রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:০৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, September 4, 2016 8:40 am
A- A A+ Print

‘জাদুকরের’ ছোঁয়ায় মেয়েদের ইতিহাস

0

মেয়েদের থেকে দূরে থাকবেন বলে বিয়েই করতে চাইছিলেন না! বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন সংবাদ সম্মেলনে তথ্যটা জানাতেই কক্ষজুড়ে হাসির রোল। মেয়েদের কি তাহলে অবহেলা করতেন? মোটেও না। তাহলে কি আর এই মেয়েদের দিয়ে ফুটবলে এত সুন্দর ফুল ফোটাতে পারতেন? তাঁর হাতে যেন জাদুর কাঠি। ওটা যেখানেই ছুঁইয়েছেন, সোনা ফলেছে। দুই বছর আগে বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৪ দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। নেপালে গত বছর এএফসির আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা হয় বাংলাদেশ। গত মে মাসে তাজিকিস্তানে একই প্রতিযোগিতায় আবারও চ্যাম্পিয়ন। এবার এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাইপর্ব পেরিয়ে তাঁর হাত ধরেই চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ। এমন ইতিহাস গড়ার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ কোচ ভীষণ উচ্ছ্বসিত। আবেগাপ্লুত কোচ স্মরণ করলেন বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের পথপ্রদর্শক সংগঠক প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম বাচ্চুকে, ‘আজকের এই জয়, এই অর্জন আমরা উৎসর্গ করলাম সিরাজুল ইসলাম বাচ্চুকে।’ মেয়েদের ফুটবলকে একটা অবস্থানে নিয়ে আসতে পারায় তৃপ্তি তাঁকে ছুঁয়ে যাচ্ছে গভীরভাবে, ‘মহিলা ফুটবলে আসব কি না এটাই ঠিক ছিল না। শুরুতে ভিআইপিতে বসা অনেকে হাসাহাসি করেছে আমাকে দেখে। মহিলা দলের কোচ হব, এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন মনে হচ্ছে কিছুটা হলেও সফল।’ শক্তিশালী চীনা তাইপেকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বে ওঠার পুরো কৃতিত্ব দিলেন মেয়েদের, ‘ইরান ও চীনা তাইপেকে শক্তিশালী ভেবেছিলাম। কিন্তু আমার মেয়েরা প্রমাণ করেছে ওরাই সেরা। আমি এই মেয়েদের স্যালুট জানাই। ওরা আজ ইতিহাস গড়েছে।’ শুরুতেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু রব্বানী কখনোই ভাবেননি ম্যাচ হাতছাড়া হবে, ‘তাইপে শক্তিশালী জানতাম। ওরা আগে গোল পেতে পারে, সেটাও জানতাম। কিন্তু ওদের বলেছিলাম দুশ্চিন্তা করা যাবে না। খেলতে হবে ৯০ মিনিট। আগের তিন ম্যাচ যেভাবে খেলেছ, সেভাবেই খেলতে হবে। ইনশা আল্লাহ, সুযোগ আমাদের আসবেই।’ ম্যাচে বাংলাদেশ খেলেছে দাপটের সঙ্গে। উল্টো চাপে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে চীনা তাইপে। তাই তো তাদের দুটি লাল কার্ড, পেনাল্টিতে খেয়েছে দুটি গোল। ফুটবল ঐতিহ্যে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে তাইপে। মেয়েদের সিনিয়র দলের র্যা ঙ্কিং ৩৮। বাংলাদেশ ১২১-এ। তারপরও ওদের হারানোর রহস্যটা বললেন রব্বানী, ‘মহিলা উইংসহ সবাই যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। আমরা ফুটবলার বাছাই করেছি সততার সঙ্গে। আড়াই মাস কঠোর অনুশীলন করেছি। তাই এই ফল।’ বাংলাদেশের খেলার প্রশংসা করলেন চীনা তাইপের কোচ চাং জু সান। তাঁর মুখে শুধু কৃষ্ণার কথা, ‘দশ জনের দল হয়ে এগারো জনের সঙ্গে খেলাটা কঠিন। তবে বাংলাদেশ গতিময় ফুটবল খেলেছে। বিশেষ করে, ১২ নম্বর (কৃষ্ণা) আমাদের গোলরক্ষককে সারাক্ষণ ব্যস্ত রেখেছে।’ কৃষ্ণার নিজেরও ছিল এমন একটা ক্ষণের অপেক্ষা, ‘প্রতিদিন আমরা শপথ করেছি বাংলাদেশকে একটা জায়গায় নিয়ে যাব। সেটা আমরা পেরেছি।’ হাতে অধিনায়কত্বের বন্ধনী। কৃষ্ণা নেতৃত্ব দিয়েছে সামনে থেকেই, ‘গোল খাওয়ার পর কিছুই মনে হয়নি। কারণ, যখন গোল খাই তখনো ৮০ মিনিট বাকি ছিল ম্যাচের। কখনোই যেন আমাদের মন না ভেঙে যায়, সেই দিকে লক্ষ রেখেছিলাম। সবাইকে বলেছিলাম, গোল খেয়েছি, ব্যাপার না। আমরাও গোল করব।’

Comments

Comments!

 ‘জাদুকরের’ ছোঁয়ায় মেয়েদের ইতিহাসAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘জাদুকরের’ ছোঁয়ায় মেয়েদের ইতিহাস

Sunday, September 4, 2016 8:40 am
0

মেয়েদের থেকে দূরে থাকবেন বলে বিয়েই করতে চাইছিলেন না! বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন সংবাদ সম্মেলনে তথ্যটা জানাতেই কক্ষজুড়ে হাসির রোল। মেয়েদের কি তাহলে অবহেলা করতেন? মোটেও না। তাহলে কি আর এই মেয়েদের দিয়ে ফুটবলে এত সুন্দর ফুল ফোটাতে পারতেন? তাঁর হাতে যেন জাদুর কাঠি। ওটা যেখানেই ছুঁইয়েছেন, সোনা ফলেছে।
দুই বছর আগে বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৪ দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। নেপালে গত বছর এএফসির আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা হয় বাংলাদেশ। গত মে মাসে তাজিকিস্তানে একই প্রতিযোগিতায় আবারও চ্যাম্পিয়ন। এবার এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাইপর্ব পেরিয়ে তাঁর হাত ধরেই চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ।
এমন ইতিহাস গড়ার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ কোচ ভীষণ উচ্ছ্বসিত। আবেগাপ্লুত কোচ স্মরণ করলেন বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের পথপ্রদর্শক সংগঠক প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম বাচ্চুকে, ‘আজকের এই জয়, এই অর্জন আমরা উৎসর্গ করলাম সিরাজুল ইসলাম বাচ্চুকে।’
মেয়েদের ফুটবলকে একটা অবস্থানে নিয়ে আসতে পারায় তৃপ্তি তাঁকে ছুঁয়ে যাচ্ছে গভীরভাবে, ‘মহিলা ফুটবলে আসব কি না এটাই ঠিক ছিল না। শুরুতে ভিআইপিতে বসা অনেকে হাসাহাসি করেছে আমাকে দেখে। মহিলা দলের কোচ হব, এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন মনে হচ্ছে কিছুটা হলেও সফল।’
শক্তিশালী চীনা তাইপেকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বে ওঠার পুরো কৃতিত্ব দিলেন মেয়েদের, ‘ইরান ও চীনা তাইপেকে শক্তিশালী ভেবেছিলাম। কিন্তু আমার মেয়েরা প্রমাণ করেছে ওরাই সেরা। আমি এই মেয়েদের স্যালুট জানাই। ওরা আজ ইতিহাস গড়েছে।’
শুরুতেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু রব্বানী কখনোই ভাবেননি ম্যাচ হাতছাড়া হবে, ‘তাইপে শক্তিশালী জানতাম। ওরা আগে গোল পেতে পারে, সেটাও জানতাম। কিন্তু ওদের বলেছিলাম দুশ্চিন্তা করা যাবে না। খেলতে হবে ৯০ মিনিট। আগের তিন ম্যাচ যেভাবে খেলেছ, সেভাবেই খেলতে হবে। ইনশা আল্লাহ, সুযোগ আমাদের আসবেই।’
ম্যাচে বাংলাদেশ খেলেছে দাপটের সঙ্গে। উল্টো চাপে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে চীনা তাইপে। তাই তো তাদের দুটি লাল কার্ড, পেনাল্টিতে খেয়েছে দুটি গোল।
ফুটবল ঐতিহ্যে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে তাইপে। মেয়েদের সিনিয়র দলের র্যা ঙ্কিং ৩৮। বাংলাদেশ ১২১-এ। তারপরও ওদের হারানোর রহস্যটা বললেন রব্বানী, ‘মহিলা উইংসহ সবাই যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। আমরা ফুটবলার বাছাই করেছি সততার সঙ্গে। আড়াই মাস কঠোর অনুশীলন করেছি। তাই এই ফল।’
বাংলাদেশের খেলার প্রশংসা করলেন চীনা তাইপের কোচ চাং জু সান। তাঁর মুখে শুধু কৃষ্ণার কথা, ‘দশ জনের দল হয়ে এগারো জনের সঙ্গে খেলাটা কঠিন। তবে বাংলাদেশ গতিময় ফুটবল খেলেছে। বিশেষ করে, ১২ নম্বর (কৃষ্ণা) আমাদের গোলরক্ষককে সারাক্ষণ ব্যস্ত রেখেছে।’
কৃষ্ণার নিজেরও ছিল এমন একটা ক্ষণের অপেক্ষা, ‘প্রতিদিন আমরা শপথ করেছি বাংলাদেশকে একটা জায়গায় নিয়ে যাব। সেটা আমরা পেরেছি।’
হাতে অধিনায়কত্বের বন্ধনী। কৃষ্ণা নেতৃত্ব দিয়েছে সামনে থেকেই, ‘গোল খাওয়ার পর কিছুই মনে হয়নি। কারণ, যখন গোল খাই তখনো ৮০ মিনিট বাকি ছিল ম্যাচের। কখনোই যেন আমাদের মন না ভেঙে যায়, সেই দিকে লক্ষ রেখেছিলাম। সবাইকে বলেছিলাম, গোল খেয়েছি, ব্যাপার না। আমরাও গোল করব।’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X