বুধবার, ২৪শে মে, ২০১৭ ইং, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:০১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, April 21, 2017 10:17 am
A- A A+ Print

দুই ঘণ্টার দুধের বাজার

১৪

বাজারটির নাম রেজিস্ট্রি অফিস দুধ বাজার। তবে এটি দুই ঘণ্টার দুধের বাজার নামে বেশি পরিচিত। বগুড়ার শেরপুর রেজিস্ট্রি অফিসের পাশেই বসে বাজারটি, জেলা শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে সান্যালপাড়া হাটখোলা সড়কের ওপর। এই বাজার থেকে প্রতিদিন দুধ কেনেন কাজল শেখ। তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বেলা দুইটার মধ্যে বাজারটি শেষ হয়ে যায়। এর মধ্যে শেরপুর উপজেলার শতাধিক মিষ্টান্নভান্ডারের স্বত্বাধিকারীরা ৩০০ থেকে ৩৫০ মণ দুধ কিনে নেন। তিনি নিজেও প্রতিদিন এই বাজার থেকে পাঁচ-ছয় মণ দুধ কেনেন।. এই বাজারটি দুই ঘণ্টার দুধ বাজার নামে পরিচিত। ছবি: সোয়েল রানাএই বাজারটি দুই ঘণ্টার দুধ বাজার নামে পরিচিত। ছবি: সোয়েল রানাস্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেরপুর পৌর শহরে ঘোষ সম্প্রদায়ের লোকজন প্রায় ২০০ বছর আগে এখানে দই-মিষ্টি তৈরির কাজ শুরু করেন। এ কাজে দুধের চাহিদা মেটাতে নিজেরাই বাড়িতে গাভি পালন করতেন। সেই গাভির দুধে তৈরি দই-মিষ্টি স্থানীয় চাহিদা মেটাত। দিন দিন চাহিদা বেড়ে যায়, তখন পারিবারিকভাবে পালন করা গরুর দুধে চাহিদা মিটত না। তখন বাধ্য হয়ে দূরদূরান্ত থেকে দুধ সংগ্রহ শুরু করেন তাঁরা। সেখান থেকেই এই দুধের বাজার বসতে থাকে। বর্তমানে দুধের বাজারটিতে শেরপুর উপজেলা ছাড়াও ধুনট, সিরাজগঞ্জ, তাড়াশ থেকে দুধ বিক্রি করতে আসেন অনেকেই।. পাতিলে করে বিক্রির জন্য দুধ নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রেতারা। ছবি: সোয়েল রানাপাতিলে করে বিক্রির জন্য দুধ নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রেতারা। ছবি: সোয়েল রানাবৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ধুনট উপজেলা থেকে শেরপুরের দিকে রওনা হন এই প্রতিবেদক। পথেই বথুয়াবাড়ি ও শালফা এলাকায় সড়কের ধারে বড় বড় পাতিল ভর্তি দুধ নিয়ে ভ্যানের অপেক্ষায় বসে আছেন খামারিরা। জিজ্ঞেস করতেই শেরপুরের শালফা গ্রামের হোসেন নামের এক খামারি জানালেন, দুই ঘণ্টার দুধের বাজারে যাবেন তিনি। বাজারে বিক্রির জন্য তিনি ১৫০ লিটার দুধ এনেছেন। তাঁর মতো আশপাশের অনেক পরিবার আছে, যারা গাভি লালনপালন ও দুধ বিক্রি করেই সংসার চালায়। এখন অনেকেই এদিকে ঝুঁকছেন। বাজারে প্রতি লিটার দুধ ৩২ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন খামারিরা সাইকেলে, ভ্যানে, পিকআপে ও ভাঁড়ে দুধ নিয়ে এ বাজারে আসেন।. পুরুষ বিক্রেতাদের পাশাপাশি এই বাজারে আসেন নারী বিক্রেতারাও। ছবি: সোয়েল রানাপুরুষ বিক্রেতাদের পাশাপাশি এই বাজারে আসেন নারী বিক্রেতারাও। ছবি: সোয়েল রানাপথেই দেখা হয় এক নারী খামারি আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে। বাড়ি শালফা এলাকায়। বাড়ি থেকে দুধ বাজারের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। ভ্যানে চেপে বেশ কয়েকটি পাতিল ভর্তি দুধ নিয়ে ছুটছেন তিনি। কোথায় যাচ্ছেন? জিজ্ঞেস করতেই বললেন, দুধ বাজারে। তাঁর দুটি গাভি আছে। সেখান থেকে ১২ লিটার দুধ পান তিনি।দুধ বাজারে ২২ লিটার দুধ বিক্রির জন্য শেরপুর উপজেলার পানিসারা এলাকা থেকে এসেছেন রাশেদুল ইসলাম। তিনি প্রতি লিটার দুধ ৩২ টাকায় বিক্রি করেছেন।. বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার একাংশ। ছবি: সোয়েল রানাবাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার একাংশ। ছবি: সোয়েল রানাশেরপুরের দই ব্যবসায়ী দুলাল মোহন্ত বলেন, এ বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে দুধ ব্যবসায়ী ও গৃহস্থরা দুধ বিক্রি করতে আসেন। দই-মিষ্টির দোকান বেড়ে যাওয়ায় বাজারে আসা দুধ অল্প সময়েই বিক্রি হয়ে যায়। এ দুধ বাজার ঘিরে আশপাশে বেশ কয়েকটি দুগ্ধ খামার গড়ে উঠেছে।.চলছে দুধ কেনাবেচা। ছবি: সোয়েল রানাচলছে দুধ কেনাবেচা। ছবি: সোয়েল রানা চলছে দুধ কেনাবেচা। ছবি: সোয়েল রানাদুই ঘণ্টার দুধ বাজারে চলছে কেনাবেচা। ছবি: সোয়েল রানাদুই ঘণ্টার দুধ বাজারে চলছে কেনাবেচা। ছবি: সোয়েল রানা

Comments

Comments!

 দুই ঘণ্টার দুধের বাজারAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

দুই ঘণ্টার দুধের বাজার

Friday, April 21, 2017 10:17 am
১৪

বাজারটির নাম রেজিস্ট্রি অফিস দুধ বাজার। তবে এটি দুই ঘণ্টার দুধের বাজার নামে বেশি পরিচিত। বগুড়ার শেরপুর রেজিস্ট্রি অফিসের পাশেই বসে বাজারটি, জেলা শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে সান্যালপাড়া হাটখোলা সড়কের ওপর।

এই বাজার থেকে প্রতিদিন দুধ কেনেন কাজল শেখ। তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বেলা দুইটার মধ্যে বাজারটি শেষ হয়ে যায়। এর মধ্যে শেরপুর উপজেলার শতাধিক মিষ্টান্নভান্ডারের স্বত্বাধিকারীরা ৩০০ থেকে ৩৫০ মণ দুধ কিনে নেন। তিনি নিজেও প্রতিদিন এই বাজার থেকে পাঁচ-ছয় মণ দুধ কেনেন।.

এই বাজারটি দুই ঘণ্টার দুধ বাজার নামে পরিচিত। ছবি: সোয়েল রানাএই বাজারটি দুই ঘণ্টার দুধ বাজার নামে পরিচিত। ছবি: সোয়েল রানাস্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেরপুর পৌর শহরে ঘোষ সম্প্রদায়ের লোকজন প্রায় ২০০ বছর আগে এখানে দই-মিষ্টি তৈরির কাজ শুরু করেন। এ কাজে দুধের চাহিদা মেটাতে নিজেরাই বাড়িতে গাভি পালন করতেন। সেই গাভির দুধে তৈরি দই-মিষ্টি স্থানীয় চাহিদা মেটাত। দিন দিন চাহিদা বেড়ে যায়, তখন পারিবারিকভাবে পালন করা গরুর দুধে চাহিদা মিটত না। তখন বাধ্য হয়ে দূরদূরান্ত থেকে দুধ সংগ্রহ শুরু করেন তাঁরা। সেখান থেকেই এই দুধের বাজার বসতে থাকে। বর্তমানে দুধের বাজারটিতে শেরপুর উপজেলা ছাড়াও ধুনট, সিরাজগঞ্জ, তাড়াশ থেকে দুধ বিক্রি করতে আসেন অনেকেই।.

পাতিলে করে বিক্রির জন্য দুধ নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রেতারা। ছবি: সোয়েল রানাপাতিলে করে বিক্রির জন্য দুধ নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রেতারা। ছবি: সোয়েল রানাবৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ধুনট উপজেলা থেকে শেরপুরের দিকে রওনা হন এই প্রতিবেদক। পথেই বথুয়াবাড়ি ও শালফা এলাকায় সড়কের ধারে বড় বড় পাতিল ভর্তি দুধ নিয়ে ভ্যানের অপেক্ষায় বসে আছেন খামারিরা। জিজ্ঞেস করতেই শেরপুরের শালফা গ্রামের হোসেন নামের এক খামারি জানালেন, দুই ঘণ্টার দুধের বাজারে যাবেন তিনি। বাজারে বিক্রির জন্য তিনি ১৫০ লিটার দুধ এনেছেন। তাঁর মতো আশপাশের অনেক পরিবার আছে, যারা গাভি লালনপালন ও দুধ বিক্রি করেই সংসার চালায়। এখন অনেকেই এদিকে ঝুঁকছেন। বাজারে প্রতি লিটার দুধ ৩২ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন খামারিরা সাইকেলে, ভ্যানে, পিকআপে ও ভাঁড়ে দুধ নিয়ে এ বাজারে আসেন।.

পুরুষ বিক্রেতাদের পাশাপাশি এই বাজারে আসেন নারী বিক্রেতারাও। ছবি: সোয়েল রানাপুরুষ বিক্রেতাদের পাশাপাশি এই বাজারে আসেন নারী বিক্রেতারাও। ছবি: সোয়েল রানাপথেই দেখা হয় এক নারী খামারি আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে। বাড়ি শালফা এলাকায়। বাড়ি থেকে দুধ বাজারের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। ভ্যানে চেপে বেশ কয়েকটি পাতিল ভর্তি দুধ নিয়ে ছুটছেন তিনি। কোথায় যাচ্ছেন? জিজ্ঞেস করতেই বললেন, দুধ বাজারে। তাঁর দুটি গাভি আছে। সেখান থেকে ১২ লিটার দুধ পান তিনি।দুধ বাজারে ২২ লিটার দুধ বিক্রির জন্য শেরপুর উপজেলার পানিসারা এলাকা থেকে এসেছেন রাশেদুল ইসলাম। তিনি প্রতি লিটার দুধ ৩২ টাকায় বিক্রি করেছেন।.

বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার একাংশ। ছবি: সোয়েল রানাবাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার একাংশ। ছবি: সোয়েল রানাশেরপুরের দই ব্যবসায়ী দুলাল মোহন্ত বলেন, এ বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে দুধ ব্যবসায়ী ও গৃহস্থরা দুধ বিক্রি করতে আসেন। দই-মিষ্টির দোকান বেড়ে যাওয়ায় বাজারে আসা দুধ অল্প সময়েই বিক্রি হয়ে যায়। এ দুধ বাজার ঘিরে আশপাশে বেশ কয়েকটি দুগ্ধ খামার গড়ে উঠেছে।.চলছে দুধ কেনাবেচা। ছবি: সোয়েল রানাচলছে দুধ কেনাবেচা। ছবি: সোয়েল রানা
চলছে দুধ কেনাবেচা। ছবি: সোয়েল রানাদুই ঘণ্টার দুধ বাজারে চলছে কেনাবেচা। ছবি: সোয়েল রানাদুই ঘণ্টার দুধ বাজারে চলছে কেনাবেচা। ছবি: সোয়েল রানা

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X