বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:৫০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, September 23, 2016 1:50 pm
A- A A+ Print

জমে উঠছে কলসেন্টার : ১০০ কোটি ডলার আয়ের সম্ভাবনা

e5abfb40f9807e434e0207564616d1d8-untitled-20-0

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) সূত্র জানায়, আগে শুধু বিদেশ থেকে আসা আউটসোর্সিংয়ের কাজের ওপর ভরসা করতে হতো। এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে দেশীয় পণ্যসেবার প্রসারের কারণে। এখন অনেক দেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানই কলসেন্টারকে কাজ দিচ্ছে। এমনকি রাজধানীর পানি সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসাও এখন তাদের সেবা আউটসোর্স করেছে। ওয়াসার গ্রাহকসেবার হট নম্বর ১৬১৬২-তে ফোন করলে এখন অত্যন্ত আন্তরিক কণ্ঠের যে তরুণ বা তরুণী ফোন ধরেন, সেটি আসলে এক কলসেন্টার কর্মীর। প্রসারের এই গতি থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এটি একটি বড় খাত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান সম্ভব।

রাজধানীর কয়েকটি কলসেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটিতে ৫০-৬০ জন থেকে শুরু করে দেড় হাজার পর্যন্ত কর্মী কাজ করছেন। ৪০ শতাংশ নারী কর্মী। ১০০ বা তার কাছাকাছি কর্মী নিয়ে চালু থাকা কলসেন্টারগুলো থেকে বার্ষিক আয় আসছে পাঁচ কোটি টাকার কাছাকাছি। আর দেড় হাজার কর্মীর একটি কলসেন্টারের বার্ষিক আয় ৩০ কোটি টাকার বেশি।

দেশের বাইরে থেকেও বিপুল কাজ আসছে। আটটি দেশ থেকে কাজ টেনে আনছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে। কলসেন্টারের উদ্যোক্তারা বলছেন, এটির পরবর্তী বড় বাজার হতে পারে জাপান।

তবে শুধু ফোনে পণ্য ও সেবা গ্রাহকের অভিযোগ শোনাই কলসেন্টারের একমাত্র কাজ নয়। আরও নানা ধরনের কাজ আছে। সেই সব কাজের সঙ্গে ফোনের কোনো যোগ নেই। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন ডেটা (উপাত্ত) প্রসেস করা, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করা, মেডিকেল ট্রান্সক্রিপশন (চিকিৎসকের হাতে লেখা ব্যবস্থাপত্র পড়ে সেটা থেকে ডেটাবেজ তৈরি করা) ইত্যাদি। এই সব কটি কাজকে একত্রে বলা হয় বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও।

২০২১ সাল নাগাদ বিপিও খাতে এক বিলিয়ন ডলার বা আট হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশে বিপিও একটি অগ্রসরমাণ খাত এবং এ খাতে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক অনেকগুলো উপাদান আমাদের আছে। এ খাতে এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।’

বাক্য-এর প্রেসিডেন্ট আহমাদুল হক বলেন, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই এখন কলসেন্টারে তাদের সেবা আউটসোর্স করেছে। এদিক থেকে বললে দেশে স্থানীয় বাজার বাড়ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এ সেবা খাতে যুক্ত হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকিং খাত বিপিওতে যুক্ত হলে বিপিও খাত আরও বড় হবে।

২০১০ সালে আটজন কর্মী নিয়ে শুরু হয়েছিল কলসেন্টার ডিজিকন। এখন দেড় হাজার কর্মী কাজ করছেন রাজধানীর উত্তরা ও নিকুঞ্জে প্রতিষ্ঠানটির দুটি আউটলেটে। দেশি প্রতিষ্ঠানের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও সেবা দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। এটির বার্ষিক আয় ৩০ কোটি টাকার ওপরে। এটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাক্য-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদ শরীফ বলেন, দেশে কলসেন্টারের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। মাত্র কয়েক বছরে স্থানীয় বাজারে চাহিদা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এখন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সেবাও কলসেন্টারে আসতে শুরু করেছে।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের একটি কলসেন্টার হ্যালো ওয়ার্ল্ড। ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই কলসেন্টারে বর্তমানে ৫০০ কর্মী কাজ করছেন। এটির প্রধান নির্বাহী মেজবাহ উদ্দিন জানান, তাঁদের বার্ষিক আয় ৬ কোটি টাকার মতো। দ্রুত কর্মী বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা।

প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কলসেন্টারে কাজ করে এখন সুপারভাইজার (পরিদর্শক) পদে উইন্ডমিল কলসেন্টারে কাজ করছেন নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, অফিসের চাহিদা অনুযায়ী দিনের যেকোনো শিফটে কাজ করার প্রয়োজন পড়ে। প্রত্যেক কর্মীকে দিনে ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যন্ত কল গ্রহণ করতে হয়। আগে কলসেন্টারে গ্রাহক ও কর্মী ছিল কম। গত কয়েক বছরে কর্মী বেড়েছে। এখন দিনে-রাতে সব সময় কাজ হচ্ছে। নারী কর্মীরা সাধারণত সারা রাতের ডিউটি করেন না। তবে নিরাপত্তা পেলে অনেকে হয়তো কাজ করতে রাজি হবেন।

সদ্য একটি কলসেন্টারে যোগ দেওয়া রাফসান রহমান বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি কলসেন্টারে কাজ করছি। এতে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছি। এখানে যাঁরা কাজ করছেন, বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। সবার মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে গেছে।’

২০০৯ সাল থেকে ছাত্র অবস্থায় কলসেন্টারে কাজ করেছেন জায়েদ উদ্দিন। ২০১৪ সালে দাঁড় করান নিজের একটি প্রতিষ্ঠান। এএসএল নামের প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে নন-ভয়েস আউটসোর্সিং নিয়ে। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে গ্রাহকের জন্য রিপোর্ট তৈরি করে দেন।

কলসেন্টার বা সার্বিকভাবে বিপিও খাতের বিপুল সম্ভাবনার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে এ ক্ষেত্রটি নিয়ে কোনো গবেষণা করা হয়নি। সম্প্রতি বিপিও খাতের সার্বিক চিত্র পেতে একটি গবেষণা শুরু করেছে বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিক রহমানপ্রথম আলোকে বলেন, বিপিও খাতে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রথমবারের মতো কাজ হচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এ খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০৭ সালে যখন এর যাত্রা শুরু হয়, তখন মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান ছিল। এখন প্রায় ১০০ প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশে এখন বিপিওর বাজার দাঁড়িয়েছে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার।

ফিফোটেক নামের একটি কলসেন্টারের কর্মী সোনিয়া হাসান বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে কাজ করছেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম হিসেবে কাজ শুরু করেন। এখন পড়াশোনা শেষ করে পূর্ণকালীন কাজ করছেন। ফিফোটেকের কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৫০। এর মধ্যে প্রায় ৩০ জন নারী। ছেলেমেয়ে সবাই একসঙ্গে একই পরিবেশে কাজ করেন বলে খুব ভালো সময় কাটে।

বিটিআরসির সচিব সরওয়ার আলম বলেন, এ খাত সামনে এগিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।

Comments

Comments!

 জমে উঠছে কলসেন্টার : ১০০ কোটি ডলার আয়ের সম্ভাবনাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

জমে উঠছে কলসেন্টার : ১০০ কোটি ডলার আয়ের সম্ভাবনা

Friday, September 23, 2016 1:50 pm
e5abfb40f9807e434e0207564616d1d8-untitled-20-0

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) সূত্র জানায়, আগে শুধু বিদেশ থেকে আসা আউটসোর্সিংয়ের কাজের ওপর ভরসা করতে হতো। এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে দেশীয় পণ্যসেবার প্রসারের কারণে। এখন অনেক দেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানই কলসেন্টারকে কাজ দিচ্ছে। এমনকি রাজধানীর পানি সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসাও এখন তাদের সেবা আউটসোর্স করেছে। ওয়াসার গ্রাহকসেবার হট নম্বর ১৬১৬২-তে ফোন করলে এখন অত্যন্ত আন্তরিক কণ্ঠের যে তরুণ বা তরুণী ফোন ধরেন, সেটি আসলে এক কলসেন্টার কর্মীর। প্রসারের এই গতি থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এটি একটি বড় খাত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান সম্ভব।

রাজধানীর কয়েকটি কলসেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটিতে ৫০-৬০ জন থেকে শুরু করে দেড় হাজার পর্যন্ত কর্মী কাজ করছেন। ৪০ শতাংশ নারী কর্মী। ১০০ বা তার কাছাকাছি কর্মী নিয়ে চালু থাকা কলসেন্টারগুলো থেকে বার্ষিক আয় আসছে পাঁচ কোটি টাকার কাছাকাছি। আর দেড় হাজার কর্মীর একটি কলসেন্টারের বার্ষিক আয় ৩০ কোটি টাকার বেশি।

দেশের বাইরে থেকেও বিপুল কাজ আসছে। আটটি দেশ থেকে কাজ টেনে আনছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে। কলসেন্টারের উদ্যোক্তারা বলছেন, এটির পরবর্তী বড় বাজার হতে পারে জাপান।

তবে শুধু ফোনে পণ্য ও সেবা গ্রাহকের অভিযোগ শোনাই কলসেন্টারের একমাত্র কাজ নয়। আরও নানা ধরনের কাজ আছে। সেই সব কাজের সঙ্গে ফোনের কোনো যোগ নেই। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন ডেটা (উপাত্ত) প্রসেস করা, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করা, মেডিকেল ট্রান্সক্রিপশন (চিকিৎসকের হাতে লেখা ব্যবস্থাপত্র পড়ে সেটা থেকে ডেটাবেজ তৈরি করা) ইত্যাদি। এই সব কটি কাজকে একত্রে বলা হয় বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও।

২০২১ সাল নাগাদ বিপিও খাতে এক বিলিয়ন ডলার বা আট হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশে বিপিও একটি অগ্রসরমাণ খাত এবং এ খাতে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক অনেকগুলো উপাদান আমাদের আছে। এ খাতে এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।’

বাক্য-এর প্রেসিডেন্ট আহমাদুল হক বলেন, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই এখন কলসেন্টারে তাদের সেবা আউটসোর্স করেছে। এদিক থেকে বললে দেশে স্থানীয় বাজার বাড়ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এ সেবা খাতে যুক্ত হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকিং খাত বিপিওতে যুক্ত হলে বিপিও খাত আরও বড় হবে।

২০১০ সালে আটজন কর্মী নিয়ে শুরু হয়েছিল কলসেন্টার ডিজিকন। এখন দেড় হাজার কর্মী কাজ করছেন রাজধানীর উত্তরা ও নিকুঞ্জে প্রতিষ্ঠানটির দুটি আউটলেটে। দেশি প্রতিষ্ঠানের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও সেবা দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। এটির বার্ষিক আয় ৩০ কোটি টাকার ওপরে। এটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাক্য-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদ শরীফ বলেন, দেশে কলসেন্টারের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। মাত্র কয়েক বছরে স্থানীয় বাজারে চাহিদা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এখন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সেবাও কলসেন্টারে আসতে শুরু করেছে।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের একটি কলসেন্টার হ্যালো ওয়ার্ল্ড। ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই কলসেন্টারে বর্তমানে ৫০০ কর্মী কাজ করছেন। এটির প্রধান নির্বাহী মেজবাহ উদ্দিন জানান, তাঁদের বার্ষিক আয় ৬ কোটি টাকার মতো। দ্রুত কর্মী বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা।

প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কলসেন্টারে কাজ করে এখন সুপারভাইজার (পরিদর্শক) পদে উইন্ডমিল কলসেন্টারে কাজ করছেন নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, অফিসের চাহিদা অনুযায়ী দিনের যেকোনো শিফটে কাজ করার প্রয়োজন পড়ে। প্রত্যেক কর্মীকে দিনে ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যন্ত কল গ্রহণ করতে হয়। আগে কলসেন্টারে গ্রাহক ও কর্মী ছিল কম। গত কয়েক বছরে কর্মী বেড়েছে। এখন দিনে-রাতে সব সময় কাজ হচ্ছে। নারী কর্মীরা সাধারণত সারা রাতের ডিউটি করেন না। তবে নিরাপত্তা পেলে অনেকে হয়তো কাজ করতে রাজি হবেন।

সদ্য একটি কলসেন্টারে যোগ দেওয়া রাফসান রহমান বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি কলসেন্টারে কাজ করছি। এতে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছি। এখানে যাঁরা কাজ করছেন, বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। সবার মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে গেছে।’

২০০৯ সাল থেকে ছাত্র অবস্থায় কলসেন্টারে কাজ করেছেন জায়েদ উদ্দিন। ২০১৪ সালে দাঁড় করান নিজের একটি প্রতিষ্ঠান। এএসএল নামের প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে নন-ভয়েস আউটসোর্সিং নিয়ে। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে গ্রাহকের জন্য রিপোর্ট তৈরি করে দেন।

কলসেন্টার বা সার্বিকভাবে বিপিও খাতের বিপুল সম্ভাবনার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে এ ক্ষেত্রটি নিয়ে কোনো গবেষণা করা হয়নি। সম্প্রতি বিপিও খাতের সার্বিক চিত্র পেতে একটি গবেষণা শুরু করেছে বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিক রহমানপ্রথম আলোকে বলেন, বিপিও খাতে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রথমবারের মতো কাজ হচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এ খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০৭ সালে যখন এর যাত্রা শুরু হয়, তখন মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান ছিল। এখন প্রায় ১০০ প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশে এখন বিপিওর বাজার দাঁড়িয়েছে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার।

ফিফোটেক নামের একটি কলসেন্টারের কর্মী সোনিয়া হাসান বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে কাজ করছেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম হিসেবে কাজ শুরু করেন। এখন পড়াশোনা শেষ করে পূর্ণকালীন কাজ করছেন। ফিফোটেকের কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৫০। এর মধ্যে প্রায় ৩০ জন নারী। ছেলেমেয়ে সবাই একসঙ্গে একই পরিবেশে কাজ করেন বলে খুব ভালো সময় কাটে।

বিটিআরসির সচিব সরওয়ার আলম বলেন, এ খাত সামনে এগিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X