সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ভোর ৫:৪৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, January 19, 2017 9:58 pm
A- A A+ Print

জাহানারা ইমামের আন্দোলন পূর্ণতা পেয়েছে

49

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদজননী জাহানারা ইমাম যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, সেটি এখন পূর্ণতা পেয়েছে বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এই বিচারের মধ্যে দিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির রজতজয়ন্তী ও সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এ কথা বলেন। সকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। দুপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বিকেলে মূল আলোচনা অনুষ্ঠানের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের সম্মেলনে ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার দাবি উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানের শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘২৫ বছর আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে জাহানারা ইমাম আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। এই বিচার সম্পাদনের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে যেমন আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি, তেমনি আইনের শাসনেরও প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এটি জাতির গর্বের বিষয়। নির্মূল কমিটির হাত ধরেই এই বিচার হয়েছে।’ শিরীন শারমিন বলেন, ২৫ বছর আগে জাহানারা ইমাম যে বৈরী সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তুলেছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধুর হত্যা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা, ভয়ভীতি—কোনো কিছুই এই আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পারেনি। আজকে ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক সমাজ গড়ার যে দাবি, সেটা সংবিধানের মূল কথা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান স্পিকার। এর আগে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আজকের এই দিনে শ্রদ্ধাভরে জাহানারা ইমামকে স্মরণ করছি। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়াউর রহমান আস্তাকুঁড় থেকে তুলে এনে রাজাকারদের রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলেন। জাহানারা ইমাম এই আন্দোলন শুরু করার পরে রাজনৈতিক দলগুলো সমর্থন দিয়েছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোট যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল এবং বিচার করেছে। যুদ্ধাপরাধী যে দলেরই হোক বিচার হবে।’ হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশে দুটি দল। একটির নেতৃত্বে শেখ হাসিনা, আরেকটার বেগম খালেদা জিয়া। আজকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। জঙ্গিদের বিচার হচ্ছে। এই যুদ্ধাপরাধী জঙ্গিবাদের যিনি পৃষ্ঠপোষক, সেই খালেদা জিয়ারও বিচার হতে হবে। নির্বাচনের অগেই অনেকেই বলেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে। মিটমাট করতে। কিন্তু জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে মিটমাট হয় না। অনুষ্ঠানের সভাপতি সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, ‘পৃথিবীর খুব কম সংবিধানেই অঙ্গীকার আছে। বাংলাদেশের সংবিধানে সেটা ছিল। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু ২০১১ সালের ৩০ জুন আমরা আগের সংবিধানে ফিরে গেছি। মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ, সেটা জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’ অনুষ্ঠানের আরেক আলোচক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম জামায়াতকে নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জামায়াতের সবকিছু চুরমার করে দিতে হবে। নুজহাত চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্ত, মুক্তিযোদ্ধা আয়েশা খান, সাংবাদিক হারুন হাবিব, শাহীন রেজা নূর প্রমুখ।

Comments

Comments!

 জাহানারা ইমামের আন্দোলন পূর্ণতা পেয়েছেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

জাহানারা ইমামের আন্দোলন পূর্ণতা পেয়েছে

Thursday, January 19, 2017 9:58 pm
49

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদজননী জাহানারা ইমাম যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, সেটি এখন পূর্ণতা পেয়েছে বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এই বিচারের মধ্যে দিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির রজতজয়ন্তী ও সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এ কথা বলেন। সকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। দুপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বিকেলে মূল আলোচনা অনুষ্ঠানের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের সম্মেলনে ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার দাবি উঠে এসেছে।

অনুষ্ঠানের শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘২৫ বছর আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে জাহানারা ইমাম আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। এই বিচার সম্পাদনের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে যেমন আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি, তেমনি আইনের শাসনেরও প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এটি জাতির গর্বের বিষয়। নির্মূল কমিটির হাত ধরেই এই বিচার হয়েছে।’

শিরীন শারমিন বলেন, ২৫ বছর আগে জাহানারা ইমাম যে বৈরী সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তুলেছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধুর হত্যা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা, ভয়ভীতি—কোনো কিছুই এই আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পারেনি। আজকে ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক সমাজ গড়ার যে দাবি, সেটা সংবিধানের মূল কথা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান স্পিকার।

এর আগে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আজকের এই দিনে শ্রদ্ধাভরে জাহানারা ইমামকে স্মরণ করছি। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়াউর রহমান আস্তাকুঁড় থেকে তুলে এনে রাজাকারদের রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলেন। জাহানারা ইমাম এই আন্দোলন শুরু করার পরে রাজনৈতিক দলগুলো সমর্থন দিয়েছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোট যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল এবং বিচার করেছে। যুদ্ধাপরাধী যে দলেরই হোক বিচার হবে।’

হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশে দুটি দল। একটির নেতৃত্বে শেখ হাসিনা, আরেকটার বেগম খালেদা জিয়া। আজকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। জঙ্গিদের বিচার হচ্ছে। এই যুদ্ধাপরাধী জঙ্গিবাদের যিনি পৃষ্ঠপোষক, সেই খালেদা জিয়ারও বিচার হতে হবে। নির্বাচনের অগেই অনেকেই বলেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে। মিটমাট করতে। কিন্তু জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে মিটমাট হয় না।

অনুষ্ঠানের সভাপতি সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, ‘পৃথিবীর খুব কম সংবিধানেই অঙ্গীকার আছে। বাংলাদেশের সংবিধানে সেটা ছিল। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু ২০১১ সালের ৩০ জুন আমরা আগের সংবিধানে ফিরে গেছি। মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ, সেটা জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

অনুষ্ঠানের আরেক আলোচক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম জামায়াতকে নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জামায়াতের সবকিছু চুরমার করে দিতে হবে।

নুজহাত চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্ত, মুক্তিযোদ্ধা আয়েশা খান, সাংবাদিক হারুন হাবিব, শাহীন রেজা নূর প্রমুখ।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X