শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:১৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, September 3, 2016 2:29 am
A- A A+ Print

জন কেরির ‘কেরি’ করা ডিপ্লোম্যাসি : ঢাকা ওয়াশিংটনের তথ্যের ফারাক

240356_1

 
মুশফিকুল ফজল আনসারী ২৯ আগস্ট ৯ ঘন্টার এক ঝটিকা সফরে ঢাকা ঘুরে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ওবামা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তির সফরকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার অন্ত নেই। এক সংকটময় সময়ে তার এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার ফল বিশ্লেষণে রয়েছে সকলের বাড়তি আগ্রহ। গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের অনুপস্থিতি, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের হুমকি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ও গুম- খুনের নৈমত্তিক সংস্কৃতি, মত প্রকাশের স্বাধীনতার হুমকি, এসকল বিরাজিত সংকটের ভেতর দিয়েই এই সফর। উদ্দেশ্য সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানো, বিরাজমান সংকট সমাধানে সহযাত্রী হওয়া এবং সকল পক্ষের মতামতের সঙ্গে সম্মুখ ধারনা লাভ। এ জাতীয় সফরে সাধারণত সফরকারি ও স্বাগতিক দেশের সমন্বয়ে কার্যতালিকা চুড়ান্ত হয়। বাংলাদেশের বিরাজিত পরিস্থিতি আমলে নিয়েই জন কেরির কর্মসূচি সমন্বয় করে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। কর্মসূচির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত ছাড়াও দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠির নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে বৈঠকের শিডিউল একই সাথে চুড়ান্ত করে ওয়াশিংটন। ফলে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক হবে না বলে প্রচারণা ছিলো নিতান্তই নোংরামি। বিগত ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। এতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে বলে মনে করে দেশটি। সম্প্রতি স্টেট ডিপার্টমেন্টে আমার করা এক প্রশ্নের জবাবে তা আবারো পুনর্ব্যক্ত করেন মুখপাত্র জন কিরবি। কেরির ঢাকা ডিপ্লোম্যাসির মধ্যে এর কোনো বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়নি। সরকারি তরফে নানা ঢাক-ঢোল পেঠালেও বাস্তবতা ভিন্ন। সফরের ফালাফল নিয়ে কেরি অংশ নেননি কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলন অথবা প্রকাশিত হয়নি কোনো যৌথ বিবৃতি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমান শাসক দলের গুরুত্ব কতোখানি তা আর বুঝতে বাকি থাকে না। অথচ তার একদিন পর নয়া দিল্লী সফর গেলে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মলনে অংশ নেন। প্রকাশিত হয় যৌথ বিবৃতি। জন কেরির ঢাকা সফরের কেবল পাঁচটি কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো হয় রিডআউট। ডেপুটি মুখপাত্র মার্ক টোনার প্রেরিত রিডআউট গুলো ছিলো-পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ তিন মন্ত্রীর সাথে মধ্যাহ্ন ভোজ পূর্ব বৈঠক, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত, এডওয়ার্ড কেনেডি সেন্টারের সুশিল সমাজের উদ্দেশে বক্তব্য, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক এবং দূতাবাস কর্মকর্তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়। ঢাকার সরকার সমর্থক সংবাদ মাধ্যমে ফুলিয়ে ফাপিয়ে 'সরকার বাহাদুর' বন্দনায় লিপ্ত হলেও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে কেরির সফরের উপর রিপোর্টে এর সম্পূর্ণ ব্যাতিক্রম। শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠকের রিডআউটে যা বলা হয় তার বঙ্গানুবাদ হলো অনেকটা এরকম “যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে গণতন্ত্র, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক ইস্যুতে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশকে একত্রে কাজ করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও জন কেরি জোর দেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন জন কেরি।” বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে রিডআউটে বলা হয়, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার পরিবেশ সম্পর্কে আলোচনা করতে বেগম খালেদা জিয়া ও জন কেরির মধ্যকার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র অবাধ চর্চার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন জন কেরি। অবাধ গণতন্ত্রের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জন কেরি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশের বিরাজমান চ্যালেজ্ঞ মোকাবিলায় সমাজের সকল স্তরের মানুষের সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন জন কেরি।” কেরির সফর নিয়ে ঢাকা যা প্রকাশ করেছে তা শুধুই সরকারের গুণকীর্তন ও নেতৃত্বের প্রশংসার সার্টিফিকেটে ভরপুর। সন্ত্রাসবাদের হুমকি, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত বক্তব্য প্রকাশে অনেকটা মুখে কুলুপ এঁটেছে ক্ষমতাসীন সরকার ও তাদের আজ্ঞাবহ সংবাদমাধ্যগুলো। সফরকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ‘ পরিদর্শন ও পথিকৃতিতে পুষ্পমাল্য দিয়েছেন কেরি। সেখানে রাখা পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। সবকিছু ছাপিয়ে পরিদর্শন বইয়ের মন্তব্য নিয়ে প্রচারণার শেষ নাই। একে বড় অর্জন বলে অনেকটা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে শাসকদল। এরকম পরিদর্শন বইয়ের মন্তব্য নিয়ে লিড নিউজ হতে আমি অত্যন্ত দেখিনি। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের মেহমান সফরে এলে স্বাগতিক দেশের উৎসাহে কিছু দর্শনীয় স্থানে যান। পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। যা একটি কূটনৈতিক সৌজন্যতা। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় স্মৃতি সৌধে গিয়ে সম্মান জানানো রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল। শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর রেওয়াজও আছে। অথচ আমাদের জাতীয় চেতনা ও প্রেরণার প্রতীক এ দুটি জায়গাকে বাদ দিয়ে হীন রাজনৈতিক স্বার্থে সরকার তা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে সীমাবদ্ধ রেখেছে। লাখো শহীদের রক্তস্নাত স্মৃতির মিনারের প্রতি অবজ্ঞায় তথাকথিত চেতনা ব্যবসায়ীদের আঘাত না লাগলেও আমাদের লাগে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুরনো ও পরীক্ষিত। তবে এই সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন তথা গণতন্ত্র, নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা। এমন বার্তাই স্পস্ট করে গেলেন জন কেরি।

Comments

Comments!

 জন কেরির ‘কেরি’ করা ডিপ্লোম্যাসি : ঢাকা ওয়াশিংটনের তথ্যের ফারাকAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

জন কেরির ‘কেরি’ করা ডিপ্লোম্যাসি : ঢাকা ওয়াশিংটনের তথ্যের ফারাক

Saturday, September 3, 2016 2:29 am
240356_1

 

মুশফিকুল ফজল আনসারী

২৯ আগস্ট ৯ ঘন্টার এক ঝটিকা সফরে ঢাকা ঘুরে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ওবামা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তির সফরকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার অন্ত নেই। এক সংকটময় সময়ে তার এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার ফল বিশ্লেষণে রয়েছে সকলের বাড়তি আগ্রহ। গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের অনুপস্থিতি, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের হুমকি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ও গুম- খুনের নৈমত্তিক সংস্কৃতি, মত প্রকাশের স্বাধীনতার হুমকি, এসকল বিরাজিত সংকটের ভেতর দিয়েই এই সফর। উদ্দেশ্য সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানো, বিরাজমান সংকট সমাধানে সহযাত্রী হওয়া এবং সকল পক্ষের মতামতের সঙ্গে সম্মুখ ধারনা লাভ।

এ জাতীয় সফরে সাধারণত সফরকারি ও স্বাগতিক দেশের সমন্বয়ে কার্যতালিকা চুড়ান্ত হয়। বাংলাদেশের বিরাজিত পরিস্থিতি আমলে নিয়েই জন কেরির কর্মসূচি সমন্বয় করে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

কর্মসূচির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত ছাড়াও দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠির নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে বৈঠকের শিডিউল একই সাথে চুড়ান্ত করে ওয়াশিংটন। ফলে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক হবে না বলে প্রচারণা ছিলো নিতান্তই নোংরামি।

বিগত ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। এতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে বলে মনে করে দেশটি। সম্প্রতি স্টেট ডিপার্টমেন্টে আমার করা এক প্রশ্নের জবাবে তা আবারো পুনর্ব্যক্ত করেন মুখপাত্র জন কিরবি। কেরির ঢাকা ডিপ্লোম্যাসির মধ্যে এর কোনো বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়নি। সরকারি তরফে নানা ঢাক-ঢোল পেঠালেও বাস্তবতা ভিন্ন। সফরের ফালাফল নিয়ে কেরি অংশ নেননি কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলন অথবা প্রকাশিত হয়নি কোনো যৌথ বিবৃতি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমান শাসক দলের গুরুত্ব কতোখানি তা আর বুঝতে বাকি থাকে না। অথচ তার একদিন পর নয়া দিল্লী সফর গেলে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মলনে অংশ নেন। প্রকাশিত হয় যৌথ বিবৃতি।

জন কেরির ঢাকা সফরের কেবল পাঁচটি কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো হয় রিডআউট। ডেপুটি মুখপাত্র মার্ক টোনার প্রেরিত রিডআউট গুলো ছিলো-পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ তিন মন্ত্রীর সাথে মধ্যাহ্ন ভোজ পূর্ব বৈঠক, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত, এডওয়ার্ড কেনেডি সেন্টারের সুশিল সমাজের উদ্দেশে বক্তব্য, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক এবং দূতাবাস কর্মকর্তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়।

ঢাকার সরকার সমর্থক সংবাদ মাধ্যমে ফুলিয়ে ফাপিয়ে ‘সরকার বাহাদুর’ বন্দনায় লিপ্ত হলেও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে কেরির সফরের উপর রিপোর্টে এর সম্পূর্ণ ব্যাতিক্রম। শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠকের রিডআউটে যা বলা হয় তার বঙ্গানুবাদ হলো অনেকটা এরকম “যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে গণতন্ত্র, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক ইস্যুতে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশকে একত্রে কাজ করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও জন কেরি জোর দেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন জন কেরি।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে রিডআউটে বলা হয়, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার পরিবেশ সম্পর্কে আলোচনা করতে বেগম খালেদা জিয়া ও জন কেরির মধ্যকার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র অবাধ চর্চার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন জন কেরি। অবাধ গণতন্ত্রের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জন কেরি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশের বিরাজমান চ্যালেজ্ঞ মোকাবিলায় সমাজের সকল স্তরের মানুষের সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন জন কেরি।”

কেরির সফর নিয়ে ঢাকা যা প্রকাশ করেছে তা শুধুই সরকারের গুণকীর্তন ও নেতৃত্বের প্রশংসার সার্টিফিকেটে ভরপুর। সন্ত্রাসবাদের হুমকি, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত বক্তব্য প্রকাশে অনেকটা মুখে কুলুপ এঁটেছে ক্ষমতাসীন সরকার ও তাদের আজ্ঞাবহ সংবাদমাধ্যগুলো।

সফরকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ‘ পরিদর্শন ও পথিকৃতিতে পুষ্পমাল্য দিয়েছেন কেরি। সেখানে রাখা পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। সবকিছু ছাপিয়ে পরিদর্শন বইয়ের মন্তব্য নিয়ে প্রচারণার শেষ নাই। একে বড় অর্জন বলে অনেকটা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে শাসকদল। এরকম পরিদর্শন বইয়ের মন্তব্য নিয়ে লিড নিউজ হতে আমি অত্যন্ত দেখিনি। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের মেহমান সফরে এলে স্বাগতিক দেশের উৎসাহে কিছু দর্শনীয় স্থানে যান। পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। যা একটি কূটনৈতিক সৌজন্যতা। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় স্মৃতি সৌধে গিয়ে সম্মান জানানো রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল। শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর রেওয়াজও আছে। অথচ আমাদের জাতীয় চেতনা ও প্রেরণার প্রতীক এ দুটি জায়গাকে বাদ দিয়ে হীন রাজনৈতিক স্বার্থে সরকার তা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে সীমাবদ্ধ রেখেছে। লাখো শহীদের রক্তস্নাত স্মৃতির মিনারের প্রতি অবজ্ঞায় তথাকথিত চেতনা ব্যবসায়ীদের আঘাত না লাগলেও আমাদের লাগে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুরনো ও পরীক্ষিত। তবে এই সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন তথা গণতন্ত্র, নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা। এমন বার্তাই স্পস্ট করে গেলেন জন কেরি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X