মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:২৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, October 31, 2016 7:41 am
A- A A+ Print

থার্ড গ্রেড সিটিজেন হতে চাইনি

38135_b2

শুরুতেই অফার পেয়েছিলাম আন্তর্জাতিক সংস্থায়। দেড় লাখ টাকা মাইনে। গাড়ি। পরিবারের সবার চিকিৎসা ফ্রি। সন্তানদের শিক্ষা ফ্রি। রাজি হইনি। ঘটনাটা ১৯৭৪ সালের। ছোট্ট পরিসরে অ্যাডকম শুরু করেছি। মাত্র ৫ জন স্টাফ। তারপর নারী নির্মাতা দিয়ে পণ্য চলবে কিনা এমন কৌতূহল। চারপাশে ঔৎসুক্য। যে বিদেশি সংস্থায় চাকরির অফার পাই, তারা নাছোড়বান্দা। ইনিয়ে-বিনিয়ে আমাকে রাজি করানোর চেষ্টা তাদের ছিল শেষ পর্যন্ত। বিনয়ের সঙ্গে বলেছি, থার্ড গ্রেড সিটিজেন হতে চাই না। দেশের জন্য কিছু করতে চাই। লড়াইটা শুরু করেছিলাম এভাবেই। বাধা এসেছে নানাভাবে। আজকের এই সফলতার পেছনে কাজ করেছে শুধুই আশাবাদ। কখনও নিরাশ বা হতাশ হইনি। আরো ভালো এবং আরেকটু ভালোর জন্য বরাবর তাগিদ অনুভব করেছি। চেষ্টা চালিয়ে গেছি। সব সময় ক্লায়েন্টদের সঙ্গে লড়েছি। নতুন নতুন আইডিয়া আর এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে মশগুল থেকেছি। কাজ করতে গিয়ে হতাশ হইনি কখনও। দুই একটি ঘটনা উল্লেখ করলে বিষয়টি সহজ হবে। একবার এক ক্লায়েন্ট চায়ের বিজ্ঞাপন বানানোর জন্য বললো। চায়ের বিজ্ঞাপনতো অনেক হয়েছে। কিন্তু নতুন কি করা যায়? মনে হলো- সব সময় ছেলেদের বা বাড়িতে স্বামীদের স্ত্রীরা চা দিয়ে থাকে। উল্টোটা করলে কেমন হয়। অফিস ফেরত স্ত্রীকে স্বামী চা বানিয়ে খাওয়াচ্ছে। বিজ্ঞাপনটি বানাই। প্রচার শুরু হলে ঘরে-বাইরে সর্বত্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করি। কোন নতুন পণ্যের প্রচারে কেমন সাড়া পড়ছে তা বরাবরই পরীক্ষা করি বাজারে গিয়ে। এ বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা হলো না। বিজ্ঞাপন টেলিভিশনে প্রচারের সঙ্গে-সঙ্গেই আমার স্বামীকে তার বন্ধুরা টিজ করতে লাগলো- কিরে তুই বুঝি তোর বউকে বাসায় চা করে খাওয়াস। অন্যদিকে বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখি বিজ্ঞাপনটি খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। সমাজ ব্যবস্থার কারণেই এটি হয়েছে তা বুঝতে বাকি রইলো না। আমাদের সমাজ এখনও ভিন্নরকম কোনো কিছু ভাবতে শুরু করেনি। আমি কোনো কাজে সফল না হলে সরাসরি ক্লাইন্টদের সঙ্গে কথা বলি। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চিন্তা করি। প্রয়োজনে নতুন করে কাজ করি। এখানে ব্যাতিক্রম হয়নি। যেহেতু বাজারে চায়ের বিজ্ঞাপনটি খুব একটি সাড়া ফেলতে পারেনি তাই বিজ্ঞাপনটি বদলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। মনে রাখার মতো ভিন্ন উদাহরণও আছে। আমাদের কোম্পানি তখন মোজো পানীয় বিজ্ঞাপন বানায়। আমি বাজারে গিয়ে তখন মোজো কিনে আনি নিজের পরিবারের জন্যও। ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে যখন পানীয় কিনছি তখন এক বিদেশি ভদ্রমহিলাকে দেখি অন্য পানীয় কিনছে। আমি দু’হাত দিয়ে ওনার ঝুড়ি থেকে বোতল দুটি তুলে নিয়ে সেখানে মোজো পানীয়ের বোতল তুলে দিতেই ভদ্রমহিলা দূর থেকেই বলতে লাগলো, এটা আমার বোতল তুমি সরাচ্ছো কেন? আমি বললাম, আমি ভালো বলে যে পানীয় নিজে নিচ্ছি তা তোমাকেও দিলাম। তিনি রাজি বলে তা নিয়ে গেলেন। অনেক দিন পর দেশের বাইরে যাচ্ছি। বিমানবন্দরে দেখি এক বিদেশিনী আমাকে ইশারা করে কিছু বলছে। ঠিক মনেও নেই ওই ভদ্রমহিলার কথা। আমি দূর থেকে দেখি তিনি আমাকে বৃদ্ধাঙ্গুল উঁচিয়ে কিছু একটা দেখাচ্ছে। ইমিগ্রেশন পার হচ্ছি এ সময় এ আবার কে? কাছে যেতেই ভদ্রমহিলা আমাকে তার ব্যাগে মোজোর পানীয়ের বোতল দেখালো। মনে পড়লো সেই স্মৃতি। অবাক হয়েছিলাম সেই ঘটনায়। এমন অসংখ্য গল্প আছে কাজের মধ্যে। যার কিছু সফলতার আর কিছু চেষ্টার। তবে আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান আমার পরিবারের। বিশেষত বিয়ের পর শাশুড়ি যেভাবে আমাকে সহযোগিতা করছে তা ভাষায় বলে শেষ করা যাবে না। আমি নিজের মাকে আম্মা আর শাশুড়িকে মা বলে ডাকতাম। বিয়ের পরপরই আমি আমার শাশুড়ির সঙ্গে সবরকম সমস্যা ভাগাভাগি করে নিয়েছিলাম। শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। অ্যাডকম যখন শুরু করি তখন শাশুড়ি অসম্ভব সহযোগিতা করেছেন। আজ থেকে চার দশক আগের কথা। কাজ করে বাসায় ফিরতে প্রায়ই রাত হয়ে যেতো। নানারকম কথা চারপাশে। শ্বশুর-শাশুড়ি কখনই এ নিয়ে কথা বলতো না। আমার শাশুড়ি বলতেন, আমি জানি তুমি কি? কাজেই তোমার কাজের প্রয়োজনে তোমার দেরি হলে তাই করতে হবে। বন্ধুদের সঙ্গে যখন কথা হতো প্রায়ই তাদের কাছে শাশুড়িদের বদনাম শুনতাম। এ কারণে শাশুড়ি কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। বিয়ের পরদিনের কথা, ঘুম থেকে উঠেই দেখি শাশুড়ি এক গ্লাস দুধ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। বাধ্য মেয়ের মতো গ্লাস হাতে নিয়ে দুধ খেতে খেতেই ভাবছিলাম বন্ধুদের কথাই বুঝি সত্যি হলো। বিকালে দেখি শাশুড়ি বারান্দায় বসে বেলি ফুলের মালা গাঁথছেন। আমার জা-কে বললেন ওকে বেলি ফুলের মালা দিয়ে খোঁপা করে দাও। আমি পরপর দুটি ঘটনার সঙ্গে বন্ধুদের কথা মিলিয়ে ভাবছিলাম এই বুঝি শাশুড়ি তার ইচ্ছে-অনিচ্ছে আমার ওপর চাপিয়ে দিতে শুরু করেছে। সন্ধ্যার পর শাশুড়ি আমাকে ডেকে বললেন, আজ ফুল মুন। যাও, তুমি আর কামরান হুড ফেলে রিকশায় বেরিয়ে এসো। মুহূর্তেই বুঝলাম, তিনিতো একেবারেই অন্যরকম মানুষ। তারপর শাশড়ির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছালাম। আমার কিছু ভালো না লাগলে আপনি বলবেন, আর আমিও আপনার কিছু ভালো না লাগলে আপনাকে বলবো। আমার আর আপনার মধ্যে যেন কোনো তৃতীয় পক্ষ না আসে। সেই থেকে আমাদের সম্পর্ক হয়ে গেলো। আজ এতদিন পরে মনে হয় সত্যিই আমি খুব ভাগ্যবতী। প্রথম জীবনে পেয়েছি বাবা-মাকে আর তারপরে পেয়েছি শ্বশুর-শাশুড়ি। গীতি আর সাফিয়া চৌধুরী। যাকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। সবার প্রিয় মুখ। সফল উদ্যোক্তা। খ্যাতনামা বিজ্ঞাপনী সংস্থা অ্যাডকমের কর্ণধার। ছিলেন ২০০৭ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও। ছয় ভাইবোনের সবচেয়ে বড় গীতি আরা সাফিয়া হলিক্রস কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করেন। পড়াশোনা চলার সময় থেকেই তার বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখির হাতেখড়ি। তার ধারাবাহিকতায় প্রায় চার বছর তিনি অবজারভারে কাজ করেছেন। দু’বছর করাচির শি ম্যাগাজিনে লিখেছেন। ১৯৭২ সালে তিনি ইন্টারস্প্যান অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিতে কাজ শুরু করেন। এরপর ১৯৭৪ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাডকম নামে অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি। মাত্র ৫ জন স্টাফ নিয়ে শুরু অ্যাডকমে আজ কাজ করেন ১৭৬ জন কর্মী। গীতি আরা সাফিয়ার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সংস্থাটি। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। কাজের স্বীকৃতিও মিলেছে। পেয়েছেন অসংখ্য পদক ও সম্মাননা।  ১৯৯৫ সালে অনন্যা পদক, ১৯৯৯ সালে ভারতীয় মহিলা উদ্যোক্তা  ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ‘প্রিয়দর্শিনী পদক’, ২০০০ সালে Fortune Magayine, IBM, Chase Manhattan Bank and Christian dior মনোনীত পৃথিবী বিখ্যাত ২০ নারী উদ্যোক্তার একজন নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে ডেইলি স্টার এবং ডিএইচএল-এর সৌজন্যে ‘আউটস্ট্যান্ডিং উইম্যান ইন বিজনেস’ পদক অর্জন করেন। নিজের কাজের ক্ষেত্র অ্যাডভার্টাইজিংয়েও এশিয়ান অ্যাডভার্টাইজিংয়ের দেয়া সেরা অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সির পুরস্কার অর্জন করে তার প্রতিষ্ঠান। ২০০৫ সালে একই সংস্থা অ্যাডকমকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দিয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়মিত  লেকচার দিয়ে থাকেন গীতি আরা সাফিয়া চৌধুরী। জনতা ক্লাব এবং অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সির প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মানবজমিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের সাফল্য-ব্যর্থতার মূল্যায়নের পাশাপাশি সাফল্যের কৌশলগুলো কি তাও উল্লেখ করেছেন। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ। কি হতে চেয়েছিলেন আর কি হয়েছেন? অর্থনীতিতে পড়তে চেয়েছিলাম। এ বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনার আগ্রহ ছিল। কিন্তু আব্বার ইচ্ছা আমি যেন ইংরেজি পড়ি। বাধ্য হয়ে ইংরেজি নিলাম। বিষয়টি আব্বাও বুঝতে পেরেছিলেন। আমার ধারণা ছিল ইংরেজি পড়ে নিশ্চয়ই শিক্ষক হতে হবে। আব্বা তখন অবজারভার সম্পাদক আব্দুস সালাম সাহেবকে বললেন, পড়াশোনা নিয়ে ও খুব হতাশ হয়ে পড়ছে। ওকে কিছু লেখার সুযোগ দাও। এভাবেই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আমার অবজারভারে কাজ শুরু। প্রথমে শিশু পাতা, পরে নারী পাতা এবং সর্বশেষ ফিল্মের পাতায় লেখালেখি করি। এভাবে অবজারভারে কাজ করেছি অনেক দিন। খুবই উপভোগ্য ছিল সে সময়টা। মনে দাগ কাটার মতো কোনো ঘটনার কথা বলবেন কি? দুঃখজনক ঘটনা একটাই। অ্যাডকম অফিস লুট হয়েছিল ২০০৮ সালে। চোখের সামনেই এই ঘটনাটি ঘটেছিল। এর খারাপ-ভালো দুটি দিকই ছিল। খারাপ দিক হচ্ছে, আমাদের অফিসের সব কাগজপত্র, চেয়ার টেবিল পর্যন্ত লুট হওয়ায় আমাদের অনেক তথ্য-উপাত্ত সেদিন আমরা হারিয়েছি। কিন্তু এই ঘটনার ভালো দিক হলো আমাদের যারা ক্লাইন্ট দেশ ও দেশের বাইরে আছেন সবাই নানাভাবে এগিয়ে এসেছেন। ফোনে সমবেদনা জানিয়েছেন। সাহস জুগিয়েছেন।  সহকর্মীরাও যে যার মতো পাশে থাকার জন্য এগিয়ে এসেছেন। সরকারেও ছিলেন আবার সরকারের বাইরেও আপনি একজন উদ্যোক্তা- ১ বছর সরকারে ছিলাম। এ সময়টাতে হতাশই হয়েছিলাম। দেশকে খুব ভালোবাসি। দেশের টানেই যোগ দিয়েছিলাম তত্তা্ববধায়ক সরকারে। তিন মাস মেয়াদের সরকার হলেও নানা কারণে সময় বাড়তে থাকে। কিছু করবো এমনটাই ভেবেছিলাম। চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল আমার ওপর। কিন্তু নির্বাচিত সরকার সব কাজ করবে। তা করতে গিয়েই দেখলাম খুব কঠিন। সরকারের লোকজন সময়ের গুরুত্বটা ঠিকমতো বুঝতে চায় না। টাইম ইজ মানি এটা আমরা বেসরকারি লোকজন বুঝি। আমরা যারা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তারাই ঠেকে শিখি টাইম ইজ মানি। কখনও হতাশ হন কিনা? কাজের মধ্যে প্যাশন না থাকলে কিছুই হয় না। ডিটারমিনেশন আর সিনসিয়ারিটি থাকতে হবে। করবোই, আর করে দেখাতে হবে। এর পেছনে থাকতে হবে ডেডিকেশন। হতাশ হই না কখনও। মাঝে মাঝে মনে হয় আরো ভালো করতে পারতাম। এই কাজটি আরো কেন ভালোভাবে করতে পারিনি। কাজের মধ্যে কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন? সময়ের সঙ্গে সব সময় আপডেট থাকতে হয়। বাইরের চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে আমাদের কাজ করতে হয়। অনেক রকম স্বপ্ন আর চাহিদা মাথায় রেখে কাজ করতে হয়। অ্যাডভার্টাইজমেন্ট ইজ মাই প্যাশন। যদিও প্রথমে এটা ছিল পাসিং টাইম। তার পরে প্রফেশন আর এখন প্যাশন। তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ কি? তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের যেকোনো উদ্যোগে আমি স্বাগত জানাই। তরুণদের বলবো- হৃদয় দিয়ে দেশকে ভালোবাসো। তুমি যা করতে পারো তোমার সাধ্যমতো তাই করো।

Comments

Comments!

 থার্ড গ্রেড সিটিজেন হতে চাইনিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

থার্ড গ্রেড সিটিজেন হতে চাইনি

Monday, October 31, 2016 7:41 am
38135_b2

শুরুতেই অফার পেয়েছিলাম আন্তর্জাতিক সংস্থায়। দেড় লাখ টাকা মাইনে। গাড়ি। পরিবারের সবার চিকিৎসা ফ্রি। সন্তানদের শিক্ষা ফ্রি। রাজি হইনি। ঘটনাটা ১৯৭৪ সালের। ছোট্ট পরিসরে অ্যাডকম শুরু করেছি। মাত্র ৫ জন স্টাফ। তারপর নারী নির্মাতা দিয়ে পণ্য চলবে
কিনা এমন কৌতূহল। চারপাশে ঔৎসুক্য। যে বিদেশি সংস্থায় চাকরির অফার পাই, তারা নাছোড়বান্দা। ইনিয়ে-বিনিয়ে আমাকে রাজি করানোর চেষ্টা তাদের ছিল শেষ পর্যন্ত। বিনয়ের সঙ্গে বলেছি, থার্ড গ্রেড সিটিজেন হতে চাই না। দেশের জন্য কিছু করতে চাই। লড়াইটা শুরু করেছিলাম এভাবেই। বাধা এসেছে নানাভাবে। আজকের এই সফলতার পেছনে কাজ করেছে শুধুই আশাবাদ। কখনও নিরাশ বা হতাশ হইনি। আরো ভালো এবং আরেকটু ভালোর জন্য বরাবর তাগিদ অনুভব করেছি। চেষ্টা চালিয়ে গেছি। সব সময় ক্লায়েন্টদের সঙ্গে লড়েছি। নতুন নতুন আইডিয়া আর এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে মশগুল থেকেছি।
কাজ করতে গিয়ে হতাশ হইনি কখনও। দুই একটি ঘটনা উল্লেখ করলে বিষয়টি সহজ হবে। একবার এক ক্লায়েন্ট চায়ের বিজ্ঞাপন বানানোর জন্য বললো। চায়ের বিজ্ঞাপনতো অনেক হয়েছে। কিন্তু নতুন কি করা যায়? মনে হলো- সব সময় ছেলেদের বা বাড়িতে স্বামীদের স্ত্রীরা চা দিয়ে থাকে। উল্টোটা করলে কেমন হয়। অফিস ফেরত স্ত্রীকে স্বামী চা বানিয়ে খাওয়াচ্ছে। বিজ্ঞাপনটি বানাই। প্রচার শুরু হলে ঘরে-বাইরে সর্বত্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করি। কোন নতুন পণ্যের প্রচারে কেমন সাড়া পড়ছে তা বরাবরই পরীক্ষা করি বাজারে গিয়ে। এ বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা হলো না। বিজ্ঞাপন টেলিভিশনে প্রচারের সঙ্গে-সঙ্গেই আমার স্বামীকে তার বন্ধুরা টিজ করতে লাগলো- কিরে তুই বুঝি তোর বউকে বাসায় চা করে খাওয়াস। অন্যদিকে বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখি বিজ্ঞাপনটি খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। সমাজ ব্যবস্থার কারণেই এটি হয়েছে তা বুঝতে বাকি রইলো না। আমাদের সমাজ এখনও ভিন্নরকম কোনো কিছু ভাবতে শুরু করেনি। আমি কোনো কাজে সফল না হলে সরাসরি ক্লাইন্টদের সঙ্গে কথা বলি। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চিন্তা করি। প্রয়োজনে নতুন করে কাজ করি। এখানে ব্যাতিক্রম হয়নি। যেহেতু বাজারে চায়ের বিজ্ঞাপনটি খুব একটি সাড়া ফেলতে পারেনি তাই বিজ্ঞাপনটি বদলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। মনে রাখার মতো ভিন্ন উদাহরণও আছে। আমাদের কোম্পানি তখন মোজো পানীয় বিজ্ঞাপন বানায়। আমি বাজারে গিয়ে তখন মোজো কিনে আনি নিজের পরিবারের জন্যও। ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে যখন পানীয় কিনছি তখন এক বিদেশি ভদ্রমহিলাকে দেখি অন্য পানীয় কিনছে। আমি দু’হাত দিয়ে ওনার ঝুড়ি থেকে বোতল দুটি তুলে নিয়ে সেখানে মোজো পানীয়ের বোতল তুলে দিতেই ভদ্রমহিলা দূর থেকেই বলতে লাগলো, এটা আমার বোতল তুমি সরাচ্ছো কেন? আমি বললাম, আমি ভালো বলে যে পানীয় নিজে নিচ্ছি তা তোমাকেও দিলাম। তিনি রাজি বলে তা নিয়ে গেলেন। অনেক দিন পর দেশের বাইরে যাচ্ছি। বিমানবন্দরে দেখি এক বিদেশিনী আমাকে ইশারা করে কিছু বলছে। ঠিক মনেও নেই ওই ভদ্রমহিলার কথা। আমি দূর থেকে দেখি তিনি আমাকে বৃদ্ধাঙ্গুল উঁচিয়ে কিছু একটা দেখাচ্ছে। ইমিগ্রেশন পার হচ্ছি এ সময় এ আবার কে? কাছে যেতেই ভদ্রমহিলা আমাকে তার ব্যাগে মোজোর পানীয়ের বোতল দেখালো। মনে পড়লো সেই স্মৃতি। অবাক হয়েছিলাম সেই ঘটনায়। এমন অসংখ্য গল্প আছে কাজের মধ্যে। যার কিছু সফলতার আর কিছু চেষ্টার। তবে আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান আমার পরিবারের। বিশেষত বিয়ের পর শাশুড়ি যেভাবে আমাকে সহযোগিতা করছে তা ভাষায় বলে শেষ করা যাবে না। আমি নিজের মাকে আম্মা আর শাশুড়িকে মা বলে ডাকতাম। বিয়ের পরপরই আমি আমার শাশুড়ির সঙ্গে সবরকম সমস্যা ভাগাভাগি করে নিয়েছিলাম।
শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। অ্যাডকম যখন শুরু করি তখন শাশুড়ি অসম্ভব সহযোগিতা করেছেন। আজ থেকে চার দশক আগের কথা। কাজ করে বাসায় ফিরতে প্রায়ই রাত হয়ে যেতো। নানারকম কথা চারপাশে। শ্বশুর-শাশুড়ি কখনই এ নিয়ে কথা বলতো না। আমার শাশুড়ি বলতেন, আমি জানি তুমি কি? কাজেই তোমার কাজের প্রয়োজনে তোমার দেরি হলে তাই করতে হবে। বন্ধুদের সঙ্গে যখন কথা হতো প্রায়ই তাদের কাছে শাশুড়িদের বদনাম শুনতাম। এ কারণে শাশুড়ি কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। বিয়ের পরদিনের কথা, ঘুম থেকে উঠেই দেখি শাশুড়ি এক গ্লাস দুধ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। বাধ্য মেয়ের মতো গ্লাস হাতে নিয়ে দুধ খেতে খেতেই ভাবছিলাম বন্ধুদের কথাই বুঝি সত্যি হলো। বিকালে দেখি শাশুড়ি বারান্দায় বসে বেলি ফুলের মালা গাঁথছেন। আমার জা-কে বললেন ওকে বেলি ফুলের মালা দিয়ে খোঁপা করে দাও।
আমি পরপর দুটি ঘটনার সঙ্গে বন্ধুদের কথা মিলিয়ে ভাবছিলাম এই বুঝি শাশুড়ি তার ইচ্ছে-অনিচ্ছে আমার ওপর চাপিয়ে দিতে শুরু করেছে। সন্ধ্যার পর শাশুড়ি আমাকে ডেকে বললেন, আজ ফুল মুন। যাও, তুমি আর কামরান হুড ফেলে রিকশায় বেরিয়ে এসো। মুহূর্তেই বুঝলাম, তিনিতো একেবারেই অন্যরকম মানুষ। তারপর শাশড়ির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছালাম। আমার কিছু ভালো না লাগলে আপনি বলবেন, আর আমিও আপনার কিছু ভালো না লাগলে আপনাকে বলবো। আমার আর আপনার মধ্যে যেন কোনো তৃতীয় পক্ষ না আসে। সেই থেকে আমাদের সম্পর্ক হয়ে গেলো। আজ এতদিন পরে মনে হয় সত্যিই আমি খুব ভাগ্যবতী। প্রথম জীবনে পেয়েছি বাবা-মাকে আর তারপরে পেয়েছি শ্বশুর-শাশুড়ি। গীতি আর সাফিয়া চৌধুরী। যাকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। সবার প্রিয় মুখ। সফল উদ্যোক্তা। খ্যাতনামা বিজ্ঞাপনী সংস্থা অ্যাডকমের কর্ণধার। ছিলেন ২০০৭ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও।
ছয় ভাইবোনের সবচেয়ে বড় গীতি আরা সাফিয়া হলিক্রস কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করেন। পড়াশোনা চলার সময় থেকেই তার বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখির হাতেখড়ি।
তার ধারাবাহিকতায় প্রায় চার বছর তিনি অবজারভারে কাজ করেছেন। দু’বছর করাচির শি ম্যাগাজিনে লিখেছেন। ১৯৭২ সালে তিনি ইন্টারস্প্যান অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিতে কাজ শুরু করেন। এরপর ১৯৭৪ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাডকম নামে অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি। মাত্র ৫ জন স্টাফ নিয়ে শুরু অ্যাডকমে আজ কাজ করেন ১৭৬ জন কর্মী। গীতি আরা সাফিয়ার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সংস্থাটি। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। কাজের স্বীকৃতিও মিলেছে। পেয়েছেন অসংখ্য পদক ও সম্মাননা।  ১৯৯৫ সালে অনন্যা পদক, ১৯৯৯ সালে ভারতীয় মহিলা উদ্যোক্তা  ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ‘প্রিয়দর্শিনী পদক’, ২০০০ সালে Fortune Magayine, IBM, Chase Manhattan Bank and Christian dior মনোনীত পৃথিবী বিখ্যাত ২০ নারী উদ্যোক্তার একজন নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে ডেইলি স্টার এবং ডিএইচএল-এর সৌজন্যে ‘আউটস্ট্যান্ডিং উইম্যান ইন বিজনেস’ পদক অর্জন করেন। নিজের কাজের ক্ষেত্র অ্যাডভার্টাইজিংয়েও এশিয়ান অ্যাডভার্টাইজিংয়ের দেয়া সেরা অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সির পুরস্কার অর্জন করে তার প্রতিষ্ঠান। ২০০৫ সালে একই সংস্থা অ্যাডকমকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দিয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়মিত  লেকচার দিয়ে থাকেন গীতি আরা সাফিয়া চৌধুরী। জনতা ক্লাব এবং অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সির প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মানবজমিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের সাফল্য-ব্যর্থতার মূল্যায়নের পাশাপাশি সাফল্যের কৌশলগুলো কি তাও উল্লেখ করেছেন। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ।
কি হতে চেয়েছিলেন আর কি হয়েছেন?
অর্থনীতিতে পড়তে চেয়েছিলাম। এ বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনার আগ্রহ ছিল। কিন্তু আব্বার ইচ্ছা আমি যেন ইংরেজি পড়ি। বাধ্য হয়ে ইংরেজি নিলাম। বিষয়টি আব্বাও বুঝতে পেরেছিলেন। আমার ধারণা ছিল ইংরেজি পড়ে নিশ্চয়ই শিক্ষক হতে হবে। আব্বা তখন অবজারভার সম্পাদক আব্দুস সালাম সাহেবকে বললেন, পড়াশোনা নিয়ে ও খুব হতাশ হয়ে পড়ছে। ওকে কিছু লেখার সুযোগ দাও। এভাবেই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আমার অবজারভারে কাজ শুরু। প্রথমে শিশু পাতা, পরে নারী পাতা এবং সর্বশেষ ফিল্মের পাতায় লেখালেখি করি। এভাবে অবজারভারে কাজ করেছি অনেক দিন। খুবই উপভোগ্য ছিল সে সময়টা।
মনে দাগ কাটার মতো কোনো ঘটনার কথা বলবেন কি?
দুঃখজনক ঘটনা একটাই। অ্যাডকম অফিস লুট হয়েছিল ২০০৮ সালে। চোখের সামনেই এই ঘটনাটি ঘটেছিল। এর খারাপ-ভালো দুটি দিকই ছিল। খারাপ দিক হচ্ছে, আমাদের অফিসের সব কাগজপত্র, চেয়ার টেবিল পর্যন্ত লুট হওয়ায় আমাদের অনেক তথ্য-উপাত্ত সেদিন আমরা হারিয়েছি। কিন্তু এই ঘটনার ভালো দিক হলো আমাদের যারা ক্লাইন্ট দেশ ও দেশের বাইরে আছেন সবাই নানাভাবে এগিয়ে এসেছেন। ফোনে সমবেদনা জানিয়েছেন। সাহস জুগিয়েছেন।  সহকর্মীরাও যে যার মতো পাশে থাকার জন্য এগিয়ে এসেছেন।
সরকারেও ছিলেন আবার সরকারের বাইরেও আপনি একজন উদ্যোক্তা-
১ বছর সরকারে ছিলাম। এ সময়টাতে হতাশই হয়েছিলাম। দেশকে খুব ভালোবাসি। দেশের টানেই যোগ দিয়েছিলাম তত্তা্ববধায়ক সরকারে। তিন মাস মেয়াদের সরকার হলেও নানা কারণে সময় বাড়তে থাকে। কিছু করবো এমনটাই ভেবেছিলাম। চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল আমার ওপর। কিন্তু নির্বাচিত সরকার সব কাজ করবে। তা করতে গিয়েই দেখলাম খুব কঠিন। সরকারের লোকজন সময়ের গুরুত্বটা ঠিকমতো বুঝতে চায় না। টাইম ইজ মানি এটা আমরা বেসরকারি লোকজন বুঝি। আমরা যারা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তারাই ঠেকে শিখি টাইম ইজ মানি।
কখনও হতাশ হন কিনা?
কাজের মধ্যে প্যাশন না থাকলে কিছুই হয় না। ডিটারমিনেশন আর সিনসিয়ারিটি থাকতে হবে। করবোই, আর করে দেখাতে হবে। এর পেছনে থাকতে হবে ডেডিকেশন। হতাশ হই না কখনও। মাঝে মাঝে মনে হয় আরো ভালো করতে পারতাম। এই কাজটি আরো কেন ভালোভাবে করতে পারিনি।
কাজের মধ্যে কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন?
সময়ের সঙ্গে সব সময় আপডেট থাকতে হয়। বাইরের চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে আমাদের কাজ করতে হয়। অনেক রকম স্বপ্ন আর চাহিদা মাথায় রেখে কাজ করতে হয়। অ্যাডভার্টাইজমেন্ট ইজ মাই প্যাশন। যদিও প্রথমে এটা ছিল পাসিং টাইম। তার পরে প্রফেশন আর এখন প্যাশন।
তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?
তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের যেকোনো উদ্যোগে আমি স্বাগত জানাই। তরুণদের বলবো- হৃদয় দিয়ে দেশকে ভালোবাসো। তুমি যা করতে পারো তোমার সাধ্যমতো তাই করো।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X