রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৫৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, July 24, 2016 2:20 am
A- A A+ Print

তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান রুখে দিতে যে দম্পতি শহীদের জন্য প্রস্তুত ছিল

147885_1

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   তুরস্কে এরদোগান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র একটি অংশ যে অভ্যুত্থান চেষ্টা করেছিল তা দেশটির সাধারণ নাগরিকরা তাদের জীবনের মায়া ত্যাগ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। গত ১৫ জুলাই রাতে তুরস্কে এরদোগান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর একটি অংশ যে অভ্যুত্থান চেষ্টা করেছিল তা রুখে দিতে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। ঐদিন প্রেসিডেন্টট এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে লাখ লাখ জনতা রাস্তায় নেমে আসে। অংশ নেয় দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, আবাল-বৃদ্ধ বনিতাসহ সর্বস্তরের জনতা। এমন কি বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও। মিষ্টি-মধুর জীবনের মায়া ত্যাগ করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল সবাই। তাদের মধ্যেই একজন হলেন সুলেমান টোক, যিনি তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অভ্যুত্থান চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তিনি ওই দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশস্ত্র অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী সৈন্যদের দিকে পাথর ছুঁড়ে মেরে তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। পরে সৈন্যদের গুলিতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। টোক আঙ্কারার একজন নির্মাণ কর্মী। আঙ্কারায় তুর্কি পুলিশ সদর দপ্তরে বোমা হামলার সময় অত্যন্ত কাছ থেকে অভ্যুত্থান চেষ্টাকারীদের কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন তিনি। আনাদুলো সংবাদ সংস্থাকে টোক বলেন, ‘আমরা দেখলাম সশস্ত্র এক দল সৈন্য পুলিশ সদর দপ্তরে প্রবেশ করে বোমাবর্ষণ করছে। আমরা পাথর ছুঁড়ে তাদের থামাতে চেষ্টা করলাম। এরপর তারাও আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করতে থাকে।’ তিনি আরো বলেন, ‘লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আহত লোকদের বহন করছিল এবং তারপর অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী সৈন্যদের রুখে দিতে ফিরে আসছিল।’ ওই দিনের ঘটনায় টোক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। বর্তমানে তিনি তুরস্কের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। টোক বলেন, ‘অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার ওই রাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী আমি। দেখলাম সাঁজোয়া যান থেকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সরাসরি গুলি করা হচ্ছে। কিন্তু এটি কোনো সৈন্য নয়, সামরিক বাহিনীর অফিসাররা এ কাজটি করছিল।’   তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নিক্ষেপ করা পাথর সৈন্যদের মাথায় আঘাত করলে সৈন্যরা কেবল আকাশের দিকে গুলি ছুঁড়ছিলেন। কিন্তু সামরিক বাহিনীর অফিসাররা জঘণ্যভাবে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি করছিল। ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার এ ঘটনার সময় তার স্ত্রী আইনুর দেশটির উত্তরাঞ্চলের সামসুন প্রদেশে অবস্থান করছিল। ওই সময় টোক তার স্ত্রীকেও রাস্তায় বেড়িয়ে আসতে বলেন। সহিংস এ বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান দমন করতে এক টেলিফোন বার্তায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান রাস্তায় নেমে আসার জন্য তুর্কি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান। টোক বলেন, ‘রাস্তায় নেমে আসার জন্য তুর্কি নাগরিকদের প্রতি এরদোগানের ওই আহ্বান পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, আমি শহীদ হতে যাচ্ছি। আমার মতো তুমিও রাস্তায় বেড়িয়ে আসো এবং আমার পথ অনুসরণ করো।’ আইনুর একজন গৃহিনী। তিনি জানান, তিনি তার স্বামীর ফোন কল পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় বের হয়ে যান। আইনুর বলেন, ‘আমিও স্বামীর মতো বাইরে গিয়ে শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। সেদিন আমার মনে গুলিবিদ্ধ হবার কোনো ভয় ছিল না। কেবল আমার সন্তানদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল দেশের প্রত্যয়ে ওই দিন রাস্তায় বের হয়ে আসি।’ অভ্যুত্থানের চেষ্টার এ ঘটনায় অন্তত ২৬৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ১৬১ জন গণতন্ত্রপন্থী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক। নিহত বাকিরা অভ্যুত্থানকারী। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৪০ জন।

Comments

Comments!

 তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান রুখে দিতে যে দম্পতি শহীদের জন্য প্রস্তুত ছিলAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান রুখে দিতে যে দম্পতি শহীদের জন্য প্রস্তুত ছিল

Sunday, July 24, 2016 2:20 am
147885_1

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   তুরস্কে এরদোগান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র একটি অংশ যে অভ্যুত্থান চেষ্টা করেছিল তা দেশটির সাধারণ নাগরিকরা তাদের জীবনের মায়া ত্যাগ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

গত ১৫ জুলাই রাতে তুরস্কে এরদোগান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর একটি অংশ যে অভ্যুত্থান চেষ্টা করেছিল তা রুখে দিতে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। ঐদিন প্রেসিডেন্টট এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে লাখ লাখ জনতা রাস্তায় নেমে আসে।

অংশ নেয় দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, আবাল-বৃদ্ধ বনিতাসহ সর্বস্তরের জনতা। এমন কি বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও। মিষ্টি-মধুর জীবনের মায়া ত্যাগ করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল সবাই।

তাদের মধ্যেই একজন হলেন সুলেমান টোক, যিনি তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অভ্যুত্থান চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

তিনি ওই দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশস্ত্র অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী সৈন্যদের দিকে পাথর ছুঁড়ে মেরে তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। পরে সৈন্যদের গুলিতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

টোক আঙ্কারার একজন নির্মাণ কর্মী। আঙ্কারায় তুর্কি পুলিশ সদর দপ্তরে বোমা হামলার সময় অত্যন্ত কাছ থেকে অভ্যুত্থান চেষ্টাকারীদের কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন তিনি।

আনাদুলো সংবাদ সংস্থাকে টোক বলেন, ‘আমরা দেখলাম সশস্ত্র এক দল সৈন্য পুলিশ সদর দপ্তরে প্রবেশ করে বোমাবর্ষণ করছে। আমরা পাথর ছুঁড়ে তাদের থামাতে চেষ্টা করলাম। এরপর তারাও আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করতে থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আহত লোকদের বহন করছিল এবং তারপর অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী সৈন্যদের রুখে দিতে ফিরে আসছিল।’

ওই দিনের ঘটনায় টোক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। বর্তমানে তিনি তুরস্কের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

টোক বলেন, ‘অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার ওই রাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী আমি। দেখলাম সাঁজোয়া যান থেকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সরাসরি গুলি করা হচ্ছে। কিন্তু এটি কোনো সৈন্য নয়, সামরিক বাহিনীর অফিসাররা এ কাজটি করছিল।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নিক্ষেপ করা পাথর সৈন্যদের মাথায় আঘাত করলে সৈন্যরা কেবল আকাশের দিকে গুলি ছুঁড়ছিলেন। কিন্তু সামরিক বাহিনীর অফিসাররা জঘণ্যভাবে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি করছিল।

ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার এ ঘটনার সময় তার স্ত্রী আইনুর দেশটির উত্তরাঞ্চলের সামসুন প্রদেশে অবস্থান করছিল। ওই সময় টোক তার স্ত্রীকেও রাস্তায় বেড়িয়ে আসতে বলেন।

সহিংস এ বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান দমন করতে এক টেলিফোন বার্তায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান রাস্তায় নেমে আসার জন্য তুর্কি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

টোক বলেন, ‘রাস্তায় নেমে আসার জন্য তুর্কি নাগরিকদের প্রতি এরদোগানের ওই আহ্বান পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, আমি শহীদ হতে যাচ্ছি। আমার মতো তুমিও রাস্তায় বেড়িয়ে আসো এবং আমার পথ অনুসরণ করো।’

আইনুর একজন গৃহিনী। তিনি জানান, তিনি তার স্বামীর ফোন কল পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় বের হয়ে যান।

আইনুর বলেন, ‘আমিও স্বামীর মতো বাইরে গিয়ে শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। সেদিন আমার মনে গুলিবিদ্ধ হবার কোনো ভয় ছিল না। কেবল আমার সন্তানদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল দেশের প্রত্যয়ে ওই দিন রাস্তায় বের হয়ে আসি।’

অভ্যুত্থানের চেষ্টার এ ঘটনায় অন্তত ২৬৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ১৬১ জন গণতন্ত্রপন্থী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক। নিহত বাকিরা অভ্যুত্থানকারী। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৪০ জন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X