শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৫৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, October 23, 2016 10:00 pm
A- A A+ Print

তালাকপ্রাপ্ত আসমার পাশে ভারতের ৫০টি গ্রাম

157439_1

নয়াদিল্লি: ভারতের উত্তর প্রদেশে অন্তত পঞ্চাশটি গ্রামের মোড়লরা একজোট হয়ে তালাক প্রাপ্তা এক নারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভারতের উত্তর প্রদেশের ওই মুসলিম মহিলাকে তার স্বামী সৌদি আরব থেকে টেলিফোনে তিন তালাক দেওয়ার পর আশে পাশের গ্রামের মানুষগুলো তার পাশে এসে দাড়ায়। দেশটির মুজফফরনগর জেলার নাইয়ামু জেলার মেয়ে আসমা খাতুনের কোনো দোষ নেই এবং তার ওপর জোর করে এই বিবাহ-বিচ্ছেদ চাপিয়ে দেওয়াটা অন্যায়, এই যুক্তিতেই ওই এলাকার মুসলিম গ্রামবাসীরা তাকে এভাবে তালাক দেওয়ার বিরোধিতা করছেন। এই বিরল পদক্ষেপ নেওয়া হলো এমন এক সময়ে যখন তিন তালাক প্রথা বজায় রাখা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলছে। দেশটির আইন কমিশনও এই প্রশ্নে জনমত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে নাইয়ামু গ্রামের আসমা খাতুন যখন সবে তার এগারো মাসের মেয়ে ইকরাকে খাইয়ে উঠেছে তখনই তার মোবাইলে সৌদি আরব থেকে স্বামী শাহনওয়াজ হোসেনের ফোন আসে। সৌদির রিয়াদে ড্রাইভারের কাজ করে শাহনওয়াজ, স্ত্রীর সঙ্গে গত কিছুদিন ধরেই মনোমালিন্য চলছিল। কিন্তু টেলিফোনে সেদিন স্বামীর মুখ থেকে আসমা যা শুনল তার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিল না সে। পরে সংবাদ মাধ্যমকে আসমা বলছিল, ‘আমাদের বছর-দুয়েক হল বিয়ে হয়েছে। প্রথম বছর মোটামুটি সব ঠিকই ছিল, কিন্তু আমার মেয়ে হওয়ার পরই গণ্ডগোলের শুরু। ওরা ছেলে চেয়েছিল, কিন্তু আমার মেয়ে হওয়ার পরই মারধর শুরু হলো। হাতে, পায়ে, কোমড়ে মারতে মারতে আমায় ঘর থেকে বের করে দিত।’ তিনি বলেন, ‘এত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম যে ভাইরা আমায় চিকিৎসার জন্য বাপের বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু আমার কপালে মেয়ে লেখা থাকলে আমি কী করব।’ আসমা খাতুন বলন, ‘সেদিন জুম্মাবারে যখন ফোন এল, হ্যালো করে ওর গলা শুনতেই আমি সালাম করলাম। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ও গালিগালাজ শুরু করল, বলল এবারে নিজের ফয়সালা করে নে। দুবার তালাক দিলো, তৃতীয় বারে আমাকে মুক্ত করে দিলো।’ স্বামী পরিত্যক্ত এমন বহু নারী এরপর হাল ছেড়ে দেন, কিন্তু আসমার ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনকভাবে তা হয়নি। নাইয়ামুর গ্রাম-প্রধান মহম্মদ লিয়াকত ত্যাগী তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আশেপাশের আরো প্রায় গোটা পঞ্চাশেক মুসলিম-প্রধান গ্রামের মোড়লদের ডেকে সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শাহনওয়াজ হুসেন এভাবে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারেন না। এই বিয়ে যদি নাও টেকে শাহনওয়াজের পরিবার যাতে আসমাকে মোটা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয় সে জন্যও আইনি লড়াই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই গ্রামসভা। সামাজিকভাবে বেশ পিছিয়ে থাকা মুজফফরনগরে এই ঘটনাটা এমন সময়ে ঘটল যখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও তিন তালাকের প্রথার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিতে শুরু করেছে। ভারতের সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু এদিনই হায়দ্রাবাদে বলেন, দেশে লিঙ্গ-বৈষম্য ও অবিচার দূর করতে তিন তালাক প্রথা বিলোপ করার সময় এসেছে। তিনি বলেন, ভারতের সংবিধানের ১৪ ও ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ নাগরিকদের এই সমানাধিকার দিয়েছে। কাজেই মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে এই অন্যায় চলতে দেওয়া যায় না। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে ভারতে সবাই সমান। আর সেই অভিন্ন ভারতের পথেই আমাদের এগোনো উচিত। ভেঙ্কাইয়া নাইডুর কথায় যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের আভাস আছে, দেশের আইন কমিশন এর মধ্যেই সে উদ্যোগ শুরু করেছে এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তা মুসলিম সংগঠনগুলোর বাধার মুখে পড়েছে। অল ইন্ডিয়া পার্সোনাল ‘ল’ বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি রেহমানি বলেছেন, দেশের নাগরিকরা সংবিধান নামক যে চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে ভারতে বাস করছেন, তার ২৫ নম্বর ধারার পরিপন্থী এই পদক্ষেপ। তিনি বলেন, ধর্মকে উপেক্ষা করে কোনো একটি বিশেষ ধরনের ভাবনাকে কার্যকর করার চেষ্টাটাই তো বেআইনি। মুসলিম নেতারা বিয়ে, তালাক, সম্পত্তির উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলো তাদের ধর্মের পার্সোনাল আইনের অন্তর্গত, এই যুক্তি দিয়ে সেখানে সরকারি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। কিন্তু তিন তালাক, বিশেষ করে টেলিফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে ঝটিতি তালাকের বিরুদ্ধে মুসলিম সমাজের ভেতরেও যে প্রতিরোধ তৈরি হচ্ছে মুজফফরনগরের আসমা খাতুনই সম্ভবত তার প্রমাণ হিসেবে উপস্থিত হতে যাচ্ছে।

Comments

Comments!

 তালাকপ্রাপ্ত আসমার পাশে ভারতের ৫০টি গ্রামAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

তালাকপ্রাপ্ত আসমার পাশে ভারতের ৫০টি গ্রাম

Sunday, October 23, 2016 10:00 pm
157439_1

নয়াদিল্লি: ভারতের উত্তর প্রদেশে অন্তত পঞ্চাশটি গ্রামের মোড়লরা একজোট হয়ে তালাক প্রাপ্তা এক নারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

ভারতের উত্তর প্রদেশের ওই মুসলিম মহিলাকে তার স্বামী সৌদি আরব থেকে টেলিফোনে তিন তালাক দেওয়ার পর আশে পাশের গ্রামের মানুষগুলো তার পাশে এসে দাড়ায়।

দেশটির মুজফফরনগর জেলার নাইয়ামু জেলার মেয়ে আসমা খাতুনের কোনো দোষ নেই এবং তার ওপর জোর করে এই বিবাহ-বিচ্ছেদ চাপিয়ে দেওয়াটা অন্যায়, এই যুক্তিতেই ওই এলাকার মুসলিম গ্রামবাসীরা তাকে এভাবে তালাক দেওয়ার বিরোধিতা করছেন।

এই বিরল পদক্ষেপ নেওয়া হলো এমন এক সময়ে যখন তিন তালাক প্রথা বজায় রাখা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলছে। দেশটির আইন কমিশনও এই প্রশ্নে জনমত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে নাইয়ামু গ্রামের আসমা খাতুন যখন সবে তার এগারো মাসের মেয়ে ইকরাকে খাইয়ে উঠেছে তখনই তার মোবাইলে সৌদি আরব থেকে স্বামী শাহনওয়াজ হোসেনের ফোন আসে।

সৌদির রিয়াদে ড্রাইভারের কাজ করে শাহনওয়াজ, স্ত্রীর সঙ্গে গত কিছুদিন ধরেই মনোমালিন্য চলছিল। কিন্তু টেলিফোনে সেদিন স্বামীর মুখ থেকে আসমা যা শুনল তার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিল না সে।

পরে সংবাদ মাধ্যমকে আসমা বলছিল, ‘আমাদের বছর-দুয়েক হল বিয়ে হয়েছে। প্রথম বছর মোটামুটি সব ঠিকই ছিল, কিন্তু আমার মেয়ে হওয়ার পরই গণ্ডগোলের শুরু। ওরা ছেলে চেয়েছিল, কিন্তু আমার মেয়ে হওয়ার পরই মারধর শুরু হলো। হাতে, পায়ে, কোমড়ে মারতে মারতে আমায় ঘর থেকে বের করে দিত।’

তিনি বলেন, ‘এত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম যে ভাইরা আমায় চিকিৎসার জন্য বাপের বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু আমার কপালে মেয়ে লেখা থাকলে আমি কী করব।’

আসমা খাতুন বলন, ‘সেদিন জুম্মাবারে যখন ফোন এল, হ্যালো করে ওর গলা শুনতেই আমি সালাম করলাম। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ও গালিগালাজ শুরু করল, বলল এবারে নিজের ফয়সালা করে নে। দুবার তালাক দিলো, তৃতীয় বারে আমাকে মুক্ত করে দিলো।’

স্বামী পরিত্যক্ত এমন বহু নারী এরপর হাল ছেড়ে দেন, কিন্তু আসমার ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনকভাবে তা হয়নি।

নাইয়ামুর গ্রাম-প্রধান মহম্মদ লিয়াকত ত্যাগী তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আশেপাশের আরো প্রায় গোটা পঞ্চাশেক মুসলিম-প্রধান গ্রামের মোড়লদের ডেকে সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শাহনওয়াজ হুসেন এভাবে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারেন না।

এই বিয়ে যদি নাও টেকে শাহনওয়াজের পরিবার যাতে আসমাকে মোটা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয় সে জন্যও আইনি লড়াই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই গ্রামসভা।

সামাজিকভাবে বেশ পিছিয়ে থাকা মুজফফরনগরে এই ঘটনাটা এমন সময়ে ঘটল যখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও তিন তালাকের প্রথার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিতে শুরু করেছে।

ভারতের সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু এদিনই হায়দ্রাবাদে বলেন, দেশে লিঙ্গ-বৈষম্য ও অবিচার দূর করতে তিন তালাক প্রথা বিলোপ করার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, ভারতের সংবিধানের ১৪ ও ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ নাগরিকদের এই সমানাধিকার দিয়েছে। কাজেই মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে এই অন্যায় চলতে দেওয়া যায় না। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে ভারতে সবাই সমান। আর সেই অভিন্ন ভারতের পথেই আমাদের এগোনো উচিত।

ভেঙ্কাইয়া নাইডুর কথায় যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের আভাস আছে, দেশের আইন কমিশন এর মধ্যেই সে উদ্যোগ শুরু করেছে এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তা মুসলিম সংগঠনগুলোর বাধার মুখে পড়েছে।

অল ইন্ডিয়া পার্সোনাল ‘ল’ বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি রেহমানি বলেছেন, দেশের নাগরিকরা সংবিধান নামক যে চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে ভারতে বাস করছেন, তার ২৫ নম্বর ধারার পরিপন্থী এই পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, ধর্মকে উপেক্ষা করে কোনো একটি বিশেষ ধরনের ভাবনাকে কার্যকর করার চেষ্টাটাই তো বেআইনি।

মুসলিম নেতারা বিয়ে, তালাক, সম্পত্তির উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলো তাদের ধর্মের পার্সোনাল আইনের অন্তর্গত, এই যুক্তি দিয়ে সেখানে সরকারি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। কিন্তু তিন তালাক, বিশেষ করে টেলিফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে ঝটিতি তালাকের বিরুদ্ধে মুসলিম সমাজের ভেতরেও যে প্রতিরোধ তৈরি হচ্ছে মুজফফরনগরের আসমা খাতুনই সম্ভবত তার প্রমাণ হিসেবে উপস্থিত হতে যাচ্ছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X