সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:০৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, October 25, 2016 11:21 am
A- A A+ Print

দারোয়ান পরিচয়ে খুশি তিনি, পদোন্নতিতে না

alamgir_11477362673

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক সবার কাছে এক নামে পরিচিত ৬ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা দেহের অধিকারী দারোয়ান আলমগীর। অনেকে তাকে আলম সাইজী বলেও ডাকেন। যে নামেই ডাকা হোক, তাতে আপত্তি নেই তার।
  নিজেকে দারোয়ান পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন এই সহজ-সরল মানুষটি। এই পরিচয় মুছে যাবে বলে তিনি কয়েকবার পদোন্নতি হওয়া সত্ত্বেও তা গ্রহণ করেননি।   এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলম সাইজী বলেন, ‘দারোয়ানের কাজ করি বলেই প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। বিচারপতি, আইনজীবীদের সঙ্গে সালাম বিনিময় হয়। বিচারপতিরা যখন আমার নাম ধরে ডাকেন তখন অনেক ভাল লাগে। নিজেকে গর্বিত মনে হয়। তাই যতদিন চাকরি আছে এই পরিচয়েই থাকতে চাই।’   প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির, বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তাকে ভাল চোখে দেখেন বলে জানান তিনি।   Alamgir আলম সাইজীর সঙ্গে কথা বলছেন রাইজিংবিডির প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম  (ছবি : শাহীন ভুঁইয়া )   ৩৩ বছর ধরে কখনো সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ভবন, কখনো এনেক্স ভবনের প্রবেশ পথে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আলমগীর। অনেক ঐতিহাসিক মামলার রায় তার চোখের সামনে দিয়ে হয়েছে।   আলম সাইজী বলেন, ‘খুকু মনি হত্যা মামলা, তসলিমা নাসরিনের মামলা, গোলাম আযমের নাগরিকত্ব মামলা, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলার রায়, যুদ্ধাপরাধীদের মামলার রায় হওয়ার সময়ের ঘটনা আমি স্বচক্ষে দেখেছি।’   গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্ট-বার সংযোগ করিডোরে দায়িত্ব পালন করার সময়ের একটি ঘটনার কথা ভুলতে পারেন না আলম সাইজী। তিনি বলেন, ‘সেদিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মামলার রায় ছিল। খবর সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের হুড়োহুড়ির কারণে সুপ্রিম কোর্ট-বার ওভার ব্রিজ থেকে দুই জন সাংবাদিক নিচে পরে যান। তারা মারাত্মক আহত হন। শুনেছি তাদের একজন মারা গেছেন। এই ঘটনাটি মনে হলে এখনও খুব খারাপ লাগে।’   প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উচ্চ আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের দেহ তল্লাশী করে ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেন আলম সাইজী। দেহ তল্লাশী করতে গিয়ে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাকে।   Alamgir নিজ দায়িত্ব পালন করছেন আলম সাইজী  (ছবি : শাহীন ভুঁইয়া )   তিনি বলেন, ‘একদিন দেহ তল্লাশী করার সময় এক ব্যক্তিকে অবৈধ অস্ত্রসহ ধরে ফেলি। পরে তাকে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করি।’   হাইকোর্টের সরকারি টিনশেড কোয়ার্টারে স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে বাস করেন আলম সাইজী। সংসারে প্রাচুর্য না থাকলেও অভাব নেই তার।   তিনি বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে বড় মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলেটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করছে আর ছোট মেয়েটা সামনে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। বলতে পারেন ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখেই আছি।’   ৬০ বছরের কাছাকাছি বয়স আলম সাইজীর। নিজের ৬ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা দেহ নিয়ে গর্ববোধ করেন। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ছয় ভাই-বোনের মধ্যে অন্য কেউ আমার মত লম্বা নয়। আমি লম্বা হওয়ার কারণে গর্ববোধ করি। তবে একদিন গুলিস্তানে আমার চেয়েও লম্বা মানুষ দেখেছি। বেশি লম্বা হওয়ার কারণে পোশাক-আশাক আমাকে অর্ডার দিয়ে তৈরি করতে হয়।’   অবসরে লালনের গান শুনতে ভালবাসেন তিনি। নিরামিশ জাতীয় খাবার খান প্রচুর পরিমাণে। আর চাকরি শেষে ফিরে যেতে চান নিজ জন্মভূমি যশোরের কোতয়ালী থানার সবুজ ছায়া ঘেরা বাহাদুরপুর গ্রামে।  

Comments

Comments!

 দারোয়ান পরিচয়ে খুশি তিনি, পদোন্নতিতে নাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

দারোয়ান পরিচয়ে খুশি তিনি, পদোন্নতিতে না

Tuesday, October 25, 2016 11:21 am
alamgir_11477362673

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক সবার কাছে এক নামে পরিচিত ৬ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা দেহের অধিকারী দারোয়ান আলমগীর। অনেকে তাকে আলম সাইজী বলেও ডাকেন। যে নামেই ডাকা হোক, তাতে আপত্তি নেই তার।

 

নিজেকে দারোয়ান পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন এই সহজ-সরল মানুষটি। এই পরিচয় মুছে যাবে বলে তিনি কয়েকবার পদোন্নতি হওয়া সত্ত্বেও তা গ্রহণ করেননি।

 

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলম সাইজী বলেন, ‘দারোয়ানের কাজ করি বলেই প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। বিচারপতি, আইনজীবীদের সঙ্গে সালাম বিনিময় হয়। বিচারপতিরা যখন আমার নাম ধরে ডাকেন তখন অনেক ভাল লাগে। নিজেকে গর্বিত মনে হয়। তাই যতদিন চাকরি আছে এই পরিচয়েই থাকতে চাই।’

 

প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির, বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তাকে ভাল চোখে দেখেন বলে জানান তিনি।

 

Alamgir

আলম সাইজীর সঙ্গে কথা বলছেন রাইজিংবিডির প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম  (ছবি : শাহীন ভুঁইয়া )

 

৩৩ বছর ধরে কখনো সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ভবন, কখনো এনেক্স ভবনের প্রবেশ পথে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আলমগীর। অনেক ঐতিহাসিক মামলার রায় তার চোখের সামনে দিয়ে হয়েছে।

 

আলম সাইজী বলেন, ‘খুকু মনি হত্যা মামলা, তসলিমা নাসরিনের মামলা, গোলাম আযমের নাগরিকত্ব মামলা, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলার রায়, যুদ্ধাপরাধীদের মামলার রায় হওয়ার সময়ের ঘটনা আমি স্বচক্ষে দেখেছি।’

 

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্ট-বার সংযোগ করিডোরে দায়িত্ব পালন করার সময়ের একটি ঘটনার কথা ভুলতে পারেন না আলম সাইজী। তিনি বলেন, ‘সেদিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মামলার রায় ছিল। খবর সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের হুড়োহুড়ির কারণে সুপ্রিম কোর্ট-বার ওভার ব্রিজ থেকে দুই জন সাংবাদিক নিচে পরে যান। তারা মারাত্মক আহত হন। শুনেছি তাদের একজন মারা গেছেন। এই ঘটনাটি মনে হলে এখনও খুব খারাপ লাগে।’

 

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উচ্চ আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের দেহ তল্লাশী করে ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেন আলম সাইজী। দেহ তল্লাশী করতে গিয়ে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাকে।

 

Alamgir

নিজ দায়িত্ব পালন করছেন আলম সাইজী  (ছবি : শাহীন ভুঁইয়া )

 

তিনি বলেন, ‘একদিন দেহ তল্লাশী করার সময় এক ব্যক্তিকে অবৈধ অস্ত্রসহ ধরে ফেলি। পরে তাকে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করি।’

 

হাইকোর্টের সরকারি টিনশেড কোয়ার্টারে স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে বাস করেন আলম সাইজী। সংসারে প্রাচুর্য না থাকলেও অভাব নেই তার।

 

তিনি বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে বড় মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলেটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করছে আর ছোট মেয়েটা সামনে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। বলতে পারেন ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখেই আছি।’

 

৬০ বছরের কাছাকাছি বয়স আলম সাইজীর। নিজের ৬ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা দেহ নিয়ে গর্ববোধ করেন। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ছয় ভাই-বোনের মধ্যে অন্য কেউ আমার মত লম্বা নয়। আমি লম্বা হওয়ার কারণে গর্ববোধ করি। তবে একদিন গুলিস্তানে আমার চেয়েও লম্বা মানুষ দেখেছি। বেশি লম্বা হওয়ার কারণে পোশাক-আশাক আমাকে অর্ডার দিয়ে তৈরি করতে হয়।’

 

অবসরে লালনের গান শুনতে ভালবাসেন তিনি। নিরামিশ জাতীয় খাবার খান প্রচুর পরিমাণে। আর চাকরি শেষে ফিরে যেতে চান নিজ জন্মভূমি যশোরের কোতয়ালী থানার সবুজ ছায়া ঘেরা বাহাদুরপুর গ্রামে।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X