রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:১৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, May 28, 2017 12:53 am
A- A A+ Print

জাহাঙ্গীরনগরে পুলিশের হামলা, উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর

69f9a0e76e6fde02d2ed5c38ef5c17ba-5929a7ca457ed

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। এ ঘটনার জের ধরে আজ শনিবার বিকেলে উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল দুপুর পৌনে ১২টা থেকে বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল-সংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাজমুল হাসান ও মেহেদি হাসান নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, গতিরোধক, পদচারী-সেতু নির্মাণসহ আরও কয়েকটি দাবিতে প্রধান ফটক-সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে মহাসড়কে পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা একটার দিকে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম, সহ-উপাচার্য মো. আবুল হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা। বেলা দুইটার দিকে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি জুয়েল রানা, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলসহ আরও কয়েকজন নেতা আন্দোলনকারী কয়েকজনকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেলা তিনটার দিকে উপাচার্য আবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বিচারের দাবি করেন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় খুললে বিচার করবেন বলে আশ্বাস দেন। কারণ, এখন গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাঁর কথায় আশ্বস্ত হননি। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সাভার ও আশুলিয়া থানার পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিপেটা করে। এতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। আহত হন জাগোনিউজটোয়েন্টিফোরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী অনামিকা নাগ, উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক অয়নসহ সাত-আটজন। আহত শিক্ষার্থীদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাফিজসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগ করেন, পরিচয় দেওয়ার পরও এক পুলিশ সদস্য হাফিজের পিঠে রাবার বুলেট ছোড়েন। এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আজিম বলেন, ‘মহাসড়ক সচল রাখতে আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’ সাংবাদিককে গুলি করার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে, এখনই তা বলা সম্ভব নয়। এ ঘটনার জের ধরে বিকেলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করার পরও উপাচার্য না এলে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা জানালার কাচ, বাতি ভাঙচুর করেন ও সিসি ক্যামেরা খুলে ঘুরিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন তাঁরা। গতকাল রাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের এক নেতা বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগ, নিহত ছাত্রদের ক্ষতিপূরণ এবং হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা ও পুলিশের বিচারের দাবিতে তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।

Comments

Comments!

 জাহাঙ্গীরনগরে পুলিশের হামলা, উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

জাহাঙ্গীরনগরে পুলিশের হামলা, উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর

Sunday, May 28, 2017 12:53 am
69f9a0e76e6fde02d2ed5c38ef5c17ba-5929a7ca457ed

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। এ ঘটনার জের ধরে আজ শনিবার বিকেলে উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল দুপুর পৌনে ১২টা থেকে বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
গতকাল শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল-সংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাজমুল হাসান ও মেহেদি হাসান নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, গতিরোধক, পদচারী-সেতু নির্মাণসহ আরও কয়েকটি দাবিতে প্রধান ফটক-সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে মহাসড়কে পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
বেলা একটার দিকে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম, সহ-উপাচার্য মো. আবুল হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
বেলা দুইটার দিকে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি জুয়েল রানা, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলসহ আরও কয়েকজন নেতা আন্দোলনকারী কয়েকজনকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বেলা তিনটার দিকে উপাচার্য আবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বিচারের দাবি করেন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় খুললে বিচার করবেন বলে আশ্বাস দেন। কারণ, এখন গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাঁর কথায় আশ্বস্ত হননি।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সাভার ও আশুলিয়া থানার পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিপেটা করে। এতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। আহত হন জাগোনিউজটোয়েন্টিফোরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী অনামিকা নাগ, উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক অয়নসহ সাত-আটজন। আহত শিক্ষার্থীদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাফিজসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগ করেন, পরিচয় দেওয়ার পরও এক পুলিশ সদস্য হাফিজের পিঠে রাবার বুলেট ছোড়েন।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আজিম বলেন, ‘মহাসড়ক সচল রাখতে আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’ সাংবাদিককে গুলি করার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে, এখনই তা বলা সম্ভব নয়।
এ ঘটনার জের ধরে বিকেলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করার পরও উপাচার্য না এলে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা জানালার কাচ, বাতি ভাঙচুর করেন ও সিসি ক্যামেরা খুলে ঘুরিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন তাঁরা।
গতকাল রাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের এক নেতা বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগ, নিহত ছাত্রদের ক্ষতিপূরণ এবং হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা ও পুলিশের বিচারের দাবিতে তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X