শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:৫০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, July 21, 2016 11:59 pm
A- A A+ Print

ছুটি শেষ: প্রানোচ্ছল ক্যাম্পাসে কিসের ধ্বনি বাজে!

13729062_1211319612212002_5588725136967085589_n

সাইফুল্লাহ সাদেক: রবিঠাকুরের প্রিয় বর্ষা ঋতু চলছে। রিমঝিম, টিপটিপ বৃষ্টির দিন। বাদল হাওয়ায় চুল ওড়ানোর দিন। আষাঢ় শেষে এসেছে শ্রাবণ। মেঘে ঢাকা আকাশ। কখনো আকাশ ভেঙে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমে এসে মাঠ-ঘাট তলিয়ে যায়। এই শ্রাবণেই রবিঠাকুরের জীবনাবসান হয়েছিল। তিনি থাকলে নিশ্চয় গুনগুনিয়ে গাইতেন_
13729062_1211319612212002_5588725136967085589_n
‘বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলেবেলার গান বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান’। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের অনুমোদিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী গ্রীষ্মকালীন ছুটি, ঈদুল ফিতর ও অন্যান্যসহ দীর্ঘ ৪০ দিন বন্ধ ছিল দেশের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ। ছুটি শুরু হয়েছিল ৭ জুন ২০১৬ মঙ্গলবার থেকে। বন্ধের পর সবাই বাস্তবতা মেনে নাড়ির টানে বাড়ির পথ ধরে। ক্যাম্পাসের প্রতি মোড়ে মোড়ে কেমন যেন হাহাকার ছিল এতদিন। যেন আচমকা স্বজন হারানোর বেদনা! শূন্যপ্রায় হলগুলোর রুমে রুমে ঝুলছিল তালা, ছিল নীরব-নিস্তব্ধ-যেন মৃত্যুপুরী! রাতভর প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের গান আর গল্প মাতিয়ে রাখা গণরুমগুলো হয়ে পড়েছিল যেন একেকটি অন্ধকূপ। অবশেষে কেটেছে ছুটি, ভাঙছে নীরবতা, শেষ হচ্ছে অন্ধকার! শ্রাবণের শুরুতেই ১৭ জুলাই খুলেছে দেশের নেতৃত্ব দেয়া এই বিদ্যাপীঠ। নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়া সবুজ সারথীরা ফিরতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে চঞ্চল হয়ে উঠছে ক্যাম্পাস। বিভিন্ন বিভাগে গত রোববার থেকে যথারীতি ক্লাস শুরু হয়েছে। ক্লাস-আডডা-হাসি-রাগ-অভিমান-হই-হুল্লোড়ে জমে উঠতে শুরু করেছে সবুজস্বর্গ। জনমানবহীন টিএসসি, হাকিম চত্বর, মলচত্বর, ভিসি চত্বর, অপরাজেয় বাংলা, বটতলা, কার্জন হলের সবুজ মাঠে নতুন করে ফিরতে শুরু করছে কোলাহল। অনেকে দীর্ঘ ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে ফিরে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েছেন বন্ধুদের সাক্ষাতে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে করছে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি-ক্যাম্পাস ছেড়ে দূরে থাকার বিষাদময় অনুভূতি। 13718784_1211319378878692_4015431935090494579_n ক্যাম্পাসে ফিরে অনুভূতি জানাচ্ছিলেন ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান এশা_ ‘এতদিন বাসায় থাকলেও ক্যাম্পাসকে খুব মিস করেছি। দীর্ঘ ছুটির পর যদিও বাসা থেকে ফিরতে খারাপ লাগছিল, কিন্তু যখনই কলাভবনের সামনে আসলাম, মনটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল! সেই এক অনুভূতি, যা ঠিক বলে বোঝানো যাবে না। খুবই ভালো লাগছিল। মনে হচ্ছিল এই ক্যাম্পাসই তো আমার আসল জায়গা, প্রাণের স্থান, দূরে থাকি কী করে!’ লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিরা খাতুনও জানালেন একই অনুভূতি। বলছিলেন, দীর্ঘদিন ছুটি শেষে প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসার আনন্দটাই অন্যরকম; প্রথমে এসে সদাচঞ্চল ক্যাম্পাসকে কেমন অসহায় লাগছিল। তবে আমাদের আগমনে কোলাহলে আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে’। সাকিরার ক্লাস শুরু হবে যদিও ২৫ জুলাই। এরপরও প্রায় প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে এসে একবার চক্কর দিয়ে যাচ্ছেন। টিপটিপ বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ সঙ্গে গাছ-গাছালির নিচে ছাতা হাতে চলতে ভালো লাগছে তার। ইতিহাস বিভাগের শরিফ মাহমুদের মুখে রোমান্টিকতার ছাপ, হৃদয়ে বিরহ জ্বালা। ‘প্রিয়তম এই ক্যাম্পাসকে ছেড়ে কেমন করে যে এতটা দিন বাড়িতে ছিলাম ভাবতেই কষ্ট হয়। আমার কথা বাদই দিলাম। আমার এক প্রেমিক বন্ধু তো পাগল হয়ে পড়েছিল বাড়িতে। কেননা ক্যাম্পাসের বাইরে গেলে তার প্রেমের ১২টা বেজে যায়। প্রেমিকা হারিয়ে সে উন্মাদ হয়ে পড়ে’_ বলছিলেন মি. শরীফ। ব্যাপারটা আসলেই সত্য। প্রেমিক জুটিদের ক্যাম্পাস ছুটিতে একটু বেশিই সমস্যা বৈকি! ৪০টি দিন, দীর্ঘ ৪০দিন প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে দূরে থাকা! এতটা দিন রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হলের দ্বারে দ্বারে তীর্থ কাকের মতো অপেক্ষায় থাকতে না পারা, রাস্তার মোড়ে ফুলার রোডে বসে খানিক খুনসুটি করতে না পারা ভীষণ মিস করেছেন নিশ্চয়! এমতাবস্থায় কেমন যে বিরহ ব্যথায় কাতর হয়েছেন অনেকেই তা সহজে অনুমেয়! এখন তারা হয়তো ক্যাম্পাসে ফিরে মিলেমিশে রবিঠাকুরের ভাষায় বলছেন- ‘মেঘের পরে মেঘ জমেছে, অাঁধার করে আসে আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের পাশে’। 13769592_1211320422211921_8340261018253687503_n আর একাকী নীরবে-নিভৃতে বসে থাকা নয়। আবারও সবার একসঙ্গে চলবে নতুন করে নতুন উদ্যমে। প্রাণের ক্যাম্পাসে হল্লা হয়ে ঘুরে বেড়াবে, চষে বেড়াবে আপন মনে। হাতে হাত ধরে-চোখে চোখ রেখে ঐক্যের কলতানে মেতে উঠবে এই বিদ্যাপীঠ। অন্যায়-অবিচার-নির্যাতন-শোষণ, সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে তারুণ্য। মিছিলে মিছিলে উত্তাল করে তুলবে সবুজ আঙিনা। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে সস্নোগান-মিছিল-আন্দোলন। পবিত্র রমজানে গুলশানে যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ হয়ে গেছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ঈদের জামাতে শোলাকিয়ায় যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে অবস্থান জানাচ্ছে তারা। সে সময় ছুটিতে থাকায় শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারেনি। ছুটি শেষে ঠিকই গর্জে উঠেছে বায়ান্ন, বাষট্টি, সত্তর, একাত্তর আর নব্বইয়ের উত্তরসূরিরা। তীব্র মিছিল-সস্নোগানে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত করে তুলেছে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। এতে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সর্বস্তরের ছাত্রছাত্রী। প্রত্যেকের মুখে একই কথা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ, উগ্রতা-সাম্প্রদায়িকতার স্থান নেই এই ক্যাম্পাসে। প্রত্যেকের কণ্ঠেই দীপ্ত শপথ_ বাংলাদেশ যতদিন টিকে থাকবে ততদিন অসাম্প্রদায়িকতার সস্নোগান তুলে সামনে থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মাথা উঁচু করে ঘোষণা করবে_ ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অবিচারের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-উগ্রতার বিরুদ্ধে সদাবলীয়ান প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’।

Comments

Comments!

 ছুটি শেষ: প্রানোচ্ছল ক্যাম্পাসে কিসের ধ্বনি বাজে!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ছুটি শেষ: প্রানোচ্ছল ক্যাম্পাসে কিসের ধ্বনি বাজে!

Thursday, July 21, 2016 11:59 pm
13729062_1211319612212002_5588725136967085589_n

সাইফুল্লাহ সাদেক: রবিঠাকুরের প্রিয় বর্ষা ঋতু চলছে। রিমঝিম, টিপটিপ বৃষ্টির দিন। বাদল হাওয়ায় চুল ওড়ানোর দিন। আষাঢ় শেষে এসেছে শ্রাবণ। মেঘে ঢাকা আকাশ। কখনো আকাশ ভেঙে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমে এসে মাঠ-ঘাট তলিয়ে যায়। এই শ্রাবণেই রবিঠাকুরের জীবনাবসান হয়েছিল। তিনি থাকলে নিশ্চয় গুনগুনিয়ে গাইতেন_

13729062_1211319612212002_5588725136967085589_n

‘বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে

ছেলেবেলার গান
বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
নদে এল বান’।

২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের অনুমোদিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী গ্রীষ্মকালীন ছুটি, ঈদুল ফিতর ও অন্যান্যসহ দীর্ঘ ৪০ দিন বন্ধ ছিল দেশের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ। ছুটি শুরু হয়েছিল ৭ জুন ২০১৬ মঙ্গলবার থেকে। বন্ধের পর সবাই বাস্তবতা মেনে নাড়ির টানে বাড়ির পথ ধরে। ক্যাম্পাসের প্রতি মোড়ে মোড়ে কেমন যেন হাহাকার ছিল এতদিন। যেন আচমকা স্বজন হারানোর বেদনা! শূন্যপ্রায় হলগুলোর রুমে রুমে ঝুলছিল তালা, ছিল নীরব-নিস্তব্ধ-যেন মৃত্যুপুরী! রাতভর প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের গান আর গল্প মাতিয়ে রাখা গণরুমগুলো হয়ে পড়েছিল যেন একেকটি অন্ধকূপ।
অবশেষে কেটেছে ছুটি, ভাঙছে নীরবতা, শেষ হচ্ছে অন্ধকার! শ্রাবণের শুরুতেই ১৭ জুলাই খুলেছে দেশের নেতৃত্ব দেয়া এই বিদ্যাপীঠ। নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়া সবুজ সারথীরা ফিরতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে চঞ্চল হয়ে উঠছে ক্যাম্পাস। বিভিন্ন বিভাগে গত রোববার থেকে যথারীতি ক্লাস শুরু হয়েছে। ক্লাস-আডডা-হাসি-রাগ-অভিমান-হই-হুল্লোড়ে জমে উঠতে শুরু করেছে সবুজস্বর্গ।
জনমানবহীন টিএসসি, হাকিম চত্বর, মলচত্বর, ভিসি চত্বর, অপরাজেয় বাংলা, বটতলা, কার্জন হলের সবুজ মাঠে নতুন করে ফিরতে শুরু করছে কোলাহল। অনেকে দীর্ঘ ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে ফিরে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েছেন বন্ধুদের সাক্ষাতে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে করছে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি-ক্যাম্পাস ছেড়ে দূরে থাকার বিষাদময় অনুভূতি।

13718784_1211319378878692_4015431935090494579_n
ক্যাম্পাসে ফিরে অনুভূতি জানাচ্ছিলেন ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান এশা_ ‘এতদিন বাসায় থাকলেও ক্যাম্পাসকে খুব মিস করেছি। দীর্ঘ ছুটির পর যদিও বাসা থেকে ফিরতে খারাপ লাগছিল, কিন্তু যখনই কলাভবনের সামনে আসলাম, মনটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল! সেই এক অনুভূতি, যা ঠিক বলে বোঝানো যাবে না। খুবই ভালো লাগছিল। মনে হচ্ছিল এই ক্যাম্পাসই তো আমার আসল জায়গা, প্রাণের স্থান, দূরে থাকি কী করে!’
লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিরা খাতুনও জানালেন একই অনুভূতি। বলছিলেন, দীর্ঘদিন ছুটি শেষে প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসার আনন্দটাই অন্যরকম; প্রথমে এসে সদাচঞ্চল ক্যাম্পাসকে কেমন অসহায় লাগছিল। তবে আমাদের আগমনে কোলাহলে আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে’।
সাকিরার ক্লাস শুরু হবে যদিও ২৫ জুলাই। এরপরও প্রায় প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে এসে একবার চক্কর দিয়ে যাচ্ছেন। টিপটিপ বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ সঙ্গে গাছ-গাছালির নিচে ছাতা হাতে চলতে ভালো লাগছে তার।
ইতিহাস বিভাগের শরিফ মাহমুদের মুখে রোমান্টিকতার ছাপ, হৃদয়ে বিরহ জ্বালা। ‘প্রিয়তম এই ক্যাম্পাসকে ছেড়ে কেমন করে যে এতটা দিন বাড়িতে ছিলাম ভাবতেই কষ্ট হয়। আমার কথা বাদই দিলাম। আমার এক প্রেমিক বন্ধু তো পাগল হয়ে পড়েছিল বাড়িতে। কেননা ক্যাম্পাসের বাইরে গেলে তার প্রেমের ১২টা বেজে যায়। প্রেমিকা হারিয়ে সে উন্মাদ হয়ে পড়ে’_ বলছিলেন মি. শরীফ।
ব্যাপারটা আসলেই সত্য। প্রেমিক জুটিদের ক্যাম্পাস ছুটিতে একটু বেশিই সমস্যা বৈকি! ৪০টি দিন, দীর্ঘ ৪০দিন প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে দূরে থাকা! এতটা দিন রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হলের দ্বারে দ্বারে তীর্থ কাকের মতো অপেক্ষায় থাকতে না পারা, রাস্তার মোড়ে ফুলার রোডে বসে খানিক খুনসুটি করতে না পারা ভীষণ মিস করেছেন নিশ্চয়! এমতাবস্থায় কেমন যে বিরহ ব্যথায় কাতর হয়েছেন অনেকেই তা সহজে অনুমেয়! এখন তারা হয়তো ক্যাম্পাসে ফিরে মিলেমিশে রবিঠাকুরের ভাষায় বলছেন-

‘মেঘের পরে মেঘ জমেছে,
অাঁধার করে আসে
আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের
পাশে’।

13769592_1211320422211921_8340261018253687503_n
আর একাকী নীরবে-নিভৃতে বসে থাকা নয়। আবারও সবার একসঙ্গে চলবে নতুন করে নতুন উদ্যমে। প্রাণের ক্যাম্পাসে হল্লা হয়ে ঘুরে বেড়াবে, চষে বেড়াবে আপন মনে। হাতে হাত ধরে-চোখে চোখ রেখে ঐক্যের কলতানে মেতে উঠবে এই বিদ্যাপীঠ। অন্যায়-অবিচার-নির্যাতন-শোষণ, সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে তারুণ্য। মিছিলে মিছিলে উত্তাল করে তুলবে সবুজ আঙিনা।
ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে সস্নোগান-মিছিল-আন্দোলন। পবিত্র রমজানে গুলশানে যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ হয়ে গেছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ঈদের জামাতে শোলাকিয়ায় যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে অবস্থান জানাচ্ছে তারা।
সে সময় ছুটিতে থাকায় শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারেনি। ছুটি শেষে ঠিকই গর্জে উঠেছে বায়ান্ন, বাষট্টি, সত্তর, একাত্তর আর নব্বইয়ের উত্তরসূরিরা। তীব্র মিছিল-সস্নোগানে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত করে তুলেছে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। এতে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সর্বস্তরের ছাত্রছাত্রী। প্রত্যেকের মুখে একই কথা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ, উগ্রতা-সাম্প্রদায়িকতার স্থান নেই এই ক্যাম্পাসে।
প্রত্যেকের কণ্ঠেই দীপ্ত শপথ_ বাংলাদেশ যতদিন টিকে থাকবে ততদিন অসাম্প্রদায়িকতার সস্নোগান তুলে সামনে থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মাথা উঁচু করে ঘোষণা করবে_ ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অবিচারের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-উগ্রতার বিরুদ্ধে সদাবলীয়ান প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X