্তি হাতাহাতি করছে। আমি তাদের নিবৃত্ত করি।’ তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর আমি আক্তারকে মারধর করে তাড়িয়ে দিই এবং পুলিশ সদস্যর কাছে ক্ষমা চাই।’
ঘটনার পর থেকে আক্তার পলাতক রয়েছেন। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শরীয়তপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, চিকিৎসককে অপদস্থ ও পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X