শনিবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৬ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৪:০৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, August 12, 2017 7:49 am
A- A A+ Print

দুই সপ্তাহে পেয়াজের দাম দ্বিগুণ

১

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম অর্ধেকের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে পিয়াজের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও রাজধানীতে প্রতি কেজি পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায় , এখন দ্বিগুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার ওপরে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পিয়াজের দাম উঠেছে ৬০-৬৫ টাকায়। আর ভারতীয় পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৫ টাকায়। গতকাল রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া বাজারে কাঁচা শাকসবজি, মাছসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার জন্য টানা বৃষ্টিপাতকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহে দেশি পিয়াজের দাম বেড়েছিল ২০ টাকা। অর্থাৎ ৩ দফায় পিয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। এ ছাড়া আমদানি করা ভারতীয় পিয়াজ গত সপ্তাহে ১২টাকা বৃদ্ধির পর আজকের বাজারে আবারও ১৫ টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ গত সপ্তাহে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা দরে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক মাস আগে প্রতি কেজি দেশি ও আমদানি করা পিয়াজের দাম ২২ থেকে ৩২ টাকা ছিল। এক মাসে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৯৪ শতাংশ। হাতিরপুল বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা হাসিব বলেন, এক সপ্তাহ আগে পিয়াজ ৩৫ টাকা কেজিতে কিনছি, এখন সেটা ৬৫ টাকা কিনলাম। পিয়াজের মতোই বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। ৫টি সবজির দাম ৮০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি চাইছেন তারা। গত সপ্তাহের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। বাজারে কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। এছাড়া কেজিপ্রতি দেশি রসুন ১০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১৩০ টাকা, আলু কেজিপ্রতি ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা দরে। এছাড়া সিম বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৭৫ টাকায়। টমেটো ১৫০ টাকা কেজি। বাজারে প্রতি কেজি করলা ১০০ টাকা, বরবটি, ঝিঙে, বেগুন ও ঢেঁড়স কেজিপ্রতি ৮০ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে চিচিঙ্গা, পটোল ও কচুর লতি ৬০ টাকা এবং কচুরমুখী, কাঁকরোলসহ কয়েকটি সবজি ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি শসা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৫০ গ্রাম ৪০ টাকা ও গাজর মানভেদে ৬০ ও ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজি বিক্রেতা রহিম বলেন, সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম। আর বর্ষা মৌসুমে সবজি কম পাওয়া যায়। প্রতি আঁটি লাল ও পালং শাক বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায় এবং পুঁই ও ডাঁটাশাক ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতিকেজি ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস ৭৫০ টাকায়। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, এক কেজি ওজনের প্রতি পিস কক মুরগি ২৩০ থেকে ২৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৩৫০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাজারে পিয়াজের সরবরাহ ঠিক রাখতে মিশর ও পাকিস্তান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ মসলাপণ্য আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে পিয়াজের মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা। তাই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করতে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার আগে পিয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনির বাজার পর্যালোচনার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে ব্যবসায়ীরা এ দাবি জানান। বৈঠকে মিল মালিক, আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী, এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে ২২ লাখ টন পিয়াজের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে দেশে ১৮ লাখ টন উৎপাদন হয়। বাকি ৪ লাখ টন আমদানি করা হয়। শ্যামবাজারের আড়তদার, আমদানিকারক হাজি মো. মাজেদ বলেন, ভারতে প্রতি কেজি কিনতে হচ্ছে ২৯ থেকে ৩০ রুপি, এরপর বর্ডারে আসতে লাগে ৬ রুপি। এর সঙ্গে অন্য খরচ আছে। সব মিলে ৪৫ রুপি পড়ে যায়। এর চেয়ে মিশর থেকে পিয়াজ আমদানি করা গেলে কম দামে পাওয়া যাবে। মিশরের পিয়াজ প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩০ টাকায় দেশে পৌঁছাবে। তবে বন্দর সমস্যা দূর না হলে কম দামে আমদানি হলেও বাজারে এর প্রভাব পড়বে না।

Comments

Comments!

 দুই সপ্তাহে পেয়াজের দাম দ্বিগুণAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

দুই সপ্তাহে পেয়াজের দাম দ্বিগুণ

Saturday, August 12, 2017 7:49 am
১

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম অর্ধেকের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে পিয়াজের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও রাজধানীতে প্রতি কেজি পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়
, এখন দ্বিগুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার ওপরে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পিয়াজের দাম উঠেছে ৬০-৬৫ টাকায়। আর ভারতীয় পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৫ টাকায়। গতকাল রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া বাজারে কাঁচা শাকসবজি, মাছসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার জন্য টানা বৃষ্টিপাতকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহে দেশি পিয়াজের দাম বেড়েছিল ২০ টাকা। অর্থাৎ ৩ দফায় পিয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। এ ছাড়া আমদানি করা ভারতীয় পিয়াজ গত সপ্তাহে ১২টাকা বৃদ্ধির পর আজকের বাজারে আবারও ১৫ টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ গত সপ্তাহে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা দরে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক মাস আগে প্রতি কেজি দেশি ও আমদানি করা পিয়াজের দাম ২২ থেকে ৩২ টাকা ছিল। এক মাসে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৯৪ শতাংশ।
হাতিরপুল বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা হাসিব বলেন, এক সপ্তাহ আগে পিয়াজ ৩৫ টাকা কেজিতে কিনছি, এখন সেটা ৬৫ টাকা কিনলাম। পিয়াজের মতোই বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। ৫টি সবজির দাম ৮০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি চাইছেন তারা। গত সপ্তাহের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। বাজারে কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। এছাড়া কেজিপ্রতি দেশি রসুন ১০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১৩০ টাকা, আলু কেজিপ্রতি ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা দরে। এছাড়া সিম বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৭৫ টাকায়। টমেটো ১৫০ টাকা কেজি।
বাজারে প্রতি কেজি করলা ১০০ টাকা, বরবটি, ঝিঙে, বেগুন ও ঢেঁড়স কেজিপ্রতি ৮০ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে চিচিঙ্গা, পটোল ও কচুর লতি ৬০ টাকা এবং কচুরমুখী, কাঁকরোলসহ কয়েকটি সবজি ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি শসা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৫০ গ্রাম ৪০ টাকা ও গাজর মানভেদে ৬০ ও ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা রহিম বলেন, সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম। আর বর্ষা মৌসুমে সবজি কম পাওয়া যায়। প্রতি আঁটি লাল ও পালং শাক বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায় এবং পুঁই ও ডাঁটাশাক ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংস প্রতিকেজি ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস ৭৫০ টাকায়। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, এক কেজি ওজনের প্রতি পিস কক মুরগি ২৩০ থেকে ২৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৩৫০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে পিয়াজের সরবরাহ ঠিক রাখতে মিশর ও পাকিস্তান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ মসলাপণ্য আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে পিয়াজের মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা। তাই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করতে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার আগে পিয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনির বাজার পর্যালোচনার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে ব্যবসায়ীরা এ দাবি জানান। বৈঠকে মিল মালিক, আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী, এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে ২২ লাখ টন পিয়াজের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে দেশে ১৮ লাখ টন উৎপাদন হয়। বাকি ৪ লাখ টন আমদানি করা হয়।
শ্যামবাজারের আড়তদার, আমদানিকারক হাজি মো. মাজেদ বলেন, ভারতে প্রতি কেজি কিনতে হচ্ছে ২৯ থেকে ৩০ রুপি, এরপর বর্ডারে আসতে লাগে ৬ রুপি। এর সঙ্গে অন্য খরচ আছে। সব মিলে ৪৫ রুপি পড়ে যায়। এর চেয়ে মিশর থেকে পিয়াজ আমদানি করা গেলে কম দামে পাওয়া যাবে। মিশরের পিয়াজ প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩০ টাকায় দেশে পৌঁছাবে। তবে বন্দর সমস্যা দূর না হলে কম দামে আমদানি হলেও বাজারে এর প্রভাব পড়বে না।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X