বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:৪২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, January 31, 2017 8:58 am
A- A A+ Print

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত : ভিসাধারীদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পরামর্শ

১৪

সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে তীব্র প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। এই সাত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকলেও বাংলাদেশিদের মধ্যে, বিশেষত বৈধ কাগজপত্র নেই, এমন অভিবাসীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভিসাধারী ব্যক্তিদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশি ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ড্রাম’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে যাঁদের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাঁদের যথাসম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত হবে। এই সংস্থার একজন মুখপাত্র প্রথম আলোকে জানান, যাঁদের গ্রিন কার্ড রয়েছে, তাঁদের এই মুহূর্তে দেশের বাইরে ভ্রমণে না যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তিনি বলেন, গত রোববার জেএফকে এয়ারপোর্টে তাঁরা মরক্কোর একটি পরিবারের সাক্ষাৎ পেয়েছেন, যাঁদের গ্রিন কার্ডধারী একাধিক সদস্যকে দুবাই এয়ারপোর্টে আটকে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, নিষিদ্ধঘোষিত সাতটি দেশের মধ্যে মরক্কো নেই।

‘ড্রাম’ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রিন কার্ডধারী বাংলাদেশিরা, যাঁরা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাঁদের সত্বর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে। এই সংস্থার একজন মুখপাত্র প্রথম আলোকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এমন ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন, যাঁরা এফ-১ ভিসা পেয়েছেন, তাঁদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে আসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

গত রোববার নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের এই নির্দেশ ‘যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধবিরোধী’ ও ‘বিদ্বেষমূলক’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করে। এদিন স্টাচু অব লিবার্টির অনতিদূরে ব্যাটারি পার্কে বিভিন্ন বর্ণের ও দেশের কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। অনেকের হাতে ধরা প্লাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমি একজন মুসলিম’। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন।

নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতের নির্দেশে বিমানবন্দরে আটক বৈধ ভিসাধারী যাত্রীদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এখনো কতজন আটক রয়েছেন, সে কথা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার করে জানায়নি। বোস্টনের একটি আদালতও অনুরূপ আদেশ দেওয়ায় লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে কয়েকজন যাত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

ট্রাম্পের মুসলিম নিষিদ্ধকরণ আদেশের যাঁরা প্রতিবাদ করেছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার। তিনি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ব্যাটারি পার্কের সমাবেশে অংশ নেন। একাধিক মুসলিম পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের ফলে আমেরিকা অধিক নিরাপদ হওয়ার বদলে বিপদগ্রস্ত হবে। শুমার বলেন, জেএফকে এয়ারপোর্টে আটক ৪২ জন যাত্রীকে যাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো যাঁরা আটক আছেন, তাঁদের মুক্তির জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্পের আদেশ বাতিল করার লক্ষ্যে তিনি অবিলম্বে সিনেটে প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। একাধিক রিপাবলিকান সিনেটর তাঁর প্রস্তাবের পক্ষে আছেন বলে শুমার জানান।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেছেন, একটি ধর্মের মানুষকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিষিদ্ধ করার এই চেষ্টা যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করা হবে। প্রয়োজনবোধে তাঁরা আদালতের আশ্রয় নেবেন। মেয়র ডি ব্লাজিও সিএনএনকে বলেন, এই শহরে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীর সংখ্যা পাঁচ লাখের মতো হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ট্রাম্পের এই নিষিদ্ধ আদেশ সম্ভবত মুসলিমদের তালিকাভুক্ত করার প্রথম পদক্ষেপ।

Comments

Comments!

 ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত : ভিসাধারীদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পরামর্শAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত : ভিসাধারীদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পরামর্শ

Tuesday, January 31, 2017 8:58 am
১৪

সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে তীব্র প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। এই সাত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকলেও বাংলাদেশিদের মধ্যে, বিশেষত বৈধ কাগজপত্র নেই, এমন অভিবাসীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভিসাধারী ব্যক্তিদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশি ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ড্রাম’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে যাঁদের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাঁদের যথাসম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত হবে। এই সংস্থার একজন মুখপাত্র প্রথম আলোকে জানান, যাঁদের গ্রিন কার্ড রয়েছে, তাঁদের এই মুহূর্তে দেশের বাইরে ভ্রমণে না যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তিনি বলেন, গত রোববার জেএফকে এয়ারপোর্টে তাঁরা মরক্কোর একটি পরিবারের সাক্ষাৎ পেয়েছেন, যাঁদের গ্রিন কার্ডধারী একাধিক সদস্যকে দুবাই এয়ারপোর্টে আটকে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, নিষিদ্ধঘোষিত সাতটি দেশের মধ্যে মরক্কো নেই।

‘ড্রাম’ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রিন কার্ডধারী বাংলাদেশিরা, যাঁরা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাঁদের সত্বর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে। এই সংস্থার একজন মুখপাত্র প্রথম আলোকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এমন ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন, যাঁরা এফ-১ ভিসা পেয়েছেন, তাঁদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে আসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

গত রোববার নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের এই নির্দেশ ‘যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধবিরোধী’ ও ‘বিদ্বেষমূলক’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করে। এদিন স্টাচু অব লিবার্টির অনতিদূরে ব্যাটারি পার্কে বিভিন্ন বর্ণের ও দেশের কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। অনেকের হাতে ধরা প্লাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমি একজন মুসলিম’। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন।

নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতের নির্দেশে বিমানবন্দরে আটক বৈধ ভিসাধারী যাত্রীদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এখনো কতজন আটক রয়েছেন, সে কথা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার করে জানায়নি। বোস্টনের একটি আদালতও অনুরূপ আদেশ দেওয়ায় লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে কয়েকজন যাত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

ট্রাম্পের মুসলিম নিষিদ্ধকরণ আদেশের যাঁরা প্রতিবাদ করেছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার। তিনি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ব্যাটারি পার্কের সমাবেশে অংশ নেন। একাধিক মুসলিম পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের ফলে আমেরিকা অধিক নিরাপদ হওয়ার বদলে বিপদগ্রস্ত হবে। শুমার বলেন, জেএফকে এয়ারপোর্টে আটক ৪২ জন যাত্রীকে যাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো যাঁরা আটক আছেন, তাঁদের মুক্তির জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্পের আদেশ বাতিল করার লক্ষ্যে তিনি অবিলম্বে সিনেটে প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। একাধিক রিপাবলিকান সিনেটর তাঁর প্রস্তাবের পক্ষে আছেন বলে শুমার জানান।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেছেন, একটি ধর্মের মানুষকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিষিদ্ধ করার এই চেষ্টা যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করা হবে। প্রয়োজনবোধে তাঁরা আদালতের আশ্রয় নেবেন। মেয়র ডি ব্লাজিও সিএনএনকে বলেন, এই শহরে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীর সংখ্যা পাঁচ লাখের মতো হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ট্রাম্পের এই নিষিদ্ধ আদেশ সম্ভবত মুসলিমদের তালিকাভুক্ত করার প্রথম পদক্ষেপ।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X