বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:৪২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, October 31, 2016 1:53 pm
A- A A+ Print

দুদকে অভিযোগ বেশি, অনুসন্ধান কম

52886f3ab96d1-acc_sangbad

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আসা প্রায় ৯৩ শতাংশ অভিযোগ চলে যাচ্ছে বাতিলের খাতায়। অনুসন্ধানের জন্য নেওয়া হচ্ছে ৭ শতাংশ অভিযোগ। তবে সংস্থাটি বলছে, অধিকাংশ অভিযোগই তফসিলবহির্ভূত হওয়ার কারণে অনুসন্ধানের জন্য নেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই ঢালাও ও তুচ্ছ অভিযোগ থাকে। কমিশন সতর্কভাবে যাচাই-বাছাই করে নতুন অভিযোগ নিচ্ছে। সে কারণেই অনুসন্ধানের জন্য কম অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে। দুদকের ২০১৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, ওই বছরে মোট ১০ হাজার ৪১৫টি দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ২৪০টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। তার আগের বছর ২০১৪ সালে অভিযোগ জমা পড়েছিল ১২ হাজার ৫০০, যেখান থেকে ১ হাজার ৬৮৯টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য নেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে এসে (আগস্ট পর্যন্ত) অভিযোগ জমা পড়েছে ৭ হাজার ৯৩৮টি। ওখান থেকে মাত্র ৫৭১টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য বাছাই করা হয়েছে। দুদক সচিব আবু মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, কমিশনে বাছাই কমিটি অনেক কিছুই যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। দেখা গেছে, অধিকাংশ অভিযোগই তফসিলবহির্ভূত। এ ছাড়া ঢালাও অভিযোগও থাকে। সে কারণে শুরুতেই অনেক অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর কিছু অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাকিগুলো অনুসন্ধানের জন্য নেওয়া হয়। দুদক সূত্র জানায়, সংস্থাটির নিজস্ব গোয়েন্দাব্যবস্থা না থাকায় দুর্নীতি-বিষয়ক তথ্যের জন্য তাদের নির্ভর করতে হয় গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের দেওয়া অভিযোগের ওপর। এর মধ্যে কোনটির অনুসন্ধান হবে, কোনটির হবে না, সেটি নির্ধারণ করে একটি ‘বাছাই কমিটি’। কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ‘অনুসন্ধানযোগ্য’ অভিযোগগুলো কমিশনারের (অনুসন্ধান) কাছে যায়। তিনি অনুমোদন দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু হয়। দুদকের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি উৎস থেকে তাঁদের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ আসে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আসা অভিযোগের পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ দুদকের তথ্যের অন্যতম উৎস। এ ছাড়া ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রতিবেদন আকারে পাওয়া তথ্য, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাঠানো প্রতিবেদন, দুদকের কর্মকর্তাদের সংগৃহীত অভিযোগ এবং আদালত থেকে প্রেরিত পিটিশন কিংবা সিআর মামলা দুদকের অনুসন্ধানের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বাছাই কমিটির সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে অভিযোগ বাছাই করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিযোগটি দুদকের তফসিলভুক্ত কি না। যিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর পরিচয়, নাম-ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর যথার্থ কি না, সেটা যাচাইয়ের পাশাপাশি অভিযোগটি সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ কি না, তাও দেখা হয়। শত্রুতাবশত অযথা হয়রানির উদ্দেশে অভিযোগটি দেওয়া হয়েছে কি না, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। পরে দেখা হয়, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁর দপ্তর, দাপ্তরিক মর্যাদা, বর্ণিত অপরাধ করার ক্ষমতা ও সুযোগ আছে কি না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়, তা হলো অভিযোগটি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ ও দুর্নীতি দমন বিধিমালা-২০০৭ মোতাবেক কাজ শেষে আদালতে অপরাধ প্রমাণ করা যাবে কি না, প্রমাণে কী পরিমাণ অর্থ, শ্রম, মেধা, সময় ও উপকরণ প্রয়োজন হবে। ওই সব কর্মকর্তা জানান, এসব বিবেচনায় অভিযোগগুলোর মধ্য থেকে শতকরা ৪-৫টি ‘অনুসন্ধান-উপযোগী’ বিবেচিত হয়। বাকিগুলো বিনষ্টের জন্য আলাদা করে রাখা হয়। তাঁদের মতে, দুদকে কোন ধরনের অভিযোগ নেওয়া হয়, আর কীভাবে অভিযোগ করতে হয়, তা জানা না থাকার কারণে অনেকে ঠিকমতো অভিযোগ দিতে পারেন না। প্রয়োজনীয় তথ্যও দেন না অনেকে। তাই বাছাই পর্যায়ে বাতিল হয়ে যায় এসব অভিযোগ। দুদকের তফসিলভুক্ত উল্লেখযোগ্য অপরাধ: দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, তফসিলবহির্ভূত অপরাধ বিষয়ে ঢালাও অভিযোগ আসার কারণে কমিশনকেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তাই দুদকে অভিযোগ করার সময় কোন কোন অপরাধ তফসিলভুক্ত, সেগুলো জেনে অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধের মধ্যে রয়েছে: ১. সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ বা উপঢৌকন গ্রহণ। ২.বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক যদি বেআইনিভাবে নিজ নামে কিংবা বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। ৩. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, সরকারি কর্মচারী এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী যদি সরকারি অর্থ বা সম্পত্তি আত্মসাৎ কিংবা ক্ষতি সাধন করেন। ৪. সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করেন। ৫. সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি কোনো অপরাধীকে শাস্তি থেকে রক্ষার চেষ্টা করেন। ৬. দুর্নীতি ও ঘুষ থেকে উদ্ভূত অর্থপাচারসংক্রান্ত অপরাধ ৭. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, সরকারি কর্মচারী এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর প্রতারণা জাল-জালিয়াতি ইত্যাদি কাজ। এ ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ দাবি করলে ঘুষ দেওয়ার আগেই তথ্যটি দুদকের প্রধান কার্যালয় অথবা নিকটস্থ দুদক কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করলে ঘুষ বা উৎকোচ গ্রহণকারীকে ফাঁদ পেতে হাতেনাতে ধরার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগে যা উল্লেখ থাকতে হবে: দুদক কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে হলে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য দিতে হবে অভিযোগে সঙ্গে। কোনো ব্যক্তি অবৈধ অর্থ ও সম্পদ অর্জন করে থাকলে তাঁর নাম, পদবি-পেশা ও পূর্ণ ঠিকানা দিতে হবে। একই সঙ্গে স্থাবর সম্পদের (বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি ইত্যাদি) অবস্থান, পরিমাণ, আনুমানিক দামসহ ওই সব সম্পদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা দিতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব, শেয়ার, এফডিআর, সঞ্চয়পত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্য, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ধরন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, ধরন ও সুনির্দিষ্ট ঠিকানা এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপন-সংক্রান্ত বিবরণ দিতে হবে। সরকারি কর্মচারী বা ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মসাৎকৃত অর্থ-সম্পদের পরিমাণ ও সময়কাল; কোন দায়িত্ব থেকে, কখন, কীভাবে আত্মসাৎ করেছেন; ওই আত্মসাতের সঙ্গে আর কারা জড়িত থেকে সহযোগিতা করেছেন, তার বিবরণ দিতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহারসংক্রান্ত ও অন্যান্য অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি কখন, কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাভবান হয়েছে বা অন্যকে লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন বা রাষ্ট্রীয় অর্থসম্পদের ক্ষতি করেছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। তিনি বলেন, অভিযোগ সুনির্দিষ্ট হতে হবে এবং এর সমর্থনে তথ্য ও উপাত্ত থাকতে হবে।

Comments

Comments!

 দুদকে অভিযোগ বেশি, অনুসন্ধান কমAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

দুদকে অভিযোগ বেশি, অনুসন্ধান কম

Monday, October 31, 2016 1:53 pm
52886f3ab96d1-acc_sangbad

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আসা প্রায় ৯৩ শতাংশ অভিযোগ চলে যাচ্ছে বাতিলের খাতায়। অনুসন্ধানের জন্য নেওয়া হচ্ছে ৭ শতাংশ অভিযোগ।

তবে সংস্থাটি বলছে, অধিকাংশ অভিযোগই তফসিলবহির্ভূত হওয়ার কারণে অনুসন্ধানের জন্য নেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই ঢালাও ও তুচ্ছ অভিযোগ থাকে। কমিশন সতর্কভাবে যাচাই-বাছাই করে নতুন অভিযোগ নিচ্ছে। সে কারণেই অনুসন্ধানের জন্য কম অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে।

দুদকের ২০১৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, ওই বছরে মোট ১০ হাজার ৪১৫টি দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ২৪০টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। তার আগের বছর ২০১৪ সালে অভিযোগ জমা পড়েছিল ১২ হাজার ৫০০, যেখান থেকে ১ হাজার ৬৮৯টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য নেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে এসে (আগস্ট পর্যন্ত) অভিযোগ জমা পড়েছে ৭ হাজার ৯৩৮টি। ওখান থেকে মাত্র ৫৭১টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য বাছাই করা হয়েছে।

দুদক সচিব আবু মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, কমিশনে বাছাই কমিটি অনেক কিছুই যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। দেখা গেছে, অধিকাংশ অভিযোগই তফসিলবহির্ভূত। এ ছাড়া ঢালাও অভিযোগও থাকে। সে কারণে শুরুতেই অনেক অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর কিছু অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাকিগুলো অনুসন্ধানের জন্য নেওয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, সংস্থাটির নিজস্ব গোয়েন্দাব্যবস্থা না থাকায় দুর্নীতি-বিষয়ক তথ্যের জন্য তাদের নির্ভর করতে হয় গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের দেওয়া অভিযোগের ওপর। এর মধ্যে কোনটির অনুসন্ধান হবে, কোনটির হবে না, সেটি নির্ধারণ করে একটি ‘বাছাই কমিটি’। কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ‘অনুসন্ধানযোগ্য’ অভিযোগগুলো কমিশনারের (অনুসন্ধান) কাছে যায়। তিনি অনুমোদন দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু হয়।

দুদকের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি উৎস থেকে তাঁদের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ আসে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আসা অভিযোগের পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ দুদকের তথ্যের অন্যতম উৎস। এ ছাড়া ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রতিবেদন আকারে পাওয়া তথ্য, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাঠানো প্রতিবেদন, দুদকের কর্মকর্তাদের সংগৃহীত অভিযোগ এবং আদালত থেকে প্রেরিত পিটিশন কিংবা সিআর মামলা দুদকের অনুসন্ধানের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

বাছাই কমিটির সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে অভিযোগ বাছাই করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিযোগটি দুদকের তফসিলভুক্ত কি না। যিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর পরিচয়, নাম-ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর যথার্থ কি না, সেটা যাচাইয়ের পাশাপাশি অভিযোগটি সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ কি না, তাও দেখা হয়। শত্রুতাবশত অযথা হয়রানির উদ্দেশে অভিযোগটি দেওয়া হয়েছে কি না, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। পরে দেখা হয়, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁর দপ্তর, দাপ্তরিক মর্যাদা, বর্ণিত অপরাধ করার ক্ষমতা ও সুযোগ আছে কি না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়, তা হলো অভিযোগটি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ ও দুর্নীতি দমন বিধিমালা-২০০৭ মোতাবেক কাজ শেষে আদালতে অপরাধ প্রমাণ করা যাবে কি না, প্রমাণে কী পরিমাণ অর্থ, শ্রম, মেধা, সময় ও উপকরণ প্রয়োজন হবে।

ওই সব কর্মকর্তা জানান, এসব বিবেচনায় অভিযোগগুলোর মধ্য থেকে শতকরা ৪-৫টি ‘অনুসন্ধান-উপযোগী’ বিবেচিত হয়। বাকিগুলো বিনষ্টের জন্য আলাদা করে রাখা হয়। তাঁদের মতে, দুদকে কোন ধরনের অভিযোগ নেওয়া হয়, আর কীভাবে অভিযোগ করতে হয়, তা জানা না থাকার কারণে অনেকে ঠিকমতো অভিযোগ দিতে পারেন না। প্রয়োজনীয় তথ্যও দেন না অনেকে। তাই বাছাই পর্যায়ে বাতিল হয়ে যায় এসব অভিযোগ।

দুদকের তফসিলভুক্ত উল্লেখযোগ্য অপরাধ:
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, তফসিলবহির্ভূত অপরাধ বিষয়ে ঢালাও অভিযোগ আসার কারণে কমিশনকেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তাই দুদকে অভিযোগ করার সময় কোন কোন অপরাধ তফসিলভুক্ত, সেগুলো জেনে অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধের মধ্যে রয়েছে: ১. সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ বা উপঢৌকন গ্রহণ। ২.বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক যদি বেআইনিভাবে নিজ নামে কিংবা বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। ৩. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, সরকারি কর্মচারী এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী যদি সরকারি অর্থ বা সম্পত্তি আত্মসাৎ কিংবা ক্ষতি সাধন করেন। ৪. সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করেন। ৫. সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি কোনো অপরাধীকে শাস্তি থেকে রক্ষার চেষ্টা করেন। ৬. দুর্নীতি ও ঘুষ থেকে উদ্ভূত অর্থপাচারসংক্রান্ত অপরাধ ৭. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, সরকারি কর্মচারী এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর প্রতারণা জাল-জালিয়াতি ইত্যাদি কাজ।

এ ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ দাবি করলে ঘুষ দেওয়ার আগেই তথ্যটি দুদকের প্রধান কার্যালয় অথবা নিকটস্থ দুদক কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করলে ঘুষ বা উৎকোচ গ্রহণকারীকে ফাঁদ পেতে হাতেনাতে ধরার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযোগে যা উল্লেখ থাকতে হবে:
দুদক কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে হলে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য দিতে হবে অভিযোগে সঙ্গে। কোনো ব্যক্তি অবৈধ অর্থ ও সম্পদ অর্জন করে থাকলে তাঁর নাম, পদবি-পেশা ও পূর্ণ ঠিকানা দিতে হবে। একই সঙ্গে স্থাবর সম্পদের (বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি ইত্যাদি) অবস্থান, পরিমাণ, আনুমানিক দামসহ ওই সব সম্পদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা দিতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব, শেয়ার, এফডিআর, সঞ্চয়পত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্য, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ধরন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, ধরন ও সুনির্দিষ্ট ঠিকানা এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপন-সংক্রান্ত বিবরণ দিতে হবে।

সরকারি কর্মচারী বা ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মসাৎকৃত অর্থ-সম্পদের পরিমাণ ও সময়কাল; কোন দায়িত্ব থেকে, কখন, কীভাবে আত্মসাৎ করেছেন; ওই আত্মসাতের সঙ্গে আর কারা জড়িত থেকে সহযোগিতা করেছেন, তার বিবরণ দিতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহারসংক্রান্ত ও অন্যান্য অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি কখন, কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাভবান হয়েছে বা অন্যকে লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন বা রাষ্ট্রীয় অর্থসম্পদের ক্ষতি করেছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। তিনি বলেন, অভিযোগ সুনির্দিষ্ট হতে হবে এবং এর সমর্থনে তথ্য ও উপাত্ত থাকতে হবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X