মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৫৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, December 15, 2016 11:20 pm
A- A A+ Print

থামেনি গণহত্যা, আলেপ্পোয় কাঁদছে মানবতা

আলেপ্পো: সিরিয়ার আলেপ্পোর ‘ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি’ গতকাল চূর্ণবিচূর্ণ করার মাধ্যমে কয়েক লাখ বেসামরিক নাগরিককে ভয়ঙ্কর গোলাবর্ষণের মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনী দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সন্ধি মুহূর্তেই অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সঙ্গে ভঙ্গ করেন। আতঙ্কিত লেবার এমপি লুসি পাওয়েল বাশারের শাসনকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিযুক্ত করেছেন। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি কঠোর অ্যাকশন নেয়ার জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন।
সিরিয়ার অব্যাহত প্রাণঘাতী সংকট দূর করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র প্রতিও আকুল অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে, আলেপ্পোয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনী যে নির্মম অভিযান চালাচ্ছে, তাতে শহরটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যা প্রত্যক্ষ করতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জাতিসঙ্ঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত।   বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব আলেপ্পো দখলে নিতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর গত চার মাস ধরে অবরোধ করে রাখার পর বোমা হামলা চালাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার বেসামরিক লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। কেননা বাশার বাহিনী বিদ্রোহীদের খাদ্য সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়ান সেনাবাহিনী ও সহযোগী মিলিশিয়াদের অগ্রসর হওয়ার প্রেক্ষাপটে হামলায় হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচুত হয়েছে। বাসিন্দারা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যেতে হবে সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। কেননা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে বিদ্রোহীরা। সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে যে পরিমাণ লোকজন পালিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে, বাস্তব সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি হবে। গতকাল বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলেপ্পোর মানবিক সঙ্কট নিয়ে জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা। এই বৈঠককে সামনে রেখে জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ফ্রান্সের দূত ফ্রাঁসোয়া ডিলেটার সতর্ক করে বলেছেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বেসামরিক লোকদের ওপর সবচেয়ে বড় গণহত্যার বিষয়ে ফ্রান্স এবং তার মিত্ররা চুপ করে থাকতে পারে না।’ এ দিকে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা অবরুদ্ধ এলাকা মুক্ত করার জন্য পূর্ব আলেপ্পোতে বিমান ও স্থল হামলা পরিচালনা করছে। রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখ্যপাত্র মেজর জেনারেল ইগোর কোনাসেঙ্কোভ বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ৮০ হাজার সিরিয়ানকে সেখান থেকে মুক্ত করা হয়েছে, এর মধ্যে কয়েক হাজার শিশুও রয়েছে। রাশিয়ান মানবসহায়তা কেন্দ্র থেকে অনেককে প্রথমবারের মতো পানি, খাদ্য, ও চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।’ রাশিয়া ও ইরানের সমর্থন নিয়ে সিরিয়ার বাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সেখানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখান থেকে ৫০ লাখেরও বেশি অসামরিক লোকজন পালিয়ে গেছেন। হোয়াইট হেলমেট নামে পরিচিত সিরিয়ার অসামরিক প্রতিরক্ষা গ্রুপের উদ্ধার দলের একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেছেন, কেবল গতকাল বুধবার জিব আল-কুবা এলাকায় পলায়নপর লোকদের ওপর সরকারি বাহিনীর কামানের গোলাবর্ষণে অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছে যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। সিরিয়ান অবজার্ভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, গত চার দিনে পূর্ব আলেপ্পো থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি লোক পালিয়ে গেছে। গ্রুপটি জানায়, নগরীর পশ্চিম প্রান্ত থেকে ২০ হাজার এবং কুর্দি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে আরো ৩০ হাজার লোক পালিয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে সিরীয় বাহিনী বিদ্রোহীদের কাছ থেকে পূর্ব আলেপ্পো দখল করতে নতুন করে হামলা শুরু করার পর তারা নগরীর এ অংশের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এলাকা দখল করে নিয়েছে। আলেপ্পোয় কর্মরত আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট অবশ্য জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় পূর্ব আলেপ্পো থেকে ২০ হাজার লোক পালিয়ে গেছে। তাদের অনেকে সরকার নিয়ন্ত্রিত পশ্চিম আলেপ্পোয় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সূত্র: মিরর

Comments

Comments!

 থামেনি গণহত্যা, আলেপ্পোয় কাঁদছে মানবতাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

থামেনি গণহত্যা, আলেপ্পোয় কাঁদছে মানবতা

Thursday, December 15, 2016 11:20 pm

আলেপ্পো: সিরিয়ার আলেপ্পোর ‘ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি’ গতকাল চূর্ণবিচূর্ণ করার মাধ্যমে কয়েক লাখ বেসামরিক নাগরিককে ভয়ঙ্কর গোলাবর্ষণের মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনী দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সন্ধি মুহূর্তেই অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সঙ্গে ভঙ্গ করেন।

আতঙ্কিত লেবার এমপি লুসি পাওয়েল বাশারের শাসনকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিযুক্ত করেছেন। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি কঠোর অ্যাকশন নেয়ার জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন।

সিরিয়ার অব্যাহত প্রাণঘাতী সংকট দূর করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র প্রতিও আকুল অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে, আলেপ্পোয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনী যে নির্মম অভিযান চালাচ্ছে, তাতে শহরটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যা প্রত্যক্ষ করতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জাতিসঙ্ঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত।

 

বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব আলেপ্পো দখলে নিতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর গত চার মাস ধরে অবরোধ করে রাখার পর বোমা হামলা চালাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার বেসামরিক লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। কেননা বাশার বাহিনী বিদ্রোহীদের খাদ্য সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়ান সেনাবাহিনী ও সহযোগী মিলিশিয়াদের অগ্রসর হওয়ার প্রেক্ষাপটে হামলায় হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচুত হয়েছে। বাসিন্দারা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যেতে হবে সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। কেননা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে বিদ্রোহীরা। সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে যে পরিমাণ লোকজন পালিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে, বাস্তব সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি হবে।

গতকাল বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলেপ্পোর মানবিক সঙ্কট নিয়ে জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা। এই বৈঠককে সামনে রেখে জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ফ্রান্সের দূত ফ্রাঁসোয়া ডিলেটার সতর্ক করে বলেছেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বেসামরিক লোকদের ওপর সবচেয়ে বড় গণহত্যার বিষয়ে ফ্রান্স এবং তার মিত্ররা চুপ করে থাকতে পারে না।’

এ দিকে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা অবরুদ্ধ এলাকা মুক্ত করার জন্য পূর্ব আলেপ্পোতে বিমান ও স্থল হামলা পরিচালনা করছে।

রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখ্যপাত্র মেজর জেনারেল ইগোর কোনাসেঙ্কোভ বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ৮০ হাজার সিরিয়ানকে সেখান থেকে মুক্ত করা হয়েছে, এর মধ্যে কয়েক হাজার শিশুও রয়েছে। রাশিয়ান মানবসহায়তা কেন্দ্র থেকে অনেককে প্রথমবারের মতো পানি, খাদ্য, ও চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।’

রাশিয়া ও ইরানের সমর্থন নিয়ে সিরিয়ার বাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সেখানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখান থেকে ৫০ লাখেরও বেশি অসামরিক লোকজন পালিয়ে গেছেন।

হোয়াইট হেলমেট নামে পরিচিত সিরিয়ার অসামরিক প্রতিরক্ষা গ্রুপের উদ্ধার দলের একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেছেন, কেবল গতকাল বুধবার জিব আল-কুবা এলাকায় পলায়নপর লোকদের ওপর সরকারি বাহিনীর কামানের গোলাবর্ষণে অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছে যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

সিরিয়ান অবজার্ভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, গত চার দিনে পূর্ব আলেপ্পো থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি লোক পালিয়ে গেছে। গ্রুপটি জানায়, নগরীর পশ্চিম প্রান্ত থেকে ২০ হাজার এবং কুর্দি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে আরো ৩০ হাজার লোক পালিয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে সিরীয় বাহিনী বিদ্রোহীদের কাছ থেকে পূর্ব আলেপ্পো দখল করতে নতুন করে হামলা শুরু করার পর তারা নগরীর এ অংশের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এলাকা দখল করে নিয়েছে।

আলেপ্পোয় কর্মরত আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট অবশ্য জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় পূর্ব আলেপ্পো থেকে ২০ হাজার লোক পালিয়ে গেছে। তাদের অনেকে সরকার নিয়ন্ত্রিত পশ্চিম আলেপ্পোয় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

সূত্র: মিরর

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X