বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১:১২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, October 31, 2016 6:44 pm
A- A A+ Print

দিনাজপুরের শিশুটির স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়ে শঙ্কা

sisu1477907994

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ধর্ষণের শিকার হওয়া পাঁচ বছরের শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠলেও তার স্বাভাবিক জীবনের ফেরার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, শিশুটির স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে তার ফ্লাশব্যাক মেমোরি। পাশাপাশি উন্নত নার্সিং, পুষ্টিকর খাবার ও সমাজের সবার সহানুভূতি খুবই অপরিহার্য হয়ে উঠবে, যা পাওয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রায় অসম্ভব। তারা আরো বলছেন, ভিকটিম কোন পরিবেশে বেড়ে উঠবে তার ওপর নির্ভর করবে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার বিষয়টি। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ভয় তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হতে পারে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসির) সমন্বয়ক ডা. বিলকিস বেগম বলেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালোর দিকে। সে আমাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে আছে। তার শরীরে বেশ কয়েকটি ক্ষত রয়েছে, যা আমরা সারিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, শিশুটি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যেন ভবিষ্যতে তার কোনো সমস্যা না হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, শিশুটি ভবিষ্যতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে কি না তা শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে না। পাশাপাশি দেখতে হবে, চিকিৎসা পরবর্তী সময় সে কোথায় থাকবে? শিশুটির বেড়ে ওঠার পরিবেশ যদি ভালো না থাকে তাহলে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তিনি বলেন, শিশুটি যে ঘটনার শিকার এ ধরনের ঘটনায় লং টার্ম কনসিকুয়েন্সি আছে। এখন সে হাসপাতালে আছে। সেখানে চিকিৎসকরা ভালোভাবে কেয়ার নিচ্ছেন। সে সার্বক্ষণিক নার্সের সেবা পাচ্ছে। উন্নত খাবার পাচ্ছে। কিন্তু সে যখন বাড়ি ফিরে যাবে, তখন কি সেই সুবিধাগুলো পাবে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা মনে হয় না। সুতরাং সে তার চিরচেনা পরিবেশে ফেরার পর পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে। সেখানে নানা মতের নানা মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। এতে তার ফ্লাশব্যাক মেমোরি মাথায় ফিরে আসার আশঙ্কা থাকবে। সে নানামুখী জটিলতায় পড়বে। বিশেষ করে, সে আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে পড়বে। বিপরীত লিঙ্গের কাউকে দেখলে ভয় পাবে। শিশুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর পরামর্শ হিসেবে ড. কামাল বলেন, তাকে দীর্ঘমেয়াদী রিহেবিটেলিশনের মধ্যে রাখতে হবে। তার বাবা-মাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যেন তারা জানতে পারে কীভাবে শিশুটির সঙ্গে আচরণ করবে। তার স্বজন, প্রতিবেশী এবং শিক্ষক ও তার সহপাঠীদের সহানুভূতিশীল হতে হবে। তাদের আচরণে যেন সে কোনোভাবে বুঝতে না পারে যে তার জীবনে এ ধরনের কোনো ঘটনা ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. নাসরিন ওয়াদুদ বলেন, শিশুটির স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। ও সারা জীবন একটা আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকেবে। এ আতঙ্ক সাইকোলজিক্যালি দূর করতে হবে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য স্পেলালিস্ট আমাদের দেশে কোথায়? তিনি বলেন, দেশে বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি প্রক্রিয়ায় নানামুখী অবহেলার কারণে শিশুধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। দেশে এমন কোনো উদাহরণ নেই যে, একজন ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে, যা এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন- মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডে হয়। তিনি আরো বলেন, একটা পাঁচ বছরের শিশু যে কি না ধর্ষিতা আখ্যা নিয়ে বড় হবে। কেন এমনটা হচ্ছে, তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তাহলে এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।

Comments

Comments!

 দিনাজপুরের শিশুটির স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়ে শঙ্কাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

দিনাজপুরের শিশুটির স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়ে শঙ্কা

Monday, October 31, 2016 6:44 pm
sisu1477907994

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ধর্ষণের শিকার হওয়া পাঁচ বছরের শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠলেও তার স্বাভাবিক জীবনের ফেরার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা।

তারা বলছেন, শিশুটির স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে তার ফ্লাশব্যাক মেমোরি। পাশাপাশি উন্নত নার্সিং, পুষ্টিকর খাবার ও সমাজের সবার সহানুভূতি খুবই অপরিহার্য হয়ে উঠবে, যা পাওয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রায় অসম্ভব।

তারা আরো বলছেন, ভিকটিম কোন পরিবেশে বেড়ে উঠবে তার ওপর নির্ভর করবে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার বিষয়টি। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ভয় তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হতে পারে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসির) সমন্বয়ক ডা. বিলকিস বেগম বলেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালোর দিকে। সে আমাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে আছে। তার শরীরে বেশ কয়েকটি ক্ষত রয়েছে, যা আমরা সারিয়ে তোলার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, শিশুটি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যেন ভবিষ্যতে তার কোনো সমস্যা না হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, শিশুটি ভবিষ্যতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে কি না তা শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে না। পাশাপাশি দেখতে হবে, চিকিৎসা পরবর্তী সময় সে কোথায় থাকবে? শিশুটির বেড়ে ওঠার পরিবেশ যদি ভালো না থাকে তাহলে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

তিনি বলেন, শিশুটি যে ঘটনার শিকার এ ধরনের ঘটনায় লং টার্ম কনসিকুয়েন্সি আছে। এখন সে হাসপাতালে আছে। সেখানে চিকিৎসকরা ভালোভাবে কেয়ার নিচ্ছেন। সে সার্বক্ষণিক নার্সের সেবা পাচ্ছে। উন্নত খাবার পাচ্ছে। কিন্তু সে যখন বাড়ি ফিরে যাবে, তখন কি সেই সুবিধাগুলো পাবে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা মনে হয় না। সুতরাং সে তার চিরচেনা পরিবেশে ফেরার পর পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে। সেখানে নানা মতের নানা মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। এতে তার ফ্লাশব্যাক মেমোরি মাথায় ফিরে আসার আশঙ্কা থাকবে। সে নানামুখী জটিলতায় পড়বে। বিশেষ করে, সে আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে পড়বে। বিপরীত লিঙ্গের কাউকে দেখলে ভয় পাবে।

শিশুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর পরামর্শ হিসেবে ড. কামাল বলেন, তাকে দীর্ঘমেয়াদী রিহেবিটেলিশনের মধ্যে রাখতে হবে। তার বাবা-মাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যেন তারা জানতে পারে কীভাবে শিশুটির সঙ্গে আচরণ করবে। তার স্বজন, প্রতিবেশী এবং শিক্ষক ও তার সহপাঠীদের সহানুভূতিশীল হতে হবে। তাদের আচরণে যেন সে কোনোভাবে বুঝতে না পারে যে তার জীবনে এ ধরনের কোনো ঘটনা ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. নাসরিন ওয়াদুদ বলেন, শিশুটির স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। ও সারা জীবন একটা আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকেবে। এ আতঙ্ক সাইকোলজিক্যালি দূর করতে হবে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য স্পেলালিস্ট আমাদের দেশে কোথায়?

তিনি বলেন, দেশে বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি প্রক্রিয়ায় নানামুখী অবহেলার কারণে শিশুধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। দেশে এমন কোনো উদাহরণ নেই যে, একজন ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে, যা এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন- মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডে হয়।

তিনি আরো বলেন, একটা পাঁচ বছরের শিশু যে কি না ধর্ষিতা আখ্যা নিয়ে বড় হবে। কেন এমনটা হচ্ছে, তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তাহলে এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X