শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:৩৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, October 4, 2017 8:21 am
A- A A+ Print

দুদকের জালে বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদ

3

বেসিক ব্যাংকের আলোচিত অর্থ কেলেঙ্কারির হোতা সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও তার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের ১০ জন সদস্যকে অবশেষে তদন্তের আওতায় আনা হল। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে দু’জন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়। তদন্ত টিম শিগগিরই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে। দুদকের দায়ের করা ৫৬টি মামলার মধ্যে পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্টের এক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সূত্র জানায়, মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম এবং পল্টন থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জয়নুল আবেদীনকে পৃথক চিঠি দিয়ে দুদক থেকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে বাচ্চু ও পর্ষদ সদস্যদের তদন্তের ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনার বিষয়টি অবগত করা হয়। সম্প্রতি দুদকের এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, ‘মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের আলোকে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করে সাক্ষ্য-স্মারক (প্রতিবেদন) দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।’ ওই দুই মামলায় জড়িত দু’জন আসামির জামিন আবেদনের শুনানিতে আদালত বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে আইনের আওতায় এনে তদন্ত শেষ করতে দুদককে নির্দেশ দেন। আদেশে বলা হয়, ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির নেতিবাচক মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা ঋণ অনুমোদন করেছেন। এতে তাদের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে দেখা দরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা আদালতের নির্দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’ বেসিক ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সবাই আইনের আওতায় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্তকালে সবার সম্পৃক্ততাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’ এর আগে গত সপ্তাহে দুদকের এক সেমিনারে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা দুদক চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বেসিক ব্যাংকের বাচ্চুর বিষয়ে দুদক কি করছে। জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। যেভাবে নির্দেশনা এসেছে, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তাদের কাজটুকু করছেন। এদিকে বেসিক ব্যাংকের ৫টি বড় ঋণ কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জয়নুল আবেদীনের কাছে তদন্তাধীন ছিল গুলশান থানায় দায়ের করা অন্তত ৬শ’ কোটি টাকা তছরুপের ঘটনায় পৃথক ৫ মামলা। কমিশনের সিদ্ধান্তে ওই মামলাগুলোর তদন্ত দুদকের সিনিয়র উপপরিচালক জুলফিকার আলীকে দেয়া হয়েছে। জুলফিকার আলী দুদকের একজন দক্ষ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। অনেকের প্রত্যাশা তার তদন্তকালে বেসিক ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারিতে বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি শক্তভাবে দেখা হবে। বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা- তা নিয়ে এতদিন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিল দুদক। সেই দ্বিধা থেকেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়নি। এমনকি পরিচালনা পর্ষদের ১০ সদস্যের কাউকে ডেকে কোনো প্রশ্নও করা হয়নি। জানতে চাওয়া হয়নি কিভাবে তারা নিয়মের বাইরে গিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দিলেন। তবে হাইকোর্টের আদেশের পর নড়েচড়ে বসেছে দুদক। বেসিক ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় দুদকের দায়ের করা ৫৬টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় ২৬ জুলাই হাইকোর্ট বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দেন। এতে আদেশ প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এছাড়া অপর একটি মামলায়ও হাইকোর্ট প্রায় একই ধরনের নির্দেশনা দেন। দুদক আদালতের আদেশ হাতে পায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। গতকাল এ বিষয়ে দুদক থেকে দু’জন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। মামলা দুটির শুনানি আপিল বিভাগে গড়ালে ১৬ আগস্ট বেসিক ব্যাংকের ওই দুটি ঋণ জালিয়াতির মামলায় ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদকে আসামি না করে মামলা করায় উষ্মা প্রকাশ করেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। আদালত বলেন, “আমরা চাই না এ ধরনের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আসামি করার ক্ষেত্রে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ পদ্ধতি অবলম্বন করুক। কারণ কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।” আপিল বিভাগ বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যেন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। তদন্তে কোনো গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আপিল বিভাগ থেকে বলা হয়। বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির বিষয়ে দুটি অডিট ফার্মের নিরীক্ষা প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এর দায় এড়াতে পারে না। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বেশ কয়েকবার বলেছেন, শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে দুদক ব্যবস্থা নেবে। অভিযোগ দুদকের কাছে আছে। তারা তাদের আইনি ব্যবস্থা নেবে। দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আমরা বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বা পরিচালনা পর্ষদের বিষয়ে তদন্ত ও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ না করে চার্জশিট দিতে চাই না। কারণ এ ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা আছে। ওই কর্মকর্তার ধারণা, শুধু দুটি মামলা নয়, সব মামলার ক্ষেত্রেই হাইকোর্টের নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। একই কথা বললেন, দুদকের প্রধান কৌঁসুলি খুরশিদ আলম খান। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দুদকের দায়ের করা বেসিক ব্যাংকের সব মামলার ক্ষেত্রেই আদালতের নির্দেশনা এক। কারণ অর্থ তছরুপের ঘটনা এবং মামলার বিষয়বস্তু বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকগুলোও এক। তিনি বলেন, এরই মধ্যে তদন্তে যাদের নাম এসেছে, তারা থাকবেন। নতুন করে পরিচালনা পর্ষদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি বলেন, দুদক বাচ্চুসহ পর্ষদের সবাইকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের কার কি ভূমিকা ছিল দুদক এখন তাও খতিয়ে দেখবে। তিনি জানান, বেসিক ব্যাংক সংক্রান্ত সব মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। জানতে চাইলে দুদকের লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন সেলের মহাপরিচালক মো. মঈদুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বা পর্ষদ সদস্যদের ডাকতে পারবেন। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান শেষে বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৬টি মামলা করে দুদক। মামলাগুলোর তদন্ত কাজ করছেন দুদকের ৮ জন কর্মকর্তা। তবে কোনো মামলার এজাহারে বাচ্চুর নাম নেই। অথচ বেসিক ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুসহ শীর্ষ ১১ কর্মকর্তার ঋণ কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত থাকার কথা উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সাবেক চেয়ারম্যান ও টপ ম্যানেজমেন্টকে বিচারের আওতায় আনতে দুদকের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের নথি সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তেও বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় মামলা করে দুদক। যার মধ্যে রয়েছে, গুলশান শাখার মাধ্যমে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখায় ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রধান শাখায় প্রায় ২৪৮ কোটি টাকা এবং দিলকুশা শাখায় ১৩০ কোটি টাকা

Comments

Comments!

 দুদকের জালে বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

দুদকের জালে বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদ

Wednesday, October 4, 2017 8:21 am
3

বেসিক ব্যাংকের আলোচিত অর্থ কেলেঙ্কারির হোতা সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও তার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের ১০ জন সদস্যকে অবশেষে তদন্তের আওতায় আনা হল।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে দু’জন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়। তদন্ত টিম শিগগিরই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

দুদকের দায়ের করা ৫৬টি মামলার মধ্যে পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্টের এক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানায়, মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম এবং পল্টন থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জয়নুল আবেদীনকে পৃথক চিঠি দিয়ে দুদক থেকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে বাচ্চু ও পর্ষদ সদস্যদের তদন্তের ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনার বিষয়টি অবগত করা হয়।

সম্প্রতি দুদকের এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, ‘মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের আলোকে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করে সাক্ষ্য-স্মারক (প্রতিবেদন) দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।’

ওই দুই মামলায় জড়িত দু’জন আসামির জামিন আবেদনের শুনানিতে আদালত বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে আইনের আওতায় এনে তদন্ত শেষ করতে দুদককে নির্দেশ দেন। আদেশে বলা হয়, ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির নেতিবাচক মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা ঋণ অনুমোদন করেছেন। এতে তাদের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে দেখা দরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা আদালতের নির্দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’ বেসিক ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সবাই আইনের আওতায় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্তকালে সবার সম্পৃক্ততাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’

এর আগে গত সপ্তাহে দুদকের এক সেমিনারে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা দুদক চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বেসিক ব্যাংকের বাচ্চুর বিষয়ে দুদক কি করছে। জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। যেভাবে নির্দেশনা এসেছে, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তাদের কাজটুকু করছেন।

এদিকে বেসিক ব্যাংকের ৫টি বড় ঋণ কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জয়নুল আবেদীনের কাছে তদন্তাধীন ছিল গুলশান থানায় দায়ের করা অন্তত ৬শ’ কোটি টাকা তছরুপের ঘটনায় পৃথক ৫ মামলা। কমিশনের সিদ্ধান্তে ওই মামলাগুলোর তদন্ত দুদকের সিনিয়র উপপরিচালক জুলফিকার আলীকে দেয়া হয়েছে। জুলফিকার আলী দুদকের একজন দক্ষ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। অনেকের প্রত্যাশা তার তদন্তকালে বেসিক ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারিতে বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি শক্তভাবে দেখা হবে।

বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা- তা নিয়ে এতদিন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিল দুদক। সেই দ্বিধা থেকেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়নি। এমনকি পরিচালনা পর্ষদের ১০ সদস্যের কাউকে ডেকে কোনো প্রশ্নও করা হয়নি। জানতে চাওয়া হয়নি কিভাবে তারা নিয়মের বাইরে গিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দিলেন। তবে হাইকোর্টের আদেশের পর নড়েচড়ে বসেছে দুদক।

বেসিক ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় দুদকের দায়ের করা ৫৬টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় ২৬ জুলাই হাইকোর্ট বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দেন। এতে আদেশ প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এছাড়া অপর একটি মামলায়ও হাইকোর্ট প্রায় একই ধরনের নির্দেশনা দেন। দুদক আদালতের আদেশ হাতে পায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। গতকাল এ বিষয়ে দুদক থেকে দু’জন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়।

মামলা দুটির শুনানি আপিল বিভাগে গড়ালে ১৬ আগস্ট বেসিক ব্যাংকের ওই দুটি ঋণ জালিয়াতির মামলায় ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদকে আসামি না করে মামলা করায় উষ্মা প্রকাশ করেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

আদালত বলেন, “আমরা চাই না এ ধরনের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আসামি করার ক্ষেত্রে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ পদ্ধতি অবলম্বন করুক। কারণ কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

আপিল বিভাগ বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যেন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। তদন্তে কোনো গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আপিল বিভাগ থেকে বলা হয়।

বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির বিষয়ে দুটি অডিট ফার্মের নিরীক্ষা প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এর দায় এড়াতে পারে না।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বেশ কয়েকবার বলেছেন, শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে দুদক ব্যবস্থা নেবে। অভিযোগ দুদকের কাছে আছে। তারা তাদের আইনি ব্যবস্থা নেবে।

দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আমরা বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বা পরিচালনা পর্ষদের বিষয়ে তদন্ত ও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ না করে চার্জশিট দিতে চাই না। কারণ এ ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা আছে।

ওই কর্মকর্তার ধারণা, শুধু দুটি মামলা নয়, সব মামলার ক্ষেত্রেই হাইকোর্টের নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। একই কথা বললেন, দুদকের প্রধান কৌঁসুলি খুরশিদ আলম খান। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দুদকের দায়ের করা বেসিক ব্যাংকের সব মামলার ক্ষেত্রেই আদালতের নির্দেশনা এক। কারণ অর্থ তছরুপের ঘটনা এবং মামলার বিষয়বস্তু বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকগুলোও এক।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে তদন্তে যাদের নাম এসেছে, তারা থাকবেন। নতুন করে পরিচালনা পর্ষদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি বলেন, দুদক বাচ্চুসহ পর্ষদের সবাইকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের কার কি ভূমিকা ছিল দুদক এখন তাও খতিয়ে দেখবে। তিনি জানান, বেসিক ব্যাংক সংক্রান্ত সব মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

জানতে চাইলে দুদকের লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন সেলের মহাপরিচালক মো. মঈদুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বা পর্ষদ সদস্যদের ডাকতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান শেষে বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৬টি মামলা করে দুদক।

মামলাগুলোর তদন্ত কাজ করছেন দুদকের ৮ জন কর্মকর্তা। তবে কোনো মামলার এজাহারে বাচ্চুর নাম নেই। অথচ বেসিক ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুসহ শীর্ষ ১১ কর্মকর্তার ঋণ কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত থাকার কথা উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সাবেক চেয়ারম্যান ও টপ ম্যানেজমেন্টকে বিচারের আওতায় আনতে দুদকের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের নথি সরবরাহ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তেও বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় মামলা করে দুদক। যার মধ্যে রয়েছে, গুলশান শাখার মাধ্যমে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখায় ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রধান শাখায় প্রায় ২৪৮ কোটি টাকা এবং দিলকুশা শাখায় ১৩০ কোটি টাকা

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X