সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:০০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, November 3, 2016 7:44 am
A- A A+ Print

তামিম ইকবালের সাক্ষাৎকার : ‘উইকেট আমাদের জন্যও কঠিন ছিল’

500fd5c5d6b2e3a7ac265467e3688e5b-untitled-52

উৎপল শুভ্র: একটু হালকা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি। স্টোকসের সঙ্গে আপনার ‘কুশল বিনিময়’ কি সিরিজজুড়েই চলেছে?

তামিম ইকবাল: (হাসি) না, বলার মতো তেমন কিছু হয়নি। হতে পারে, ও ওর দোষটা বুঝতে পেরেছে। ও কিন্তু যেচে এসে ঝামেলা বাধিয়েছিল। আমার লেগেছিল বেয়ারস্টোর সঙ্গে। দ্বিতীয় ওয়ানডে শেষে হাত মেলানোর সময় ও আমার হাতটা ধরে মুচড়ে দিয়েছিল। আমি প্রতিবাদ করায় স্টোকস এসে নিজেই ঝামেলায় জড়াল। বেয়ারস্টো কিন্তু আগেও এই কাজ করেছে। ফতুল্লায় প্রস্তুতি ম্যাচে ওকে আউট করেছিল তানভীর, ওর হাত ধরেও মোচড় দিয়েছিল।

শুভ্র: খেলায় ফিরি। এমন খেলাহয়েছে যে, পুরো ক্রিকেট-বিশ্বই তাকিয়ে ছিল এই সিরিজের দিকে। এমন উপভোগ্য সিরিজ তো আগে কখনো খেলেননি, তাই না?

তামিম: হ্যাঁ, দারুণ একটা সিরিজ হলো। ইংল্যান্ডের আসা যখন নিশ্চিত হলো, আমাদের বিশ্বাস ছিল ওয়ানডেতে ওদের হারিয়ে দেব। টেস্টে খুব একটা আত্মবিশ্বাস ছিল না। এরপরই ঠিক হলো, এবার আমরা ভিন্ন কিছু করব। স্পিনিং উইকেট বানাব, তিন দিনে ম্যাচ শেষ হয়ে গেলে যাবে। হারলে হারব। ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই শুরুতে এটা আমার পছন্দ হয়নি। তবে ভিন্ন কিছু না করলে যেহেতু আমাদের জয়ের সুযোগ থাকবে না, আমরা সবাই তা মেনে নিই। চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে খুব দ্রুত যখন ৩-৪টা উইকেট পড়ে গেল, তখন আমাদের বিশ্বাস হলো যে, জেতা সম্ভব।

শুভ্র: শেষ পর্যন্ত সেই জয় তো এলও…

তামিম: চট্টগ্রামে অমন কাছে গিয়ে হারার পরই আমাদের বিশ্বাস জন্মে যায়, ঢাকায় যদি বল ঘোরে আর আমরা ১০-১৫ পার্সেন্ট ভুল কম করি, তাহলে যেকোনো কিছু হতে পারে। আমরাই জিতব—এমন একটা বিশ্বাসই আসলে ছড়িয়ে পড়েছিল দলে। ওয়ানডে সিরিজ হারাটা ঠিক হয়নি। টেস্ট সিরিজটাও জিততে পারতাম। সব মিলিয়ে এটিই আমার ক্যারিয়ারের স্মরণীয়তম সিরিজ।

শুভ্র: এই উইকেটে রান করাটাকেই কি এখন পর্যন্ত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ বলবেন?

তামিম: কঠিন তো ছিলই। যখন আমরা বলছি এটা স্পিনিং উইকেট, ইংল্যান্ডের জন্য কঠিন…ভুলে গেলে চলবে না আমাদের জন্যও কিন্তু কম কঠিন ছিল না। আমরাও তো আগে কখনো এমন উইকেটে খেলিনি। এই অচেনা কন্ডিশনটা আমরা যেভাবে সামলেছি, যেভাবে খেলেছি, সেটা যেন কেউ ভুলে না যায়। এই উইকেটে রান করতে মানসিক শক্তি ও দক্ষতা দুটিই লাগে। শুধু মানসিক জোর থাকলেই হবে না, বা শুধু দক্ষতা থাকলেও নয়। দুটিরই সমান গুরুত্ব।

শুভ্র: আপনার মতো স্ট্রোক প্লেয়ারকে এমন শ্রমিকের মতো খেটেখুটে রান করতে দেখে মনে প্রশ্ন জাগছিল, নিজেকে বদলানোর এই কঠিন কাজটা কীভাবে করলেন?

তামিম: আমার চিন্তাটা ছিল খুব সিম্পল। নিজেকে নিজেই বলেছি, এমন উইকেটে যেকোনো সময় যেকোনো বলেই আউট হয়ে যেতে পারি। আমি নিজে কোনো ভুল করব না। তবে শুধু টিকে থাকাটাই তো সব নয়, রানও করতে হবে। এ জন্য একেক সময় একেক বোলারকে টার্গেট করেছি। ঢাকায় সেঞ্চুরিটির সময় সব সময়ই রানের কথা ভেবেছি। আগে থেকেই ডিফেন্স করার কথা ঠিক করে রাখিনি। এমন উইকেটে এটাই করা উচিত।

শুভ্র: বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এই একটা সিরিজেই তো অনেক কিছু শিখে ফেললেন…

তামিম: আমি তো বলব, আমাদের ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো খেলেছে। অনেকের পারফরম্যান্স হয়তো সেভাবে আলোচনায় আসেনি। মুশফিক চট্টগ্রামে যে দুটি ইনিংস খেলেছে, তা অনেক সেঞ্চুরির চেয়ে মূল্যবান। রিয়াদ ভাই ৩০-৪০ রানের যে ইনিংসগুলো খেলেছেন, সেগুলো অনেক দামি। এমন ছোট জিনিসগুলো না হলে কিন্তু আমরা জিততে পারতাম না। এরপর যদি এমন উইকেটে খেলি, আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকব। এখন আমরা জানি, এ ধরনের উইকেটে কীভাবে খেলতে হয়। শুধু তো স্পিনিং বল নয়, রিভার্স সুইংও ছিল। এবং খুব ভালো রিভার্স সুইং।

শুভ্র: এই রিভার্স সুইংয়ের প্রসঙ্গেই আসতাম। ঘরোয়া ক্রিকেটে তো আর এটি খেলার সুযোগ হয় না, টেস্টে এসে তা সামলানো তো রীতিমতো অসাধ্যের পর্যায়ে পড়ে…

তামিম: ঠিক কথা। নেটে আপনি যতই প্র্যাকটিস করেন, তাতে কাজ হয় না। নেটে তো আর আউট হওয়ার ভয় থাকে না। ম্যাচের পরিস্থিতির চাপ থাকে না। আমি ১০ বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচে এটা খেলার সুযোগ পাইনি। এখন অনেক পেস বোলার এসেছে, এখন শুরু করা যায়। টেস্টে নতুন একটা জিনিস খেলা অনেক কঠিন। আমাকে তো রিভার্স সুইং সেভাবে খেলতে হয়নি। বল রিভার্স করতে শুরু করার আগেই আউট হয়ে গেছি। কিন্তু মাঝখানে যারা ব্যাটিং করেছে, যেমন রিয়াদ ভাই-মুশফিক-সাকিব ওদের স্পিন-রিভার্স সুইং দুটিই সামলাতে হয়েছে।

শুভ্র: এবার যে প্রশ্নটা করব, সেটির যে উত্তর দিতে হবে এটা বোধ হয় আপনি জানতেন। প্রতিপক্ষ হিসেবে ইংল্যান্ডকে আপনার এত পছন্দ কেন? বিশেষ করে টেস্টে ওদের বিপক্ষে আপনার পারফরম্যান্স তো অবিশ্বাস্য!

তামিম: সিরিজের আগে এ প্রশ্নটা আমি এড়িয়ে চলেছি। কারণ একটা দলের বিপক্ষে আগে ভালো করেছি বলেই যে আবারও ভালো করব, এর কোনো গ্যারান্টি আছে নাকি? কেন অতীতের কথা বলে নিজের ওপর চাপ বাড়াতে যাব? এবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলেছি। কিন্তু ভবিষ্যতেও খেলব, তার নিশ্চয়তা আছে নাকি!

শুভ্র: ২০১০ সালে লর্ডস ও ওল্ড ট্রাফোর্ডে আপনার দুটি সেঞ্চুরি তো বাংলাদেশের ক্রিকেটে অমর হয়ে আছে। সেই দুটির সঙ্গে ঢাকার সেঞ্চুরিটাকে যদি তুলনা করতে বলি…

তামিম: তুলনা করা কঠিন। ঢাকার সেঞ্চুরিটা হয়তো এগিয়ে থাকবে, কারণ এখানে আমরা জিতেছি। আবার মে মাসে ইংল্যান্ডের ওই কন্ডিশনে সেঞ্চুরি করা অনেক কঠিন। সেখানে দুটি সেঞ্চুরি করেছি। আসলে নিজের সেঞ্চুরির মধ্যে কোনো একটাকে বেছে নেওয়া কঠিন। আমি এটাকে দেখি, নিজের সন্তানদের মধ্যে কে প্রিয় বেছে নেওয়ার মতো। সেটা কি সম্ভব?

শুভ্র: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় কি টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন যুগের সূচনা হতে পারে?

তামিম: এই সিরিজে ভালো খেলাটা ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই কাজে দেবে। কিন্তু তাই বলে আমরা রাতারাতি টেস্টে খুব ভালো দল হয়ে গেছি, এমন নয়। টেস্টে খুব বেশি প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। ওয়ানডেতে আমরা যেকোনো জায়গায় যেকোনো দলের বিপক্ষে জিততে পারি। টেস্টে তা বলতে আমাদের আরও অনেক পথ হাঁটতে হবে। অনেক পরিশ্রম করতে হবে।

শুভ্র: ২০০৭ সালে আপনার অভিষেকের আগেই বাংলাদেশ টুকটাক জিততে শুরু করেছে। আগের প্রজন্মের মতো পরাজয়ের পর পরাজয়ের ভার তাই আপনাদের পিঠে বোঝা হয়ে ছিল না। তারপরও সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত বড় কী পরিবর্তন চোখে পড়ে?

তামিম: বাংলাদেশ দলে যখন খেলা শুরু করলাম, সত্যি কথা বললে ৩০-৩৫ রান করে টিমে থাকাটাই ছিল লক্ষ্য। ৫০ করতে পারলেই খুশি থাকতাম। যে কারণে আমার যতগুলো সেঞ্চুরি থাকা উচিত ছিল, তা নেই। জেমি (সাবেক বাংলাদেশ কোচ জেমি সিডন্স) আসার পর আমি, সাকিব ও মুশফিক প্রথম বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম। ১০০ রানের পার্টনারশিপ, ১৫০ রানের পার্টনারশিপ, নিজে এক শ করা—এসব কিন্তু তখন থেকেই শুরু হলো। এখন আর ৫০ করে কেউ খুশি থাকে না। এই পরিবর্তনের সূচনা করার কৃতিত্বটা আমি জেমিকে দেব। আমার নিজের কথা বললে আপনাকেও একটা ধন্যবাদ দিতে চাই।

শুভ্র: কেন? আমি আবার কী করলাম?

তামিম: ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে টিমের হোটেলে এক রাতে আপনি আমাকে বলেছিলেন, বিশ্বের সেরাদের একজন হওয়ার যে স্বপ্নের কথা বলতাম, সেটি আর আমার নেই। আমার ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। সত্যি বলি, কথাটা আমার একটুও ভালো লাগেনি। খুব গায়ে লেগেছিল। আমি খুব ইমোশনাল ছেলে আর কথাটা ছিল আঘাত পাওয়ার মতোই। আপনার সঙ্গে তর্কও করেছিলাম। তবে পরে আপনার কথাটা নিয়ে ভেবেছি। এখন স্বীকার করছি, আমার ওই ধাক্কাটা দরকার ছিল। ওটা আমার অনেক কাজে এসেছে। আমি হয়তো ৫০ করেই খুশি হয়ে যাচ্ছিলাম। ওই সফরেই ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করার পর প্রেস কনফারেন্সেও আমি আপনার কথা বলেছিলাম।

শুভ্র: আমার যেটা মনে হয়েছিল, আপনি পরিশ্রম যা করেন তা শুধুই ব্যাটিং প্র্যাকটিসে। ফিজিক্যাল ফিটনেসকে গুরুত্ব দেন না। যে কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেন না…

তামিম: ঠিকই মনে হয়েছিল। তখন আমার ওজন ছিল অনেক বেশি, এত ওজন এর আগে-পরে কখনোই হয়নি। ফিজিক্যালি ফিট ছিলাম না, কিন্তু সেটা মানতে চাইতাম না। একই কথা আমাকে চন্ডিকাও (হাথুরুসিংহে) বলেছিলেন। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর আমি ওনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আমার সম্পর্কে আপনার কী মনে হয়?’ উনি বলেছিলেন, ‘তোমার টেকনিক নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তুমি আনফিট। দ্বিতীয় ইনিংসে কখনো বড় রান তাড়া করতে পারবে না।’ ওই কথাটাও খুব কষ্ট দিয়েছিল। আমি বলেছিলাম, আপনি আমাকে দুই মাস সময় দিন। আর আরেকটা ঘোষণাও দিচ্ছি, এ বছর আমি সব ফরম্যাট মিলিয়ে এক হাজারের বেশি রান করব। তা করেও ছিলাম।

শুভ্র: হাথুরুসিংহের কাছ থেকে আপনি অবাধ স্বাধীনতাও পেয়েছেন বলে জানি…

তামিম: আমি সব সময়ই বলে এসেছি, আমার দেখা সেরা ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। এরপরই আমি চন্ডিকাকে রাখব। একটা ঘটনা বলি। ২০১৪ সালে চন্ডিকা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে আমরা ৫৮ রানে অলআউট হয়ে গেলাম। ম্যাচ শেষে চন্ডিকা আমাকে বললেন, ‘তোমার কী মনে হয়, আমি কি এখানে দুই বছর থাকব?’ আমি বললাম, ‘অবশ্যই থাকবেন।’ শুনে কোচ বললেন, ‘যদি থাকি, কথা দিচ্ছি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ যত ম্যাচ খেলবে, সব ম্যাচেই তুমি খেলবে। তুমি তোমার খেলাটাই খেলবে।’ কোচ সেই কথা রেখেছেন, আমিও অবশ্য ভালো খেলেছি।

শুভ্র: তিন ধরনের ক্রিকেটেই বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান আপনার। এই রেকর্ড কতটা গর্বিত করে?

তামিম: এটাকে আমি খুব বড় করে দেখি না। কারণ বাংলাদেশের সেরা হওয়াটা আমার লক্ষ্য নয়। আমি চাই, বিশ্ব ক্রিকেটে সবাই আমাকে আলাদাভাবে চিনুক। এটাই আমার স্বপ্ন। আরেকটা স্বপ্ন, টেস্টে ১০ হাজার রান করা।

যদি গর্বের কথা বলেন, তা হলো আমরা একটা পরিবর্তনের সূচনা করেছি। এ জন্য আমাদের ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নকেও কৃতিত্ব দেব। ও বলেছিল, মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ, তামিম তোমরা পাঁচজন যদি বদলে যাও, তাহলে দেখবে বাকি সবাই-ও বদলে যাবে। পরিবর্তনের সেটিই সূচনা। আগে ফিটনেস ক্যাম্পের কথা শুনলে গায়ে জ্বর আসত। এখন আমরা সবাই সেটির জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি। উপভোগ করি। তরুণ খেলোয়াড়েরা যখন দেখল, আমরা ওদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সব করছি, ওরাও অনুপ্রাণিত হলো। এই যে মাশরাফি ভাইয়ের পায়ে এত সমস্যা, উনিও চেষ্টা করেন, ১০ চক্কর দিলে অন্তত দুই চক্কর যেন সামনে থাকতে পারেন। আমাদের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে এটির অনেক বড় ভূমিকা।

Comments

Comments!

 তামিম ইকবালের সাক্ষাৎকার : ‘উইকেট আমাদের জন্যও কঠিন ছিল’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

তামিম ইকবালের সাক্ষাৎকার : ‘উইকেট আমাদের জন্যও কঠিন ছিল’

Thursday, November 3, 2016 7:44 am
500fd5c5d6b2e3a7ac265467e3688e5b-untitled-52

উৎপল শুভ্র: একটু হালকা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি। স্টোকসের সঙ্গে আপনার ‘কুশল বিনিময়’ কি সিরিজজুড়েই চলেছে?

তামিম ইকবাল: (হাসি) না, বলার মতো তেমন কিছু হয়নি। হতে পারে, ও ওর দোষটা বুঝতে পেরেছে। ও কিন্তু যেচে এসে ঝামেলা বাধিয়েছিল। আমার লেগেছিল বেয়ারস্টোর সঙ্গে। দ্বিতীয় ওয়ানডে শেষে হাত মেলানোর সময় ও আমার হাতটা ধরে মুচড়ে দিয়েছিল। আমি প্রতিবাদ করায় স্টোকস এসে নিজেই ঝামেলায় জড়াল। বেয়ারস্টো কিন্তু আগেও এই কাজ করেছে। ফতুল্লায় প্রস্তুতি ম্যাচে ওকে আউট করেছিল তানভীর, ওর হাত ধরেও মোচড় দিয়েছিল।

শুভ্র: খেলায় ফিরি। এমন খেলাহয়েছে যে, পুরো ক্রিকেট-বিশ্বই তাকিয়ে ছিল এই সিরিজের দিকে। এমন উপভোগ্য সিরিজ তো আগে কখনো খেলেননি, তাই না?

তামিম: হ্যাঁ, দারুণ একটা সিরিজ হলো। ইংল্যান্ডের আসা যখন নিশ্চিত হলো, আমাদের বিশ্বাস ছিল ওয়ানডেতে ওদের হারিয়ে দেব। টেস্টে খুব একটা আত্মবিশ্বাস ছিল না। এরপরই ঠিক হলো, এবার আমরা ভিন্ন কিছু করব। স্পিনিং উইকেট বানাব, তিন দিনে ম্যাচ শেষ হয়ে গেলে যাবে। হারলে হারব। ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই শুরুতে এটা আমার পছন্দ হয়নি। তবে ভিন্ন কিছু না করলে যেহেতু আমাদের জয়ের সুযোগ থাকবে না, আমরা সবাই তা মেনে নিই। চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে খুব দ্রুত যখন ৩-৪টা উইকেট পড়ে গেল, তখন আমাদের বিশ্বাস হলো যে, জেতা সম্ভব।

শুভ্র: শেষ পর্যন্ত সেই জয় তো এলও…

তামিম: চট্টগ্রামে অমন কাছে গিয়ে হারার পরই আমাদের বিশ্বাস জন্মে যায়, ঢাকায় যদি বল ঘোরে আর আমরা ১০-১৫ পার্সেন্ট ভুল কম করি, তাহলে যেকোনো কিছু হতে পারে। আমরাই জিতব—এমন একটা বিশ্বাসই আসলে ছড়িয়ে পড়েছিল দলে। ওয়ানডে সিরিজ হারাটা ঠিক হয়নি। টেস্ট সিরিজটাও জিততে পারতাম। সব মিলিয়ে এটিই আমার ক্যারিয়ারের স্মরণীয়তম সিরিজ।

শুভ্র: এই উইকেটে রান করাটাকেই কি এখন পর্যন্ত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ বলবেন?

তামিম: কঠিন তো ছিলই। যখন আমরা বলছি এটা স্পিনিং উইকেট, ইংল্যান্ডের জন্য কঠিন…ভুলে গেলে চলবে না আমাদের জন্যও কিন্তু কম কঠিন ছিল না। আমরাও তো আগে কখনো এমন উইকেটে খেলিনি। এই অচেনা কন্ডিশনটা আমরা যেভাবে সামলেছি, যেভাবে খেলেছি, সেটা যেন কেউ ভুলে না যায়। এই উইকেটে রান করতে মানসিক শক্তি ও দক্ষতা দুটিই লাগে। শুধু মানসিক জোর থাকলেই হবে না, বা শুধু দক্ষতা থাকলেও নয়। দুটিরই সমান গুরুত্ব।

শুভ্র: আপনার মতো স্ট্রোক প্লেয়ারকে এমন শ্রমিকের মতো খেটেখুটে রান করতে দেখে মনে প্রশ্ন জাগছিল, নিজেকে বদলানোর এই কঠিন কাজটা কীভাবে করলেন?

তামিম: আমার চিন্তাটা ছিল খুব সিম্পল। নিজেকে নিজেই বলেছি, এমন উইকেটে যেকোনো সময় যেকোনো বলেই আউট হয়ে যেতে পারি। আমি নিজে কোনো ভুল করব না। তবে শুধু টিকে থাকাটাই তো সব নয়, রানও করতে হবে। এ জন্য একেক সময় একেক বোলারকে টার্গেট করেছি। ঢাকায় সেঞ্চুরিটির সময় সব সময়ই রানের কথা ভেবেছি। আগে থেকেই ডিফেন্স করার কথা ঠিক করে রাখিনি। এমন উইকেটে এটাই করা উচিত।

শুভ্র: বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এই একটা সিরিজেই তো অনেক কিছু শিখে ফেললেন…

তামিম: আমি তো বলব, আমাদের ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো খেলেছে। অনেকের পারফরম্যান্স হয়তো সেভাবে আলোচনায় আসেনি। মুশফিক চট্টগ্রামে যে দুটি ইনিংস খেলেছে, তা অনেক সেঞ্চুরির চেয়ে মূল্যবান। রিয়াদ ভাই ৩০-৪০ রানের যে ইনিংসগুলো খেলেছেন, সেগুলো অনেক দামি। এমন ছোট জিনিসগুলো না হলে কিন্তু আমরা জিততে পারতাম না। এরপর যদি এমন উইকেটে খেলি, আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকব। এখন আমরা জানি, এ ধরনের উইকেটে কীভাবে খেলতে হয়। শুধু তো স্পিনিং বল নয়, রিভার্স সুইংও ছিল। এবং খুব ভালো রিভার্স সুইং।

শুভ্র: এই রিভার্স সুইংয়ের প্রসঙ্গেই আসতাম। ঘরোয়া ক্রিকেটে তো আর এটি খেলার সুযোগ হয় না, টেস্টে এসে তা সামলানো তো রীতিমতো অসাধ্যের পর্যায়ে পড়ে…

তামিম: ঠিক কথা। নেটে আপনি যতই প্র্যাকটিস করেন, তাতে কাজ হয় না। নেটে তো আর আউট হওয়ার ভয় থাকে না। ম্যাচের পরিস্থিতির চাপ থাকে না। আমি ১০ বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচে এটা খেলার সুযোগ পাইনি। এখন অনেক পেস বোলার এসেছে, এখন শুরু করা যায়। টেস্টে নতুন একটা জিনিস খেলা অনেক কঠিন। আমাকে তো রিভার্স সুইং সেভাবে খেলতে হয়নি। বল রিভার্স করতে শুরু করার আগেই আউট হয়ে গেছি। কিন্তু মাঝখানে যারা ব্যাটিং করেছে, যেমন রিয়াদ ভাই-মুশফিক-সাকিব ওদের স্পিন-রিভার্স সুইং দুটিই সামলাতে হয়েছে।

শুভ্র: এবার যে প্রশ্নটা করব, সেটির যে উত্তর দিতে হবে এটা বোধ হয় আপনি জানতেন। প্রতিপক্ষ হিসেবে ইংল্যান্ডকে আপনার এত পছন্দ কেন? বিশেষ করে টেস্টে ওদের বিপক্ষে আপনার পারফরম্যান্স তো অবিশ্বাস্য!

তামিম: সিরিজের আগে এ প্রশ্নটা আমি এড়িয়ে চলেছি। কারণ একটা দলের বিপক্ষে আগে ভালো করেছি বলেই যে আবারও ভালো করব, এর কোনো গ্যারান্টি আছে নাকি? কেন অতীতের কথা বলে নিজের ওপর চাপ বাড়াতে যাব? এবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলেছি। কিন্তু ভবিষ্যতেও খেলব, তার নিশ্চয়তা আছে নাকি!

শুভ্র: ২০১০ সালে লর্ডস ও ওল্ড ট্রাফোর্ডে আপনার দুটি সেঞ্চুরি তো বাংলাদেশের ক্রিকেটে অমর হয়ে আছে। সেই দুটির সঙ্গে ঢাকার সেঞ্চুরিটাকে যদি তুলনা করতে বলি…

তামিম: তুলনা করা কঠিন। ঢাকার সেঞ্চুরিটা হয়তো এগিয়ে থাকবে, কারণ এখানে আমরা জিতেছি। আবার মে মাসে ইংল্যান্ডের ওই কন্ডিশনে সেঞ্চুরি করা অনেক কঠিন। সেখানে দুটি সেঞ্চুরি করেছি। আসলে নিজের সেঞ্চুরির মধ্যে কোনো একটাকে বেছে নেওয়া কঠিন। আমি এটাকে দেখি, নিজের সন্তানদের মধ্যে কে প্রিয় বেছে নেওয়ার মতো। সেটা কি সম্ভব?

শুভ্র: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় কি টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন যুগের সূচনা হতে পারে?

তামিম: এই সিরিজে ভালো খেলাটা ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই কাজে দেবে। কিন্তু তাই বলে আমরা রাতারাতি টেস্টে খুব ভালো দল হয়ে গেছি, এমন নয়। টেস্টে খুব বেশি প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। ওয়ানডেতে আমরা যেকোনো জায়গায় যেকোনো দলের বিপক্ষে জিততে পারি। টেস্টে তা বলতে আমাদের আরও অনেক পথ হাঁটতে হবে। অনেক পরিশ্রম করতে হবে।

শুভ্র: ২০০৭ সালে আপনার অভিষেকের আগেই বাংলাদেশ টুকটাক জিততে শুরু করেছে। আগের প্রজন্মের মতো পরাজয়ের পর পরাজয়ের ভার তাই আপনাদের পিঠে বোঝা হয়ে ছিল না। তারপরও সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত বড় কী পরিবর্তন চোখে পড়ে?

তামিম: বাংলাদেশ দলে যখন খেলা শুরু করলাম, সত্যি কথা বললে ৩০-৩৫ রান করে টিমে থাকাটাই ছিল লক্ষ্য। ৫০ করতে পারলেই খুশি থাকতাম। যে কারণে আমার যতগুলো সেঞ্চুরি থাকা উচিত ছিল, তা নেই। জেমি (সাবেক বাংলাদেশ কোচ জেমি সিডন্স) আসার পর আমি, সাকিব ও মুশফিক প্রথম বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম। ১০০ রানের পার্টনারশিপ, ১৫০ রানের পার্টনারশিপ, নিজে এক শ করা—এসব কিন্তু তখন থেকেই শুরু হলো। এখন আর ৫০ করে কেউ খুশি থাকে না। এই পরিবর্তনের সূচনা করার কৃতিত্বটা আমি জেমিকে দেব। আমার নিজের কথা বললে আপনাকেও একটা ধন্যবাদ দিতে চাই।

শুভ্র: কেন? আমি আবার কী করলাম?

তামিম: ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে টিমের হোটেলে এক রাতে আপনি আমাকে বলেছিলেন, বিশ্বের সেরাদের একজন হওয়ার যে স্বপ্নের কথা বলতাম, সেটি আর আমার নেই। আমার ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। সত্যি বলি, কথাটা আমার একটুও ভালো লাগেনি। খুব গায়ে লেগেছিল। আমি খুব ইমোশনাল ছেলে আর কথাটা ছিল আঘাত পাওয়ার মতোই। আপনার সঙ্গে তর্কও করেছিলাম। তবে পরে আপনার কথাটা নিয়ে ভেবেছি। এখন স্বীকার করছি, আমার ওই ধাক্কাটা দরকার ছিল। ওটা আমার অনেক কাজে এসেছে। আমি হয়তো ৫০ করেই খুশি হয়ে যাচ্ছিলাম। ওই সফরেই ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করার পর প্রেস কনফারেন্সেও আমি আপনার কথা বলেছিলাম।

শুভ্র: আমার যেটা মনে হয়েছিল, আপনি পরিশ্রম যা করেন তা শুধুই ব্যাটিং প্র্যাকটিসে। ফিজিক্যাল ফিটনেসকে গুরুত্ব দেন না। যে কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেন না…

তামিম: ঠিকই মনে হয়েছিল। তখন আমার ওজন ছিল অনেক বেশি, এত ওজন এর আগে-পরে কখনোই হয়নি। ফিজিক্যালি ফিট ছিলাম না, কিন্তু সেটা মানতে চাইতাম না। একই কথা আমাকে চন্ডিকাও (হাথুরুসিংহে) বলেছিলেন। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর আমি ওনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আমার সম্পর্কে আপনার কী মনে হয়?’ উনি বলেছিলেন, ‘তোমার টেকনিক নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তুমি আনফিট। দ্বিতীয় ইনিংসে কখনো বড় রান তাড়া করতে পারবে না।’ ওই কথাটাও খুব কষ্ট দিয়েছিল। আমি বলেছিলাম, আপনি আমাকে দুই মাস সময় দিন। আর আরেকটা ঘোষণাও দিচ্ছি, এ বছর আমি সব ফরম্যাট মিলিয়ে এক হাজারের বেশি রান করব। তা করেও ছিলাম।

শুভ্র: হাথুরুসিংহের কাছ থেকে আপনি অবাধ স্বাধীনতাও পেয়েছেন বলে জানি…

তামিম: আমি সব সময়ই বলে এসেছি, আমার দেখা সেরা ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। এরপরই আমি চন্ডিকাকে রাখব। একটা ঘটনা বলি। ২০১৪ সালে চন্ডিকা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে আমরা ৫৮ রানে অলআউট হয়ে গেলাম। ম্যাচ শেষে চন্ডিকা আমাকে বললেন, ‘তোমার কী মনে হয়, আমি কি এখানে দুই বছর থাকব?’ আমি বললাম, ‘অবশ্যই থাকবেন।’ শুনে কোচ বললেন, ‘যদি থাকি, কথা দিচ্ছি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ যত ম্যাচ খেলবে, সব ম্যাচেই তুমি খেলবে। তুমি তোমার খেলাটাই খেলবে।’ কোচ সেই কথা রেখেছেন, আমিও অবশ্য ভালো খেলেছি।

শুভ্র: তিন ধরনের ক্রিকেটেই বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান আপনার। এই রেকর্ড কতটা গর্বিত করে?

তামিম: এটাকে আমি খুব বড় করে দেখি না। কারণ বাংলাদেশের সেরা হওয়াটা আমার লক্ষ্য নয়। আমি চাই, বিশ্ব ক্রিকেটে সবাই আমাকে আলাদাভাবে চিনুক। এটাই আমার স্বপ্ন। আরেকটা স্বপ্ন, টেস্টে ১০ হাজার রান করা।

যদি গর্বের কথা বলেন, তা হলো আমরা একটা পরিবর্তনের সূচনা করেছি। এ জন্য আমাদের ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নকেও কৃতিত্ব দেব। ও বলেছিল, মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ, তামিম তোমরা পাঁচজন যদি বদলে যাও, তাহলে দেখবে বাকি সবাই-ও বদলে যাবে। পরিবর্তনের সেটিই সূচনা। আগে ফিটনেস ক্যাম্পের কথা শুনলে গায়ে জ্বর আসত। এখন আমরা সবাই সেটির জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি। উপভোগ করি। তরুণ খেলোয়াড়েরা যখন দেখল, আমরা ওদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সব করছি, ওরাও অনুপ্রাণিত হলো। এই যে মাশরাফি ভাইয়ের পায়ে এত সমস্যা, উনিও চেষ্টা করেন, ১০ চক্কর দিলে অন্তত দুই চক্কর যেন সামনে থাকতে পারেন। আমাদের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে এটির অনেক বড় ভূমিকা।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X