শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:৫৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, December 30, 2016 9:41 am
A- A A+ Print

দুনিয়া মাতানো রিজার্ভ চুরির বছর

1

২০১৬ সাল জুড়ে বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিক ঘটনায় বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়ায় খবরের শিরোনাম হয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে অন্যতম শিরোনাম ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকারদের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি। যা দেশের ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতির জন্য বড়  আলোচিত ঘটনা । এ ঘটনার পরই চুরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ফেব্রুয়ারির ঘটনা মার্চ মাসে প্রকাশ্যে এলেও পুরো বছরটি রিজার্ভ লুটের বিষয়টি ছিল সংশ্লিষ্টদের আলোচনায়। আর এই ঘটনার কারণে বেদনাদায়কভাবেই বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে। একই সঙ্গে বিদায় নিতে হয় তৎকালীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলমকে। বিদায় নিতে হয় দুই ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম ও বেগম নাজনীন সুলতানাকে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা (৮১ মিলিয়ন ডলার) লুট হয়। সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটায় হ্যাকাররা। ২০১৬ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারির এই কেলেঙ্কারি শুরুতে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে গভর্নর আতিউর রহমানের বিরুদ্ধে। ফলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে মার্চে। রিজার্ভ লুটের ঘটনায় ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিস্থিতি যেন বেসামাল হয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে আতিউর রহমান বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও পূর্ব নির্ধারিত ভারত সফরে গিয়ে আরো বেশি প্রশ্নের মুখে পড়েন আতিউর। চটে যান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অবশেষে ড. আতিউর পদত্যাগ করেন। আর নতুন গভর্নর করা হয় ফজলে কবিরকে। আতিউর রহমানের সময়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। তিনি চালু করেছেন মোবাইল ব্যাংকিং। চালু করেছেন দিনমজুরদের জন্য ব্যাংক হিসাব। ধারাবাহিকতার বাইরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে। শুধু এক রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সবকিছু ম্লান হয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আতিউর রহমানের অনেক কাজ প্রশংসা পেয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশ্নের ?মুখে পড়েছে তার মেয়াদে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে না পারলে খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। বিশ্বের অন্যতম বড় সাইবার চুরির ১০ মাস পার হয়েছে। আর চুরির বিষয়ে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে ছয় মাস আগে। তবে বারবার তারিখ নির্ধারণ করেও শেষ পর্যন্ত তা প্রকাশ করেনি সরকার। তাই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও শিরোনাম হয় বারবার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও ইন্টারপোল যৌথভাবে তদন্ত করছে। ওই ঘটনার পর সাইবার হামলা প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কথাও উঠছে। এসব তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে যেসব সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে সেগুলোও বিদেশি পত্রপত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে। ফলে এ ঘটনার জন্য প্রকৃত দোষী কারা তা যেমন জানা যাচ্ছে না, তেমনি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থাও নেয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে ঘটনা কি ঘটছে সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ অন্ধকারে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো কেউই নিশ্চিত নয় কবে নাগাদ চুরি হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। প্রতিবেদন প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এতে অর্থ আদায়ে বাধা তৈরি হবে। ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের ওপর দায় চাপিয়ে টাকা আনতে চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে একটি দল গত নভেম্বর মাসে দেশটি সফর করে ফিরে আসেন। তবে এর মধ্যে দেড় মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকারের চাপে কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকে রিজাল ব্যাংক। তারা অর্থ পরিশোধের দায় নেবে না বলে দেয়। শুধু এখানেই নয়, তারা সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের তথ্যও চায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ বলেন, সরকার কেন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করছে না তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। তদন্ত কমিটির প্রধান ফরাসউদ্দিনও মনে করেন, প্রতিবেদন প্রকাশ না করার কোনো কারণ দেখি না। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল বলে তারা প্রমাণ পেয়েছেন। বাংলাদেশের সিআইডির অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলমের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাও জড়িত বলে তারা মনে করছেন। সন্দেহভাজন ওই কর্মকর্তাদের নাম না বললেও তাদের শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির এই কর্মকর্তা। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের যে ব্যাংক থেকে জালিয়াতদের হাতে গেছে সেই রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক বলছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো দায় নেই, বাংলাদেশ ব্যাংকই দায়ী। তারা অন্যায় কিছু করেনি। ব্যাংকটির আইনজীবী থিয়ে দায়েপ গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েক কর্মকর্তার ইচ্ছাকৃত অবহেলার যে কথা বাংলাদেশি তদন্তকারী বলেছেন, তা আরসিবিসি এতদিন যা বলে আসছে তাকেই প্রমাণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকাণ্ডই তাদের অর্থ হারানোর কারণ। তারা (বাংলাদেশ)-এর দায়ভার আরসিবিসির ওপর চাপাতে পারে না। সম্প্রতি বিদেশি একটি গণমাধ্যম খবর দিয়েছে, ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তার অবহেলা ও অসতর্কতাই দায়ী। খবরে দায়ী কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ না করে শুধু বলা হয়েছে, তারা নিম্ন থেকে মধ্যম সারির কর্মকর্তা। তবে আলোচিত রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এখনো ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

Comments

Comments!

 দুনিয়া মাতানো রিজার্ভ চুরির বছরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

দুনিয়া মাতানো রিজার্ভ চুরির বছর

Friday, December 30, 2016 9:41 am
1

২০১৬ সাল জুড়ে বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিক ঘটনায় বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়ায় খবরের শিরোনাম হয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে অন্যতম শিরোনাম ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকারদের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি। যা দেশের ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতির জন্য বড়  আলোচিত ঘটনা । এ ঘটনার পরই চুরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ফেব্রুয়ারির ঘটনা মার্চ মাসে প্রকাশ্যে এলেও পুরো বছরটি রিজার্ভ লুটের বিষয়টি ছিল সংশ্লিষ্টদের আলোচনায়। আর এই ঘটনার কারণে বেদনাদায়কভাবেই বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে। একই সঙ্গে বিদায় নিতে হয় তৎকালীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলমকে। বিদায় নিতে হয় দুই ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম ও বেগম নাজনীন সুলতানাকে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা (৮১ মিলিয়ন ডলার) লুট হয়। সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটায় হ্যাকাররা। ২০১৬ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারির এই কেলেঙ্কারি শুরুতে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে গভর্নর আতিউর রহমানের বিরুদ্ধে। ফলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে মার্চে। রিজার্ভ লুটের ঘটনায় ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিস্থিতি যেন বেসামাল হয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে আতিউর রহমান বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও পূর্ব নির্ধারিত ভারত সফরে গিয়ে আরো বেশি প্রশ্নের মুখে পড়েন আতিউর। চটে যান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অবশেষে ড. আতিউর পদত্যাগ করেন। আর নতুন গভর্নর করা হয় ফজলে কবিরকে। আতিউর রহমানের সময়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। তিনি চালু করেছেন মোবাইল ব্যাংকিং। চালু করেছেন দিনমজুরদের জন্য ব্যাংক হিসাব। ধারাবাহিকতার বাইরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে। শুধু এক রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সবকিছু ম্লান হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আতিউর রহমানের অনেক কাজ প্রশংসা পেয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশ্নের ?মুখে পড়েছে তার মেয়াদে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে না পারলে খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
বিশ্বের অন্যতম বড় সাইবার চুরির ১০ মাস পার হয়েছে। আর চুরির বিষয়ে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে ছয় মাস আগে। তবে বারবার তারিখ নির্ধারণ করেও শেষ পর্যন্ত তা প্রকাশ করেনি সরকার। তাই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও শিরোনাম হয় বারবার।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও ইন্টারপোল যৌথভাবে তদন্ত করছে। ওই ঘটনার পর সাইবার হামলা প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কথাও উঠছে।
এসব তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে যেসব সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে সেগুলোও বিদেশি পত্রপত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে। ফলে এ ঘটনার জন্য প্রকৃত দোষী কারা তা যেমন জানা যাচ্ছে না, তেমনি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থাও নেয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে ঘটনা কি ঘটছে সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ অন্ধকারে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো কেউই নিশ্চিত নয় কবে নাগাদ চুরি হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে।
প্রতিবেদন প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এতে অর্থ আদায়ে বাধা তৈরি হবে।
ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের ওপর দায় চাপিয়ে টাকা আনতে চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে একটি দল গত নভেম্বর মাসে দেশটি সফর করে ফিরে আসেন। তবে এর মধ্যে দেড় মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ সরকারের চাপে কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকে রিজাল ব্যাংক। তারা অর্থ পরিশোধের দায় নেবে না বলে দেয়। শুধু এখানেই নয়, তারা সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের তথ্যও চায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ বলেন, সরকার কেন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করছে না তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। তদন্ত কমিটির প্রধান ফরাসউদ্দিনও মনে করেন, প্রতিবেদন প্রকাশ না করার কোনো কারণ দেখি না। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল বলে তারা প্রমাণ পেয়েছেন।
বাংলাদেশের সিআইডির অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলমের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাও জড়িত বলে তারা মনে করছেন। সন্দেহভাজন ওই কর্মকর্তাদের নাম না বললেও তাদের শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির এই কর্মকর্তা।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের যে ব্যাংক থেকে জালিয়াতদের হাতে গেছে সেই রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক বলছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো দায় নেই, বাংলাদেশ ব্যাংকই দায়ী। তারা অন্যায় কিছু করেনি। ব্যাংকটির আইনজীবী থিয়ে দায়েপ গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েক কর্মকর্তার ইচ্ছাকৃত অবহেলার যে কথা বাংলাদেশি তদন্তকারী বলেছেন, তা আরসিবিসি এতদিন যা বলে আসছে তাকেই প্রমাণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকাণ্ডই তাদের অর্থ হারানোর কারণ। তারা (বাংলাদেশ)-এর দায়ভার আরসিবিসির ওপর চাপাতে পারে না।
সম্প্রতি বিদেশি একটি গণমাধ্যম খবর দিয়েছে, ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তার অবহেলা ও অসতর্কতাই দায়ী। খবরে দায়ী কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ না করে শুধু বলা হয়েছে, তারা নিম্ন থেকে মধ্যম সারির কর্মকর্তা। তবে আলোচিত রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এখনো ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X