মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৪০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, December 12, 2016 2:38 am | আপডেটঃ December 12, 2016 2:40 AM
A- A A+ Print

ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ৫৪ হাজার কোটি টাকা

bb_33591_1481488000

লাগামহীন দুর্নীতি ও সীমাহীন লুটপাটের কারণে ব্যাংকিং খাতে মন্দ ঋণের পরিমাণ বেড়েই যাচ্ছে। এজন্য পরিচালকদের ঋণ ভাগাভাগি, যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ বিতরণ ও পুনর্গঠিত ঋণ বারবার খেলাপি হওয়ার বিষয়টি বেশি দায়ী বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংক খাত এক সময় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন লাখ লাখ সাধারণ গ্রাহক। কেননা এসব অর্থের বেশির ভাগ অংশের মালিক তারা। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে যোগসাজশ করে যেসব ঋণ বিতরণ করা হয়েছে সেগুলো এখন খেলাপি। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে এবং পরিচালকদের ভাগাভাগি করে নেয়া ঋণ আদায় হচ্ছে না। সাধারণত এ ধরনের ঋণ আর ফেরত আসে না। সে কারণে মন্দ বা ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ ৬৫ হাজার ৭৩১ কোটি ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ রয়েছে ৫৪ হাজার ১৭৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকে মন্দ ঋণ একদিনে হয়নি। কয়েক বছর ধরে ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে ঋণ বিতরণ করেনি। দুর্নীতি ও বড়লোকদের যোগসাজশে দেয়া ঋণ বেশির ভাগই এখন ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপির তালিকায়। এসব ঋণ আর ফেরত আসবে না। তবে এ ধারা বন্ধ করতে হলে দুর্নীতি ও অদক্ষতা দূর করতে হবে। এদিকে প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি ৬ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ২৫ হাজার ৩৫০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ২১ দশমিক ২৯ শতাংশ। একইভাবে সরকারি বিশেষায়িত ২ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ৪ হাজার ৭৪০ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ৩৯টি ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং বিদেশী ৯ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৯৬ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বেপরোয়াভাবে ঋণ নিচ্ছে কিছু লোক। কাউকে তোয়াক্কা করছে না। ঋণ ফেরত না দিলে কিছুই হবে না- এমন ধারণা থেকে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। কারণ এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এর আগে জুন প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ রয়েছে ৫০ হাজার ৬৫৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। তথ্যে আরও দেখা যায়, জুন শেষে সরকারি ৬ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ছিল ২৪ হাজার ৯৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ২০ দশমিক ৬২ শতাংশ। সরকারি বিশেষায়িত ২ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ৪ হাজার ৭৪০ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ৩৯টি ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ১৯ হাজার ৮৫২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। বিদেশী ৯ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৯৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। একইভাবে মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৫৯ হাজার ৪১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ রয়েছে ৪৭ হাজার ২৫৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর আগে মার্চ শেষে সরকারি ৬ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৭৮২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ২০ দশমিক ২৬ শতাংশ। সরকারি বিশেষায়িত ২ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ৩ হাজার ৯০৯ কোটি ৩ লাখ টাকা, যা ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ৩৯টি ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ১৮ হাজার ৯৫৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ ও বিদেশী ৯ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৬১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

Comments

Comments!

 ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ৫৪ হাজার কোটি টাকাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ৫৪ হাজার কোটি টাকা

Monday, December 12, 2016 2:38 am | আপডেটঃ December 12, 2016 2:40 AM
bb_33591_1481488000

লাগামহীন দুর্নীতি ও সীমাহীন লুটপাটের কারণে ব্যাংকিং খাতে মন্দ ঋণের পরিমাণ বেড়েই যাচ্ছে। এজন্য পরিচালকদের ঋণ ভাগাভাগি, যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ বিতরণ ও পুনর্গঠিত ঋণ বারবার খেলাপি হওয়ার বিষয়টি বেশি দায়ী বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংক খাত এক সময় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন লাখ লাখ সাধারণ গ্রাহক। কেননা এসব অর্থের বেশির ভাগ অংশের মালিক তারা।
জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে যোগসাজশ করে যেসব ঋণ বিতরণ করা হয়েছে সেগুলো এখন খেলাপি। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে এবং পরিচালকদের ভাগাভাগি করে নেয়া ঋণ আদায় হচ্ছে না। সাধারণত এ ধরনের ঋণ আর ফেরত আসে না। সে কারণে মন্দ বা ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ ৬৫ হাজার ৭৩১ কোটি ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ রয়েছে ৫৪ হাজার ১৭৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকে মন্দ ঋণ একদিনে হয়নি। কয়েক বছর ধরে ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে ঋণ বিতরণ করেনি। দুর্নীতি ও বড়লোকদের যোগসাজশে দেয়া ঋণ বেশির ভাগই এখন ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপির তালিকায়। এসব ঋণ আর ফেরত আসবে না। তবে এ ধারা বন্ধ করতে হলে দুর্নীতি ও অদক্ষতা দূর করতে হবে।

এদিকে প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি ৬ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ২৫ হাজার ৩৫০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ২১ দশমিক ২৯ শতাংশ। একইভাবে সরকারি বিশেষায়িত ২ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ৪ হাজার ৭৪০ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ৩৯টি ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং বিদেশী ৯ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৯৬ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বেপরোয়াভাবে ঋণ নিচ্ছে কিছু লোক। কাউকে তোয়াক্কা করছে না। ঋণ ফেরত না দিলে কিছুই হবে না- এমন ধারণা থেকে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। কারণ এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এর আগে জুন প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ রয়েছে ৫০ হাজার ৬৫৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

তথ্যে আরও দেখা যায়, জুন শেষে সরকারি ৬ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ছিল ২৪ হাজার ৯৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ২০ দশমিক ৬২ শতাংশ। সরকারি বিশেষায়িত ২ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ৪ হাজার ৭৪০ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ৩৯টি ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ১৯ হাজার ৮৫২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

বিদেশী ৯ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৯৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। একইভাবে মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৫৯ হাজার ৪১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ রয়েছে ৪৭ হাজার ২৫৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

এর আগে মার্চ শেষে সরকারি ৬ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৭৮২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ২০ দশমিক ২৬ শতাংশ। সরকারি বিশেষায়িত ২ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ৩ হাজার ৯০৯ কোটি ৩ লাখ টাকা, যা ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ৩৯টি ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ১৮ হাজার ৯৫৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ ও বিদেশী ৯ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৬১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X