বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:২৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, September 21, 2016 7:22 am
A- A A+ Print

দুই ঈদে সড়কে গেল ৪০১ প্রাণ

1234

দেশে শুধু সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর গড়ে ছয় হাজার মানুষ নিহত হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরে প্রায় ৫০ হাজার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে সাড়ে ৪২ হাজার মানুষ। অন্যদিকে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯০ জনের। আর সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহার ছুটিতে প্রাণ গেছে ২১১ জনের। এর আগে ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা অন্য যে কোনো বছরকে ছাড়িয়ে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, রাজনৈতিক হানাহানি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়েও বাংলাদেশে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অনেক বেশি। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের দাবি, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না হলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো উপায় নেই। আইন এবং এর প্রয়োগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘ঈদের তিনদিন আগে এবং ঈদের তিনদিন পরে ট্রাক চলবে না, কিন্তু এবার কীভাবে চলল? কেন এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলো না? একটা ঈদের মধ্যে, আনন্দের মধ্যে এত মানুষ মারা যাবে, একটা যুদ্ধেও এত মানুষ মারা যায় না।’ গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়ম মানা হচ্ছে না মন্তব্য করে বুয়েট অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক এনটিভিকে বলেন, ‘বিরামহীনভাবে চালাতে মালিকের যে তাগাদা, পুলিশের যে অবহেলা সবকিছু মিলিয়েই মানুষ কিন্তু তার স্বাভাবিক যে বিহেভিয়ার সেটাই কিন্তু করছে। দুজন ড্রাইভার থাকবে, চার ঘণ্টা চালানোর পর কিছু বিরতি দিয়ে আবার দুই ঘণ্টা চালাবে। এগুলো কিন্তু বিজ্ঞান।’ সড়কেরও মাঝে মাঝে চিকিৎসা দরকার হয় মন্তব্য করে এই অধ্যাপক বলেন, ‘কখনো কনজেশন (গাড়ির চাপ) হয়, ক্রনিক কনজেশন হয়, কখনো অ্যাকসিডেন্ট হয়, ব্ল্যাক স্পট হয়, কখনো পলিউশন (দূষণ) হয়, তাহলে ট্রিটমেন্ট কে করবে? একদম বিজ্ঞান বলে দিচ্ছে এর যে ডাক্তার ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার। সে করবে। কিন্তু আমাদের এখানে ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারের পোস্ট-ই নাই।’ অদক্ষ চালক এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভালো রাস্তাতে আপনি যদি গতিসীমার মধ্যে ভালো মানসিকতার ড্রাইভার দিয়ে, ট্রেইনড (প্রশিক্ষিত) ড্রাইভার দিয়ে না চালান তাহলে ভালো রাস্তায় কিন্তু আরো ভয়াবহ অ্যাকসিডেন্ট বেশি হবে।’ নিরাপদ সড়কের জন্য ডিজিটাল স্পিড এনফোর্সমেন্ট সিস্টেম চালু করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। গবেষণায় দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে মহাসড়কেই, এসবের ৯৩ ভাগই ট্রাক, বাস ও মিনিবাসের। দুর্ঘটনা বাড়ছে লেভেল ক্রসিংয়েও। সারা দেশের প্রায় আড়াই হাজার লেভেল ক্রসিংয়ের ৮৫ ভাগই অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। আইনের প্রয়োগ, চালকদের প্রশিক্ষিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা না হলে সড়ক দুর্ঘটনার মতো এই জাতীয় সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না বলে মনে করেন নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকারীরা। প্রায় একই রকমের মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরাও।

Comments

Comments!

 দুই ঈদে সড়কে গেল ৪০১ প্রাণAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

দুই ঈদে সড়কে গেল ৪০১ প্রাণ

Wednesday, September 21, 2016 7:22 am
1234

দেশে শুধু সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর গড়ে ছয় হাজার মানুষ নিহত হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরে প্রায় ৫০ হাজার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে সাড়ে ৪২ হাজার মানুষ।

অন্যদিকে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯০ জনের। আর সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহার ছুটিতে প্রাণ গেছে ২১১ জনের। এর আগে ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা অন্য যে কোনো বছরকে ছাড়িয়ে গেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, রাজনৈতিক হানাহানি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়েও বাংলাদেশে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অনেক বেশি।

সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের দাবি, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না হলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো উপায় নেই।

আইন এবং এর প্রয়োগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘ঈদের তিনদিন আগে এবং ঈদের তিনদিন পরে ট্রাক চলবে না, কিন্তু এবার কীভাবে চলল? কেন এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলো না? একটা ঈদের মধ্যে, আনন্দের মধ্যে এত মানুষ মারা যাবে, একটা যুদ্ধেও এত মানুষ মারা যায় না।’

গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়ম মানা হচ্ছে না মন্তব্য করে বুয়েট অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক এনটিভিকে বলেন, ‘বিরামহীনভাবে চালাতে মালিকের যে তাগাদা, পুলিশের যে অবহেলা সবকিছু মিলিয়েই মানুষ কিন্তু তার স্বাভাবিক যে বিহেভিয়ার সেটাই কিন্তু করছে। দুজন ড্রাইভার থাকবে, চার ঘণ্টা চালানোর পর কিছু বিরতি দিয়ে আবার দুই ঘণ্টা চালাবে। এগুলো কিন্তু বিজ্ঞান।’

সড়কেরও মাঝে মাঝে চিকিৎসা দরকার হয় মন্তব্য করে এই অধ্যাপক বলেন, ‘কখনো কনজেশন (গাড়ির চাপ) হয়, ক্রনিক কনজেশন হয়, কখনো অ্যাকসিডেন্ট হয়, ব্ল্যাক স্পট হয়, কখনো পলিউশন (দূষণ) হয়, তাহলে ট্রিটমেন্ট কে করবে? একদম বিজ্ঞান বলে দিচ্ছে এর যে ডাক্তার ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার। সে করবে। কিন্তু আমাদের এখানে ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারের পোস্ট-ই নাই।’

অদক্ষ চালক এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভালো রাস্তাতে আপনি যদি গতিসীমার মধ্যে ভালো মানসিকতার ড্রাইভার দিয়ে, ট্রেইনড (প্রশিক্ষিত) ড্রাইভার দিয়ে না চালান তাহলে ভালো রাস্তায় কিন্তু আরো ভয়াবহ অ্যাকসিডেন্ট বেশি হবে।’ নিরাপদ সড়কের জন্য ডিজিটাল স্পিড এনফোর্সমেন্ট সিস্টেম চালু করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।

গবেষণায় দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে মহাসড়কেই, এসবের ৯৩ ভাগই ট্রাক, বাস ও মিনিবাসের। দুর্ঘটনা বাড়ছে লেভেল ক্রসিংয়েও। সারা দেশের প্রায় আড়াই হাজার লেভেল ক্রসিংয়ের ৮৫ ভাগই অরক্ষিত অবস্থায় থাকে।

আইনের প্রয়োগ, চালকদের প্রশিক্ষিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা না হলে সড়ক দুর্ঘটনার মতো এই জাতীয় সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না বলে মনে করেন নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকারীরা। প্রায় একই রকমের মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরাও।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X