শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:৪২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, July 27, 2017 8:17 am
A- A A+ Print

ঢাকার রাস্তায় পানিপথের যুদ্ধ

1

থই থই পানি। সড়কে। ফুটপাথে। বাড়ির নিচ তলায়। বুধবার সকালে পানিতে যেন ভাসছিল রাজধানী। প্রধান প্রধান সড়কে কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান পানি। পাড়া-মহল্লার সড়কে কাদা-পানি একাকার। গতকাল রাজধানীতে এমন চিত্রই ছিল সর্বত্র। রাত থেকে ভারি বর্ষণে সকালে জলমগ্ন হয়ে পড়ে রাজধানীর সড়ক, অলিগলি। ড্রেন-নালা একাকার হয়ে রাজধানী রূপ নেয় এক পানির নগরে। থই থই পানিতে অনেক জায়গায় যানবাহন আটকে যাওয়ায় নগরজুড়ে তৈরি হয় যানজট। এতে সকালে ঘর থেকে বের হয়েই দুর্ভোগে পড়েন কোটি নগরবাসী। বৃষ্টি আর পানির কারণে যানবাহন না পেয়ে রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কেটেছে মানুষের। আর যারা যানবাহনে উঠতে পেরেছেন তারাও বসে ছিলেন ঠাঁয়। বৃষ্টি ও জল দুর্ভোগে সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবীদের অনেকে সময়মতো কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে পারেননি। সকাল থেকে শিক্ষার্থীদেরও ছিল সীমাহীন দুর্ভোগ। জলে জবুথুবু মানুষকে দিনভর ভোগান্তি পোহাতে দেখা গেছে সড়কে সড়কে। বৃষ্টির পানিতে জাতীয় সংসদের পাশের মানিক মিয়া এভিনিউ, সংসদ কম্পাউন্ডের ভেতরের সড়ক, সচিবালয়ের ভেতরের রাস্তায় ছিল হাঁটুপানি। ব্যাংকপাড়া মতিঝিলে কোথাও ছিল কোমর পানি। পানি ডিঙিয়ে ওই এলাকায় ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। আর গণপরিবহনগুলো এক সারি হয়ে চলেছে কচ্ছপগতিতে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত রাজধানীতে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে দুপুরের পর তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ বৃষ্টি থামার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। বৃষ্টির কারণে রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ, শান্তিনগর, কাকরাই?ল, মগবাজার, কাঁঠালবাগান, রাজারবাগ, কাওরান বাজার, ধানমন্ডি, আসাদগেট, শ্যামলী, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, খিলগাঁও, রামপুরা, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, পল্টন, মতিঝিলসহ পুরান ঢাকার বেশকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এদিকে বৃষ্টি থামার পর ঢাকার দুই মেয়র পরিস্থিতি দেখতে সড়কে বের হয়েছিলেন। মিরপুর রোডের আসাদগেট এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন হাঁটু পানি ভেঙে রাস্তা পার হন। এসময় ওই সড়ক প্রায় স্থবির হয়েছিল পানি আর যানজটে। ঢাকা উত্তরের মেয়রও সড়ক পরিদর্শনে গিয়ে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনে তৈরি হওয়া এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব না। তবে সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। কাওরান বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফ হোসেনের সঙ্গে। অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। আজকে অফিসে যাওয়া হয়নি। ঢাকা শহরে তো নৌকা নিয়ে চলতে হবে। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিপু বলেন, রাস্তায় অনেক পানি। ভাঙা ড্রেনে পড়ে কোমর পর্যন্ত ভিজে গেছে। মানুষের এই কষ্ট দেখবে কে? শাহজাহানপুর থেকে কাওরান বাজার অফিসে যেতে বের হয়ে বিপাকে পড়েন আবদুল মালিক। পানিতে সড়ক আর ফুটপাথ একাকার।  হেঁটে সড়কে চলতে গিয়ে নালায় পড়ে আহত হন তিনি। দুপুরে যখন তিনি অফিসে আসেন তখন তার পায়ে ব্যান্ডেজ। অফিসে আসার পথে মৌচাক-মগবাজার এলাকায় দীর্ঘসময় যানজটে পড়ে থাকতে হয় তাকে। তিনি বলেন, শহরের অবস্থা দিন দিন খুবই খারাপ হচ্ছে। আর কিছুদিন পর এটা বাসযোগ্য শহর থাকবে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা  হয়। এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েন কাঁঠালবাগান এলাকার কয়েক শ’ পরিবার। গতকাল দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, তাদের ঘরে পানি উঠে গেছে। রান্না-বান্নাও বন্ধ। পানির কারণে শৌচাগারেও যেতে পারছেন না তারা। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তাদেরকে। ওই এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার আলী বলেন, বৃষ্টি হলেই পানি উঠে যায়। অনেক সমস্যার মধ্যে আছি। এখানে একটি রুমে পরিবার নিয়ে থাকেন আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘরে পানি উঠে  গেছে। এখন চৌকির উপরে বসে আছি। কোথাও যাওয়া যাচ্ছে না পানির কারণে। খুব কষ্ট হচ্ছে। পাশেই আরেক বাসায় গিয়ে দেখা যায় সে ঘরটি তলিয়ে গেছে পানিতে।  সেখানকার বসবাসকারী বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল ইসলাম বলেন, পানির জন্য কোথাও থাকা যাছে না। রান্না-বান্না বাদ। বাথরুমেও যাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের এখানে ৩০টা রুমের মধ্যে সব রুমেই পানি উঠেছে। সকাল থেকে মিরপুর থেকে মতিঝিলগামী মানুষের ছিল চরম ভোগান্তি বর্ষণে সড়কে পানি জমায় অনেকটা যানবাহন শূন্য হয়ে পড়ে মিরপুর। এ কারণে সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গাড়ির অপেক্ষায় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। যে কয়টি যানবাহন চলেছে সেখানে উঠতে গিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নামতে হয়েছে মানুষকে। যান পেলেও গন্তব্যে ফিরতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে পথে পথে। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পরে গন্তব্যে পৌঁছেছেন অনেকে। দুপুরে ফার্মগেট থেকে মিরপুরে যাওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিমা। বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে বাস পাচ্ছিলেন না তিনি। টানা দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও ফাহিমা বাসে উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, সকাল থেকে টানা দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। কিন্তু একটা বাসও পাই না। আমার সামনেই পরীক্ষা। গ্রুপ স্টাডির জন্য কলেজে যাওয়া খুব জরুরি ছিল। কিন্তু  চারদিকে যে পানি আর যানজট কখন যাবো বুঝতে পারছি না। ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের রাপা প্লাজা থেকে ৩২ নম্বর পর্যন্ত পুরো রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে ছিল দিনভর। গতকাল সকাল থেকে এখানে আসা চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী এমনকি  বিভিন্ন পেশার মানুষরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রনি বলেন, সকালে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বেরিয়েছি। তখনও পানি ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোমরের ওপর উঠে গেছে পানি। এখন বাসায় যাওয়ার অবস্থা নেই। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। একটি বহুজাতিক কোম্পানির চাকরিজীবী হেলাল আহমেদ সকালে তার বনশ্রী থেকে গুলশান এক নম্বরে যেতে সময় লেগেছে প্রায় চার ঘণ্টা। প্রগতি সরণিতে পানি জমে থাকায় ওই সড়কে দীর্ঘ যানজটের কথা জানিয়েছেন তিনি। বিমানবন্দর সড়কে বনানীগামী রাস্তা যানজটে অচল হয়ে থাকতে দেখা যায় সকাল ১০টার পর। উন্নয়ন কাজ চলায় যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে প্রগতি সরণির প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তায় যানজট থাকায় তার চাপ পড়ে সড়কের অন্যান্য অংশেও। খিলক্ষেত ফ্লাইওভার থেকেই থেমে থাকা যানবাহনেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। জলাবদ্ধতার কবল থেকে বাদ পড়েনি রাজধানীর আজিমপুর, নিউমার্কেট  এলাকাও। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থী  ফারদুন হোসাইন ইতি সকালে কলেজে গিয়েও ফিরে এসেছেন। কলেজের মাঠ ও ক্লাসরুমগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় ক্লাস হয়নি। এছাড়া আজিমপুর কলোনিতে বসবাসকারী আরেক শিক্ষার্থী শাহরীন মীমও সকালে বাসার রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারণে কলেজে যেতে পারেননি। এদিকে সারাদিনের জলাবদ্ধতা ও যানজটে ভোগান্তির শিকার হওয়া রাজপথের মানুষগুলো আরো দুর্ভোগে পড়েন নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি না পেয়ে। গণপরিবহন কম থাকায় সুযোগ নেয় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। ফার্মগেট থেকে ধানমন্ডি যাওয়ার ভাড়া ৩০০ টাকারও বেশি হাঁকিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বেশ ক’জন যাত্রী। এমন চিত্র পুরো শহরজুড়েই ছিল। বাড্ডা থেকে আগারগাঁওগামী এক যাত্রীর কাছে ৫৫০ টাকা ভাড়া চেয়েছেন চালক। এরপর অনেক অনুরোধ করে পাঁচশ’ টাকায় রাজি করান ওই চালককে। বৃষ্টির কারণে সচিবালয়ের ভেতরের সড়কে এবং পাশের আবদুল গণি রোডেও ছিল পানি। সচিবালয়ের ভেতরের পানি সরাতে পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নেয়া হয়। পানির কারণে নিউ মার্কেট এলাকায় মানুষের ছিল চরম দুর্ভোগ। নিউ মার্কেটে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায়ও নিউ মার্কেটের ভেতরে পানি ছিল। এদিকে রাজধানীতে আজ থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম। তিনি মানবজমিনকে বলেন, গত ২৫ ও ২৬শে জুলাই রাজধানীতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হলেও আগামীকাল (আজ) সেটা কমে যাবে বলে আশা করা যায়। গতকাল  সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আজ বৃষ্টি হলেও সেটা অনেকাংশে কম থাকবে।

Comments

Comments!

 ঢাকার রাস্তায় পানিপথের যুদ্ধAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ঢাকার রাস্তায় পানিপথের যুদ্ধ

Thursday, July 27, 2017 8:17 am
1

থই থই পানি। সড়কে। ফুটপাথে। বাড়ির নিচ তলায়। বুধবার সকালে পানিতে যেন ভাসছিল রাজধানী। প্রধান প্রধান সড়কে কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান পানি। পাড়া-মহল্লার সড়কে কাদা-পানি একাকার। গতকাল রাজধানীতে এমন চিত্রই ছিল সর্বত্র। রাত থেকে ভারি বর্ষণে সকালে জলমগ্ন হয়ে পড়ে রাজধানীর সড়ক, অলিগলি। ড্রেন-নালা একাকার হয়ে রাজধানী রূপ নেয় এক পানির নগরে। থই থই পানিতে অনেক জায়গায় যানবাহন আটকে যাওয়ায় নগরজুড়ে তৈরি হয় যানজট। এতে সকালে ঘর থেকে বের হয়েই দুর্ভোগে পড়েন কোটি নগরবাসী। বৃষ্টি আর পানির কারণে যানবাহন না পেয়ে রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কেটেছে মানুষের। আর যারা যানবাহনে উঠতে পেরেছেন তারাও বসে ছিলেন ঠাঁয়। বৃষ্টি ও জল দুর্ভোগে সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবীদের অনেকে সময়মতো কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে পারেননি। সকাল থেকে শিক্ষার্থীদেরও ছিল সীমাহীন দুর্ভোগ। জলে জবুথুবু মানুষকে দিনভর ভোগান্তি পোহাতে দেখা গেছে সড়কে সড়কে। বৃষ্টির পানিতে জাতীয় সংসদের পাশের মানিক মিয়া এভিনিউ, সংসদ কম্পাউন্ডের ভেতরের সড়ক, সচিবালয়ের ভেতরের রাস্তায় ছিল হাঁটুপানি। ব্যাংকপাড়া মতিঝিলে কোথাও ছিল কোমর পানি। পানি ডিঙিয়ে ওই এলাকায় ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। আর গণপরিবহনগুলো এক সারি হয়ে চলেছে কচ্ছপগতিতে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত রাজধানীতে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে দুপুরের পর তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ বৃষ্টি থামার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। বৃষ্টির কারণে রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ, শান্তিনগর, কাকরাই?ল, মগবাজার, কাঁঠালবাগান, রাজারবাগ, কাওরান বাজার, ধানমন্ডি, আসাদগেট, শ্যামলী, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, খিলগাঁও, রামপুরা, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, পল্টন, মতিঝিলসহ পুরান ঢাকার বেশকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এদিকে বৃষ্টি থামার পর ঢাকার দুই মেয়র পরিস্থিতি দেখতে সড়কে বের হয়েছিলেন। মিরপুর রোডের আসাদগেট এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন হাঁটু পানি ভেঙে রাস্তা পার হন। এসময় ওই সড়ক প্রায় স্থবির হয়েছিল পানি আর যানজটে। ঢাকা উত্তরের মেয়রও সড়ক পরিদর্শনে গিয়ে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনে তৈরি হওয়া এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব না। তবে সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। কাওরান বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফ হোসেনের সঙ্গে। অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। আজকে অফিসে যাওয়া হয়নি। ঢাকা শহরে তো নৌকা নিয়ে চলতে হবে। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিপু বলেন, রাস্তায় অনেক পানি। ভাঙা ড্রেনে পড়ে কোমর পর্যন্ত ভিজে গেছে। মানুষের এই কষ্ট দেখবে কে? শাহজাহানপুর থেকে কাওরান বাজার অফিসে যেতে বের হয়ে বিপাকে পড়েন আবদুল মালিক। পানিতে সড়ক আর ফুটপাথ একাকার।  হেঁটে সড়কে চলতে গিয়ে নালায় পড়ে আহত হন তিনি। দুপুরে যখন তিনি অফিসে আসেন তখন তার পায়ে ব্যান্ডেজ। অফিসে আসার পথে মৌচাক-মগবাজার এলাকায় দীর্ঘসময় যানজটে পড়ে থাকতে হয় তাকে। তিনি বলেন, শহরের অবস্থা দিন দিন খুবই খারাপ হচ্ছে। আর কিছুদিন পর এটা বাসযোগ্য শহর থাকবে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা  হয়। এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েন কাঁঠালবাগান এলাকার কয়েক শ’ পরিবার। গতকাল দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, তাদের ঘরে পানি উঠে গেছে। রান্না-বান্নাও বন্ধ। পানির কারণে শৌচাগারেও যেতে পারছেন না তারা। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তাদেরকে। ওই এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার আলী বলেন, বৃষ্টি হলেই পানি উঠে যায়। অনেক সমস্যার মধ্যে আছি। এখানে একটি রুমে পরিবার নিয়ে থাকেন আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘরে পানি উঠে  গেছে। এখন চৌকির উপরে বসে আছি। কোথাও যাওয়া যাচ্ছে না পানির কারণে। খুব কষ্ট হচ্ছে। পাশেই আরেক বাসায় গিয়ে দেখা যায় সে ঘরটি তলিয়ে গেছে পানিতে।  সেখানকার বসবাসকারী বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল ইসলাম বলেন, পানির জন্য কোথাও থাকা যাছে না। রান্না-বান্না বাদ। বাথরুমেও যাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের এখানে ৩০টা রুমের মধ্যে সব রুমেই পানি উঠেছে।
সকাল থেকে মিরপুর থেকে মতিঝিলগামী মানুষের ছিল চরম ভোগান্তি বর্ষণে সড়কে পানি জমায় অনেকটা যানবাহন শূন্য হয়ে পড়ে মিরপুর। এ কারণে সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গাড়ির অপেক্ষায় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। যে কয়টি যানবাহন চলেছে সেখানে উঠতে গিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নামতে হয়েছে মানুষকে। যান পেলেও গন্তব্যে ফিরতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে পথে পথে। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পরে গন্তব্যে পৌঁছেছেন অনেকে। দুপুরে ফার্মগেট থেকে মিরপুরে যাওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিমা। বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে বাস পাচ্ছিলেন না তিনি। টানা দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও ফাহিমা বাসে উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, সকাল থেকে টানা দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। কিন্তু একটা বাসও পাই না। আমার সামনেই পরীক্ষা। গ্রুপ স্টাডির জন্য কলেজে যাওয়া খুব জরুরি ছিল। কিন্তু  চারদিকে যে পানি আর যানজট কখন যাবো বুঝতে পারছি না। ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের রাপা প্লাজা থেকে ৩২ নম্বর পর্যন্ত পুরো রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে ছিল দিনভর। গতকাল সকাল থেকে এখানে আসা চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী এমনকি  বিভিন্ন পেশার মানুষরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রনি বলেন, সকালে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বেরিয়েছি। তখনও পানি ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোমরের ওপর উঠে গেছে পানি। এখন বাসায় যাওয়ার অবস্থা নেই। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। একটি বহুজাতিক কোম্পানির চাকরিজীবী হেলাল আহমেদ সকালে তার বনশ্রী থেকে গুলশান এক নম্বরে যেতে সময় লেগেছে প্রায় চার ঘণ্টা। প্রগতি সরণিতে পানি জমে থাকায় ওই সড়কে দীর্ঘ যানজটের কথা জানিয়েছেন তিনি। বিমানবন্দর সড়কে বনানীগামী রাস্তা যানজটে অচল হয়ে থাকতে দেখা যায় সকাল ১০টার পর। উন্নয়ন কাজ চলায় যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে প্রগতি সরণির প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তায় যানজট থাকায় তার চাপ পড়ে সড়কের অন্যান্য অংশেও। খিলক্ষেত ফ্লাইওভার থেকেই থেমে থাকা যানবাহনেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। জলাবদ্ধতার কবল থেকে বাদ পড়েনি রাজধানীর আজিমপুর, নিউমার্কেট  এলাকাও। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থী  ফারদুন হোসাইন ইতি সকালে কলেজে গিয়েও ফিরে এসেছেন। কলেজের মাঠ ও ক্লাসরুমগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় ক্লাস হয়নি। এছাড়া আজিমপুর কলোনিতে বসবাসকারী আরেক শিক্ষার্থী শাহরীন মীমও সকালে বাসার রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারণে কলেজে যেতে পারেননি। এদিকে সারাদিনের জলাবদ্ধতা ও যানজটে ভোগান্তির শিকার হওয়া রাজপথের মানুষগুলো আরো দুর্ভোগে পড়েন নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি না পেয়ে। গণপরিবহন কম থাকায় সুযোগ নেয় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। ফার্মগেট থেকে ধানমন্ডি যাওয়ার ভাড়া ৩০০ টাকারও বেশি হাঁকিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বেশ ক’জন যাত্রী। এমন চিত্র পুরো শহরজুড়েই ছিল। বাড্ডা থেকে আগারগাঁওগামী এক যাত্রীর কাছে ৫৫০ টাকা ভাড়া চেয়েছেন চালক। এরপর অনেক অনুরোধ করে পাঁচশ’ টাকায় রাজি করান ওই চালককে। বৃষ্টির কারণে সচিবালয়ের ভেতরের সড়কে এবং পাশের আবদুল গণি রোডেও ছিল পানি। সচিবালয়ের ভেতরের পানি সরাতে পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নেয়া হয়। পানির কারণে নিউ মার্কেট এলাকায় মানুষের ছিল চরম দুর্ভোগ। নিউ মার্কেটে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায়ও নিউ মার্কেটের ভেতরে পানি ছিল।
এদিকে রাজধানীতে আজ থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম। তিনি মানবজমিনকে বলেন, গত ২৫ ও ২৬শে জুলাই রাজধানীতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হলেও আগামীকাল (আজ) সেটা কমে যাবে বলে আশা করা যায়। গতকাল  সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আজ বৃষ্টি হলেও সেটা অনেকাংশে কম থাকবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X