মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৩২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, November 19, 2016 4:57 pm
A- A A+ Print

তিন সাঁওতালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার দাবি

7

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে তিনজন সাঁওতালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় আনতে হবে, সর্বোপরি আদিবাসীদের নিরাপত্তা দিতে হবে। ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতালের মৃত্যু এবং পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এরপর সচেতন নাগরিকবৃন্দ ব্যানারে নাগরিক প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ফিরে আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তাঁরা। সেখানেই এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেছেন, ৩০০ বছর ধরে রাষ্ট্র আদিবাসীর ওপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা যখনই ঘটে, সরকার চোখ বন্ধ করে থাকে। আদিবাসীরা সৎ। এ জন্য তারা তিরের ডগায় বিশেষ কিছু ব্যবহার করেনি। ব্যবহার করলে যারা তিরবিদ্ধ হয়েছে, তারা সবাই মারা যেত। অথচ পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে তিনজনকে হত্যা করেছ। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ মারা গেছে কি না, তা জানা যায়নি। সাড়ে পাঁচ হাজার একর জমির মধ্যে সাড়ে চার হাজারই সাঁওতালদের। সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। অর্থনৈতিক অঞ্চল করার যে শর্ত, তাতে বলা আছে তিন ফসলি জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে না। সাঁওতালদের জমিগুলো সবই তিন ফসলি। অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক থাকতে হবে। কিন্তু এসব জমির ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে তা নেই। নাব্যতাসহ নদী থাকতে হবে, সেটাও নেই। যারা আদিবাসীদের ওপর হামলা করেছে, আগুন দিয়েছে, এরা রাজাকার, আলবদর। ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে কথা বলেছি। এর সমাধান চাই। জবাবে তিনি বলেছেন, “আমি সাঁওতালদের উচ্ছেদ চাই।” তাঁর কণ্ঠে আইয়ুব খানের কণ্ঠস্বর শুনেছি। এটা সাম্প্রদায়িক দম্ভোক্তি। বঙ্গবন্ধুর দলের সরকারের এ ধরনের দম্ভোক্তি শোভা পায় না। প্রশাসনের যারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের বরখাস্ত না, শাস্তি দাবি করছি।’ লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘সরকার হতদরিদ্র সাঁওতালদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর মতো বলপ্রয়োগ করে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটল, সেটার তদন্ত চাই।’ সংবাদ সম্মেলনে সচেতন নাগরিকবৃন্দের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে তিনজন সাওতালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে; এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে; নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ নিরাপত্তাসহ আবারও তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে বসবাসের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে; সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সার্বিক দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে; সব মিথ্যা মামলা অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; বাপ–দাদার ভিটায় আদিবাসীদের প্রতিষ্ঠা করা ফুলমনি মুরমু শিশু শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্র সরকারি খরচে নির্মাণ করতে হবে এবং ঘটনার জন্য দায়ী স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদ প্রমুখ।

Comments

Comments!

 তিন সাঁওতালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার দাবিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

তিন সাঁওতালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার দাবি

Saturday, November 19, 2016 4:57 pm
7

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে তিনজন সাঁওতালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় আনতে হবে, সর্বোপরি আদিবাসীদের নিরাপত্তা দিতে হবে।

৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতালের মৃত্যু এবং পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এরপর সচেতন নাগরিকবৃন্দ ব্যানারে নাগরিক প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ফিরে আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তাঁরা। সেখানেই এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেছেন, ৩০০ বছর ধরে রাষ্ট্র আদিবাসীর ওপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা যখনই ঘটে, সরকার চোখ বন্ধ করে থাকে। আদিবাসীরা সৎ। এ জন্য তারা তিরের ডগায় বিশেষ কিছু ব্যবহার করেনি। ব্যবহার করলে যারা তিরবিদ্ধ হয়েছে, তারা সবাই মারা যেত। অথচ পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে তিনজনকে হত্যা করেছ। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ মারা গেছে কি না, তা জানা যায়নি।
সাড়ে পাঁচ হাজার একর জমির মধ্যে সাড়ে চার হাজারই সাঁওতালদের। সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। অর্থনৈতিক অঞ্চল করার যে শর্ত, তাতে বলা আছে তিন ফসলি জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে না। সাঁওতালদের জমিগুলো সবই তিন ফসলি। অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক থাকতে হবে। কিন্তু এসব জমির ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে তা নেই। নাব্যতাসহ নদী থাকতে হবে, সেটাও নেই। যারা আদিবাসীদের ওপর হামলা করেছে, আগুন দিয়েছে, এরা রাজাকার, আলবদর।
ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে কথা বলেছি। এর সমাধান চাই। জবাবে তিনি বলেছেন, “আমি সাঁওতালদের উচ্ছেদ চাই।” তাঁর কণ্ঠে আইয়ুব খানের কণ্ঠস্বর শুনেছি। এটা সাম্প্রদায়িক দম্ভোক্তি। বঙ্গবন্ধুর দলের সরকারের এ ধরনের দম্ভোক্তি শোভা পায় না। প্রশাসনের যারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের বরখাস্ত না, শাস্তি দাবি করছি।’
লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘সরকার হতদরিদ্র সাঁওতালদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর মতো বলপ্রয়োগ করে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটল, সেটার তদন্ত চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে সচেতন নাগরিকবৃন্দের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে তিনজন সাওতালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে; এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে; নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ নিরাপত্তাসহ আবারও তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে বসবাসের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে; সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সার্বিক দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে; সব মিথ্যা মামলা অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; বাপ–দাদার ভিটায় আদিবাসীদের প্রতিষ্ঠা করা ফুলমনি মুরমু শিশু শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্র সরকারি খরচে নির্মাণ করতে হবে এবং ঘটনার জন্য দায়ী স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদ প্রমুখ।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X