শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:৪৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, July 31, 2016 1:13 pm
A- A A+ Print

তিন শিশুকে বিক্রি করলেন দুই মা

Child1469947995

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন শিশুকে বিক্রি করে দিয়েছেন দুই মা। গত এক মাসের ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা বাসুদেব ইউনিয়নের কোড্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্বামীর অবহেলা আর সংসারের অনটনের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।  ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোড্ডা গ্রামের মলাই খলিফার মেয়ে সুরমা বেগম এক প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার আট মাস বয়সি মেয়ে তাকুয়াকে বিক্রি করে দেন ১০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে একই এলাকার দুধ মিয়ার মেয়ে শেফালি বেগম দুই যমজ সন্তান (এক ছেলে ও এক মেয়ে) বিক্রি করে দিয়েছেন ১২ হাজার টাকায়। স্বামী নিতে চায় না বলে ওই দু’জনই বাবার বাড়িতে থাকেন।   পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সাত-আট বছর আগে নাসিরনগরের দৌলতপুরের মনাহার মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সুরমা বেগমের। তাদের ঘরে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এরই মধ্যে মনাহার মিয়া একাধিক বিয়ে করলে সুরমা বেগম বাড়িতে চলে আসেন। তবে স্বামী তার পিছু ছাড়েনি। সে প্রায়ই কোড্ডায় আসত। এরই মধ্যে আরো একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন সুরমা। এর পর থেকে স্বামী আরো অবহেলার চোখে দেখতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি বিদেশ যাওয়ার চিন্তা করেন। এ অবস্থায় সিলেটের রশিদপুরের এক আত্মীয়ের কাছে তিনি মেয়ে তাকুয়া আক্তারকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।   সুরমা বেগম বলেন, ’আমার একমাত্র রোজগারে ভাই রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। তার পক্ষে এত বড় পরিবার চালিয়ে আমাকে বিদেশ পাঠানো সম্ভব নয়। তাই সন্তান বিক্রির টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করতে দিয়েছি। যাদের কাছে বিক্রি করেছি তারা বলেছে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনের আরো টাকা দেবে’। তবে মেয়ের জন্য কষ্ট হয় জানিয়ে তিনি এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন।   এদিকে শেফালি বেগমের দুই জমজ শিশু বিক্রি করা হয়েছে গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে। শেফালির স্বামী মো. শাহনেওয়াজ সন্তানদের অস্বীকার করায় বিক্রিতে তারা বাধ্য হয়েছেন বলে পরিবারের লোকজন জানায়।   শেফালির ভাই সুজন মিয়া জানালেন, তিনি রাজমিস্ত্রীর সহযোগির কাজ করে সংসার চালান। তার বোনটি সহজ সরল। সন্তানদের সে ভালোভাবে লালন পালনও করতে পারছিল না। তার স্বামীও সন্তানদেরকে অস্বীকৃতি জানায়। এ অবস্থায় তারা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন।  

Comments

Comments!

 তিন শিশুকে বিক্রি করলেন দুই মাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

তিন শিশুকে বিক্রি করলেন দুই মা

Sunday, July 31, 2016 1:13 pm
Child1469947995

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন শিশুকে বিক্রি করে দিয়েছেন দুই মা। গত এক মাসের ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা বাসুদেব ইউনিয়নের কোড্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্বামীর অবহেলা আর সংসারের অনটনের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।  ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোড্ডা গ্রামের মলাই খলিফার মেয়ে সুরমা বেগম এক প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার আট মাস বয়সি মেয়ে তাকুয়াকে বিক্রি করে দেন ১০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে একই এলাকার দুধ মিয়ার মেয়ে শেফালি বেগম দুই যমজ সন্তান (এক ছেলে ও এক মেয়ে) বিক্রি করে দিয়েছেন ১২ হাজার টাকায়। স্বামী নিতে চায় না বলে ওই দু’জনই বাবার বাড়িতে থাকেন।

 

পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সাত-আট বছর আগে নাসিরনগরের দৌলতপুরের মনাহার মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সুরমা বেগমের। তাদের ঘরে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এরই মধ্যে মনাহার মিয়া একাধিক বিয়ে করলে সুরমা বেগম বাড়িতে চলে আসেন। তবে স্বামী তার পিছু ছাড়েনি। সে প্রায়ই কোড্ডায় আসত। এরই মধ্যে আরো একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন সুরমা। এর পর থেকে স্বামী আরো অবহেলার চোখে দেখতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি বিদেশ যাওয়ার চিন্তা করেন। এ অবস্থায় সিলেটের রশিদপুরের এক আত্মীয়ের কাছে তিনি মেয়ে তাকুয়া আক্তারকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।

 

সুরমা বেগম বলেন, ’আমার একমাত্র রোজগারে ভাই রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। তার পক্ষে এত বড় পরিবার চালিয়ে আমাকে বিদেশ পাঠানো সম্ভব নয়। তাই সন্তান বিক্রির টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করতে দিয়েছি। যাদের কাছে বিক্রি করেছি তারা বলেছে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনের আরো টাকা দেবে’। তবে মেয়ের জন্য কষ্ট হয় জানিয়ে তিনি এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন।

 

এদিকে শেফালি বেগমের দুই জমজ শিশু বিক্রি করা হয়েছে গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে। শেফালির স্বামী মো. শাহনেওয়াজ সন্তানদের অস্বীকার করায় বিক্রিতে তারা বাধ্য হয়েছেন বলে পরিবারের লোকজন জানায়।

 

শেফালির ভাই সুজন মিয়া জানালেন, তিনি রাজমিস্ত্রীর সহযোগির কাজ করে সংসার চালান। তার বোনটি সহজ সরল। সন্তানদের সে ভালোভাবে লালন পালনও করতে পারছিল না। তার স্বামীও সন্তানদেরকে অস্বীকৃতি জানায়। এ অবস্থায় তারা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X