মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১:৪১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, January 25, 2017 9:35 pm
A- A A+ Print

‘তার কি দেশের প্রতি দরদ আছে?’

PM220170125195150

ড. ইউনূসের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের প্রতি তার কি ভালবাসা ও দরদ আছে? গরিবের হাড়-মাংস-রক্ত ঝরানো টাকা দিয়ে যে বড়লোকিপনা করে তার আবার দেশের প্রতি ভালবাসা থাকে কোথা থেকে! বুধবার দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য একেএম মাঈদুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকে সুদের হার তখন অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। উনি (মাঈদুল) যার কথা বলছেন সেই ভদ্রলোক ওই ব্যাংকের এমডি ছিলেন। তিনি প্রতিমাসে সরকারি বেতন-ভাতা নিতেন। কারণ তার প্রতি সবার একটা দুর্বলতা ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যে এত কোটি কোটি টাকা ব্যাংকে। একটা টাকার তিনি সুদ দেননি। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংক সুদমুক্ত ছিল এটা ঠিক। তবে সেই সঙ্গে তিনি যে ৪০/৫০টি কোম্পানির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন সেগুলো তো আর সুদমুক্ত না। সেই সুদগুলো কেন সরকার পাবে না? সেই টাকার কেন তারা ট্যাক্স দেবে না। এগুলো তো ট্যাক্সমুক্ত নয়। শুধু গ্রামীণ ব্যাংকটা সুদমুক্ত ছিল। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের দোহাই দিয়ে, নাম ব্যবহার করে কতগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন! সেই প্রতিবেদনও এনবিআরের কাছে আছে দাবি করে শেখ হাসিনা আরো বলেন, নিজের নামে যে টাকা এখন ফিক্সড ডিপোজিট, এই টাকা কোথা থেকে এসেছে। সেই হিসাবও তো তিনি দিতে পারেননি। কাজেই এটা নিয়ে আমি আর বেশি বলতে চাই না। এখানে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আছেন, এটা তার দায়িত্ব। তিনি দেখবেন। তিনি ব্যবস্থা নেবেন। আমি বলতে গেলেই তো আমার বিরুদ্ধে শুরু হবে নানা কথা। তারপরও মাননীয় সংসদ সদস্য কিছু কথা তুললেন, তাই বলছি। এখন অবশ্য গ্রামীণ ব্যাংক যথেষ্ট স্থিতিশীলভাবে চলছে। এখন আর ওই অবস্থা নেই দাবি করে সংসদ নেতা আরো বলেন,  উনি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ হারানোর পর দোষারোপের সবটা পড়ল আমার ওপর। এখানে আমার কিছু করার ছিল না। তিনি তার লবিস্টসহ অনেক বড় জায়গা থেকে আমাকে টেলিফোন করালেন। এমনকি তার অনুরোধে হিলারি ক্লিনটন আমাকে ফোন করলেন। এমডি পদে কেন তাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে? আমি বললাম, আমাদের আইনে আছে ৬০ বছর পর্যন্ত এমডি পদে থাকতে পারবেন। কোর্ট যে উনার কাছে অতিরিক্ত ওই ১০ বছরের বেতন-ভাতা, যা যা তিনি খরচ করেছেন সেটা ফেরত চায়নি- এটাই বড় কথা। কোর্ট ওইটুকু খাতির তো অন্তত করেছে। আর উনি এ ঘটনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালেন। গ্রামীণফোনের লাইসেন্স দেওয়ার ব্যাপার নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু উনি বলেছেন লভ্যাংশটা দরিদ্র মানুষের হাতে যাবে। কিন্তু মাননীয় স্পিকার অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, গ্রামীণফোনের যেটা বাংলাদেশের অংশ থাকার কথা তার অধিকাংশ শেয়ার উনি বেচে দিয়ে এখন ওটাকে উনার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সম্পত্তি করে নিয়েছেন। গ্রামীণফোনের কোনো লভ্যাংশ আর যায়নি। এটা চিটিং ছাড়া আর কিছুই না। এখন ওটা উনার নিজস্ব সম্পত্তি। ৩৫ ভাগ মালিকানা তার হাতে আছে। বাকিটা উনি বেচে-টেচে দিয়েছেন বলে শুনেছি। কিছু কিছু মানুষ মনে হয় সৌভাগ্য নিয়ে এই পৃথিবীতে আসে। তারা যত অন্যায়ই করুক না কেন, সেই অন্যায়গুলোকে কেউ অন্যায় হিসেবে দেখে না বা বিবেচনা করে না। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে একেবারে তিল পরিমাণ কিছু হলে বিশাল আকারে বলা হয়। জানি না তাদের বাচনিক ভঙ্গি বা কার্যক্রমের মধ্যে কী ম্যাজিক আছে? সেটা বলতে পারব না। উনি তো কথামালা ও অর্থসম্পদ দিয়ে নিজের একটা অবস্থান করে নিয়েছেন। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ হারিয়ে উনি ক্ষেপে গেলেন আমার ওপর। সেই ক্ষ্যাপাটা গিয়ে পড়ল পদ্মা সেতুর ওপর। আমাদের দেশের এক স্বনামধন্য পত্রিকার সম্পাদক আর উনি মিলে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেন। আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে লবি করলেন। তাই পদ্মা সেতুতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা দেওয়াটা বন্ধ হয়ে গেল। বরং উল্টো দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলো। রাজনীতি করি জনগণের কল্যাণের জন্য, ব্যক্তিস্বার্থে না। আর জনগণের টাকা লুট করে নিয়ে নিজের ভাগ্য গড়ব, এ ধরনের আকাঙ্ক্ষা ও মানসিকতা নেই। পারলে জনগণকে সব বিলিয়ে দিয়েছি। আমরা সেটাই শিখেছি- বলেন শেখ হাসিনা। আমার দেশে একটা উন্নয়ন হবে আর ওই উন্নয়ন থেকে টাকা বানাতে হবে- এ চিন্তা তো আমার মাথায় একেবারেই নেই। ড. ইউনূসের নাম উল্লেখ না করে তিনি আরো বলেন, উনি যখন গ্রামীণফোনের ব্যবসা আমার কাছ থেকে চেয়েছিলেন। উনি কি আমাকে এক কাপ চা খাইয়েছিলেন? বরং আমিই উনাকে আমার অফিসে বসিয়ে উল্টো চা খাইয়ে ব্যবসা দিয়েছিলাম। পদ্মা সেতুর দুর্নীতি প্রমাণ করা নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কথা বলে একেবারে আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে আমার ছেলে-মেয়ে, বউ, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য থেকে উপদেষ্টা- সবার ব্যাপারে তদন্ত করা হয়েছে। কোথাও কোনো রকম, এতটুকু খুঁত পাওয়া যায় কিনা? কেউ কোনো রকম দুর্নীতি করেছে কিনা? কিন্তু মনের জোর ছিল বলেই আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে বলেছিলাম, বিশ্বব্যাংকের টাকায় আর পদ্মা সেতু করব না। পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় উনি মহাখুশি। কিন্তু আমরা সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। আমরা এখন নিজের অর্থে করছি। ড. ইউনূসের দল গঠন করার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি দল করতে গেলেন। সেই সম্পাদক সাহেব আর উনি মিলে শুরু করলেন দল গঠন করবেন। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হলেন। কারণ জনগণের কাছে সাড়া পাননি। কারণ সুদখোরের ডাকে কেউ সাড়া দেয় না। এটা হলো বাস্তবতা। অনেক কথা বলে ফেললাম। আমি কখনো মুখ খুলি না। কিছু বলতে গেলেই সব দোষ আমার ওপর এসে পড়ে- বলেন শেখ হাসিনা।

Comments

Comments!

 ‘তার কি দেশের প্রতি দরদ আছে?’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘তার কি দেশের প্রতি দরদ আছে?’

Wednesday, January 25, 2017 9:35 pm
PM220170125195150

ড. ইউনূসের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের প্রতি তার কি ভালবাসা ও দরদ আছে? গরিবের হাড়-মাংস-রক্ত ঝরানো টাকা দিয়ে যে বড়লোকিপনা করে তার আবার দেশের প্রতি ভালবাসা থাকে কোথা থেকে!

বুধবার দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য একেএম মাঈদুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকে সুদের হার তখন অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। উনি (মাঈদুল) যার কথা বলছেন সেই ভদ্রলোক ওই ব্যাংকের এমডি ছিলেন। তিনি প্রতিমাসে সরকারি বেতন-ভাতা নিতেন। কারণ তার প্রতি সবার একটা দুর্বলতা ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যে এত কোটি কোটি টাকা ব্যাংকে। একটা টাকার তিনি সুদ দেননি। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংক সুদমুক্ত ছিল এটা ঠিক। তবে সেই সঙ্গে তিনি যে ৪০/৫০টি কোম্পানির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন সেগুলো তো আর সুদমুক্ত না। সেই সুদগুলো কেন সরকার পাবে না?

সেই টাকার কেন তারা ট্যাক্স দেবে না। এগুলো তো ট্যাক্সমুক্ত নয়। শুধু গ্রামীণ ব্যাংকটা সুদমুক্ত ছিল। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের দোহাই দিয়ে, নাম ব্যবহার করে কতগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন!

সেই প্রতিবেদনও এনবিআরের কাছে আছে দাবি করে শেখ হাসিনা আরো বলেন, নিজের নামে যে টাকা এখন ফিক্সড ডিপোজিট, এই টাকা কোথা থেকে এসেছে। সেই হিসাবও তো তিনি দিতে পারেননি।

কাজেই এটা নিয়ে আমি আর বেশি বলতে চাই না। এখানে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আছেন, এটা তার দায়িত্ব। তিনি দেখবেন। তিনি ব্যবস্থা নেবেন। আমি বলতে গেলেই তো আমার বিরুদ্ধে শুরু হবে নানা কথা। তারপরও মাননীয় সংসদ সদস্য কিছু কথা তুললেন, তাই বলছি।

এখন অবশ্য গ্রামীণ ব্যাংক যথেষ্ট স্থিতিশীলভাবে চলছে। এখন আর ওই অবস্থা নেই দাবি করে সংসদ নেতা আরো বলেন,  উনি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ হারানোর পর দোষারোপের সবটা পড়ল আমার ওপর। এখানে আমার কিছু করার ছিল না।

তিনি তার লবিস্টসহ অনেক বড় জায়গা থেকে আমাকে টেলিফোন করালেন। এমনকি তার অনুরোধে হিলারি ক্লিনটন আমাকে ফোন করলেন। এমডি পদে কেন তাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে? আমি বললাম, আমাদের আইনে আছে ৬০ বছর পর্যন্ত এমডি পদে থাকতে পারবেন।

কোর্ট যে উনার কাছে অতিরিক্ত ওই ১০ বছরের বেতন-ভাতা, যা যা তিনি খরচ করেছেন সেটা ফেরত চায়নি- এটাই বড় কথা। কোর্ট ওইটুকু খাতির তো অন্তত করেছে। আর উনি এ ঘটনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালেন।

গ্রামীণফোনের লাইসেন্স দেওয়ার ব্যাপার নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু উনি বলেছেন লভ্যাংশটা দরিদ্র মানুষের হাতে যাবে। কিন্তু মাননীয় স্পিকার অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, গ্রামীণফোনের যেটা বাংলাদেশের অংশ থাকার কথা তার অধিকাংশ শেয়ার উনি বেচে দিয়ে এখন ওটাকে উনার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সম্পত্তি করে নিয়েছেন। গ্রামীণফোনের কোনো লভ্যাংশ আর যায়নি। এটা চিটিং ছাড়া আর কিছুই না। এখন ওটা উনার নিজস্ব সম্পত্তি। ৩৫ ভাগ মালিকানা তার হাতে আছে। বাকিটা উনি বেচে-টেচে দিয়েছেন বলে শুনেছি।

কিছু কিছু মানুষ মনে হয় সৌভাগ্য নিয়ে এই পৃথিবীতে আসে। তারা যত অন্যায়ই করুক না কেন, সেই অন্যায়গুলোকে কেউ অন্যায় হিসেবে দেখে না বা বিবেচনা করে না। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে একেবারে তিল পরিমাণ কিছু হলে বিশাল আকারে বলা হয়। জানি না তাদের বাচনিক ভঙ্গি বা কার্যক্রমের মধ্যে কী ম্যাজিক আছে? সেটা বলতে পারব না। উনি তো কথামালা ও অর্থসম্পদ দিয়ে নিজের একটা অবস্থান করে নিয়েছেন।

পদ্মা সেতুর অর্থায়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ হারিয়ে উনি ক্ষেপে গেলেন আমার ওপর। সেই ক্ষ্যাপাটা গিয়ে পড়ল পদ্মা সেতুর ওপর। আমাদের দেশের এক স্বনামধন্য পত্রিকার সম্পাদক আর উনি মিলে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেন। আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে লবি করলেন। তাই পদ্মা সেতুতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা দেওয়াটা বন্ধ হয়ে গেল। বরং উল্টো দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলো।

রাজনীতি করি জনগণের কল্যাণের জন্য, ব্যক্তিস্বার্থে না। আর জনগণের টাকা লুট করে নিয়ে নিজের ভাগ্য গড়ব, এ ধরনের আকাঙ্ক্ষা ও মানসিকতা নেই। পারলে জনগণকে সব বিলিয়ে দিয়েছি। আমরা সেটাই শিখেছি- বলেন শেখ হাসিনা।

আমার দেশে একটা উন্নয়ন হবে আর ওই উন্নয়ন থেকে টাকা বানাতে হবে- এ চিন্তা তো আমার মাথায় একেবারেই নেই।

ড. ইউনূসের নাম উল্লেখ না করে তিনি আরো বলেন, উনি যখন গ্রামীণফোনের ব্যবসা আমার কাছ থেকে চেয়েছিলেন। উনি কি আমাকে এক কাপ চা খাইয়েছিলেন? বরং আমিই উনাকে আমার অফিসে বসিয়ে উল্টো চা খাইয়ে ব্যবসা দিয়েছিলাম।

পদ্মা সেতুর দুর্নীতি প্রমাণ করা নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কথা বলে একেবারে আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে আমার ছেলে-মেয়ে, বউ, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য থেকে উপদেষ্টা- সবার ব্যাপারে তদন্ত করা হয়েছে। কোথাও কোনো রকম, এতটুকু খুঁত পাওয়া যায় কিনা? কেউ কোনো রকম দুর্নীতি করেছে কিনা?

কিন্তু মনের জোর ছিল বলেই আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে বলেছিলাম, বিশ্বব্যাংকের টাকায় আর পদ্মা সেতু করব না। পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় উনি মহাখুশি। কিন্তু আমরা সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। আমরা এখন নিজের অর্থে করছি।

ড. ইউনূসের দল গঠন করার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি দল করতে গেলেন। সেই সম্পাদক সাহেব আর উনি মিলে শুরু করলেন দল গঠন করবেন। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হলেন। কারণ জনগণের কাছে সাড়া পাননি। কারণ সুদখোরের ডাকে কেউ সাড়া দেয় না। এটা হলো বাস্তবতা।

অনেক কথা বলে ফেললাম। আমি কখনো মুখ খুলি না। কিছু বলতে গেলেই সব দোষ আমার ওপর এসে পড়ে- বলেন শেখ হাসিনা।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X