রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৫৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, October 31, 2016 1:11 pm
A- A A+ Print

তিনিও অনেক বই পড়তেন

fgjh

এটা কেন হলো? কীভাবে হলো? এভাবে না হয়ে ওভাবে হলো না কেন?—আকিব যাকে পায়, তাকেই প্রশ্ন করে। যাকেই প্রশ্ন করে, তার কাছে আকিবের প্রশ্ন শুধু প্রশ্ন নয়, যেন প্রশ্নগুলো একেকটা পারমাণবিক বোমা। সেই বোমা যখনই কারও মাথায় ফাটে, তারই আক্কেলগুড়ুম হয়ে যায়। কারণ, আকিবের প্রশ্নের জবাব বেশির ভাগ মানুষের জানা নেই। যেমন আপেলের খোসা লাল, তাহলে ভেতরটা সাদা কেন? নারকেলের ভেতর পানি থাকে কেন? বাচ্চাদের হাড় বড়দের চেয়ে বেশি থাকে কেন? আকিব মাত্র ক্লাস ফোরে পড়ে। এখনই তার সব প্রশ্ন এত্ত জটিল। কিন্তু আজ সে একটা ভয়ংকর কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে। আজ সকালে স্কুলে সে ক্লাস টেনের রুমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সে দেখল, তাদের গণিতের টিচার তেঁতুল স্যার ওরফে তিতুমীর বিশ্বাস একটা ছাত্রকে বেত দিয়ে পেটাচ্ছেন। আকিব কী ভেবে যেন ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ল। স্যার আকিবকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী চাস?’ আকিবের স্পষ্ট উত্তর, ‘স্যার, ছাত্ররা তো স্যারের কাছ থেকেই শেখে, তাই আমিও আপনার কাছ থেকে শিখতে এলাম।’

‘কী শিখতে এসেছিস? আমাকে রং দেখাতে এসেছিস?’

‘না, স্যার। আমি এসেছি আইন ভাঙা শিখতে। এই আপনি যে আইন ভাঙছেন, সেটাই শিখছি। আর জানেন হয়তো, দেশের আইনে ছাত্রদের মারার নিষেধাজ্ঞা আছে।’

এই কথা শুনে স্যার অনেকটা চুপসে গেলেন। তারপর বললেন, ‘তুই আমাকে আইন শেখাচ্ছিস?’

‘আহা! আমি শেখাতে এলাম কই? শিখতে এসেছি, বললাম না!’

‘ভাগ এখান থেকে।’

আকিব চলে গেল। কিন্তু হঠাৎ তার মাথায় একটা প্রশ্ন এল। তাই সে আবার ক্লাস টেনের ক্লাসরুমে ফিরে এল। এসে স্যারকে বলল, ‘স্যার, আমার একটা প্রশ্ন ছিল। মানুষের রাগ ওঠে কেন? এই কথা শুনে পুরো ক্লাস হেসে দিল। আর স্যার একেবারে যেন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন। স্যার ভেবে নিয়েছেন যে প্রশ্নটা তাকে কটাক্ষ করে করা হয়েছে। কিন্তু আকিব প্রশ্নটা জানার জন্যই করেছিল। আকিব বাসায় আসার পর দেখল যে স্যার বাসায় এসে তার মায়ের কাছে বিচার দিচ্ছেন।

স্যার চলে যাওয়ার পর আকিব অনেকক্ষণ মায়ের বকুনি খেল। সে রুমে গিয়ে বসে রইল। মা ওর বাইরে গিয়ে খেলা বন্ধ করে দিয়েছেন। আকিবের মন তাই খারাপ। সে সিদ্ধান্ত নিল, আর কোনো দিন কাউকে প্রশ্ন করবে না, বড় ক্লাসের বই পড়বে না। বিজ্ঞানীদের জীবনী পড়বে না। এরপর সে ডায়েরি নিয়ে লিখতে শুরু করল যে সে কী কী করবে না। হঠাৎ একটা হাসির শব্দ শুনতে পেল। আকিব দেখল, তার সামনে একজন বুড়ো লোক বসে আছেন। চুলগুলো সাদা ও কোঁকড়া।

আকিব বলল, ‘আপনি এখানে এলেন কীভাবে?’

‘আমি যেভাবেই আসি না কেন, তোমার সঙ্গে কথা বলতেই এসেছি। তুমি আর কোনো দিন প্রশ্ন করবে না। তাই না?’

‘হ্যাঁ, আমি কোনো দিন কাউকে প্রশ্ন করব না।’

‘আচ্ছা, তোমাকে আমার গল্প বলি। আমার অভিভাবক আর শিক্ষকেরা কখনোই আমাকে বিশেষ কিছু ভাবতেন না। শিক্ষকেরা প্রায়ই আমাকে অমনোযোগী ও আনমনা বলতেন, বাসায় বিচারও দিতেন। আমি সব সময় পেছনের বেঞ্চে বসতাম। আমার মনে যে প্রশ্নই আসত, নিজেই সেটা নিয়ে ভাবতাম, উত্তর খুঁজতাম নিজে নিজেই। কিন্তু...’

‘কিন্তু কী?’

‘পরবর্তী সময়ে আমার নিঃসঙ্গতার সঙ্গী হয়েছিল বই। প্রচুর বই পড়তাম। ১৫ বছর বয়সেই আমি বড় বড় বিজ্ঞানীদের লেখা বই পড়ে শেষ করে ফেলেছিলাম। এরাই ছিল আমার বন্ধু। আমার গবেষণার জন্য কোনো ল্যাবরেটরি ছিল না। ছিল না কোনো যন্ত্রপাতি। আমার গবেষণার একমাত্র অবলম্বন ছিল কাগজ ও কলম। এ নিয়েই তো...’

‘কী?’

‘বাকিটুকু তোমাকেই খুঁজে বের করতে হবে। এখন আমি যাই।’

‘আপনি কে? আপনার পরিচয় কী?’

উত্তরে আকিব কিছুই পেল না। শুধু পেল একটা উজ্জ্বল হাসি। যেটা দেখেই আকিবের আর সন্দেহ রইল না যে লোকটি কে। নিমেষেই উধাও হয়ে গেল লোকটি। আকিবের চোখ ভরে এল। সে ডায়েরির সব লেখা কেটে দিল। আর লিখল—আজ থেকে আমি অনেক বই পড়ব।

হঠাৎ মা খেতে ডাকলেন। মায়ের রাগ অনেকটা কমে গেছে। বাবার মেজাজও ভালো। তাই আকিব বাবাকে স্কুলের সব ঘটনা খুলে বলল। বাবা অবশ্য রাগ না করে হেসেই ফেললেন। আকিব তখন বলল, ‘বাবা, আমি এখন থেকে অনেক বই পড়ব। তুমি আমাকে আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবনী সম্পর্কে একটা বই কিনে দেবে?’

বাবা বললেন, ‘ঠিক আছে। আর হ্যাঁ, জানো তো, আলবার্ট আইনস্টাইনও অনেক বই পড়তেন...’

Comments

Comments!

 তিনিও অনেক বই পড়তেনAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

তিনিও অনেক বই পড়তেন

Monday, October 31, 2016 1:11 pm
fgjh

এটা কেন হলো? কীভাবে হলো? এভাবে না হয়ে ওভাবে হলো না কেন?—আকিব যাকে পায়, তাকেই প্রশ্ন করে। যাকেই প্রশ্ন করে, তার কাছে আকিবের প্রশ্ন শুধু প্রশ্ন নয়, যেন প্রশ্নগুলো একেকটা পারমাণবিক বোমা। সেই বোমা যখনই কারও মাথায় ফাটে, তারই আক্কেলগুড়ুম হয়ে যায়। কারণ, আকিবের প্রশ্নের জবাব বেশির ভাগ মানুষের জানা নেই। যেমন আপেলের খোসা লাল, তাহলে ভেতরটা সাদা কেন? নারকেলের ভেতর পানি থাকে কেন? বাচ্চাদের হাড় বড়দের চেয়ে বেশি থাকে কেন?
আকিব মাত্র ক্লাস ফোরে পড়ে। এখনই তার সব প্রশ্ন এত্ত জটিল। কিন্তু আজ সে একটা ভয়ংকর কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে। আজ সকালে স্কুলে সে ক্লাস টেনের রুমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সে দেখল, তাদের গণিতের টিচার তেঁতুল স্যার ওরফে তিতুমীর বিশ্বাস একটা ছাত্রকে বেত দিয়ে পেটাচ্ছেন। আকিব কী ভেবে যেন ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ল। স্যার আকিবকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী চাস?’
আকিবের স্পষ্ট উত্তর, ‘স্যার, ছাত্ররা তো স্যারের কাছ থেকেই শেখে, তাই আমিও আপনার কাছ থেকে শিখতে এলাম।’

‘কী শিখতে এসেছিস? আমাকে রং দেখাতে এসেছিস?’

‘না, স্যার। আমি এসেছি আইন ভাঙা শিখতে। এই আপনি যে আইন ভাঙছেন, সেটাই শিখছি। আর জানেন হয়তো, দেশের আইনে ছাত্রদের মারার নিষেধাজ্ঞা আছে।’

এই কথা শুনে স্যার অনেকটা চুপসে গেলেন। তারপর বললেন, ‘তুই আমাকে আইন শেখাচ্ছিস?’

‘আহা! আমি শেখাতে এলাম কই? শিখতে এসেছি, বললাম না!’

‘ভাগ এখান থেকে।’

আকিব চলে গেল। কিন্তু হঠাৎ তার মাথায় একটা প্রশ্ন এল। তাই সে আবার ক্লাস টেনের ক্লাসরুমে ফিরে এল। এসে স্যারকে বলল, ‘স্যার, আমার একটা প্রশ্ন ছিল। মানুষের রাগ ওঠে কেন? এই কথা শুনে পুরো ক্লাস হেসে দিল। আর স্যার একেবারে যেন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন। স্যার ভেবে নিয়েছেন যে প্রশ্নটা তাকে কটাক্ষ করে করা হয়েছে। কিন্তু আকিব প্রশ্নটা জানার জন্যই করেছিল। আকিব বাসায় আসার পর দেখল যে স্যার বাসায় এসে তার মায়ের কাছে বিচার দিচ্ছেন।

স্যার চলে যাওয়ার পর আকিব অনেকক্ষণ মায়ের বকুনি খেল। সে রুমে গিয়ে বসে রইল। মা ওর বাইরে গিয়ে খেলা বন্ধ করে দিয়েছেন। আকিবের মন তাই খারাপ। সে সিদ্ধান্ত নিল, আর কোনো দিন কাউকে প্রশ্ন করবে না, বড় ক্লাসের বই পড়বে না। বিজ্ঞানীদের জীবনী পড়বে না। এরপর সে ডায়েরি নিয়ে লিখতে শুরু করল যে সে কী কী করবে না। হঠাৎ একটা হাসির শব্দ শুনতে পেল। আকিব দেখল, তার সামনে একজন বুড়ো লোক বসে আছেন। চুলগুলো সাদা ও কোঁকড়া।

আকিব বলল, ‘আপনি এখানে এলেন কীভাবে?’

‘আমি যেভাবেই আসি না কেন, তোমার সঙ্গে কথা বলতেই এসেছি। তুমি আর কোনো দিন প্রশ্ন করবে না। তাই না?’

‘হ্যাঁ, আমি কোনো দিন কাউকে প্রশ্ন করব না।’

‘আচ্ছা, তোমাকে আমার গল্প বলি। আমার অভিভাবক আর শিক্ষকেরা কখনোই আমাকে বিশেষ কিছু ভাবতেন না। শিক্ষকেরা প্রায়ই আমাকে অমনোযোগী ও আনমনা বলতেন, বাসায় বিচারও দিতেন। আমি সব সময় পেছনের বেঞ্চে বসতাম। আমার মনে যে প্রশ্নই আসত, নিজেই সেটা নিয়ে ভাবতাম, উত্তর খুঁজতাম নিজে নিজেই। কিন্তু…’

‘কিন্তু কী?’

‘পরবর্তী সময়ে আমার নিঃসঙ্গতার সঙ্গী হয়েছিল বই। প্রচুর বই পড়তাম। ১৫ বছর বয়সেই আমি বড় বড় বিজ্ঞানীদের লেখা বই পড়ে শেষ করে ফেলেছিলাম। এরাই ছিল আমার বন্ধু। আমার গবেষণার জন্য কোনো ল্যাবরেটরি ছিল না। ছিল না কোনো যন্ত্রপাতি। আমার গবেষণার একমাত্র অবলম্বন ছিল কাগজ ও কলম। এ নিয়েই তো…’

‘কী?’

‘বাকিটুকু তোমাকেই খুঁজে বের করতে হবে। এখন আমি যাই।’

‘আপনি কে? আপনার পরিচয় কী?’

উত্তরে আকিব কিছুই পেল না। শুধু পেল একটা উজ্জ্বল হাসি। যেটা দেখেই আকিবের আর সন্দেহ রইল না যে লোকটি কে। নিমেষেই উধাও হয়ে গেল লোকটি। আকিবের চোখ ভরে এল। সে ডায়েরির সব লেখা কেটে দিল। আর লিখল—আজ থেকে আমি অনেক বই পড়ব।

হঠাৎ মা খেতে ডাকলেন। মায়ের রাগ অনেকটা কমে গেছে। বাবার মেজাজও ভালো। তাই আকিব বাবাকে স্কুলের সব ঘটনা খুলে বলল। বাবা অবশ্য রাগ না করে হেসেই ফেললেন। আকিব তখন বলল, ‘বাবা, আমি এখন থেকে অনেক বই পড়ব। তুমি আমাকে আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবনী সম্পর্কে একটা বই কিনে দেবে?’

বাবা বললেন, ‘ঠিক আছে। আর হ্যাঁ, জানো তো, আলবার্ট আইনস্টাইনও অনেক বই পড়তেন…’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X